Breaking news

সাংবাদিক

সাংবাদিক নির্যাতন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি

গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এটি শুধু খবর পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম নয়, বরং সমাজের চোখ, কান ও বিবেক। সাংবাদিকরা হচ্ছেন সেই সাহসী সৈনিক, যাঁরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাধরদের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রকাশ করেন, জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা কেবল তাঁদের পেশাগত জীবনের জন্য নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্যও এক ভয়াবহ হুমকি।   সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যেসব ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হুমকি, মিথ্যা মামলা, অফিসে হামলা, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, স্থানীয় বা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরাও আজ নিরাপদ নন। কোনো অসঙ্গতি তুলে ধরলেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি শুরু হয় অথবা সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেন।   এ ধরনের নির্যাতন সাংবাদিকদের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। ফলে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারেন না এবং অনেক সময় স্ব-সেন্সরশিপ বা আত্মনিয়ন্ত্রণে বাধ্য হন। এভাবে একপর্যায়ে একটি সমাজে কৃত্রিম নীরবতা সৃষ্টি হয়—যেখানে সত্য চাপা পড়ে যায়, মিথ্যা ও প্রপাগান্ডা জায়গা করে নেয়। জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়, গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারায় এবং গণতন্ত্র তার স্বাভাবিক গতি হারায়।   সাংবাদিক নির্যাতনের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। ১. ক্ষমতার অপব্যবহার : অনেক সময় রাজনৈতিক ক্ষমতাধররা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করতে চান, কারণ সত্য প্রকাশ তাঁদের স্বার্থে আঘাত হানে। ২. দুর্নীতি রক্ষার প্রবণতা : প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক দুর্নীতির খবর প্রকাশ ঠেকাতে যারা দায়ী, তারাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে বা ভয় দেখায়। ৩. আইনের দুর্বল প্রয়োগ : দেশে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ আইন না থাকায় বা আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় না। ফলে তারা বারবার একই অপরাধ করার সাহস পায়। ৪. সাংবাদিকদের বিভক্তি ও দুর্বল সংগঠন : অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ নয়, ফলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না।   এ সংকট থেকে উত্তরণে আমাদের কিছু বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। ১. সাংবাদিকদের জন্য কঠোর আইনি সুরক্ষা : সাংবাদিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ২. দ্রুত বিচার ও শাস্তির নিশ্চয়তা : সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা কমিটি গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৩. সরকারি ও সামাজিক সমর্থন : সাংবাদিকদের কাজকে সম্মান জানিয়ে সরকার ও সমাজের সর্বস্তরে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। ৪. সাংবাদিক সংগঠনের শক্তিশালী ভূমিকা : জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হতে হবে। তারা যেন প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনায় সজাগ থেকে প্রতিবাদ এবং আইনি সহায়তা দিতে পারে। ৫. সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা : স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা স্তরে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে—সাংবাদিকতা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের সবার স্বার্থে।   সাংবাদিকেরা শুধু পেশাজীবী নন, তাঁরা আমাদের সমাজের দর্পণ। তাঁদের কণ্ঠ রুদ্ধ মানেই সমাজে অন্ধকার নেমে আসা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা মানে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। আর সত্যের পরাজয় মানেই গণতন্ত্রের পরাজয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আজই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং সমাজের প্রতিটি নাগরিকের।    

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সব নির্বাচনে সাংবাদিকদের অনলাইনে কার্ড দেবে ইসি

জাতীয় সংসদসহ দেশের সব নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইনে কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রক্রিয়াটি নির্ভুল করতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসিসহ (আরএফইডি) বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি নতুন সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে গঠিত একটি কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।   সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্ধারিত ওই কমিটির প্রতিবেদনের আলোকেই কমিশন তাদের পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।   বৈঠকে বাসসের (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অনেক অপেশাদার ব্যক্তি ও দলীয় কর্মী সাংবাদিকের কার্ড নিয়েছিলেন; তাই নতুন উদ্যোগে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরাই যাতে কার্ড পান, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।   প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের ট্রায়াল ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে সাংবাদিক কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। কিন্তু সে সময় ওয়েবসাইটের ত্রুটির কারণে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কমিশন ওই প্রক্রিয়াটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।   অতীতের সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকেই এবার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছে কমিশন। ইসি সচিবের সভাপতিত্বে সোমবারের এই বৈঠকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বিটিভির মহাপরিচালক এবং আরএফইডির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
সাংবাদিকতা যেন দিগন্ত জয়ের দুরন্ত নেশার স্পর্ধিত তারুণ্যের দুঃসাহসী উচ্চারণ

