আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে জীবনের বেগ, তেমনি কেড়ে নিচ্ছে জীবনের আবেগ। একই ছাদ, একই ঘর, এমনকি একই বিছানা, কিন্তু সেখানে কোনো ফিসফাস নেই, নেই সারা দিনের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার চেনা গুঞ্জন। আছে কেবল চারকোণা স্ক্রিনের স্মার্টফোনের নীল আলো আর আঙুলের অবিরাম যান্ত্রিক ওঠানামা। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে আমরা যেন এক অদ্ভুত ‘একাকিত্বের মেলা’য় বাস করছি, যেখানে পাশের মানুষটি ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে, আর হাজার মাইল দূরের ভার্চ্যুয়াল অবয়বটি হয়ে উঠছে পরম আত্মীয়। মুঠোফোনে আসক্তি আজ আর কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, এটি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর মূলে আঘাত হানছে। মুঠোফোনে আসক্তি রাতারাতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে গড়ে ওঠেনি, এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ। যেগুলোকে আমরা সংক্ষেপে নিম্নরূপে তুলে ধরতে পারি। ডোপামিন ড্রাইভ ও তাৎক্ষণিক আনন্দ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইক, কমেন্ট বা গেমের রিওয়ার্ড মানুষের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যা ক্ষণিকের জন্য ভালো লাগার অনুভূতি দেয়। বাস্তব জীবনের চেয়ে এই ভার্চ্যুয়াল জগৎ থেকে দ্রুত ও সহজে আনন্দ পাওয়ার তাড়না মানুষকে আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। একাকিত্ব ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি : বাস্তব জীবনে একাকিত্ব, কাজের চাপ বা বিষণ্ণতা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই অবচেতনভাবে স্ক্রিনকে আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন, যা পরবর্তী সময়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। অভিভাবকদের অসচেতনতা ও ব্যস্ততা : কর্মব্যস্ত মা-বাবা অনেক সময় সন্তানকে শান্ত রাখতে বা নিজেরা ঝামেলাযুক্ত থাকতে খুব ছোটবেলাতেই তাদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন। বিকল্প সুস্থ বিনোদনের অভাব : অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গার সংকট শিশু-কিশোরদের ঘরে বন্দী করে ফেলেছে, যার সহজ বিকল্প হয়ে উঠেছে মুঠোফোনের স্ক্রিন। পারিবারিক বন্ধনে ফাটল ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব : একসময় বাঙালি পরিবারের প্রাণ ছিল যৌথ পরিবারের গল্পগাছা আর রাতের খাবার টেবিল। সেখানে সারা দিনের ক্লান্তি ধুয়ে যেত মা-বাবা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গীর হাসিমুখের আলাপে। আজ সেই টেবিল নীরব। খাবার প্লেটের পাশে সগর্বে শুয়ে থাকে স্মার্টফোন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘ফাবিং’ (Phubbing), অর্থাৎ মুখোমুখি কথোপকথনের সময় সঙ্গীকে উপেক্ষা করে ফোনে মগ্ন থাকা। এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এর প্রভাবগুলো হচ্ছে— পারস্পরিক আস্থার সংকট : স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এটি একধরনের অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিচ্ছে। একই ঘরে থেকেও একে অপরকে সময় না দেয়ায় জন্ম নিচ্ছে একাকিত্ব ও সন্দেহপ্রবণতা। সহানুভূতির অভাব : মুখোমুখি কথা না বলায় আমরা মানুষের চোখের ভাষা বা আবেগের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারছি না। ফলে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা শারীরিকভাবে একটু-আধটু কাছাকাছি থাকলেও মানসিকভাবে দূরে চলে যাচ্ছি। কখনো কখনো এই মানসিক দূরত্ব এতটাই প্রভাব ফেলে যে, তা শারীরিকভাবেও দম্পতির মাঝখানে দেয়াল তৈরি করে দেয়। এই দূরত্বের দীর্ঘমেয়াদি ফলস্বরূপ একদিকে যেমন গভীর মানসিক বিষণ্ণতা তৈরি হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে তা পারিবারিক বিচ্ছেদের পথকে উসকে দিচ্ছে। শৈশবের অপমৃত্যু : আজকের শিশু-কিশোররা চড়ুইভাতি, গোল্লাছুট বা ফুটবল খেলার আনন্দ চেনে