Breaking news
উপসম্পাদকীয়

সরকার বদলেছে, প্রশাসনের সংস্কৃতি কি বদলেছে

সোনিয়া তাসনিম
সোনিয়া তাসনিম লেখক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট আদাবর, ঢাকা
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ • 0
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রশাসনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রদবদল হয়েছে। দীর্ঘ সতেরো বছরের বিতর্কিত শাসনপর্বের অবসানের পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এতে নির্বাচিত সরকার নিয়ে জনমনে যে বহুল প্রতীক্ষিত উন্নয়নের প্রত্যাশা ছিল, তা এ সরকার আসলে এখন অবধি কতটুকু পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, তা নির্ণয় করা এখনই করা সম্ভব নয়। তবুও হাকিকত বিচারে তাদের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ যেমন জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে, আবার তেমনি কতগুলো প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্য এটিই স্বাভাবিক।

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনে হাওয়া বদল আমাদের দেশের নতুন কোনো ঘটনা নয়। বরং একটি দল নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি থেকে পদোন্নতি, পদায়ন, দায়িত্ব পালনের দায়ভার অর্পণ থেকে সরাসরি অবসরের ব্যবস্থা কিংবা কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন—এসবই মূলত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই ওঠে, যখন একটি বিষয় জনতার নাগরিক চেতনার সামনে আবছা কুয়াশার পর্দা ফেলে। সেটা হলো, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশ্নটি কেবল পরিবর্তন হচ্ছে কি না, এতেই থেমে থাকে নাকি বরং এই পালাবদলের সঙ্গে পরিবর্তনের নীতি, পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য কী, সেটাও সমান গুরুত্ব বহন করে। সংগত কারণেই জবাব হবে—হ্যাঁ। কারণও যৌক্তিক। কেবল পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সাবলীল ধারায় এগুচ্ছে বলে বিবেচনা করা ভুল। তার চেয়ে এই রং বদলানোর খেলায় প্রণীত নীতিমালা এবং এর নেপথ্য কারণটাও সুস্পষ্টভাবে উঠে আসা আবশ্যক। অন্তত আজকের জনতা এমনটাই চায়। কারণ, সময়ের সঙ্গে প্রচলিত রাজনৈতিক চেতনার যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, এটা বোধকরি বুঝিয়ে বলার দরকার নেই।

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে বাংলাদেশের প্রশাসনের একাধিক পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো। ২৮ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁদের অবসরের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার অধীনে জনস্বার্থে তাঁদের অবসর দেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যানুযায়ী এমনটাই জানা গেছে।

এখন মনে হতেই পারে, ভাই মগের মুল্লুক নাকি কিংবা জোর যার মুল্লুক তার, এমন কিছু? আদৌতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক বদলি, পদোন্নতি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অবসরকে আইনানুগ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এসব গৃহীত পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তার পরও একটা কৌতূহল রয়েই যায়—আইনসম্মত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায়সঙ্গত হওয়া, দুটো বিষয় কি সব সময় একই সমান্তরাল গতিতে ধাবমান? এ প্রশ্ন কেবল নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কোনো সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে তর্কের খাতিরে করছি না। করছি একজন স্বাধীন রাষ্ট্রের সাধারণ একজন নাগরিকের কৌতূহল থেকে। এটি মূলত বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার দিকে গভীরভাবে আলোকপাত করার এক মোক্ষম সুযোগ।

প্রশাসন কি সরকারের, নাকি রাষ্ট্রের? এ প্রশ্নের জবাব কী? একজন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তা হিসেবে নন, বরং তিনি আনুগত্য জ্ঞাপন করেন সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রের প্রতি। সরকারের রাজনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করা তাঁর দায়িত্বের অংশ হলেও প্রশাসনের পেশাগত নিরপেক্ষতা রক্ষাও তাঁর অন্যতম দায়িত্ব, যা এড়ানোর সুযোগ নেই।

