সৌদি আরবে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে দেশটিতে পাড়ি জমানো সজিব জুবাইল শহরে কর্মরত অবস্থায় গত রোববার এ হামলার শিকার হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য সজিবের মৃত্যুর খবর সৌদি আরবে থাকা তাঁর বন্ধু স্বজনদের নিশ্চিত করেন। একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে পরিবারে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দ্রুত সজিবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর তথ্য সংগ্রহসহ মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশ্চিত করেছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সজিবের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষিত এলাকা, সংবেদনশীল বিষয় এবং যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় আইন অমান্য করা সেখানে দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সে জননিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রকাশ, প্রচার কিংবা আদান-প্রদান করা যাবে না; এমনকি এমন পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সেবা গ্রহণকালে দূতাবাস কিংবা কূটনৈতিক এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তিও সমুন্নত রাখবে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) তথ্যমতে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই বহিষ্কার কার্যকর হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন, যা জাতীয়তা বিবেচনায় সপ্তম সর্বোচ্চ। বহিষ্কারের তালিকায় ৪ হাজার ২২৭ জন নাগরিক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারত এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকোর নাগরিক ২ হাজার ২৮২ জন। সিবিএসএ জানিয়েছে, বহিষ্কারের প্রধান কারণ ছিল শরণার্থী আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন, যার জেরে ১২ হাজার ৫ জনকে অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্তভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে বাকিদের ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো কানাডায় ৪৯ হাজার ৫৩৬ জনের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি। সিবিএসএ স্পষ্ট করেছে, যাদের বৈধভাবে অবস্থানের অধিকার নেই, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
পরিবেশ সুরক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার সামাজিক বার্তা নিয়ে ফ্রান্সের সেন্ট দেনিস শহরে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস ২০২৬। রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে Solidarités Asie France (SAF)-এর উদ্যোগে এবং Mairie de Saint-Denis-এর সহযোগিতায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির ২৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন SAF-এর সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা। কর্মসূচির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দেন Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্যানেলের Nora Bensalah, Maire Adjounte, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত Nahidul Muhammad এবং মেইরির অন্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা। কর্মসূচি চলাকালে নয়ন এনকে বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার মতো সামাজিক উদ্যোগকে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম আমরা ভবিষ্যতে আরও করব। তবে শুধু বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসেই নয়, প্রতিদিনই আমাদের নিজ নিজ এলাকা ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি আমাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko SAF-এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে SAF-এর সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন। মেয়র ও মেইরির কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পুরো কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বার্তাও তুলে ধরে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের এ কর্মসূচিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুরো কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক ধারণ ও নথিভুক্ত করেন। এ সময় Mairie de Saint-Denis-এর পক্ষ থেকেও একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এবং আয়োজকদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। SAF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস উপলক্ষে সেন্ট-দেনিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সচেতন নাগরিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্বের একটি বার্তা তুলে ধরেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে কর্মী নিয়োগের সঠিক প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। তথ্যের এই ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে দালাল ও বিভিন্ন এজেন্সি নানা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্কবার্তা দিয়ে আপাতত পাসপোর্ট জমা ও অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও একশ্রেণির রিক্রুটিং ও ট্রাভেল এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও সঠিক তথ্যের অভাবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, প্রতারণা ও নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা বহু কর্মীকে ভোগ করতে হয়েছে। এদিকে কর্মী পাঠাতে ৩৩৮টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২৫টি মূল এজেন্সির অধীনে ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—সহযোগীরা কি সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি মধ্যস্বত্বভোগী হয়ে কাজ করবে। অতীতের মতোই নতুন এই কাঠামো কার্যত সিন্ডিকেশন প্রথা বজায় রাখবে কি না, তা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে। তবে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে আটকে পড়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মডেলটি বৃহত্তর পরিসরে কার্যকর করা গেলে তা স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি প্রচার কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত ও সহজবোধ্য করা অত্যন্ত জরুরি। ইউনিয়ন সেন্টার ও টিটিসিগুলোকে শুধু নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। কেবল কতজন কর্মী পাঠানো হলো তা নয়; বরং স্বচ্ছতা, সুরক্ষা এবং কম খরচে কর্মী পাঠানোর নিশ্চয়তাই নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার সত্যিই সিন্ডিকেটমুক্ত হলো কি না।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করে শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সকালে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বার্তা প্রকাশ করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া এই নির্দেশনায় মূলত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, উক্ত নির্দিষ্ট ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোন কাজগুলো করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দূতাবাসের প্রকাশিত ওই বার্তায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বি১/বি২ ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দেয়া বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়। এর পাশাপাশি ভিজিটর ভিসায় সেখানে অবস্থান করে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে চাকরি অথবা কাজ করা যাবে না। ঠিক একইভাবে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে পূর্ণকালীন পড়াশোনা করাও এই ভিজিটর ভিসার শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং ভ্রমণের আগেই এই ভিসার সমস্ত শর্ত ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করেও ঠিক একই ধরনের একটি সতর্কবার্তা প্রদান করেছিল মার্কিন দূতাবাস। সেই সময় প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছিল যে, নির্ধারিত পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো কাজে যুক্ত হওয়া, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা, নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম এড়িয়ে চলা কিংবা নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিলে ওই শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বিদেশিদের সংশ্লিষ্ট ভিসার নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে এবং ভিসার যেকোনো রকম অপব্যবহার এড়ানোর উদ্দেশ্যেই দূতাবাসের পক্ষ থেকে এসব সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত ‘অপস সাসার’ নামের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ২৪৫ জন বাংলাদেশিসহ ৫২৮ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আটটি নির্মাণস্থলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ৪১৪ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫০ জন পুরুষ ও ৭৯ জন নারী। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৪৫ জন ছাড়াও ১১৯ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১০০ জন মিয়ানমারের, ২৩ জন ভারতের, ৪ জন নেপালের এবং অন্যান্য দেশের ৩৭ জন নাগরিক রয়েছেন। মূলত বৈধ পরিচয়পত্র বা নথি না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, ভিসার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা এবং স্বীকৃত নয় এমন কার্ড ব্যবহারের মতো অনিয়মের কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক দাতুক বাসরি ওথমান জানান, অভিবাসীদের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উদ্বেগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিবাসন আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং বিধি লঙ্ঘন শনাক্ত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। আটককৃত সবাইকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে দুই বছরের চুক্তিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে গ্রেড-১ মর্যাদায় তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে সাবেক এই কূটনীতিক ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর ভোগ না করা অবসরোত্তর ছুটি স্থগিত এবং অন্য সব পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কাতার ও কুয়েত মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত একটি কথিত যৌন ব্যবসা চক্রের সন্ধান পেয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। গত ১৯ আগস্ট বুধবার রাতে কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাংলাদেশি-থাই দম্পতি এবং প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার বা ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে কর্মরত এক মালয়েশীয়সহ মোট ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন গোয়েন্দা দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। ২০ আগস্ট ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটককৃত ২৬ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে বাংলাদেশি, থাই, মালয়েশীয়, মিয়ানমার, ইন্দোনেশীয় ও ভিয়েতনামী নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই নারী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিদেশিদের কারও কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না। অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকটি পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, কনডম এবং নগদ ১,২১৫ রিঙ্গিত জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ব্যবহার করে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে মূলত ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের গ্রাহক হিসেবে আকৃষ্ট করা হতো। মূল হোতারা কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে আটকে রেখে গোপনে এই কার্যক্রম চালাত। আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য ২০০ রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত ফি নেয়া হতো। