সহিংস বিক্ষোভ ও ব্যাপক লুটপাটের মুখে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে কারফিউ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দ্যু লা রিপাবলিক, লে আল শপিং এলাকাসহ নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মানুষের চলাচল ও বিনা অনুমতিতে জমায়েতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, লিওঁ, লিল ও দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরেও তরুণদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সোমবার এই জরুরি নির্দেশনা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি অভিযোগ করেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সড়ক ব্যারিকেড ও সহিংসতা দ্রুত থামানোর নির্দেশ দেন। মূলত জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও শিক্ষক সংকট নিয়ে গত মাসে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ দ্রুতই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। চলতি সপ্তাহে তা রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়; দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ বিক্ষোভকারী মাঠে নামলে ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী এই পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি আইনের আওতায় কারফিউ জারির পাশাপাশি রাস্তায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিয়ে দেশে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের নাজরান সীমান্তে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ঘটনাটিতে হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবিটি নাকচ করে জানিয়েছে, মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই তাদের পর্যবেক্ষণ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, নাজরান এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের এএইচ-সিক্সআই মডেলের হেলিকপ্টারটি যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। গত জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটিই তাদের সামরিক সদস্য নিহতের প্রথম ঘটনা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকা দখলের পর হুতিরাও রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেলের স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে।
ভারতের আসামে মাত্র দুই দিনের বিশেষ অভিযানে ১১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলমুক্ত করতে এ অভিযান চালানো হয়। সংবাদমাধ্যম সিয়াসাত ডেইলির বরাতে জানা গেছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর প্রথম দিনেই তিন জেলার ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর পরের দিন নগাঁওয়ের লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক পরিবারের স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। উচ্ছেদ শুরুর আগেই স্থানীয় অনেক বাসিন্দা নিজেদের সহায়-সম্বল গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনভূমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে নিজেদের অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে সেখানে বৈধভাবেই বসতি গড়েছিলেন। উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা গৌহাটি হাইকোর্টে গেলেও আদালত বন সুরক্ষার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের আবেদন নাকচ করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ১৯০০০ পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম। বনভূমি সংরক্ষণের যুক্তি দেখিয়ে সরকার এ পদক্ষেপ নিলেও স্থানীয়দের ভূমির অধিকার ও পুনর্বাসন সংকট নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জনকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর ক্লাব কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ইনচার্জসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল ভিড় সামলাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দড়ি ফেলে ভিড় জমানোর ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহতদের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা ও চাকরি এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে দুর্ঘটনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা আগমন ও তাঁকে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনাকে উপেক্ষা করে পুলিশের মনোযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিআইপি নিরাপত্তার দিকেই বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল কি না।
ভারতে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক দুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত ‘তিরঙ্গা মার্চ’ বা পতাকা পদযাত্রা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমাবেশ রুখতে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সিজেপির শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দলটির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। পূর্বে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দলটি সমাবেশের নতুন স্থান হিসেবে সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নেয়। সমাবেশ ঘিরে সেন্ট্রাল পার্ক ও সংলগ্ন রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল বিজ্ঞপ্তিতে পার্ক বন্ধের কথা জানায়। এদিকে অনুষ্ঠানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও আম আদমি পার্টির নেতাদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। দিল্লি পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেট্রো পরিষেবা আপাতত সচল থাকলেও প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দলকে উপযুক্ত স্থানে পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৪৩/বি’ বা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) নিক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। মূলত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের লক্ষ্যেই এই বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্ররা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে যেকোনো সময় এই হামলা হতে পারে। তবে বিশাল বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া বৃহৎ পরিসরে এই বোমার ব্যবহার হলে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএস-এর আস্তানা লক্ষ্য করে এই এমওএবি বোমা নিক্ষেপ করেছিল মার্কিন বাহিনী, যাতে ৯০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে ট্রাম্প এখন আপাতত আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কেননা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রিয়তা বেশ হ্রাস পেয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতেই এই যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল, যদিও তেহরান শুরু থেকেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক তৎপরতা স্থবির হয়ে পড়ায় বর্তমানে সামরিক অভিযান কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশ চারটি হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম। ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অব্যাহত সমর্থনের জেরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক নির্বাহী ডিক্রির মাধ্যমে এই নির্দেশ জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডিক্রির তালিকায় রয়েছে ফরাসি ফ্লোরিং নির্মাতা ‘টার্কেট’, জার্মান প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান ‘মেনশেন’, সুইডিশ ‘স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস’ এবং বেলজিয়ামের ‘অনটেক্স’। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিষ্ঠান সোনোকোর ডাচ ইউনিটের কিনে নেয়া মেটাল-প্যাকেজিং ব্যবসা ‘ইভিওসিস’-এর রুশ সম্পদও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রেমলিন দাবি করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ার প্রতিক্রিয়াতেই এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি স্থায়ী নয় এবং চাইলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশ্বস্ত করেছে মস্কো। এর আগেও গত মাসে খাদ্যপণ্য জায়ান্ট নেসলে, ওশান ও মেট্রোর মতো পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করা হয়। এদিকে শুক্রবারের ইইউ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি এবং জব্দকৃত রুশ সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের খবরের মুখেই মস্কোর এই নতুন পদক্ষেপটি প্রকাশ্যে এলো।
অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। সোমবার সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে। অর্থনৈতিক মন্দা বা অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অপরিসীম। সুদের হার ও সরকারি ব্যয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত হয়ে আসছে। হল ও উডফোর্ডের গবেষণা এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে পশ্চিমা বিশ্বে নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি একসঙ্গে দেখা দিলে প্রচলিত কেইনসীয় মডেলগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খায়। সংকট মোকাবেলার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে এই দুই অর্থনীতিবিদের তাত্ত্বিক অবদান বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দেওয়া এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুততম সময়ে এই বকেয়া কর পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ আগের রায় প্রত্যাহার করে নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের রিট আবেদনগুলো সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটের ব্যানারে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এই পদযাত্রা বের করা হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বাসে যাত্রা শুরুর পর বারাখম্বার কাছে নেমে মিছিলে যোগ দেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়। কনট প্লেস ও মান্ডি হাউস এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে রাজপথ অবরুদ্ধ করে তোলেন। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন দায়ের করতে প্রধান বিচারপতির সাথে যোগাযোগ করেছেন। কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করে অপরাধ স্বীকারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপে তিনি টিকে থাকতে পারবেন না। টানা কয়েক দিন ধরে কড়া পুলিশি নজরদারি ও ব্যারিকেড সত্ত্বেও রাজপথে বিরোধীদের উত্তাল উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্না কর্মসূচিতে বসার পর পুলিশ এ পদক্ষেপ নেয়। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একদল নেতা-কর্মী সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে পুলিশ তাঁদের কর্মসূচি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ উপস্থিত নেতাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এর ফলে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনাম যথারীতি শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি নিজেদের দখলে নিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা)-এর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক পাঠিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। একক বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা সামগ্রিকভাবেই পোশাকের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। বাজারটিতে শীর্ষ সরবরাহকারী ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। ২০২২ সালে যেখানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, ২০২৩ সালে তা বড় ধাক্কা খেয়ে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরবর্তী দুই বছর ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও চলতি বছরের পতন আবারও দেশের পোশাক খাতকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং সংঘাত বন্ধে নিজেদের সুনির্দিষ্ট শর্ত স্পষ্ট করেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালির নৌপথ নিরাপদ রাখতে ওমানের সঙ্গে একটি সফল সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে দেশটি। ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরে সম্প্রতি এক বক্তব্যে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। ইসমাইল বাঘেই উল্লেখ করেন, বিরোধ নিরসনে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরছে এবং ওমানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ নৌপথের ভৌগোলিক সীমারেখা নির্ধারণে দুই দেশই একমত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত যৌথ সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সামনে উত্থাপন করা হবে, সে বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই দ্রুতই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে যুগান্তকারী অবদান ও মহাজাগতিক উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের স্বীকৃতি হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, দক্ষিণ মেরুর বরফ কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র কণা নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্তের ধারণাটি সফলভাবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর নির্দেশনায় গড়ে ওঠা আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি মূলত অ্যান্টার্কটিকার এক ঘন কিলোমিটার গভীর বরফের নিচে স্থাপিত একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। আধুনিক আলোক সেন্সরে সজ্জিত এই মানমন্দির ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সুদূর প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অতি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। ইতিহাসে ১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে ১১৯ বার এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এ শাখায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে এক্স-রে দিয়ে স্ফটিকের গঠন বিশ্লেষণের জন্য সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নোবেল পান অস্ট্রেলিয়ার উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগ। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে সবচেয়ে প্রবীণ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার আশকিন।
