সহিংস বিক্ষোভ ও ব্যাপক লুটপাটের মুখে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে কারফিউ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দ্যু লা রিপাবলিক, লে আল শপিং এলাকাসহ নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মানুষের চলাচল ও বিনা অনুমতিতে জমায়েতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, লিওঁ, লিল ও দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরেও তরুণদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সোমবার এই জরুরি নির্দেশনা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি অভিযোগ করেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সড়ক ব্যারিকেড ও সহিংসতা দ্রুত থামানোর নির্দেশ দেন।
মূলত জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও শিক্ষক সংকট নিয়ে গত মাসে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ দ্রুতই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। চলতি সপ্তাহে তা রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়; দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ বিক্ষোভকারী মাঠে নামলে ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী এই পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি আইনের আওতায় কারফিউ জারির পাশাপাশি রাস্তায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিয়ে দেশে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।
ভারতের আসামে মাত্র দুই দিনের বিশেষ অভিযানে ১১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলমুক্ত করতে এ অভিযান চালানো হয়। সংবাদমাধ্যম সিয়াসাত ডেইলির বরাতে জানা গেছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর প্রথম দিনেই তিন জেলার ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর পরের দিন নগাঁওয়ের লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক পরিবারের স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। উচ্ছেদ শুরুর আগেই স্থানীয় অনেক বাসিন্দা নিজেদের সহায়-সম্বল গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনভূমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে নিজেদের অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে সেখানে বৈধভাবেই বসতি গড়েছিলেন। উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা গৌহাটি হাইকোর্টে গেলেও আদালত বন সুরক্ষার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের আবেদন নাকচ করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ১৯০০০ পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম। বনভূমি সংরক্ষণের যুক্তি দেখিয়ে সরকার এ পদক্ষেপ নিলেও স্থানীয়দের ভূমির অধিকার ও পুনর্বাসন সংকট নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশ চারটি হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম। ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অব্যাহত সমর্থনের জেরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক নির্বাহী ডিক্রির মাধ্যমে এই নির্দেশ জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডিক্রির তালিকায় রয়েছে ফরাসি ফ্লোরিং নির্মাতা ‘টার্কেট’, জার্মান প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান ‘মেনশেন’, সুইডিশ ‘স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস’ এবং বেলজিয়ামের ‘অনটেক্স’। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিষ্ঠান সোনোকোর ডাচ ইউনিটের কিনে নেয়া মেটাল-প্যাকেজিং ব্যবসা ‘ইভিওসিস’-এর রুশ সম্পদও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রেমলিন দাবি করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ার প্রতিক্রিয়াতেই এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি স্থায়ী নয় এবং চাইলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশ্বস্ত করেছে মস্কো। এর আগেও গত মাসে খাদ্যপণ্য জায়ান্ট নেসলে, ওশান ও মেট্রোর মতো পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করা হয়। এদিকে শুক্রবারের ইইউ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি এবং জব্দকৃত রুশ সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের খবরের মুখেই মস্কোর এই নতুন পদক্ষেপটি প্রকাশ্যে এলো।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দেওয়া এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুততম সময়ে এই বকেয়া কর পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ আগের রায় প্রত্যাহার করে নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের রিট আবেদনগুলো সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।