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। আটক বিদেশি দম্পতি ও স্থানীয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় এবং অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে ৬(১)(সি) ধারায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য আটকদের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো এক হয়ে আয়োজন করেছেন এক যৌথ মিলনমেলা। ভৌগোলিক সীমান্ত আর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গত ১৫ আগস্ট সীতাকুণ্ডের প্রবাসীরা প্রমাণ করে দিলেন দূরত্ব যতই থাক, শেকড়ের টান আর নাড়ির বন্ধন সব সময়ই এক ও অভিন্ন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অজস্র আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও সাধারণত একই ছাতার নিচে এসে যৌথভাবে এমন বড় কোনো আয়োজনের নজির দেখা যায় না। কিন্তু সীতাকুণ্ডের প্রবাসী সন্তানরা সেই ধরাবাঁধা রীতি ভেঙে গড়ে তুলেছেন এক নতুন মেলবন্ধন। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও বড় আয়োজনের কথা হয়তো আমরা সবাই একযোগে ভাবতে পারি না। কিন্তু আমাদের মাঝ থেকে যে দু-একজন দূরদর্শী মানুষ প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছেন এবং দিনরাত পরিশ্রম করে পুরো আয়োজনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্যোগী ভূমিকা ও নেতৃত্বকে জানাতেই হয়। বহু ব্যস্ততা ও শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও কেবল শেকড়ের টানে ও ভালোবাসার টানে অনেকে ছুটে এসেছেন। বিশেষ করে, বোস্টন কিংবা নিউইয়র্ক সিটির মতো দূর-দূরান্তের শহর থেকে ৭-৮ ঘণ্টার দীর্ঘ পথ ড্রাইভ করে এসে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের এই ত্যাগ ও আন্তরিকতা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। প্রবাসের হাজারও যান্ত্রিকতার মাঝেও চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সবুজ রূপ, ঝরনার হাওয়া কিংবা বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে যাওয়া সেই চেনা পথঘাটের কথা আজও আমাদের ব্যাকুল করে তোলে। বাফেলোর এই আড্ডার মাঝে আমরা যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে গিয়েছিলাম আমাদের শৈশব-কৈশোরের সেই ধুলোবালি মাখা সীতাকুণ্ডে। সারা দিন প্রাণবন্ত গল্প, জম্পেশ আড্ডা, খেলাধুলা আর বিচিত্র রকমারি খাবারের মধ্য দিয়ে আমরা চমৎকার একটি দিন অতিবাহিত করলাম। এই অল্প কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনে হয়েছিল সীমান্ত আর প্রবাসের সমস্ত দূরত্ব ভুলে আমরা যেন সবাই একটি ভালোবাসার পরিবারে পরিণত হয়েছি। ক্ষণিকের জন্য হলেও মনে হয়েছিল, পুরো সীতাকুণ্ড যেন বাফেলোর বুকে একটিমাত্র পরিবার। শুধু তা-ই নয়, প্রায় ৮০ জনের এই মিলনমেলার সকলেই যেন সীতাকুণ্ডের শৈশবকে ফিরে পেয়েছিল ক্ষণিকের জন্য। সীমান্তের দূরত্ব যতই থাক, সীতাকুণ্ডের শেকড়ের বন্ধন এবং আমাদের এই পারস্পরিক ভালোবাসা উত্তর আমেরিকার বুকে আজীবন অমলিন থাকুক।
ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপে পৌঁছানো অন্তত ২০২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। তবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুদানের নাগরিক। এ ছাড়া কয়েকজন মিসরের নাগরিকও রয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্র দেমোক্রাতিয়ার বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক নৌযাত্রায় তাঁরা ক্রিটে পৌঁছান। অভিবাসীদের এই আকস্মিক ঢলে দ্বীপটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ আগস্ট সকালে ৪০ জনের একটি দলকে ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রায় পৌঁছানোর আগে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের উড়োজাহাজ শনাক্ত করে। পরে উপকূলরক্ষীদের সহায়তায় তাঁদের ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই আরও দুটি নৌকায় ১১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সেখানে পৌঁছান। এর মধ্যে প্রথম নৌকার ৫৬ জনের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি ও ৩১ জন সুদানি ছিলেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় নৌকার ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক ছিলেন। উল্লেখ্য, ক্রিটে অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন উদ্ধার হওয়া এই ব্যক্তিদের স্থানীয় হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে।