মস্তিষ্কের পৃথক স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার যুগান্তকারী পদ্ধতির জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। সোমবার ৫ অক্টোবর নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলের নাম ঘোষণা করে। আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে ৫৪ বছর বয়সী কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। অন্য দুই বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান (৭১) ও জর্জ নাগেল (৭৩) জার্মানির যথাক্রমে হামবোল্ট ও ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণায় যুক্ত। নোবেল কমিটির মতে, তাঁদের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কমিটি টেলিফোনে তিন বিজ্ঞানীর সঙ্গেই যোগাযোগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানিয়েছে। এ বছর পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। স্টকহোমে এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সূচনা হলো চলতি বছরের নোবেল সপ্তাহ।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রথম দফায় ১,৪৭৯ জন অভিবাসীকে সামরিক ও চিকিৎসা জাহাজে করে ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়। দেশটিতে আটক থাকা ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিকের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে অন্তত ৫ হাজার মানুষকে এভাবে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাচ্ছেন; তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মূলত বাধ্য হয়েই তাঁরা এ পথ বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাবাসনটি সত্যিই স্বেচ্ছায় হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদেরও ওই অভিবাসীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। দেশটিতে আশ্রয় নেয়া মানুষের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা হলেও ফেরত পাঠানো এই দলে তাঁদের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণার পর থেকেই শরণার্থীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর না করায় মালয়েশিয়া তাঁদের অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে ফিরে এসব মানুষ চরম নির্যাতন ও জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির মুখে পড়তে পারেন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত হাইব্রিড বীজের সরবরাহ বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ভুটানে তিন দিনব্যাপী সার্ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সোমবার ৫ অক্টোবর দেশটির ইউসিপাংয়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর অর্গানিক এগ্রিকালচারে সবজির বীজ উৎপাদন সংক্রান্ত এ কর্মসূচি শুরু হয়। ভুটানের কৃষি বিভাগ ও ঢাকায় অবস্থিত সার্ক কৃষি কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী লিয়নপো ইয়োনতেন ফুন্টশো। তিনি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাই প্রতিরোধে উন্নত বীজ প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরেন। গবেষণার সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে উন্নত জাত এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার এবং ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণটিতে স্বাগতিক ভুটানের প্রায় ৩০ জন গবেষক সরাসরি উপস্থিত রয়েছেন এবং বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার কৃষি বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে যুক্ত হয়েছেন। তিন দিনের এ আয়োজনে মূলত টমেটো ও মরিচের হাইব্রিড বীজ উৎপাদনের ব্যবহারিক ও কারিগরি দিক শেখানো হচ্ছে। পরাগায়ন, জিনগত বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং মানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি সদস্য দেশগুলোর আঞ্চলিক বীজ নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চের প্রথম ধাপ আজ রোববার ৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বেলা ১টায় লাক্কি মারওয়াত থেকে এই কর্মসূচি যাত্রা করবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ লংমার্চের ডাক দেয়া হলো। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যুক্ত হয়ে রাতে কারাকে অবস্থান করবেন। এরপর ৫ অক্টোবর কোহাট এবং ৬ অক্টোবর হাঙ্গু ও কুররামের মিছিল নিয়ে পেশোয়ারের মাতানিতে রাত কাটাবেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর পেশোয়ার ও চরসদ্দা হয়ে খাইরাবাদে জমায়েতের মাধ্যমে লংমার্চের পরবর্তী ধাপের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে পিটিআইয়ের এই লংমার্চ ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতার নিশ্চয়তা না দেয়ায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সমঝোতার জন্য পিটিআইকে অবশ্যই লংমার্চ প্রত্যাহার করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্চকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার রেঞ্জার্স সদস্য মোতায়েনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে কনটেইনার বসিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তবে পিটিআইয়ের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবেই তা পরিচালনা করবে।
শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছেন শত শত হাইস্কুল শিক্ষার্থী। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত মঁপেলিয়ে, নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহিংসতা দমনে শুক্রবার ১,৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন দাঙ্গা ও শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনের মতে, দেশের ৩,৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি এই অস্থিরতার কবলে পড়েছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, মূল শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকা বহিরাগতরা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং এতে অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং বেশ কিছু পেট্রোল বোমা, কুঠার ও শক্তিশালী আতশবাজি জব্দ করেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, অতিরিক্ত স্কুলের সময়সীমা, ক্লাসরুমের প্রতিকূল পরিবেশ ও শিক্ষা বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণেই তাদের এই ক্ষোভ। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া এই সহিংস আন্দোলন ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ওপর জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারমন্ত্রী। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে দেশটির একাধিক প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়ন।
নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত্রিকালীন বিশেষ ‘পিংক ফোর্স’ টহল জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিত সিং সাধুর নির্দেশনায় গোয়া পুলিশের আদলে গঠিত এই ইউনিটে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। এর আওতায় রাজধানীজুড়ে ‘পিংক প্যাট্রল’ ও ‘পিংক স্কুটি’ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মেট্রোস্টেশন ও চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় কড়া নজরদারি রাখা হবে। সম্প্রতি দিল্লিতে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে পৃথক চারটি ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে কালকাজি মন্দিরের কাছে এক কিশোরীকে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং কিষানগঞ্জে এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব অপরাধের প্রেক্ষাপটেই নারী সুরক্ষায় সমন্বিত কাঠামোর পাশাপাশি প্রকাশ্য স্থানে উত্ত্যক্তকরণ ঠেকাতে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে দিল্লি পুলিশের ‘জনশুনানি’ কর্মসূচির আবেদনগুলো এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্র্যাক ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধান করা হবে। এ ছাড়া অপরাধপ্রবণ এলাকায় পদব্রজে ও মোটরসাইকেল টহল বাড়ানোসহ মাদকবিরোধী অভিযান, সাইবার অপরাধ দমন এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূত্র : ইকোনমিক টাইমস
শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলনে অন্তত ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দিনভর চলা সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষকসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। প্যারিসের বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। বিক্ষোভের সময় বেশ কিছু এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে; বিপরীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ জন সদস্য আহত হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক হওয়া ৪৪০ জনের মধ্যে অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে দাবি করেছেন, পুলিশ যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি চাকরিজীবী কর্মবিরতি পালন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলপথ থেকে পিছু হটেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর। প্রণালির মুখ থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত শুরুর পর হরমুজ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিত। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ কিংবা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই। আইআরজিসির মুখপাত্রের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং তাদের বর্তমান হুমকিগুলো পরাজয় ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। এর আগে গত জুনে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক উত্তেজনা কমলেও জুলাইয়ে চুক্তি থেকে ইরানের সরে আসার পর হরমুজে ফের অবরোধ জারি করা হয়। ওয়াশিংটন প্রণালিতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তেহরান তা নাকচ করে মার্কিন বহর পিছু হটার খবর জানাল।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মিশন সমাপ্তি উদযাপন করতে ইরাকে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষিত এ ছুটির দিনগুলোকে দেশটিতে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে দিবসটি ঘিরে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানায়। দেশটির শেষ কয়েকটি ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর জোটের সামরিক মিশনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল। তবে এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সামরিক সম্পর্কে পুরোপুরি ইতি টানছে না। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি নিশ্চিত করেছেন, জোট মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা যথারীতি অব্যাহত থাকবে। ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে গঠিত এই বৈশ্বিক জোট মূলত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজ করত। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের রূপরেখা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জোট কাঠামোর বদলে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বে রূপ নেয় তাদের সম্পর্ক। চূড়ান্ত প্রত্যাহারের পর এখন দুই দেশ নতুন কাঠামোর নিরাপত্তা সম্পর্কের পথে এগোচ্ছে।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে বিশ্ব বিবেকের জন্য বড় এক কলঙ্ক বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সাথে তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে বৈশ্বিক ক্ষোভের বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। লেবার পার্টির অবস্থান তুলে ধরে মিলিব্যান্ড জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো বিষয়গুলো তাঁরা জোরালোভাবে সামনে আনছেন। কেবল মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও নির্মাণ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তবে এ পদক্ষেপ কোনোভাবেই সাধারণ ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বলে তিনি সাফ জানান। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার চক্রান্ত প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করা নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জলবায়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন তিনি।
অস্থায়ী অভিবাসী কৃষিশ্রমিকদের একটি অংশের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কঠোর করায় দেশটিতে দেখা দেয়া তীব্র শ্রমিক-সংকট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গম, বার্লি ও ক্যানোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল তোলার মৌসুম আসন্ন হওয়ায় সরকারের এই উদ্যোগ সংকট কিছুটা লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেইন প্রডিউসার্স অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বার্ষিক অভিবাসন সংখ্যা কমানোর ফলে তৈরি হওয়া সংকট কাটাতে কৃষি সংগঠনগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসা দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশটির অনেক খামারই ফসল কাটা ও ঘরে তোলার জন্য মূলত এই অস্থায়ী অভিবাসী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জিপিএর চেয়ারম্যান ম্যাথু ম্যাডেন। তিনি জানান, ঠিক কতগুলো ভিসার দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সামনের দিনগুলোতে প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তথ্যসূত্র : ডয়চেভেলে, রয়টার্স