আমাদের দেশের দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণটাও বদলে যায়। এক সরকারের সময়ে যিনি প্রভাবশালী, অন্য দলের ক্ষমতার সময়ে তিনি হয়ে পড়েন অনাকাঙ্ক্ষিত। কেউ পদোন্নতি পান তো কেউ বনে যান ওএসডি, কেউ বদলি হন তো কেউ চলে যান অবসরে। দাবার পাশার কী আজব চাল! গুটির ছক পরিবর্তনে বুদ্ধির নকশাও পাল্টে যায় সুকৌশলে। তবে এই সংস্কৃতি কোনো একটি সরকারের সৃষ্টি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক রাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী একটি প্রবণতা।

সাম্প্রতিক সব ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তাই একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে, তা হলো সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনের আনুগত্যও কি পরিবর্তনশীল, নাকি প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি পেশাদার ও প্রতিষ্ঠাননির্ভর কাঠামোতে পরিণত হবে? তা সেই জেরে ৩২ জন সাবেক ডিসির অবসর—এ ঘটনা কি কেবলই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, নাকি নতুন নজির? আসুন একটু পেছনে যাই। ২০১৮ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়। সেই নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের অনেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৬ সালে তাঁদের মধ্যকার ৩২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো নির্বাচনী অধ্যায়কে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের দাবি।

যুক্তি খণ্ডাতে গেলে দুটি কারণ সামনে আসবে। প্রথমত, কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর অনিয়ম বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে এবং তার প্রমাণ থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রাষ্ট্র রাখে। সরকারি কর্মকর্তা পদে আসীন মানেই তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন, সেটি মনে রাখা জরুরি।

দ্বিতীয় যে যুক্তি, এটি আরও প্রাসঙ্গিক। শুধু কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে কি একজন কর্মকর্তাকে দায়ী করা সম্ভব? যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ—যৌক্তিক দাবি। কিন্তু যদি মূল বিবেচনা এখানে হয় যে তিনি কোন সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, তবে একই যুক্তি অন্য সরকারের সময় অন্য কোনো কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে পারে। আর তখন প্রশাসনে একটি বিপজ্জনক বার্তা থেকে যায়—আজকের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গ নিরাপদ হলেও ভবিষ্যৎ কিন্তু অনিশ্চিত। আর এমন পরিবেশে পেশাগত দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে প্রশাসনের বাধ্যতামূলক অবসর, বদলি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, ওএসডি এবং সংযুক্তির মতো পুরোনো চর্চা অব্যাহত থাকার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের মাঝে প্রতিশোধের সংস্কৃতি শেষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রকট হয়েছে অনিশ্চয়তা (দ্য ডেইলি স্টার)।

এই পর্যবেক্ষণটি মূলত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন সরকার যদি পুরোনো সরকারের প্রশাসনিক রাজনৈতিকীকরণের সমালোচনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা কিন্তু স্বাভাবিকই থাকে—নতুন সরকার সেই পুরোনো চর্চার পুনরাবৃত্তি করা থেকে বিরত থাকবে। সরকার পরিবর্তনের বড় সাফল্য তখনই হবে, যখন নতুন সরকার নিজের রাজনৈতিক সুবিধার খাতিরে পুরোনো প্রশাসনিক পদ্ধতি ব্যবহারে অপারগ থাকবে। তার মানে, সংস্কারের প্রকৃত পরীক্ষা বিরোধী দলের প্রতি সরকারের আচরণে যেমন, তেমনি প্রশাসনের প্রতিও সরকারের আচরণে।

