বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নবায়ন ফি নির্ধারণ করে 'বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০' সংশোধন করেছে সরকার। বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর আওতায় জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫০ কিলোওয়াট বা তদূর্ধ্ব ক্ষমতার গ্রাহকদের উপকেন্দ্রের ক্ষমতাভেদে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হবে। একই সঙ্গে লিফট, মিটার, ট্রান্সফরমারের তেল ও সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণের মাধ্যমে ২০১৪ সালের পুরোনো আদেশটি রহিত করা হয়েছে।
নতুন তফসিল অনুসারে, ১০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি ২০ হাজার টাকা ও নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা এবং ৫০০ কেভিএর ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা। বড় আকারের উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ১ এমভিএ ক্ষমতার জন্য ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ফি ৩০ লাখ টাকা ও নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া লিংকেজ পরীক্ষার ফি ২ হাজার এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ সেফটি প্ল্যান অনুমোদনে লোডভেদে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ফি প্রযোজ্য হবে।
সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাভেদে পরিদর্শন ফি ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং নবায়নে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক লিফটের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরিভেদে পরিদর্শন ফি ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এনার্জি মিটার পরীক্ষায় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। নির্ধারিত এই ফি ট্রেজারি চালান বা এ-চালানের মাধ্যমে কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে পরিশোধ করে মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।
ভালোবাসা সত্যিই কী অদ্ভুত যে চায়, সে কি আদৌ পায় আমিও কি পাব তারে তুমি তো জবাব দিলে না! তোমার হৃদয়ে তো তুমি গ্রহণ করো সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা সেই অতিথি পাখিটিকে; নাহয় সেই দুর্লভ প্রজাপতিটিকে। তুমি কি গ্রহণ করবে আমায়? তুমি তো নগরীর দেবী আমি ছাড়া তোমার অনেক পূজারী আছে তবুও আমি তোমাকে ভালোবাসব যেভাবে তোমায় ভালোবেসেছিলাম।
বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নবায়ন ফি নির্ধারণ করে 'বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০' সংশোধন করেছে সরকার। বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর আওতায় জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫০ কিলোওয়াট বা তদূর্ধ্ব ক্ষমতার গ্রাহকদের উপকেন্দ্রের ক্ষমতাভেদে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হবে। একই সঙ্গে লিফট, মিটার, ট্রান্সফরমারের তেল ও সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণের মাধ্যমে ২০১৪ সালের পুরোনো আদেশটি রহিত করা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুসারে, ১০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি ২০ হাজার টাকা ও নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা এবং ৫০০ কেভিএর ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা। বড় আকারের উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ১ এমভিএ ক্ষমতার জন্য ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ফি ৩০ লাখ টাকা ও নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া লিংকেজ পরীক্ষার ফি ২ হাজার এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ সেফটি প্ল্যান অনুমোদনে লোডভেদে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ফি প্রযোজ্য হবে। সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাভেদে পরিদর্শন ফি ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং নবায়নে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক লিফটের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরিভেদে পরিদর্শন ফি ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এনার্জি মিটার পরীক্ষায় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। নির্ধারিত এই ফি ট্রেজারি চালান বা এ-চালানের মাধ্যমে কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে পরিশোধ করে মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিকস টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে ইউনিটটি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি ও প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। রুশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় দলটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা হয়। এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিটটির ফিজিক্স টেস্টও শেষ হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। জাহেদুল হাসান আরও জানান, শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার ওপর। প্রথম ইউনিটের বর্তমান অগ্রগতির মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সে হিসাবে দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
নবম জাতীয় পে স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। রোববার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারির পর সোমবার এটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব ভাতা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাভুক্ত নয় এবং প্রচলিত নিয়মে মূল বেতনের শতকরা হারে দেওয়া হয়, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করা হবে। ফলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আওতাবহির্ভূত ভাতাগুলো পুরোনো বেতনের কাঠামোতেই কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো ঘোষণা করে। এই কাঠামো ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন আদেশের বাইরে থাকা বিশেষ ভাতাগুলো পূর্বের নির্ধারিত হারেই বহাল রাখা হলো।