Breaking news

হামলা

ছবি : সংগৃহীত
নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুরসহ ৩ জন রিমান্ডে

রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীতে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ তিন জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ ও মো. শাহ আলম ওরফে অনিক।   তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের সিদ্ধান্ত দেন। পুলিশ জানায়, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অস্ত্রের উৎস এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন ছিল।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউগিনি প্রোপার্টিজ প্রকল্পে প্রায় ৫০ জন অস্ত্রধারী এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে হামলা ও মারধর করে। একই সঙ্গে তারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং নগদ টাকাসহ প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।   খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়; জবাবে পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।  

অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার বিষয়ে পুলিশের বিবৃতি

রাজধানীর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নির্মাণাধীন স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। হামলার পেছনে চাঁদাবাজি নয়, বরং জমি নিয়ে বিরোধ মূল কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম জানান, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয় এবং সালমানের স্টুডিও তাদের মূল লক্ষ্যও ছিল না। মূলত নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৩৫ কাঠা জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে একপক্ষ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালালে ভেতরে থাকা সালমানের স্টুডিওটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   হামলাকারীরা স্টুডিওর আসবাবপত্র, শুটিং সরঞ্জাম ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিজমাসংক্রান্ত এ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
ইরানের প্রতি ট্রাম্পের হুমকি
নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে ইরান ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সব ধরনের ইরান ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে এক নিরাপত্তা বার্তায় জরুরি সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও সাম্প্রতিক হামলার জেরে চলমান সংঘাত যেকোনো সময় বড় আকার ধারণ করতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়ে সামনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন।   এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার মুখে তেহরানও পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কোনো ধরণের আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ, সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রদের নিশানা করে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।   উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ জোরদার করলেও কৌশলগত এই জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান। সার্বিক পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান, না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ শুরু করারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠানো এসব শর্তের বিষয়ে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।   সামাজিক মাধ্যম ও সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটনের সামনে তাঁদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, অবিলম্বে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, অবরুদ্ধ ইরানি অর্থ ছাড় দেয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে।   রেজাই সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল আসবে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য ইরান শতভাগ প্রস্তুত। ওয়াশিংটন যদি নিজেদের তৈরি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে ইরানের ন্যায্য শর্তগুলো মেনে নেয়া ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা ফিরিয়ে আনতে কাতার ও পাকিস্তান জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।   সামরিক প্রস্তুতি তুলে ধরে ইরানি নিরাপত্তাপ্রধান জানান, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং রণতরীগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁদের নতুন কৌশল সাজানো হয়েছে। পুনরায় মার্কিন আগ্রাসন চালানো হলে শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও মার্কিন কোম্পানিগুলোতেও সরাসরি বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসেনি। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া বা নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পদক্ষেপ তেহরানকে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।  

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
ইরানের প্রতি ট্রাম্পের হুমকি
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা হলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেয়ার হুমকি ট্রাম্পের

    ছবির উৎস,etty Images মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অবকাঠামোগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেবে।   ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “এখন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য যেকোনো উপায়ে কিংবা অস্ত্র দিয়ে হামলা চালালে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।”   ট্রাম্প সম্ভাব্য এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে আরও লিখেছেন, “এগুলোর মধ্যে রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি বা তেহরানের ভেতরে অবস্থিত স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”   উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে ইরান এরই মধ্যে অভিযোগ করেছে, তাদের সেতু, রেল সংযোগ, পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বহু হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের সাথে ইরানের অসম এই লড়াইয়ে দেশটি একাই তটস্থ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রকে।  

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0