Breaking news

সৌদি আরব

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড : সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে ওই দুই প্রবাসীর শিরশ্ছেদের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এর আগে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দেশটির আদালত এই দণ্ড কার্যকর করেছে বলে সেখানকার বাংলাদেশ মিশন মারফত জানা গেছে। এ ঘটনাকে তিনি ‘বড় শিক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বিষয়টির আনুষ্ঠানিক বিবরণ জানতে রিয়াদের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।   সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।  

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের নাজরান সীমান্তে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ঘটনাটিতে হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবিটি নাকচ করে জানিয়েছে, মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই তাদের পর্যবেক্ষণ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে।   সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, নাজরান এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের এএইচ-সিক্সআই মডেলের হেলিকপ্টারটি যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। গত জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটিই তাদের সামরিক সদস্য নিহতের প্রথম ঘটনা।   ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকা দখলের পর হুতিরাও রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেলের স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে।  

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার প্রবাসী যুবক সজিব নিহত

সৌদি আরবে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে দেশটিতে পাড়ি জমানো সজিব জুবাইল শহরে কর্মরত অবস্থায় গত রোববার এ হামলার শিকার হন।   পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য সজিবের মৃত্যুর খবর সৌদি আরবে থাকা তাঁর বন্ধু স্বজনদের নিশ্চিত করেন। একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে পরিবারে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দ্রুত সজিবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।   স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর তথ্য সংগ্রহসহ মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশ্চিত করেছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সজিবের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।  

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষিত এলাকা, সংবেদনশীল বিষয় এবং যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় আইন অমান্য করা সেখানে দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সে জননিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রকাশ, প্রচার কিংবা আদান-প্রদান করা যাবে না; এমনকি এমন পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সেবা গ্রহণকালে দূতাবাস কিংবা কূটনৈতিক এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তিও সমুন্নত রাখবে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।  

অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বের শীর্ষ স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বিমান পেতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালালেও ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় এতদিন এতে বাধা ছিল। তবে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র চুক্তি কার্যকর ঠেকাতে বা যাচাই-বাছাই করতে মার্কিন কংগ্রেসের হাতে এখন ৩০ দিন সময় রয়েছে।   প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তিসহ একাধিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সৌদি-চীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ প্রযুক্তির গোপন তথ্য বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৮ সালে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও মার্কিন কংগ্রেসে এমন অস্ত্র চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।   বিরোধিতা সত্ত্বেও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দাবি করেছে, এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করবে। তাদের মতে, মিত্র সৌদি আরবকে এই সহায়তা দেয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে ৫০টি এফ-৩৫ বিমান রয়েছে, যা তারা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে; ফলে সৌদি আরবের ৪৮টি বিমান পাওয়ার চুক্তি ইসরায়েলের সাথে তাদের সক্ষমতার ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে আনবে।   ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের সংঘাত চলাকালেই এই যুদ্ধবিমান বিক্রির উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পেল। সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলে নেয়ায় রিয়াদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্পকে চাপ দিলেও, ওয়াশিংটন সরাসরি মার্কিন বাহিনীকে এতে জড়ানো থেকে বিরত রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
আরবে তৃষ্ণার্ত প্রবাসী এবং জীবনযাপন