এবার আসা যাক মেধাভিত্তিক প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তায়, যা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মেধাভিত্তিক প্রশাসন তৈরি করতে প্রথমেই কর্মকর্তাদের মাঝে একটি বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে, তাঁদের ক্যারিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে ধ্বংস হবে না। একজন কর্মকর্তা যদি ভাবেন যে আজকের সিদ্ধান্ত আগামীতে তাঁর বিরুদ্ধে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, তাহলে তিনি কখনোই ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। ফলে প্রশাসনে নিরাপদ সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা দক্ষ রাষ্ট্র তৈরির অন্তরায়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হয়। কিন্তু কর্মকর্তারা যদি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেন, সেখানে প্রশাসনিক কার্যকারিতা তার সক্ষমতা হারায়। সুতরাং প্রশাসনের স্বাধীনতা মানে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের স্বাধীনতা নয়, বরং আইন ও পেশাগত নীতির মধ্য দিয়ে কাজ করার নিরাপত্তা। এখানে সরকারের দায়িত্বটা যেমন কঠিন, তেমনি তার অবস্থান ধরে রাখাও সহজ বিষয় নয়।

নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন বিগত সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ সামনে আসতে পারে। কিছু কর্মকর্তা যাঁরা হয়তো সত্যিই অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জনগণের মাঝে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, যা নতুন সরকারের সঙ্গে জনতার দূরত্ব তৈরি ও আস্থাহীনতার জন্ম দেবে। তাই সব কর্মকর্তাকে শুধু আগের সরকারের লোক বলে বহাল রাখা কোনো সমাধান নয়। সমাধান হলো—ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, কাজের রেকর্ডকে মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তা তদন্ত করা যেতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেয়া জরুরি। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনের শাসন তো রয়েছেই। এতে করে সরকারের সিদ্ধান্ত শক্তিশালী হবে এবং প্রশাসনের ওপর জনগণ আস্থাশীল হয়ে উঠবে।

তবে সত্যি এটাই, আমাদের সরকার বদলালেও প্রশাসনিক সংস্কৃতির তেমন পরিবর্তন হয় না। এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইনসহ ২০২৬ সালে একাধিক নতুন আইন প্রণীত হয়েছে। একই বছরে জনপ্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নিয়েও আইনগত পরিবর্তন হয়েছে। তবে এতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার মতো কিছু নেই। কারণ, এই আইনের বদলই যথেষ্ট নয়।

আমাদের এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজন, যেখানে বদলি, পদোন্নয়ন ও অবসরের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট মানদণ্ড উপস্থিত থাকবে। রাজনৈতিক সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন, কিন্তু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না। এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারলে সরকারেরও ফায়দা। কারণ, তখন সরকার তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষ ও পেশাদার প্রশাসন পাবে। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসন রাজনীতির অক্ষের বাইরে নয়। কারণ, নির্বাচিত সরকারই রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করে। কিন্তু প্রশাসনকে দলীয় রাজনীতির অধীনস্থ করা এবং নির্বাচিত সরকারের নীতি বাস্তবায়ন—দুটো আলাদা বিষয়, এটি বুঝতে হবে। প্রশাসনকে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে সত্য, কিন্তু কর্মকর্তার পেশাগত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর দক্ষতা, সততা, কর্মদক্ষতা ও আইনের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে। এই পার্থক্য যত স্পষ্ট হবে, রাষ্ট্র ততই শক্তিশালী হবে।

রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজকের সিদ্ধান্তের ওপর ন্যস্ত নয়, বরং তাতে আগামীতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তার ওপর নির্ভর করে। আজকের সরকার বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আগামীকাল অন্য সরকার তখন ওই একই যুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাতে করে বর্তমানের গৃহীত সিদ্ধান্তের নৈতিকতা নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়বে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সহজ নীতির সক্রিয় উপস্থিতি জরুরি।

যে ক্ষমতা আজ আমরা ব্যবহার করছি, আগামীকাল বিরোধী অবস্থানে থেকেও সেই ক্ষমতার মুখোমুখি হতে আমরা প্রস্তুত কিংবা রাজি তো? প্রশ্নটি মনে করছি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে আমাদের আকাঙ্ক্ষাও। এই পরিবর্তন কেবল নতুন মুখ, নতুন পদ, নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়। জনগণ যা চায়, তা হলো—রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিতে সত্যিই কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না?

