দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান জরুরি। কিন্তু একটি দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কতটা সফল, তা শুধু কতজন গ্রেপ্তার হলেন, কতটি মামলা হলো কিংবা কত টাকার সম্পদ জব্দ করা গেল, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে দুর্নীতির সুযোগ কতটা কমেছে, সরকারি অর্থের ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ হয়েছে এবং ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ কতটা সমান হয়েছে, তার ওপর। দুর্নীতির অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা ব্যবস্থার পরিবর্তন দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রথমটি অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে; দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতে অনিয়মের সুযোগ কমায়। তাই কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের জন্য অপরাধের তদন্ত ও শাস্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা জরুরি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার কিংবা নতুন সংস্কার উদ্যোগের পরও নাগরিকেরা যদি সরকারি সেবা পেতে ঘুষ ও হয়রানির মুখোমুখি হন, তাহলে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সমস্যাটি শুধু ব্যক্তির অসততায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বচ্ছতা, অভিযোগ নিষ্পত্তির দুর্বলতা এবং অনিয়মের প্রতিকার নিশ্চিত করতে না পারাও এর সঙ্গে যুক্ত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০২৫ সালের জাতীয় খানা জরিপের ফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৫ জুন। জরিপ অনুযায়ী, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। ঘুষ দিতে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারকে। জরিপে ২০২৩ সালের তুলনায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতা এবং ঘুষের শিকার পরিবারের অনুপাত যথাক্রমে ১৫ দশমিক ১ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। জরিপে ২০২৫ সালে ঘুষের মোট আনুমানিক পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি জরিপের আওতাভুক্ত সেবাখাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা জাতীয় হিসাব, দেশের সব ধরনের দুর্নীতির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাপ নয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার সরকারি অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা সম্পর্কে জানে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রতিকার পাওয়ার পথ সম্পর্কেও নাগরিকদের বড় অংশের ধারণা সীমিত। এই বাস্তবতা দেখায়, শুধু আইন প্রণয়ন বা অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। নাগরিককে এমন একটি ব্যবস্থা দিতে হবে, যেখানে ঘুষ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব, অভিযোগ জানানো নিরাপদ এবং অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়। সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্প দুর্নীতি প্রতিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব, পক্ষপাতমূলক শর্ত, স্বার্থের সংঘাত এবং কাজের মান যাচাইয়ে দুর্বলতা সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব সমস্যা মোকাবেলায় শুধু অনিয়মের পর তদন্তের ওপর নির্ভর না করে ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সরকারি ক্রয়বিধি, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক ব্যবহার, চুক্তির প্রকৃত সুবিধাভোগীর পরিচয় প্রকাশ এবং প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিধিমালা কার্যকর হওয়া আর তার সুফল বাস্তবে পাওয়া এক বিষয় নয়। দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ছে কি না, চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে কি না এবং প্রকল্প নির্ধারিত ব্যয় ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত প্রতিকার ও দায় নির্ধারণও নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা নির্ভর করে শুধু আইনগত ক্ষমতার ওপর নয়, সেই ক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগের সক্ষমতার ওপরও। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার নৈকট্য যেন তদন্তকে প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই আইনি মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হবে।একই সঙ্গে কমিশনের স্বাধীনতার অর্থ জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। তদন্ত হতে হবে প্রমাণনির্ভর, মামলা হতে হবে আইনসম্মত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য বিচারের অধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি এই ধারাবাহিকতাই দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণ দাখিলের ব্যবস্থাও দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বিবরণ জমা নেয়া যথেষ্ট নয়। ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য যাচাই, স্বার্থের সংঘাত শনাক্ত এবং অসংগতি পাওয়া গেলে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। একইভাবে, সরকারি নিরীক্ষায় অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পর সুপারিশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তারও হিসাব রাখা জরুরি। নিরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি না থাকলে নিরীক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। ২০২৫ সালের ২০ জুন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি উন্নত করার লক্ষ্যে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করে। এর আওতায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নিরীক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে অর্থায়ন অনুমোদনকে সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং নাগরিকের কাছে সুফল পৌঁছানোর ভিত্তিতেই এর সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারে চারটি অগ্রাধিকার বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রথমত, সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, চুক্তি এবং অগ্রগতির তথ্য জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণ ও স্বার্থের সংঘাত যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গড়তে হবে। তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহির কাঠামো দিতে হবে। চতুর্থত, নাগরিকের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ সুযোগ, অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা এবং প্রতিকার না পেলে পুনর্বিবেচনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য নিয়মিত কিছু সূচকও প্রকাশ করা দরকার। যেমন কতটি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের কত অংশের প্রতিকার হয়েছে, সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা কতটা বেড়েছে এবং সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের অভিজ্ঞতা কমছে কি না। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের পক্ষে সংস্কারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা সহজ হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ়তা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই দৃঢ়তার স্থায়িত্ব নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর তার ওপর। ব্যক্তি ও সরকার পরিবর্তিত হতে পারে; কিন্তু নিয়ম, তদারকি ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল থাকলে একই অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু কতজন শাস্তি পেলেন, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দেখতে হবে, সরকারি অর্থের অপচয় কমেছে কি না, অভিযোগের প্রতিকার কার্যকর হয়েছে কি না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে কি না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে; আর দুর্নীতির ব্যবস্থা বদলে দেয় সেই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর পথ। বাংলাদেশের জন্য এখন প্রয়োজন অভিযানের পাশাপাশি এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে অনিয়ম গোপন রাখা কঠিন, জবাবদিহি এড়ানো অসম্ভব এবং আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান।
