Breaking news

স্বাস্থ্য

ব্যায়াম, খাবার ও নীরব ব্যথানাশক ‘এন্ডরফিন’ : শরীর কীভাবে নিজেই ব্যথা সামলাতে শেখে

ব্যথা হলে সাধারণত ওষুধের কথাই প্রথমে মনে আসে। কিন্তু মানুষের শরীরের ভেতরেও রয়েছে ব্যথার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব একটি ব্যবস্থা। এর সঙ্গে জড়িত এন্ডোজেনাস ওপিওয়েড, যার মধ্যে বিটা-এন্ডরফিন অন্যতম। ব্যায়াম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং শরীরের নানা জৈবিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এ ব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে।   তবে ‘ব্যায়াম করলেই শরীরে এন্ডরফিন বেড়ে গিয়ে সব ব্যথা চলে যায়’ এমন ব্যাখ্যা পুরোপুরি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ব্যায়ামের পর ব্যথা কম অনুভূত হওয়ার পেছনে এন্ডরফিনের পাশাপাশি এন্ডোক্যানাবিনয়েড, সেরোটোনিন, নরঅ্যাড্রেনালিন এবং মস্তিষ্কের ব্যথা-নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুপথও কাজ করে।    ব্যায়ামের পর সাময়িকভাবে ব্যথার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার ঘটনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় Exercise-Induced Hypoalgesia (EIH) বলা হয়। অর্থাৎ ব্যথার উৎস পুরোপুরি চলে না গেলেও মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র সেই ব্যথাকে কিছুটা কম তীব্র হিসেবে অনুভব করতে পারে।   গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের সময় শরীরের endogenous opioid system সক্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে, পর্যাপ্ত সময় ও তীব্রতার ব্যায়ামে বিটা-এন্ডরফিনসহ endogenous opioid-এর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে শুধু এন্ডরফিনই এই পরিবর্তনের একমাত্র কারণ এমন প্রমাণ নেই।    বরং ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কের descending pain modulation system সক্রিয় হয়। এই ব্যবস্থা মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্তরে ব্যথার সংকেত নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে endocannabinoid system-ও সক্রিয় হতে পারে। ফলে ব্যথা অনুভবের পাশাপাশি উদ্বেগ, স্ট্রেস ও মানসিক অস্বস্তির মাত্রাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।    এ কারণেই দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার বদলে নিয়মিত ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী শারীরিক সক্রিয়তা অনেকের জন্য ব্যথা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যায়ামকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কারণ, কোন ধরনের ব্যায়াম, কতটা তীব্রতা এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে কতটা উপকারী হবে, তা ব্যক্তি ও রোগভেদে আলাদা। সাম্প্রতিক একটি umbrella review-তেও exercise-induced hypoalgesia নিয়ে প্রমাণকে পুরোপুরি একরকম বা নিশ্চিত বলা হয়নি।    শুধু ব্যায়াম নয়, খাবারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক। এখানে আসে পুষ্টির বিষয়টি। খাবার সরাসরি ‘এন্ডরফিনের ওষুধ’ হিসেবে কাজ করে এমন দাবি করার মতো শক্ত প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, বিপাকীয় স্বাস্থ্য এবং শরীরের ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে; আর এগুলোর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সম্পর্ক রয়েছে।   ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি systematic review ও meta-analysis-এ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় whole-food dietary intervention নিয়ে ৪৩টি গবেষণাগোষ্ঠী বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যথা কমার ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেলেও কোনো একটি নির্দিষ্ট ডায়েটকে সবার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলা যায়নি। গবেষকেরা খাদ্যের গুণমান, পুষ্টিঘনত্ব এবং ওজন ব্যবস্থাপনাসহ একাধিক বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক নিয়ে অন্য একটি systematic review-তেও একই ধরনের সতর্কতা পাওয়া যায়। ২০টি observational study-এর মধ্যে অর্ধেক গবেষণায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে Mediterranean-type dietary pattern-এর সঙ্গে কম ব্যথার সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে বেশির ভাগ গবেষণা observational হওয়ায় কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায় না।    সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের আরও একটি systematic review এবং meta-analysis-এ ৩৩টি randomized controlled trial এবং ৩,৪৭৬ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে যে Mediterranean diet কিছু প্রদাহ-সম্পর্কিত biomarker যেমন hs-CRP, IL-6 ও IL-17—কমাতে পারে। তবে সব inflammatory marker-এ একই ধরনের পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।    ব্যথা কমানোর জন্য খাদ্যের সামগ্রিক মানের দিকে নজর দেয়া বেশি যুক্তিযুক্ত। শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণশস্য, বাদাম ও বীজ, মাছ এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর চর্বি এ ধরনের nutrient-dense খাবারকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ultra-processed খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিনির্ভর খাদ্য কমানো উপকারী হতে পারে।   তবে পুষ্টি দিয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ এখনো সব রোগের ক্ষেত্রে সমান শক্তিশালী নয়। বিশেষ করে, নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো restrictive diet শুরু করা উচিত নয়।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮–৬৪ বছর বয়সী সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০–৩০০ মিনিট moderate-intensity aerobic activity, অথবা ৭৫–১৫০ মিনিট vigorous-intensity activity করার পরামর্শ দেয়া হয়। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুদিন major muscle groups নিয়ে muscle-strengthening exercise করার কথা বলা হয়েছে। যারা বর্তমানে খুব কম সক্রিয়, তাদের অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও তীব্রতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। অর্থাৎ ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পুষ্টি, ঘুম ও স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা সবকিছু মিলিয়েই শরীরের pain-modulation system-কে সহায়তা করা সম্ভব।   এন্ডরফিন মানুষের শরীরে থাকা একটি জটিল জৈবিক ব্যবস্থার অংশ। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা শরীরকে শুধু শক্তিশালী করে না; ব্যথা, স্ট্রেস ও অনুভূতির সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। আর সেই প্রক্রিয়ায় ভালো খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও পুষ্টি জোগায়।   তবে নতুন, তীব্র, ক্রমাগত বাড়তে থাকা বা কারণ-অজানা ব্যথাকে শুধু ‘এন্ডরফিনের অভাব’ মনে করে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথা কখনো কখনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হতে পারে।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
সুস্থ দেহই সব সফলতার চাবিকাঠি

