চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৭ জনে, যা রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। সোমবার ১৬টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রেকর্ড হওয়া ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের বিরোধকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই নিহত হয়েছেন ৪০ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩২ জন। এ ছাড়া জামায়াত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাতে আরও ২০ জন মারা যান। সামগ্রিকভাবে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী।
রাজনৈতিক সংঘাত ছাড়াও এ সময়ে মানবাধিকারের অন্যান্য সূচকেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নয় মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ৫৮টি সভা-সমাবেশে বাধা দেয়ায় আহত হয়েছেন ৪৩৯ জন। পাশাপাশি কারা হেফাজতে ৯৫ জন এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে ৫৬টি এবং বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেছে ১৩ বাংলাদেশির।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার, নির্বাচন ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই বেশির ভাগ সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংসতা, গণপিটুনি এবং নারী-শিশু নির্যাতন রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৭ জনে, যা রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। সোমবার ১৬টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রেকর্ড হওয়া ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের বিরোধকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই নিহত হয়েছেন ৪০ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩২ জন। এ ছাড়া জামায়াত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাতে আরও ২০ জন মারা যান। সামগ্রিকভাবে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক সংঘাত ছাড়াও এ সময়ে মানবাধিকারের অন্যান্য সূচকেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নয় মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ৫৮টি সভা-সমাবেশে বাধা দেয়ায় আহত হয়েছেন ৪৩৯ জন। পাশাপাশি কারা হেফাজতে ৯৫ জন এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে ৫৬টি এবং বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেছে ১৩ বাংলাদেশির। এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার, নির্বাচন ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই বেশির ভাগ সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংসতা, গণপিটুনি এবং নারী-শিশু নির্যাতন রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতাকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের ভাড়াবাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু এবং আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বাবুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন ওই তিন নেতা। ঢাকায় অবস্থান করেও তাঁরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন নেতার মধ্যে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে মকলেছুর রহমান মিন্টু ও শহিদুল ইসলাম রতন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এদিকে তিন নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুর্নীতির মামলার আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ইন্টারপোলের দেয়া বার্তার বরাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ১৫ অক্টোবর সেখানে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। প্রথম মামলায় হান্নানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ছয়টি ব্যাংকে সাড়ে ২৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ৩২টি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এতে তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি এবং তাঁকে সহযোগিতার দায়ে সাবেক এই বিমানবাহিনী প্রধানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।