আর্থিক অনিয়ম ও তথ্য গোপনের নানা অভিযোগের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ ছেড়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির মহাপরিচালকের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের মেয়াদে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে। পাশাপাশি ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের খরচে জালিয়াতি, ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এবং অনিয়ম করে জমি নেয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এসব তদন্তের জেরে গত জুলাইয়ে তাঁকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। সায়মা ওয়াজেদ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ৯০১ ডলারের ভ্রমণ ব্যয়ের অনিয়মকে তিনি সহকারীর প্রশাসনিক ত্রুটি বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রিটি অটিজমে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া সম্মানসূচক সনদ ছিল বলে জানান। জমি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য হিসেবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তিনি ওই জমির মালিকানা পেয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি উল্লেখ করেন, কার্যক্রমে ক্রমাগত বাধা দেয়া এবং প্রায় এক বছর অবৈতনিক ছুটিতে রেখে বেতন বন্ধ রাখায় তিনি মারাত্মক আর্থিক টানাপোড়েনে পড়েছেন। এসব কারণে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে অপসারণের প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছিল। সংস্থাটি আগামী ১২ অক্টোবর পদটির জন্য নতুন মনোনয়ন আহ্বান, ডিসেম্বরে যাচাই-বাছাই এবং আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) দুজন কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। তাঁরা হলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীন এবং যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ৩১ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ জারি করেন। জানা গেছে, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি এবং পদের প্রভাব খাটিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বর্তমানে দুদকে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অন্যদিকে সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এ দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা বর্তমানে দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্ত চলাকালে তাঁরা কোনোভাবে বিদেশে পালিয়ে গেলে তাঁদের মাধ্যমে পাচারকৃত বা অবৈধ উপায়ে লব্ধ অর্থ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ গমন রহিতকরণে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি। হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশন সংক্রান্ত রায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে দুদকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণপূর্বক সোমবার আদালতে এই আবেদন পেশ করা হয়। পরে আবেদনের যাবতীয় রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে আদালত তা মঞ্জুর করে এবং অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম। আর সেই গণমাধ্যমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে অবহেলিত অংশ হলো মফস্বল সাংবাদিকতা। রাজধানীর বাইরে জেলা-উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকরাই সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, দুর্যোগ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং উন্নয়নের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু পরিহাসের বিষয়, যাঁরা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের জীবনই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিতে আবদ্ধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন, তখন একজন মফস্বল সাংবাদিক ছুটে যান ঘটনার কেন্দ্রস্থলে। নিজের নিরাপত্তা, পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন; যাতে মানুষ সঠিক খবর জানতে পারে। গুজব থেকে দূরে থাকে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। এই দায়িত্ববোধই সাংবাদিকতাকে একটি মহান পেশায় পরিণত করেছে। তবে দুর্যোগের সংবাদ সংগ্রহের চেয়েও কঠিন কাজ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ করা। একজন মফস্বল সাংবাদিক যখন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কিংবা স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা ধরনের চাপ। কখনো হুমকি, কখনো সামাজিক অপপ্রচার, কখনো শারীরিক হামলা, আবার কখনো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে তাঁকে নীরব করার চেষ্টা করা হয়। এতে শুধু একজন সাংবাদিক নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারও। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মফস্বল সাংবাদিকের নেই নিয়মিত সম্মানী, নেই চাকরির নিরাপত্তা, নেই পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা কিংবা ঝুঁকির সময় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। দীর্ঘদিন একটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করেও অনেক প্রতিনিধি প্রয়োজনের সময় নিজেকে একা মনে করতে থাকেন। পাশে থাকে না প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালীদের চাপের মুখে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রতিনিধিকেই দূরে সরিয়ে দেয়। এই প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ তদন্ত করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটিও আইনের আলোকে যাচাই হওয়া উচিত। একইভাবে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা মিথ্যা মামলার অভিযোগও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আইনের চোখে সবাই সমান। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। মফস্বল সাংবাদিকরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নন, তাঁরা জনগণের প্রতিনিধি। তাঁদের কলমের মাধ্যমে উঠে আসে অবহেলিত মানুষের কথা, জনস্বার্থের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রীয় সেবার ঘাটতি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা কেবল সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ এবং সর্বোপরি পুরো জাতির দায়িত্ব। সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেয়া যেতে পারে, কিন্তু পরাজিত করা যায় না। তাই মফস্বল সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে নয় বরং তাঁদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরকারি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ উঠে এসেছে বিশেষ নিরীক্ষায়। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের (ফাপাড) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ৯ অর্থবছরে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া ও তদারকি নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শুধু অর্থ ব্যয়ের হিসাবেই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সংস্থাটির পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর হালনাগাদ কোনো কর্মপরিকল্পনা প্রকল্প কার্যালয়ে নেই। অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়নি। ফাপাডের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানিয়েছে, দুই ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী সময়ে ২২ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৯ বছরে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২৩০টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রথম পাঁচ অর্থবছরেই ৪১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৮ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আপত্তির পরিমাণ ছিল ১০৬ কোটি টাকা। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকায়। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। ওই বছর ১৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ১৫ হাজার ২০৭ কোটি টাকার অডিট আপত্তি তোলে ফাপাড। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। বিশেষ নিরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে রূপপুর প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন এলাকায়। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত এই আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টি আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব আপত্তির বড় অংশই নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি ও আসবাব কেনা এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত। নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনায় সরকারি মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দরপত্রে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেখানো হলেও অন্য কিছু পণ্যের দাম কম দেখিয়ে মোট দরকে ‘গ্রহণযোগ্য’ রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের আড়ালে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনিয়মের অন্যতম উদাহরণ গ্রিন সিটির ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর ক্রয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সরঞ্জামের সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা। অথচ একই সরঞ্জাম কেনায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুধু এই একটি খাতেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা। একটি ভবনের হিসাবেই এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট। উচ্চ ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, ট্রান্সফরমার, নিম্ন ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পাওয়ার ফ্যাক্টর কারেকশন প্যানেল এবং জেনারেটরের সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কিন্তু একই সরঞ্জামের জন্য বিল করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এতে একটি ভবনেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। রূপপুর প্রকল্পের সবচেয়ে আলোচিত অনিয়ম ছিল বালিশ কেনা। বিশেষ নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রকল্পে ৪ হাজার ৭০২টি বালিশ কেনা হয়। এর মধ্যে ৬০টি বালিশের প্রতিটির দাম ধরা হয় ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। বালিশগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অথচ এগুলো কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। এতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ নিরীক্ষার তথ্য বলছে, বালিশকাণ্ড ছিল অনিয়মের একটি ছোট অংশ। গ্রিন সিটির ২০টি আবাসিক ভবনের নির্মাণ ও ক্রয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নিরীক্ষকরা ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্য তুলে ধরেছেন। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, মূল্য নির্ধারণে অসংগতি এবং চুক্তির শর্ত অনুসরণ না করার অভিযোগ করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইএমইডি। সংস্থাটির পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যায়নি। দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। প্রকল্প দপ্তরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। এমনকি অসমাপ্ত কাজের তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের প্রতিবছর প্রকল্প বাস্তবায়নের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০১২ সালের ডিসেম্বরের পর প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি। প্রকল্প দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ দেয়া হলেও নতুন কর্মপরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় আইএমইডি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দ্রুত হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা সংগ্রহ, প্রকল্পের সব অসমাপ্ত কাজের তালিকা প্রস্তুত, নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে এসব পদক্ষেপ জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানতে চাইলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিধিগত দুর্বলতার বিষয়টি প্রকাশ করে। বিশেষ করে, সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) পরিপালনে দুর্বলতা ছিল বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যদি ক্রয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হতো, তাহলে এত অডিট আপত্তি হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, এটিকে শুধু প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা হিসেবে দেখলে হবে না। প্রকল্প তদারকি ও সুপারভিশনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত। মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল, ক্রয়প্রক্রিয়া আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না। যেহেতু এসব সিদ্ধান্ত তাদের অনুমোদনের মধ্য দিয়েই হয়েছে, তাই তাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারিগরি প্রযুক্তি সরবরাহ ও ঋণদাতা দেশটি (রাশিয়া) শুধু একটি পারমাণবিক পরাশক্তি নয়, বৈশ্বিক দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ। দেশটি চরম উদ্বেগজনক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হিসেবে চিহ্নিত। এ বাস্তবতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আপাদমস্তক যোগসাজশের দুর্নীতিসহ ব্যাপক অনিয়ম যেমন অস্বাভাবিক নয়, তেমনই প্রতারণামূলকভাবে চুক্তির শর্তভঙ্গের ঘটনাও বিস্ময়কর নয়। তিনি বলেন, প্রকল্পটি যখন অনুমোদিত হয় এবং চুক্তি সম্পাদিত হয়, তখন যেমন সংশ্লিষ্টদের রাশিয়া ও রোসাটম সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল, তেমনই বর্তমানেও তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে সেটি অজানা নয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ চোরতন্ত্র্রের চাপিয়ে দেয়া বিশাল এই বোঝা লাঘবের জন্য নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের যথাযথ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। সোমবার সকালে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই অভিযানে বাড়ির মালামাল জব্দের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থাটির মুখপাত্র তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এসব অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর এবং রূপান্তর করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে সরকার পতনের পরপরই গত ৬ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ১৬ আগস্ট একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁকে দুদকের এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারেই অবস্থান করছেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।