না। তাদের শৈশব এখন চার ইঞ্চির স্ক্রিনে বন্দী। বিকেলে খেলার মাঠগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে, আর ঘরের কোণে বসে শিশুরা খেলে ‘ফ্রি ফায়ার’ বা ‘পাবজি’। শারীরিক খেলাধুলা না করায় শিশুদের মেধা বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে স্থূলতা এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো আচরণগত সমস্যা। অন্ধকারের নতুন গলি ডিজিটাল জুয়া ও মাদকাসক্তি : মুঠোফোনে আসক্তির সবচেয়ে অন্ধকার দিকটি হলো এটি খুব সহজেই তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও অন্যান্য মরণনেশার দিকে ধাবিত করছে। স্ক্রিন টাইম যত বাড়ছে, তরুণদের মধ্যে একঘেয়েমি কাটাতে অবক্ষয়ের নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল জুয়ার ফাঁদ : তিনপাত্তি, ওয়ান-এক্স বেট বা বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র। গেমের আসক্তি থেকে শুরু হওয়া এই জুয়া একপর্যায়ে তরুণদের সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। মাদকাসক্তির সাথে সংযোগ : জুয়ায় হেরে যাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে থাকার ফলে সৃষ্ট মানসিক অবশতা ও হতাশা কাটাতে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তিতে। অর্থাৎ ভার্চ্যুয়াল জগতের অন্ধকার সরাসরি বাস্তব জীবনের অপরাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে। জাতীয় দৈনিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক উপাত্তে যেসব চিত্র আরও ভয়াবহ আকারে ফুটে উঠেছে, সেগুলো হচ্ছে— মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় : বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’-এর একটি জরিপে (যা গত ১০ জুন ২০২৪ তারিখে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকসমূহে প্রকাশিত হয়) দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৭২.৫ শতাংশ তরুণ-তরুণী মাত্রাতিরিক্ত মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন মাত্রার মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ঘুমহীনতা, হঠাৎ রেগে যাওয়া ও মনোযোগহীনতার হার সবচেয়ে বেশি। অনলাইন জুয়ার থাবা : দৈনিক প্রথম আলোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনলাইন জুয়ায় জড়িত, যার সিংহভাগই কিশোর ও যুবসমাজ। প্রতিদিন শত কোটি টাকা অবৈধভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে এই জুয়ার মাধ্যমে। পারিবারিক কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদ : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো এবং পরে ১০ জানুয়ারি ২০২৫ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে এবং ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টির কাছাকাছি তালাকের নোটিশ জমা পড়ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে এই আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘সঙ্গীকে সময় না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো, পারিবারিক সম্পর্কে চরম উদাসীনতা এবং ভার্চ্যুয়াল জগতের মোহ থেকে তৈরি পরকীয়া আসক্তি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ ফিরে সম্পর্কের মায়ায় বাস্তবে প্রযুক্তিকে বর্জন করা সম্ভব নয়, তবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের হাতেই। এই নীরব মহামারি থেকে বাঁচতে পারিবারিক ও সামাজিক স্তরে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। যেমন ঘুমানোর ঘর ও খাবার টেবিলকে সম্পূর্ণ ‘মুঠোফোন মুক্ত’ ঘোষণা করতে হবে। পরিবারে অন্তত এ দুই জায়গায় যেন কেবল নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা হয়। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বা দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় (যেমন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা) পরিবারের সবাই মিলে মুঠোফোন বন্ধ রেখে গল্প করা, বইপড়া বা গান শোনার অভ্যাস করতে হবে। স্থানীয় ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন বাড়াতে হবে, যাতে তরুণরা মাঠের প্রতি আকৃষ্ট হয়। শেষ কথা হলো, স্মার্টফোন বা আধুনিক সামাজিক মিডিয়াকে বর্জন নয় বরং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্মার্টফোন যেন আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখার সময় এখনই। প্রযুক্তির আলো যেন আমাদের হৃদয়ের আন্তরিকতার আলোকে নিভিয়ে না দেয়। আসুন, স্ক্রিনের কৃত্রিম উজ্জ্বলতা সরিয়ে আমরা আবার ফিরে যাই মানুষের চোখের মায়ায়, ফিরে যাই একসাথে বসে চায়ের কাপে ঝড় তোলা সেই চিরচেনা ভালোবাসার দিনগুলোতে।
প্রযুক্তি যদি মানবিকতাকে বিসর্জন দেয়, তাহলে সেই প্রযুক্তির প্রয়োজন কোথায়? সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনুষ্যত্বের অবনমন মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। জাতি হিসেবে আমরা যে শৌখিনতা প্রদর্শন করছি, হয়তো সে সময় এখনো আসেনি। অতিমাত্রায় আসক্তি হলে যেকোনো ভালো তার মাধুর্যতা হারায় এ কথা সর্বজন স্বীকৃত। অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা আমাদের অতিমাত্রায় শঙ্কিত করছে। গত ২৭ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা আমাদের সুপ্ত বোধে সজোরে ধাক্কা মেরেছে। আমরা যে এখনো মানবিক মানুষ হতে পারিনি, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। নরসিংদী রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় পরপারে পাড়ি জমান সুজন নামের এক দুর্ভাগা যুবকের স্ত্রী ও পুত্রসন্তান। সুজন বলেন, “ট্রেন আসার সময় আমরা বুঝতে পারিনি। ট্রেনটি কাছে আসতেই আমি চিৎকার করে উঠি। আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দৌড় দিয়েছিল, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।” সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আমরা দেখি, কঠিন বাস্তবতার নিদারুণ স্বাক্ষী সুজন কাঁধে স্ত্রী ও কোলে সন্তানের (ছেলে) লাশ এবং অন্য হাতে মেয়ে ও শপিং ব্যাগ নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছেন। সুজনের ভাষায়, “আমার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং দেড় বছরের ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেম ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায়। তখন দুই লাশ এবং জীবিত সন্তানকে নিয়ে আমাকে একাই রেললাইন পার হতে হয়েছে। কাঁধে ছিল স্ত্রীর এবং বুকে ছিল সন্তানের লাশ; অন্য হাতে ছিল আমার আরেক মেয়ে ও শপিং ব্যাগ। কিন্তু আমাকে সাহায্য করার মতো একজন মানুষও পাইনি। সবাই শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল এবং ভিডিও আর টিকটক করছিল।” প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। কিন্তু সাহায্যের জন্য তেমন কেউ এগিয়ে আসেনি। অধিকাংশই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিল। এমনকি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, স্টেশনে থাকা শত শত মানুষের মধ্যে এমন একজন হৃদয়বান মানুষও কি ছিল না তাকে সাহায্য করার? স্ত্রী ও সন্তানকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য অন্তত পাশে দাঁড়ানোর? এর চেয়ে মানুষের আর কি দুঃসময় আসে! মানবতা কি জাদুঘরে স্থান দখল করেছে? আন্তরিকতা, উপলব্ধি ক্ষমতা, মানুষের দুঃখ বোঝার মানসিকতা লোপ পেয়েছে? এমন দুঃসময়ে ভেঙেচুরে চুরমার হওয়া মানুষটিকে সাহায্য না করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ নিঃসন্দেহে মানুষের বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। নৈতিকতার আর কত অবনমন হলে আমাদের বোধদয় হবে? সভ্যতার উৎকর্ষে হয়তো আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে আধুনিক হচ্ছি, কিন্তু ডিভাইস ব্যবহার বিধি সম্পর্কে কতটুকু জ্ঞাত? মানুষের চক্ষুলজ্জা উঠে গেলে আর কিছু বাকি থাকে না। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য মানুষ সমাজের উপাকারে তো আসেই না, উপরন্তু দেশের অনিষ্টের অনিবার্য কারণ হয়ে ওঠে। সামাজিক মানুষ হিসেবে নিজেকে বিনির্মাণের দীক্ষা নিতে না পারলে মানব জন্মের সার্থকতা কোথায়? বর্তমানে উঠতি প্রজন্ম ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের যে অপব্যবহার শুরু করেছে, তা জাতির জন্য অশনিসংকেত। যেকোনো উপায়ে ভাইরাল হওয়ার নোংরা বাসনা তরুণদের নিম্নমানের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ফলে আমরা দেখছি নানামুখী অবক্ষয়যুক্ত সমাজের ভঙ্গুর স্থিরচিত্র। উদাহরণস্বরূপ, বিপদে এগিয়ে না এসে তা মোবাইলে ধারণ করে ভিউয়ার্স বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের হীনম্মন্যতার জ্বলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত। ডুবন্ত শিশুকে সাহায্য না করে মোবাইলে সে দৃশ্য ধারণ কোন ধরনের মানসিকতা? মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য যেন অচল প্রবাদে পরিণত হওয়ার প্রহর গুনছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহৃত শটস ভিডিওগুলো কিন্তু আমাদের চিন্তার প্রতিফলন। কিন্তু সেখানে দৃশ্যমান ভিডিওগুলোতে প্রজ্ঞা কোথায়? সবই রগরগে দৃশের রঙিন চিত্রায়ণ। তরুণ প্রজন্মের এহেন হীন মানসিকতা ও ডিভাইস আসক্তি জাতিকে কোন পথে নিয়ে চলেছে, তা ভেবে দেখার এখনই উপযুক্ত সময়। প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ, তারপর বিনোদন। তবে তা অবশ্যই সুস্থ হতে হবে। কিন্তু বিনোদনের নামে যেভাবে অশ্লীলতাকে প্রমোট করা হচ্ছে, তা চরম হতাশার এবং জাতি হিসেবে কখনোই তা প্রত্যাশার নয়। শুধু কি সুজনের কাঁধে লাশই শেষ কথা! সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতার অবক্ষয় বাসা বেঁধেছে। বিবেকহীন মানুষের পদভারে কলংকিত হয়েছে জমিন। রামিশা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা আমাদের ঘুমাতে দেয় না। মানুষ কত বড় নৃশংস হলে এমন হৃদয়বিদারক কাজ ঘটাতে পারে? শিউরে ওঠে হৃদয়। নিরাপত্তাহীনতা কাঁধে বয়ে দিনযাপন এক অলিখিত নরকবাস। বর্তমান অবস্থা এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে সমাজের এলিট শ্রেণিও উদাসীন ও দায়িত্বহীন হয়ে পড়েছে। নিজেদের নিয়ে ব্যস্ততা ও অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিকতা স্বাভাবিক মানুষের বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করেছে। তা না হলে কীভাবে মিরপুরে একজন মায়ের মৃত্যু সংবাদ সাত দিন পর চাউর হয়? একজন রত্নগর্ভা মায়ের মরদেহ সাত দিন ধরে একা ফ্ল্যাটে পড়ে থাকে? পোকামাকড়ের খাবারে পরিণত হয়? পারিবারিক বন্ধন কতটা শিথিল হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও জঘন্যতম ঘটনা ঘটে! অথচ সেই অভাগী মায়ের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, মেয়ে ও জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নাগরিক ব্যস্ততা তাদের এতটাই অন্ধ করেছে যে, বছরের বিশেষ দিনেও (ঈদ) মাকে ফোন করে খবর নেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করে না। মা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে মমতা আর ত্যাগে তাদের মানুষ করেছেন, শিক্ষিত করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সমাজে সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। হায় রে মানুষ! চরম অকৃতজ্ঞ মানুষ! শুধু কি শিক্ষিত হলেই মানুষ হওয়া যায়? মানুষ মানুষ হয় কীসে? জাগ্রত মনুষ্যত্ববোধ মানুষকে মানুষ রূপে গড়ে তোলে। পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতার মনোভাব, সামাজিক মূল্যবোধ একজন মানুষকে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কাজেই আমাদের মানসিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবেই মানবিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। নতুবা মূল্যবোধ বিসর্জিত যাচ্ছেতাই সমাজের বাসিন্দা হয়ে ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে সামনের পথচলা অব্যাহত থাকবে। আমরা গ্লানি নয়, বরং সমৃদ্ধ দেশের সুনাগরিক হিসেবে আগামীর দিন যাপন করতে চাই এই হোক দীপ্ত অঙ্গীকার।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।