Breaking news
বাংলাদেশ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিকস টেস্ট সম্পন্ন, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট ডেস্ক রিপোর্ট
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ • 0

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিকস টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।

 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি ও প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

 

রুশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় দলটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে।

 

ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

 

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিটটির ফিজিক্স টেস্টও শেষ হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে।

 

জাহেদুল হাসান আরও জানান, শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।

 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।

 

তবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার ওপর। প্রথম ইউনিটের বর্তমান অগ্রগতির মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সে হিসাবে দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

 

0 Comments

Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

বাংলাদেশ

View more
ছবি : সংগৃহীত
গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আহত ২

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুরে ছাত্রলীগের মিছিলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বুড়িমার গাছতলা এলাকায় এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের টহল দলের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে একটি মিছিল বের করেন। দায়িত্বরত টহল পুলিশ সেখানে বাধা দিলে মিছিলকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করেন এবং তাঁদের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।   গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা ও গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে সাইক্লোনে

ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা অবনতিসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুক্রবার এনসিপির গণবিক্ষোভ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিকস টেস্ট সম্পন্ন, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা

পাবনায় ডিবির অভিযানে রিভলবার, শুটারগান, গুলিসহ গ্রপ্তার ৪

পাবনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, চারটি ওয়ান শুটারগান, ১২ রাউন্ড গুলিসহ চার অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ​বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান।   ​পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর এলাকায়। সেখানে গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের রামনারায়ণপুর ও সুজানগর থানার নাজিরগঞ্জ বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। এসব স্থান থেকেই উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।   ​গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন পাবনা সদরের হেমায়েতপুর চরঘোষপুর এলাকার আলাল শেখ (৫২), আমিনপুর থানার রানীনগর ভাটিকয়া এলাকার জনি কাজী (২৮), ঢালারচরের রামনারায়ণপুর এলাকার জলিল মন্ডল (২৮) এবং মিরপুর এলাকার বাবলু মন্ডল (৩২)।   ​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা ও সরবরাহের সাথে জড়িত। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অস্ত্র মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।  

অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

ছবি : সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি মন্দিরে পৌঁছালে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মন্দির কমিটির শীর্ষ নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগের পাশাপাশি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও শারদীয় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।   এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এরপর সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং রাস্তার দুপাশে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। রংপুরের এই পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সেখানেও স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৪ আহত ২০

আওয়ামী লীগের শীর্ষ তিন নেতা ঢাকায় গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক

সংশ্লিষ্ট খবর

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আহত ২

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ 0