কর্মজীবনে সাংবাদিকতা খুবই সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। মানবসমাজে এ পেশার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সমাজে সাংবাদিকদের রয়েছে অনেক দায়বদ্ধতা। সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার জন্য সদা সচেষ্ট থাকাই হচ্ছে সাংবাদিকদের কাজ। নীতিবোধ ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ পেশাকে কলঙ্কিত করা প্রকৃত সাংবাদিকের কর্তব্য নয়। নৈতিকতা ও নীতিবোধের মধ্যে থেকে সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করাই সাংবাদিকের কাজ।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি পেশা। আমাদের দেশে প্রথম দিকে সাংবাদিকতা শুরু হয়েছিল শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই। কালের বিবর্তনে আজ পেশাটির যথেষ্ট অগ্রগতি ও যুগপোযোগী হয়েছে। অনেক বাধাবিপত্তি ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আজ এ পেশার যথেষ্ট মানোন্নয়ন হয়েছে। দেশের চলমান ঘটনা, সমাজের নানা সমস্যা ও অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের সামনে অনেক বাধা এলেও থেমে থাকে না সাংবাদিকতা। এ যেন এক দুঃসাহসী অভিযান। সাংবাদিকদের এমন দুঃসাহসী অভিযানের কারণে দেশে স্থাপিত হয়েছে এ পেশার শক্তি ভিত্তি।   সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে খবরের পেছনের খবর বের করে এনে দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরতে পিছপা হন না। আর এ কারণে তাঁদের অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়। অনেক সময় সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে গিয়ে বিপদ ও জীবন নাশের হুমকির সম্মুখীনও হতে হয়। এত ঝুঁকির পরও অবিরাম গতিতে চলে সাংবাদিকতা। নানা পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে চলতে থাকে সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড। এ যেন দিগন্ত জয়ের দুরন্ত নেশার স্পর্ধিত তারুণ্যের দুঃসাহসী উচ্চারণ। সাংবাদিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে পাঠকের সামনে উঠে আসে দেশ-বিদেশের নানা ধরনের বিচিত্র খবর। সংবাদপিপাসু পাঠকের চাহিদা মেটাতে সদা সচেষ্ট সাংবাদিক সম্প্রদায়। সঠিক, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকের সামনে তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।   আর এ জন্য পাঠকের কাছে সাংবাদিকদের রয়েছে দায়বদ্ধতা। আমাদের দেশে গণমাধ্যমের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা হচ্ছে একটি সেবামূলক পেশা। এ পেশায় স্বাধীনতা থাকতে পারে, কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতার কোনো অবকাশ নেই। সুস্থ জাতি ও সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল। আর সেই সাথে থাকতে হবে সততা, নিষ্ঠা ও সত্য বলার সৎ সাহস। সাংবাদিক হচ্ছেন জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। তাই সাংবাদিকদের নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়া যাবে না। ন্যায়নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে মহান এ পেশাকে কলুষিত করা কোনো সাংবাদিকের উচিত নয়। যাঁরা নৈতিকতা ধরে রাখতে পারেন না, তাঁদের এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় অনুপ্রবেশ করা উচিত। নৈতিকতা-বিবর্জিত সাংবাদিকতা সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত দায়িত্ববোধ ছাড়া সাংবাদিকতা সমাজে মূল্যহীন। সত্যিকার অর্থে একজন সাংবাদিক যখন কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করবেন, তখন তাঁকে নিরপেক্ষভাবে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে ওই বিষয়টি জনসমেক্ষ প্রকাশ করতে হবে। এতে করে সমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।   তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে গণমাধ্যমের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশনা, অন্যদিকে বেড়েছে গণমাধ্যমকর্মী বা সংবাদকর্মী। একসময় সংবাদকর্মীদের সংবাদ প্রেরণ করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। কিন্তু বর্তমানে আর সংবাদ প্রেরণ করতে ওই ঝামেলায় পড়তে হয় না। এখন ঘরে বসেই কম্পিউটারের মাধ্যমে সংবাদ লিখে ইন্টারনেটের সাহায্যে পাঠানো খুবই সহজ হয়েছে।   প্রতিদিন পাঠক মহল নিত্যনতুন ও তরতাজা খবরের অপেক্ষায় অধির আগ্রহে বসে থাকেন। পাঠক মহলের কাছে এ যেন প্রতিদিনের রুটিন। আমাদের দেশে এমন কিছু পাঠক আছেন, এক দিন সকাল বেলা চায়ের টেবিলে সংবাদপত্র না পড়লে তাঁদের মনে কোথায় যেন অতৃপ্তি থেকে যায়। এমন পাঠকের সংখ্যাও দেশে কম নয়।   নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের কোনো বিকল্প নেই। তথ্য জানা জনসাধারণের মৌলিক অধিকার। তাই ভুল তথ্য দিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা কোনো সাংবাদিকের কাজ নয়। আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সত্য অনুদ্ঘাটিত থাকলে সমাজে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ বিষয়ের প্রতি সাংবাদিককে হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল। সততা ও নিষ্ঠার সাথে তথ্য উদ্ঘাটন জনস্বার্থে অতি জরুরি। মনে রাখতে হবে, সংবাদপত্র হচ্ছে জনস্বার্থের অতন্দ্র প্রহরী। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার সহায়ক শক্তি।   তাই ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন রচনা করে জনগণের এই মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করা সাংবাদিকের কাম্য নয়। দেশ ও জাতি গঠনে সাংবাদিকের ভূমিকা অপরিসীম। বিভ্রান্তি ও উস্কানিমূলক কোনো প্রতিবেদন তৈরি করে জনসমেক্ষ প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাও কোনো সাংবাদিকের কাজ নয়। সমাজে সাংবাদিকদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা বিসর্জন দিলে আর কোনো মূল্য থাকে না।   সমাজে দায়বদ্ধতা নিয়ে একজন সাংবাদিক সততা ও নিষ্ঠার সাথে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করে জনগণের সামনে তুলে ধরেন ন্যায়, অন্যায়, দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র। সাংবাদিকদের এ রকম তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন তৈরি করে জনসমক্ষে প্রকাশ করলে সহজেই যে কেউ অনিয়ম, দুর্নীতি করার সাহস হারিয়ে ফেলবে। আর এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে একজন সাংবাদিকের সৎ গুণাবলি।   নৈতিকতা ঠিক রেখে সামাজিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে এ পেশা চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা। কারণ, জাতি একজন সাংবাদিকের ওপর অনেক কিছু আশা করে। জনগণের আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটার জন্য সাংবাদিকদের হতে হবে সৎ ও নির্ভীক কলমসৈনিক। সাংবাদিকরা হচ্ছেন দেশপ্রেমের দীক্ষায় দীক্ষিত দেশপ্রেমিক, কলমসৈনিক। শানিত তলোয়ার ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর সাংবাদিকের কলম। এ কলমের মাধ্যমে সমাজ থেকে উৎপাটন করা সম্ভব সমস্ত জঞ্জাল। তাই সমাজের চোখে যারা অপরাধী, তারা কিছুটা হলেও ভয় পায় সাংবাদিকদের। শুধু তা-ই নয়, মাফিয়া ডন থেকে শুরু করে সমাজের উঁচু শিখরে যাঁরা অবস্থান করছেন, তাঁরাও সাংবাদিকদের ভয় পান। এমন ক্ষমতাসম্পন্ন কলমসৈনিকেরা যদি ন্যায়, নীতি, নিষ্ঠা ও নৈতিকতা বজায় রেখে তাঁদের মহান এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন, তাহলে সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে। দেশের সাধারণ মানুষের মনে বর্ষিত হবে শান্তির বাণী। জাতি দেখবে আশার আলো। সাংবাদিকতার জগতে সৎ পেশাদারি সাংবাদিকতার বিপরীতে হলুদ সাংবাদিকতা বলে একটা কথার প্রচলন আছে।   এই হলুদ সাংবাদিকতা আজ সমাজে কালো ছায়া ফেলেছে। হলুদ সাংবাদিকদের এমন কিছু কার্যকলাপের জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজের কাছে আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত। পেশাদারত্বের দিক থেকে নীতিবোধে অন্য পেশার লোকদের চেয়ে সাংবাদিকরা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।   সামাজিক দৃষ্টিতে মহান ও সম্মানজনক এ পেশাকে সমাজের কাছে চির উন্নত রাখাই সাংবাদিকদের কর্তব্য। নৈতিকতা ও নীতিবোধের মধ্যে থেকে সমাজসেবা করা সাংবাদিকদের ব্রত হওয়া চাই। সমাজে মানুষ যখন একশ্রেণির লোকেদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নিষ্পেষিত হয়ে কোথাও কোনো বিচার না পায়, তখন বাধ্য হয় সাংবাদিকদের স্মরণাপন্ন হতে। তখন নিষ্পেষিত ওই লোকটির সাংবাদিকই একমাত্র ভরসা। সমাজের নিরীহ মানুষের এমন দুর্দিনে যদি সাংবাদিকরা নৈতিকতা ও নীতিবোধ বিসর্জন দেন, তাহলে সমাজে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। আর এ কারণেই সমস্ত সাংবাদিক সমাজ হবে ঘৃণা ও উপহাসের পাত্র।   তাই নৈতিকতা ও আদর্শের মধ্যে থেকে সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করলে সব মহলে সাংবাদিকদের মানমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। সাংবাদিকতাই হোক আর অন্য যেকোনো পেশাই হোক, নীতিবোধে অটল থাকাই বাঞ্ছনীয়। একজন পেশাজীবীর নৈতিকতা বিসর্জন দিলে তার আর কিছুই থাকে না। সংবাদ পরিবেশনায় বিভ্রান্তি বা উস্কানির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ জন্য একজন সাংবাদিককে হতে হবে দায়িত্বশীল সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব। আর থাকতে হবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নৈতিকতা।  

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ চার বছর এবং বিদেশি সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ ২৪০ দিন দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন ও দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের ওপর নজরদারি বাড়াতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের 'এফ' ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির 'জে' ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের 'আই' ভিসার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে মাত্র ৯০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের ওপর নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ায় এবং মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে অবস্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের পর অবস্থান করতে চাইলে এখন থেকে ট্রাভেল পারমিট নিয়ে নিজ দেশে ফিরে পুনরায় ভিসার আবেদন করতে হবে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0