 

পুরোনো সরকারের ভুলের বিচার প্রয়োজন, কিন্তু সেটি করতে গিয়ে সেই প্রক্রিয়া যদি রাজনৈতিক আনুগত্যের নতুন মানদণ্ড তৈরি করে, তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। একটি সত্যিকারের সংস্কারকামী জনমুখী সরকার যেমন প্রশাসন তৈরি করবে, সেখানে একজন কর্মকর্তা এটাও অবগত হবেন—তিনি কোনো রাজনৈতিক সরকারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নন, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একজন পেশাদার কর্মী মাত্র।

আজকের সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো—পুরোনো প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রতিস্থাপন করে যদি মেধা, দক্ষতা, সততা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে সেটিই হবে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। কারণ, রাজা যায়, পাট বদলায়, কিন্তু রাজ্য থেকে যায়। আর সেই রাজ্য বা রাষ্ট্রের প্রশাসন যদি প্রতিবার ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রং বদলায়, তাহলে রাজনৈতিক পটের যতই পরিবর্তন ঘটুক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই পরিণত হবে না। বাংলাদেশের এখন যা প্রয়োজন, তা শুধু নতুন প্রশাসনব্যবস্থা নয়—একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতি।

 

0 Comments

Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

উপসম্পাদকীয়

View more
বিরল খনিজে চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বিশ্ব কূটনীতির নতুন অস্ত্র হয়ে উঠেছে

একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনীতির দিকে আলোকপাত করলে ক্ষমতার সংজ্ঞাকে মনে হয় এক পরিবর্তনশীল চলক। একটা সময়ে যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের অনুঘটক ছিল তেল, গ্যাস ও পারমাণবিক সক্ষমতা, বর্তমানে সেই জায়গায় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। স্মার্টফোন থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো থেকে বায়ুশক্তি প্রযুক্তি, আবার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এসব উপাদান অপরিহার্য। ফলে এগুলোর উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন এখন কেবল বাণিজ্যিক বিষয়ে আবদ্ধ না থেকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। চীনের বিরল মৃত্তিকা মৌল খাতে প্রাধান্য ও দেশটির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপের উদ্বেগ এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অতএব, খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কৌশলগত ক্ষমতায় রূপ নেয়, তা বিশ্লেষণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি কূটনৈতিক পর্যালোচনা। আর ঠিক এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চলে আসে, বিরল এই খনিজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? বস্তুত, রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস বা বিরল মৃত্তিকা মৌল বলতে ১৭টি মৌলকে বোঝায়। নামের মাঝে ‘বিরল’ শব্দ থাকার অর্থ এই নয় যে সব মৌলই প্রকৃতিতে দুষ্প্রাপ্য। বরং অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলন, পৃথকীকরণ ও বিশুদ্ধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। এদের বিশেষ চৌম্বকীয়, আলোকীয় ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক প্রযুক্তিতে অপরিহার্য করে তুলেছে। উদাহরণ হিসেবে নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়ামের কথা বলা যায়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এই মৌল দুটি ব্যবহৃত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর ও বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনে এসব চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম উচ্চ তাপমাত্রায় চুম্বকের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ইট্রিয়াম ব্যবহৃত হয় বিমান ইঞ্জিনের বিশেষ আবরণ ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজে। অর্থাৎ এসব উপাদানের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব খনি কিংবা ধাতু শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না; ছড়িয়ে পড়ে গাড়ি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পেও। এবার আসি সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রাধান্যের প্রশ্নে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিরল মৃত্তিকা মৌলের বৈশ্বিক পরিশোধিত উৎপাদনের প্রায় ৯১ শতাংশ ছিল চীনের দখলে। একই সময়ে এসব মৌল থেকে তৈরি স্থায়ী চুম্বক উৎপাদনেও দেশটির অংশ ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ চীনের প্রভাব কেবল খনিজ উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে চূড়ান্ত শিল্পপণ্য উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে লক্ষণীয়, খনিজের মজুত থাকা আর সেই খনিজকে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। কোনো দেশের মাটিতে বিরল খনিজের মজুত থাকলেও উন্নত প্রযুক্তি, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল হলে সেখানে প্রতিযোগিতামূলক শিল্প গড়ে তোলা কঠিন। চীন দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ, বৃহৎ শিল্পভিত্তি ও সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে এই সুবিধা অর্জন করেছে। এবার আসা যাক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে চীন সাতটি বিরল মৃত্তিকা মৌল ও সংশ্লিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। একই বছরের অক্টোবরে দেশটি আরও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয়। তবে এপ্রিলের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং অক্টোবরে ঘোষিত বিস্তৃত ব্যবস্থাগুলোকে আলাদা করে দেখা জরুরি। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরে ঘোষিত কয়েকটি ব্যবস্থা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে ঘোষিত বিধিনিষেধ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও স্থগিত ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রপ্তানি লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরবরাহের শর্তের মাধ্যমে কোনো দেশ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের প্রবাহে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নিজস্ব উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় লিপ্ত, অপরদিকে বেইজিংও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বস্তুত, এই টানাপোড়েনেই প্রমাণিত হয়, আধুনিক কূটনীতিতে সরবরাহের নিশ্চয়তা ও বাজারে প্রবেশাধিকার ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রসঙ্গত, এখানে জাপানের উদ্বেগ ও বিকল্প সরবরাহের অনুসন্ধানের কথা উঠে আসে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে জাপানে ইট্রিয়ামের সরবরাহ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিকল্প উৎস বা পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে আগামী কয়েক মাসে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। ইট্রিয়াম বিমান ইঞ্জিনের বিশেষ আবরণ ও সেমিকন্ডাক্টর-সংশ্লিষ্ট শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনা শিক্ষা দেয়, বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই কেবল মজুত গড়ে তোলা নয়, সরবরাহের উৎস বহুমুখী করাও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রও এই বাস্তবতা মোকাবেলায় তৎপর হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের রচেস্টারে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য চীনের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা। তবে নতুন কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ থেকেই দ্রুত চীনের সমপর্যায়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য সময় প্রয়োজন। এবার আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন আসে, চীনের এই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কৌশল থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কী? বাংলাদেশ বর্তমানে বিরল মৃত্তিকা মৌলের বৈশ্বিক উৎপাদনের অন্যতম শক্তি নয়। তথাপি, এই প্রতিযোগিতার অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে দেশটি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। ইলেকট্রনিকস, যোগাযোগপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ভবিষ্যতের শিল্পায়নের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ বাংলাদেশের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে সংকট সৃষ্টি হলে আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা বিশ্লেষণ করে বিকল্প সরবরাহকারী চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক শিল্পসহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা জরুরি। ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন বহুমুখী অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা। পরিশেষে, বিরল খনিজের রাজনীতি দেখাচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীর ক্ষমতার লড়াই কেবল সীমান্ত, সামরিক ঘাঁটি বা জ্বালানি সম্পদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত নয়। শিল্পপ্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণও রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চীনের প্রাধান্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা এবং জাপানের উদ্বেগ বিশ্ব অর্থনীতির এক মৌলিক দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকলে তা বাণিজ্যিক ঝুঁকির পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপের উৎসও হতে পারে। কিন্তু এর সমাধান কি কেবল একটি দেশের আধিপত্যের বদলে অন্য দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা? না, এখানে প্রয়োজন বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা, পরিবেশসম্মত উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তির বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। বিরল খনিজের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব যদি এই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তাহলে বর্তমানের অস্থির প্রতিযোগিতাকে আরও স্থিতিশীল ও ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ 0

মাদ্রাসা শিক্ষা : বিতর্কের আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা

তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা : কেমন বাংলাদেশ চাই

ডিজিটাল কোলাহল ও ভুয়া তথ্যে তরুণ মনের সুরক্ষা

সাংবাদিক নির্যাতন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি

গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এটি শুধু খবর পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম নয়, বরং সমাজের চোখ, কান ও বিবেক। সাংবাদিকরা হচ্ছেন সেই সাহসী সৈনিক, যাঁরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাধরদের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রকাশ করেন, জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা কেবল তাঁদের পেশাগত জীবনের জন্য নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্যও এক ভয়াবহ হুমকি।   সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যেসব ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হুমকি, মিথ্যা মামলা, অফিসে হামলা, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, স্থানীয় বা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরাও আজ নিরাপদ নন। কোনো অসঙ্গতি তুলে ধরলেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি শুরু হয় অথবা সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেন।   এ ধরনের নির্যাতন সাংবাদিকদের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। ফলে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারেন না এবং অনেক সময় স্ব-সেন্সরশিপ বা আত্মনিয়ন্ত্রণে বাধ্য হন। এভাবে একপর্যায়ে একটি সমাজে কৃত্রিম নীরবতা সৃষ্টি হয়—যেখানে সত্য চাপা পড়ে যায়, মিথ্যা ও প্রপাগান্ডা জায়গা করে নেয়। জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়, গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারায় এবং গণতন্ত্র তার স্বাভাবিক গতি হারায়।   সাংবাদিক নির্যাতনের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। ১. ক্ষমতার অপব্যবহার : অনেক সময় রাজনৈতিক ক্ষমতাধররা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করতে চান, কারণ সত্য প্রকাশ তাঁদের স্বার্থে আঘাত হানে। ২. দুর্নীতি রক্ষার প্রবণতা : প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক দুর্নীতির খবর প্রকাশ ঠেকাতে যারা দায়ী, তারাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে বা ভয় দেখায়। ৩. আইনের দুর্বল প্রয়োগ : দেশে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ আইন না থাকায় বা আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় না। ফলে তারা বারবার একই অপরাধ করার সাহস পায়। ৪. সাংবাদিকদের বিভক্তি ও দুর্বল সংগঠন : অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ নয়, ফলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না।   এ সংকট থেকে উত্তরণে আমাদের কিছু বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। ১. সাংবাদিকদের জন্য কঠোর আইনি সুরক্ষা : সাংবাদিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ২. দ্রুত বিচার ও শাস্তির নিশ্চয়তা : সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা কমিটি গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৩. সরকারি ও সামাজিক সমর্থন : সাংবাদিকদের কাজকে সম্মান জানিয়ে সরকার ও সমাজের সর্বস্তরে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। ৪. সাংবাদিক সংগঠনের শক্তিশালী ভূমিকা : জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হতে হবে। তারা যেন প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনায় সজাগ থেকে প্রতিবাদ এবং আইনি সহায়তা দিতে পারে। ৫. সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা : স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা স্তরে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে—সাংবাদিকতা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের সবার স্বার্থে।   সাংবাদিকেরা শুধু পেশাজীবী নন, তাঁরা আমাদের সমাজের দর্পণ। তাঁদের কণ্ঠ রুদ্ধ মানেই সমাজে অন্ধকার নেমে আসা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা মানে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। আর সত্যের পরাজয় মানেই গণতন্ত্রের পরাজয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আজই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং সমাজের প্রতিটি নাগরিকের।    

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0

বাংলাদেশে অলাভজনক সংস্থা, ফাউন্ডেশন ও ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশনে করণীয়

একটি জাতির আত্মঘাতী ইতিহাস : বাঙালি শিখে জেতে, নাকি জিতে শেখে

কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ : টেকসই কৃষি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির রূপরেখা

প্যাকেটজাত খাবারে পুষ্টি লেবেলিং বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা

