Breaking news

সংসদ

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি বিল পাস

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ সংশোধিত আকারে বিলটি উত্থাপন করেন। নানা আলোচনা ও বিতর্কের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে শেষ পর্যন্ত বিলটি অনুমোদন পায়।   এর আগে বিলটির বিভিন্ন ধারায় আপত্তি তুলে তা পাস না করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে বিরোধী দলের সেই আপত্তি ও বিরোধিতা উপেক্ষা করেই বিলটি সংসদে পাস করা হয়।   সংশ্লিষ্ট  ব্যক্তিদের মতে, নতুন এই আইনের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি কার্যকর কাঠামো নিশ্চিত হবে।  

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ছবি : বাসস
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে : সংসদে প্রধামন্ত্রী

চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সমন্বিত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভর নীতি জ্বালানি খাতকে স্থবির করে রেখেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি, থ্রিডি ও টুডি সিসমিক জরিপ চালানো, জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আধুনিক ও শক্তিশালীকরণ, পিএসসি মডেল হালনাগাদসহ নতুন বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো প্রসারের কাজ শুরু হয়েছে।   ইতোমধ্যে নির্ধারিত ১৫০টি কূপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়ে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস সংযুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বাপেক্সের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন রিগ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র খোঁজার জোর প্রস্তুতি চলছে।   সংকট দূর করতে বহিরাঙ্গনে নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস আমদানি সক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি মোংলা বা পায়রা বন্দরেও সম্ভাব্য নতুন টার্মিনাল বসানোর সমীক্ষা করা হচ্ছে।  

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মূল অধিবেশনের আগে সংসদে সরকারদলীয় এমপিদের সাথে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ২৭ আগস্ট বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে। এদিকে আজ বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়, আইন প্রণয়নসহ নানা বিষয় রয়েছে।   জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ১০ দিনের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের প্রয়োজনবোধে মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং বিরোধী দলের সদস্যদের নাম পেলেই তা চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষাসহ প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে, সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে মা-বাবা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও আজীবন তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।   চিফ হুইপ আরও জানান, জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন এবং অন্যান্য দল থেকে সদস্য রাখার কথা রয়েছে।   গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সরকারের জবাবদিহি ও সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
ক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, এক টাকায় বিচার বিভাগ পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সংসদে বাজেট বরাদ্দ ছাঁটাই করে এক টাকা করার প্রস্তাবের জবাবে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিচার বিভাগ অচল হয়ে দেশ একসময় পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করেন আইনমন্ত্রী। এর বিপরীতে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিচার বিভাগের সংকট, মামলাজট এবং বাজেট স্বল্পতার কথা তুলে ধরে বরাদ্দ এক টাকা করার ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। সভায় বিরোধী দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিচারক সংকট এবং জিডিপিতে বিচার বিভাগের নামমাত্র বরাদ্দ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। সংসদ সদস্যদের এসব বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো স্ববিরোধী এবং কার্যপ্রণালি বিধির পরিপন্থি। তিনি বলেন, এক টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিচার বিভাগ চালানোর কোনো বিকল্প প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা দিতে পারেননি। সংসদ সদস্যদের দাবিকে ‘জনপ্রিয় কিন্তু ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান বাস্তবতায় এই বাজেট বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও, তা মেনে নেওয়া ছাড়া আপাতত বিকল্প নেই। এরপর ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0