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবেলায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রের পানির স্তর এক মিটার বা তারও বেশি বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই পদক্ষেপে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে জরুরি অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোনো দেশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও তার সামুদ্রিক সীমানা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ের সমাধান এসেছে এ ঘোষণায়। সংকট তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সামান্য মিলিমিটারে মাপা হলেও এর প্রকৃত ক্ষতি লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জনপদ উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেয়া যায় না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট ‘অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস’-এর পক্ষ থেকে পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র এই ঘোষণাকে একটি ‘সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণা’র পর থেকেই ছোট দ্বীপদেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে আসছে। তথ্যসূত্র : বাসস
পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা প্রতিরোধসংক্রান্ত নতুন একটি আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধিমালার আওতায় রাস্তাঘাট, পার্ক বা সরকারি দপ্তরের মতো যেকোনো পাবলিক প্লেসে মুখ আড়াল করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটি অমান্য করলে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় সর্বনিম্ন ১৫০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে। সংসদে আলোচনার সময় এটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিত পেলেও মূল বিধানে কোনো বিশেষ ধর্ম বা পোশাকের উল্লেখ নেই; বরং যেকোনো উপায়ে মুখ ঢেকে রাখাকেই অপরাধ ধরা হয়েছে। অসাবধানতাবশত নিয়ম ভাঙলে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করলে ৪০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে। তবে পুলিশ শুধু ঘটনা নথিভুক্ত করবে এবং জরিমানার চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পৌরসভা। আইনে কিছু যৌক্তিক প্রয়োজনে ছাড় দেয়ার সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব, অসুস্থতা, বৈরী আবহাওয়া কিংবা শিল্প-সংস্কৃতির প্রয়োজনে মুখ ঢাকলে কোনো শাস্তির আওতায় পড়তে হবে না। এ ছাড়া মসজিদ বা গির্জার মতো উপাসনালয়, উড়োজাহাজ এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। নতুন এই আইনে জোরপূর্বক কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা বড় অঙ্কের জরিমানা হবে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ১৮ বছরের নিচে হলে এ শাস্তির পরিমাণ আরও এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পাবে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশেষ অনুরোধে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলার প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত ধাপে, ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে অভিযানটি বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছিল রিয়াদ। শুরুতে ট্রাম্প হামলার বিপক্ষে থাকলেও যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপের পর পেন্টাগনকে আঘাত হানার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি এতটাই অগ্রসর হয়েছিল যে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করে যুদ্ধবিমানে বোমা লোড করা সম্পন্ন হলেও রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই পুরো প্রক্রিয়া থামিয়ে দেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও সৌদি আরবের অনুরোধে ওয়াশিংটনের হামলা বিবেচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও হোয়াইট হাউস। কেবল প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সবসময় মিত্রদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের বড় অংশই সৌদি-হুথি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিপক্ষে ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর ওপর বাড়তি সামরিক চাপ পড়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। একই সঙ্গে মে মাসে কৌশলগত কারণে রিয়াদ আকাশসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের নজির থাকায়, পুরো আঞ্চলিক ভূরাজনীতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন।
জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেঁয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’। এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে দেশটির ১৬ লাখেরও বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জরুরি সতর্কবার্তা নিশ্চিত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইবারাকি, চিবা, টোকিও, কানাগাওয়া এবং শিযুওকা অঞ্চলের ৬ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে চিবা প্রিফেকচারের সোদেগাউরা শহরে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ভূমিধস ও বিপদের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের ঢালু এলাকা এড়িয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলার ওপরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। টাইফুনের কারণে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশটিতে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ প্রতিরোধ সংস্থা সাধারণ মানুষকে যেকোনো বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ স্থানে অবস্থান না করার কড়া নির্দেশনা জারি করেছে। ইতোমধ্যে টাইফুনের তাণ্ডবে সোদেগাউরা শহরে ভূমিধসে আটকা পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদিকে টোকিও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার তথ্যমতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রভাবে দেশটির ৫০ হাজার ৮৯০টিরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে নতুন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলার জেরে সৌদি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি জ্বালানি ট্যাংক থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেন, ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সানায় সৌদি জোটের আগ্রাসন এবং গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টি হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের এই সংঘাত চলছে। এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ফ্লাইট বাতিল কিংবা ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে অঞ্চলটিতে মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াতের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।