শরীর হচ্ছে একজন মানুষের পরম সম্পদ। এই শরীর যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে জীবনে কোনো সুখই অনুভব করা সম্ভব নয়। ভালো লাগা মন্দ লাগা, জীবনে সফলতা ভোগ করা সবই নির্ভর করে সুস্থ দেহের ওপর। তাই আল্লাহ তাআলার নিয়ামত ভোগের জন্য দেহকে সুস্থ-সুন্দর রাখা খুবই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ যদি নিয়মমাফিক জীবনযাপন ও সচেতন থাকে, তাহলে সে সুস্থ সুন্দর জীবন উপভোগ করতে পারবে।   আমরা  জানি স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। একজন সুস্থ দেহের মানুষ অনায়াসে জীবনের কঠিন পথ পাড়ি দিতে পারে। অসুস্থতা মানুষকে অসহায় ও দুর্বিষহ করে তোলে। আমরা সব কাজ ঠিকঠাক করলেও শরীরের যত্ন তেমন নিই না।তা ছাড়া সুখের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে নিজের যে একটা জীবন আছে, সেটা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। যখন সচেতন হই, তখন তেমন করার কিছুই থাকে না। তাই সময় থাকতে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে। নিয়মিত গোসল করলে শরীরের যত্নের পাশাপাশি মনেরও যত্ন নেয়া হয়।   আমাদের বর্তমান প্রজন্ম স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে ফাস্ট ফুডের প্রতি বেশি আসক্ত। ফলে যথাযথ ভিটামিনের অভাবে প্রতিনিয়ত অসুস্থতায় ভোগে, যা পরিবারের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোনো সময় আমরা শুয়ে বসে কাটাই আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্রাম ছাড়াই কাজ করতে থাকি। দুটোই আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ। আবার আমাদের বর্তমানে ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাত জেগে জেগে মোবাইলের সাথে সময় কাটানো। এটি মানুষকে ক্রমাগত অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর থেকে বেরিয়ে নিয়মিত কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও শক্তিশালী করে তোলে।   নেশাগ্রস্ত করে এমন কাজ থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং আল্লাহর নির্দেশিত কাজগুলোতে যুক্ত হতে হবে, তবেই সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপভোগ করা সম্ভব।   আমরা রিচ ফুড বেশি খাই, কিন্তু ফল খুব কমই খাই। বেশি দামে ফল খেতে হবে এমন কথা নয়, আমাদের দেশে প্রচুর ফল রয়েছে, সেগুলো খেলে ভিটামিনের অভাব হবে না।   স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য শুধু শরীরের যত্ন নিলেই হবে না, মনেরও যত্ন নিতে হবে। কারণ, মানসিক অসুস্থতা শরীরের অসুস্থতাকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। সমস্যা থাকতেই পারে, তাই বলে মনমরা হয়ে থাকা যাবে না। হাসিখুশি থাকতে হবে, পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে ভালো থাকা যায়। দুশ্চিন্তা কমানো এবং ইতিবাচক মনোভাব পোষণের চেষ্টা করতে হবে।  

জুলাই ৩১, ২০২৬ 0
ভ্যাকসিনের ছবি
কেন বাধ্যতামূলক ভ্যাকসিন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি?