প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে যদি স্পষ্টভাবে লেখা থাকে ‘অতিরিক্ত চিনি’, ‘অতিরিক্ত লবণ’ বা ‘অতিরিক্ত চর্বি’—তাহলে একজন ভোক্তা পণ্য কেনার আগে কয়েক সেকেন্ডেই তাঁর পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। এ ধারণা থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং বা এফওপিএল। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর আলোচনা চলছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ২০২৬ সালের খসড়া প্রবিধানকে ঘিরে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।   গত ২৬ জানুয়ারি বিএফএসএ ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি, লবণ/সোডিয়াম ও সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে তা সহজে বোঝানোর জন্য সতর্কতামূলক চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। অংশীজনদের মতামত দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি। এরপরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে খসড়াটির পরবর্তী যাত্রাপথ। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, মতামত গ্রহণের পর খসড়াটি নিয়ে আরও কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজ হয়েছে। মার্চে খসড়াটির সমন্বিত বা ‘হারমোনাইজকৃত’ সংস্করণ নিয়ে কাজের তথ্য পাওয়া যায়।   বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ৩০ জুন খসড়াটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর এর গতিপথ কতদূর এগিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কোন পর্যায়ে কী মতামত দেওয়া হয়েছে, কোন কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা এতে যুক্ত হয়েছে, অংশীজনদের আপত্তি ও প্রস্তাবের কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং খসড়ার কোন কোন ধারা পরিবর্তিত হয়েছে—এসব তথ্য জনসমক্ষে পূর্ণাঙ্গভাবে নেই। আগস্টে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আবারও বলা হয়েছে, এফওপিএলের খসড়া তখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ বছরের শুরুতে আলোচনা শুরু হয়ে, মতামত গ্রহণ, সমন্বিত খসড়া তৈরি এবং মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরও প্রবিধানটি গেজেট আকারে চূড়ান্ত হয়নি। অথচ বিএফএসএর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক এফওপিএল দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।   এর উত্তর খুঁজতে অন্তত চারটি নথি পাশাপাশি দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ২৬ জানুয়ারির মূল খসড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া অংশীজনদের মতামত, মার্চের সমন্বিত খসড়া এবং ৩০ জুন খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সংস্করণ। এসব নথি তুলনা করলে বোঝা যেতে পারে, মতামত গ্রহণের পর খসড়ায় কী পরিবর্তন এসেছে এবং কোন প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে আছে। এ ছাড়া বিএফএসএর কারিগরি কমিটির আলোচনায় শিল্পখাতের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আপত্তি, দীর্ঘ সময়ের স্বেচ্ছামূলক বাস্তবায়নের প্রস্তাব, ছোট প্যাকেটের জন্য ছাড় এবং ডব্লিউটিও-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো খসড়ার পরবর্তী সংস্করণে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নথিপত্র ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এফওপিএলের প্রয়োজনীয়তা অবশ্য শুধু একটি প্রশাসনিক বা নিয়ন্ত্রক প্রশ্ন নয়। বাংলাদেশের অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। হৃদ্‌রোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে।   দেশের খাদ্যবাজারেও প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপস্থিতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ৯৭৪ জন অংশগ্রহণকারীর ৯৭ শতাংশ আগের সপ্তাহে অন্তত একটি প্রক্রিয়াজাত বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেছিলেন। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা ১০৫টি খাদ্যপণ্যের ৬৩ শতাংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সোডিয়াম বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি সোডিয়াম পাওয়া যায়। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে লেবেলে উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে পরীক্ষিত সোডিয়ামের মাত্রার অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। এই বাস্তবতায় ভোক্তার জন্য সহজবোধ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক পণ্যে পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য থাকলেও তা প্যাকেটের পেছনে, ছোট অক্ষরে অথবা সংখ্যাভিত্তিকভাবে দেওয়া হয়। ফলে একজন সাধারণ ক্রেতার পক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।   