প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ২ আগস্ট বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে একটি রুল জারি করেছে। রুলে প্রবাসীদের পাসপোর্টের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসীকল্যাণ সচিব ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১৪ জন বিবাদীকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। প্রবাসীদের পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে এলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, রিপন বাড়ৈ ও মাহবুবুল ইসলাম। রিটের পক্ষে শুনানি করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীরা পাসপোর্ট জটিলতায় নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় চাকরিও হারাচ্ছেন, যা ব্যক্তি ও দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও দেশীয় ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঋতুরঙ্গ মেলা ২০২৬’। গত শনিবার স্থানীয় সালবাউ বর্নহাইম মিলনায়তনে জার্মান বাংলা চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মেলায় দেশীয় পোশাক, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা কামরুল আহসান সেলিম। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টলে জামদানি, দেশীয় পোশাক ও প্রসাধনীর পাশাপাশি ছিল নানা রকম বাঙালি খাবারের সমাহার। এমন আয়োজন প্রবাসে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী আঁখি হালদারসহ স্থানীয় শিল্পীরা। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে গুণী শিল্পী, সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সদ্য বিদায়ী জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তবে আগের মাসগুলোর ধারাবাহিকতার তুলনায় জুনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের জুনেও দেশে ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
ইতালিতে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। নতুন রায় অনুযায়ী, কেবল শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেমে (এসআইএস) প্রশাসনিক সতর্কবার্তা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ২০২০ সালের ‘স্যানাটোরিয়া’ আবেদন সরাসরি বাতিল করা যাবে না। এখন থেকে প্রতিটি আবেদনকারীর কর্মসংস্থান, বসবাসের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, ঢালাওভাবে আবেদন বাতিলের পুরনো নিয়মটি ইতালির সংবিধানের সমতা ও ন্যায্য আচরণের নীতির পরিপন্থী। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আগে যাদের আবেদন অবৈধ প্রবেশের কারণে আটকে ছিল বা বাতিল হয়েছিল, তারা এখন ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে তা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বৈধতার সুযোগ পেতে পারেন। তবে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা গুরুতর অপরাধে জড়িতরা এই আইনি সুবিধা পাবেন না।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রশাসনিক বিভিন্ন সেবা সহজ, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদারভাবে প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আদাফ সার্ভিস প্লাস (ADAF Service Plus)। উত্তর প্যারিসের ওবারভিলিয়ে শহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওয়াদুদ তানভীর বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই আদাফ সার্ভিস প্লাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আদাফ সার্ভিস প্লাস ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিশ্বস্ত সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, আদাফ সার্ভিস প্লাসের মাধ্যমে আবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আবেদন, বসবাসের অনুমতিপত্র, জাতীয়তা, পারিবারিক ভিসা, সরকারি দপ্তরের আবেদনপত্র প্রস্তুত, অনুবাদসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় আদাফ একাডেমির মাধ্যমে ফরাসি ভাষাশিক্ষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের সফলতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধতা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে ফরাসি প্রিফেকচুরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দিতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট শনিবার এই সেবা দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবাসীরা সরাসরি পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী কমিউনিটি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক গত ১৫ মের আগে ইমেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। এ সময় গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, এর ফলে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের বৈধতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি বিশেষ মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি, আজমানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আমিরাতের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং স্থানীয় রীতি-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া প্রবাসীরা তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং কনস্যুলেট প্রতিনিধিরা এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন।
প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধাদানের লক্ষ্যে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কার্ডের মাধ্যমে ১০টি বিশেষ সুবিধা প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে এর আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমানবন্দর লাউঞ্জ ও মিট অ্যান্ড গ্রিট সুবিধা, টিকিট ও হোটেলে বিশেষ ছাড়, সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় পাবেন। এছাড়া কার্ডধারীর মৃত্যুতে মরদেহ দেশে পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন, বীমা সুবিধা এবং জমি রেজিস্ট্রেশন ও ইউটিলিটি সেবায় অগ্রাধিকারের মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সহজ ঋণ সুবিধা এবং পাসপোর্ট-কনস্যুলার সেবায় কার্ডধারীরা বাড়তি গুরুত্ব পাবেন। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন নাগাদ ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে কার্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।