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এটি কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। ভিসা ও অ্যাডমিশনের মতো স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, কারণ সঠিক টিকাদান কর্মসূচির প্রমাণ ছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়া ও কোর্স রেজিস্ট্রেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই টিকাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলা এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে হাম, মাম্পস ও রুবেলার জন্য ‘এমএমআর’ টিকা, টিটেনাস ও ডিফথেরিয়ার জন্য ‘টিড্যাপ’ বুস্টার এবং চিকেনপক্স ও মেনিনগোকক্কাল টিকা অন্যতম। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ডরমিটরিতে বসবাসের ক্ষেত্রে মেনিনগোকক্কাল টিকা অপরিহার্য। এছাড়া শীতকালে ফ্লুর প্রকোপ এড়াতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেয়। টিকা নেওয়া শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; এর নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্টেশন সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যেসব শিক্ষার্থীর আগের টিকাদান কার্ড বা স্বাস্থ্য রেকর্ড হারিয়ে গেছে, তাদের নতুন করে টিকা নেওয়া বা অ্যান্টিবডি টেস্টের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ সেন্টার বা হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য টিকার নাম, ডোজের সংখ্যা ও তারিখ উল্লেখ করে ডিজিটাল কপি বা পিডিএফ ফাইল তৈরি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ভিসার প্রস্তুতির মতোই স্বাস্থ্য সুরক্ষার নথিপত্র আগেভাগে গুছিয়ে রাখলে পরবর্তী সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি থেকে বাঁচা সম্ভব।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বন্যা-পরবর্তী রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ঢলু খালের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এ কথা জানান। তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্পূর্ণ পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। এবারের বন্যায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলমান এই সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার পরিবারকে চালসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
দেশে হাম ও উপসর্গে ৭৮০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪ হাজার ছাড়াল

দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৭৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের প্রাণহানি এবং নতুন করে ১৪০ জনের রোগটি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৪ হাজার ২৪৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন। অধিদপ্তর জানায়, মৃতদের মধ্যে ৯৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং বাকি ৬৮৫ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এছাড়া আলোচিত সময়ে এক লাখেরও বেশি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলেও, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের বড় অংশই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে স্মার্টওয়াচ কতটা নির্ভরযোগ্য?

স্মার্টওয়াচ দিয়ে হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘুমের হিসাব রাখার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যন্ত্র স্বাস্থ্যের প্রাথমিক ধারণা দিলেও তা কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য ডাক্তারি পরীক্ষার বিকল্প নয়। বিশেষ করে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া স্বল্পমূল্যের স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অ্যাপল, স্যামসাং বা গারমিনের মতো স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচগুলো বিশ্রামের সময় হৃদস্পন্দন বা রক্তে অক্সিজেনের (SpO₂) কাছাকাছি সঠিক মাত্রা জানাতে পারে। তবে দ্রুত হাঁটা, হাতের অতিরিক্ত নড়াচড়া, ত্বকের রং কিংবা ঘড়ি ঢিলাভাবে পরার কারণে এই রিডিংয়ে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ইসিজি, ঘুমের ধরন, স্টেপ কাউন্ট বা ক্যালরি খরচের মতো সূচকগুলো সেন্সরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অনুমান করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টওয়াচের ক্যালরি খরচের হিসাবে ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত গরমিল হতে পারে। এগুলো হার্ট অ্যাটাক বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো জটিল রোগ নির্ণয়েও সক্ষম নয়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের বাজারে ২ থেকে ৫ হাজার টাকায় যেসব চীনা বা নকল স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়, সেগুলোর স্বাস্থ্যগত ফিচারের কোনো ক্লিনিক্যাল ভিত্তি নেই। এগুলো রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মতো ভুয়া ফিচার দিয়ে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে। তাই স্মার্টওয়াচকে কেবল ফিটনেসের প্রাথমিক সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য প্রচলিত মেডিকেল যন্ত্রপাতির ওপরই ভরসা রাখা উচিত।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশিকা: জীবনযাপন পরিবর্তনে ৪৫ শতাংশ ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ সম্ভব

ধূমপান, বায়ুদূষণ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ৪৫ শতাংশ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বুধবার (১৮ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি হালনাগাদ নির্দেশিকা ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে আরও এক কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস জানিয়েছেন, এটি বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়; বরং সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। ডিমেনশিয়ার কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আলঝেইমার্স, যা মোট আক্রান্তের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, তামাক ও অ্যালকোহল সেবনের মতো অসংক্রামক ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে চললে এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা যায় বলে নতুন নির্দেশিকায় জোর দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
দেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন: শিগগিরই আসছে ‘ই-হেলথ কার্ড’

দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এই তথ্য জানান। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল রোডম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ই-হেলথ কার্ড হলো নাগরিকদের একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্বের সব রোগের ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট ও ওষুধের বিবরণ মুহূর্তেই দেখতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে গত দুই বছর ধরে এই ডিজিটাল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
চিকিৎসা অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে ২৭ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল মেডিকেল অক্সিজেন রোডম্যাপ (২০২৬–২০৩০)’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে সভাপতি করে ২৭ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা। এতে স্বাস্থ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বুয়েট এবং আইসিডিডিআর,বি-এর বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা যুক্ত আছেন। এই কমিটির প্রধান কাজ হলো চিকিৎসা অক্সিজেনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং একটি কার্যকর জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করা। এর মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0