এখানেই এফওপিএল ও জিডিএ—অর্থাৎ নির্দেশিকা দৈনিক পরিমাণ—পদ্ধতির পার্থক্য। জিডিএ ব্যবস্থায় ভোক্তাকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ দৈনিক প্রয়োজনের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অন্যদিকে সামনের সতর্কতামূলক চিহ্ন তুলনামূলকভাবে সরল। একটি স্পষ্ট প্রতীক দেখেই বোঝা যায় কোনো পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় রয়েছে কি না। বিশেষ করে, সীমিত পুষ্টিজ্ঞানসম্পন্ন ভোক্তাদের জন্য এই সরলতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শিল্পখাতের উদ্বেগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা চালু করতে প্যাকেটের নকশা পরিবর্তন, নতুন মোড়ক তৈরি, পুরোনো প্যাকেটের মজুত ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জিডিএ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা এবং বাধ্যতামূলক করার আগে দীর্ঘ সময়ের স্বেচ্ছামূলক পর্যায়ের প্রস্তাব এসেছে।   সংশ্লিষ্ট আলোচনায় অন্তত পাঁচ বছর স্বেচ্ছামূলকভাবে ব্যবস্থা চালুর দাবিও উঠে এসেছে। এই পাঁচ বছরের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—বাস্তবায়নের জন্য যৌক্তিক প্রস্তুতির সময় কতটা প্রয়োজন, আর কতটা সময় নীতির বাধ্যতামূলক প্রয়োগ পিছিয়ে দিতে পারে। শিল্পের বাস্তব ব্যয় ও সক্ষমতার বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন; তবে একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যও যেন দুর্বল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ছোট প্যাকেটকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। পণ্যের আকার ছোট হলেও অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যায় না। তাই কোনো ছাড়ের প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, ভোক্তার সুরক্ষা এবং বাস্তব বাজারপরিস্থিতি একসঙ্গে দেখা প্রয়োজন।   ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গতিও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাস্তব কারিগরি বা আইনি ঘাটতি থাকলে তা সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রক্রিয়া যেন জনস্বাস্থ্য নীতি চূড়ান্ত করার অনির্দিষ্ট বিলম্বের কারণ না হয়, সেটিও স্বচ্ছভাবে যাচাই করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এফওপিএল কোনো খাদ্যপণ্য নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নয়। এর মূল উদ্দেশ্য ভোক্তাকে সহজবোধ্য তথ্য দেওয়া, যাতে তিনি পণ্য কেনার আগে নিজের জন্য সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই এটি ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার এবং জনস্বাস্থ্য দুইয়ের সঙ্গেই সম্পর্কিত। এখন প্রয়োজন বিতর্ককে ‘শিল্প বনাম জনস্বাস্থ্য’ এই সরল দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রমাণ ও নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।   বিএফএসএ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর ফাইলে কী মতামত দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো সংস্থা কী বলেছে, শিল্পসংগঠনগুলোর লিখিত প্রস্তাবের কোন অংশ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোন সংস্করণটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হবে। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের বোঝা যখন বাড়ছে এবং প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে, তখন প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগত তথ্য সহজবোধ্য করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে শিল্পের যৌক্তিক বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত উদ্বেগও শুনতে হবে।   চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা। কোনো পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ কিংবা কোনো একক প্রশাসনিক জটিলতা যেন নীতির গতিপথ এককভাবে নির্ধারণ না করে, এটাই হওয়া উচিত নীতিনির্ধারণের মূল লক্ষ্য। প্যাকেটের সামনে একটি কালো অষ্টভুজ হয়তো দেখতে ছোট একটি চিহ্ন। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন ভোক্তা কী কিনবেন, কী খাবেন এবং নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কতটা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন সেই বড় প্রশ্ন।   এখন দেখার বিষয়, সেই সতর্কবার্তা শেষ পর্যন্ত প্যাকেটের সামনে জায়গা পায়, নাকি নীতিনির্ধারণের ফাইলেই আটকে থাকে।   almamunrabbi21@gmail.com

অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0

অতিরঞ্জিত স্ট্যাটাস কনজামশন পরশ্রীকাতরতা উসকে দেয়

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবারের মান ভালো হবে কবে

‎পার্বত্য চট্টগ্রাম যেভাবে বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি

সংশ্লিষ্ট খবর

উপসম্পাদকীয়

বিরল খনিজে চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বিশ্ব কূটনীতির নতুন অস্ত্র হয়ে উঠেছে

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ 0