বহু বছরের প্রচলিত নিয়ম আজ বুঝি দেখতে চলেছে তার বিষাদময় ক্লান্তিকর পরিসমাপ্তি। আরবে বলতে আমি সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে যা দেখছি, তার একটা বিষয় হলো ‘বিলাশ ময়া’। এই বিলাশ ময়া সম্ভবত তার শেষ দেখে ফেলছে।   আরবের প্রায় ছোট-বড় সব মসজিদেই রিয়াদ কুলার নামক একটি কোম্পানির তৈরি পানি ফিল্টারিং, সাথে ঠান্ডা করার ব্যবস্থা-সংবলিত যে কুলারগুলো ছিল এবং তাতে আরব সরকার বহু বছর যাবৎ পানি দিয়ে আসছিল। সম্ভবত মূল কারণ ছিল, যেসব মুসল্লি নামাজে আসবেন, তাঁরা তৃষ্ণার্ত হলে এখান থেকে পানি পান করবেন। কিন্তু একদল অসহায় প্রবাসী পাঁচ থেকে দশ লিটারের পানির বোতল ভরে ভরে নিয়ে যান বাসায় বসে পান করার জন্য। যদিও সৌদি আরবে যেসব প্রবাসী ভালো অবস্থানে আছেন, তাঁরা ওই সব পানির দিকে তাকান বলে আমার মনে হয় না। কারণ, মসজিদের ভেতরে ফ্রিজে রাখা ছোট পানির বোতলই তাঁরা নেন না। তাঁরা পানি কিনে ব্যবহার করেন।   তবে হ্যাঁ, যাঁরা হতভাগা প্রবাসী, যাঁদের সাথে দালালরা বেইমানি করে, টাকা ঠিক নিয়েছে কিন্তু কাজ দেয়নি, আকামা করে দেয়নি, ওই সব খেয়ে না খেয়ে থাকা প্রবাসী বেশির ভাগ মসজিদের ওই পানি নেন। কিন্তু মাসখানেক হলো আমার কর্মস্থলের পাশেই অত্র এলাকার বড় জামে মসজিদে রিয়াদ কুলারে পানি নেই। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো ট্যাঙ্কিতে পানি নেই। কিন্তু দু-তিন দিন পর মুয়াজ্জিন সাহেবের কাছ থেকে জানলাম, সরকার পানি বন্ধ করে দিয়েছে।   আমি আরও একটি ছোট মসজিদ দেখেছি, যেখানে পানি নেই। যদি ঘটনা সত্যি হয়, সরকার পানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে লাখ লাখ প্রবাসী অচিরে অনেক বড় পানিশূন্যতার শারীরিক রোগে আক্রান্ত হবেন।তার বিশেষ কারণ হলো, হাজার হাজার সৌদিয়ান তাঁদের পরিচিত কিছু প্রবাসীর মন রক্ষায় তাঁর আকামা ব্যবসায়ীক লাইসেন্স দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল বলতে নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ এখানে (সৌদি আরব) নিয়ে আসেন। ওই সৌদিয়ান অনেক সময় তাঁর মুখটাও দেখেন না বা দেখার দরকার মনে করেন না যে লোকটা তাঁর আকামা লাইসেন্সের ভিসায় এসেছেন।   অবশ্য এর বিশেষ কারণও আছে। তাঁকে বলাই হয় এমন, ‘আমি আমার বাপ, ভাই ও শ্যালককে আনব। আপনি একটু হেল্প করুন। আপনাকে আমি লাইসেন্স ফি বাবদ কিছু হাদিয়া দিয়ে দেব। আপনার কোনো দায়িত্ব নেই। শুধু ভিসা হোক, পরে তাঁর থাকা-খাওয়া, কাজ সব দায়িত্ব আমার।’   স্বভাবতই ওই সৌদিয়ানের কোনো দায়িত্ব থাকে না। ওই  ভিসাগুরোতে যতটা নিজের লোক আসে, তার চেয়ে বেশি ভিসা বিক্রি করে এজেন্সির মাধ্যমে সাধারণ লোক এসে এখানে প্রতারিত হন। অবশ্যই এই প্রতারণায় বাংলাদেশের দালাল চক্র প্রথম কাতারে।   দালালরা সরল সৌদিয়ানদের নামকা ওয়াস্তে কিছু হাদিয়া দিয়ে ওই ভিসাগুলো মোটা অঙ্কে বিক্রি করে দেশ থেকে লোক নিয়ে আসে। লোকগুলো আসার পর আর মালিক পান না, কাজও পান না। আকামা তো তাঁদের কাছে সোনার হরিণ। কেননা সাড়ে চার থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত টাকা দিয়ে বিদেশে এসে শোনেন, এখানে তাঁর তানাজুল (মালিক বদল) আর আকামা করতে কম হলেও তিন থেকে সাত হাজার সৌদি রিয়াল লাগবে। বাংলাদেশের মুদ্রায় এক থেকে তিন লাখ টাকা। অথচ ওই প্রবাসীদের মধ্যে এমন লোকও আছেন, যিনি আসার সময় স্ত্রীর হাতের বাজার খরচের টাকা রেখে আসতে পারেননি। এমনও আছেন, এক বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ না হলে তাঁকে বসতভিটা থেকে বের হয়ে যেতে হবে।   এমন সব অসহায় প্রবাসী কীভাবে বাঁচবেন সৌদি আরবে? তার মধ্যে এখন নিত্যপণ্যের যা দাম! তা লাখ লাখ প্রবাসীর জন্য অপ্রকাশিত বড় অসহায়ত্ব। এখন এখানে এক কেজি মোটা চাল ৩.৫-৪.৫ রিয়াল। এক কেজি পেয়াজ ৩ রিয়াল। কাঁচা মরিচ ১৫-২০ রিয়ালের মধ্যে। দুই লিটার রান্নার তেল ১৮-২৫ রিয়ালের মধ্যে। বিশেষ করে, জ্বালানি এলপি গ্যাস ১২ কেজি সাইজের এই এক মাসে দাম বেড়েছে ১০-১২ রিয়াল, যা বর্তমান বাজার মূল্য ৪৩-৪৫ রিয়াল। ৮-১০ রিয়ালের ফ্রিজিং পোল্ট্রি মুরগি বর্তমানে ১৪-১৬ রিয়াল। মাছ তো ভাবাই যায় না। কারণ, নিচে দশ রিয়াল, ওপরে যত টাকার কিনেন। আর গরুর গোস্তের কেজি ৩৫-৪৫ রিয়াল, খাসি ৫০-৬০ রিয়াল।   একবার ভাবুন তো, মাসে একজন সাধারণ আয়ের প্রবাসীর খাবার বাবদ কত টাকা খরচ যেতে পারে?  তার সাথে ভাবুন একজন সাধারণ আয়ের প্রবাসী বলতে বস্তির মতো কামরায় চার থেকে আটজনের (ডাবল সিটে) রুম ভাড়া ১৮০-৩৫০ রিয়াল। তাহলে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে এসে তারপর মাসে বেঁচে থাকার জন্য তাঁর কত খরচ করতে হবে?   আগে অনেকে মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি এনে খেতেন, এখন সেটাও বন্ধ বলেই শুনছি। তাহলে এখন প্রবাসীদের চড়া মূলে পানি কিনে খেতে হবে। অন্যদিকে এখানে এসে কাজ না পেয়ে মাসে মাসে দেনা ভারী হচ্ছে।    ফ্রি ভিসার মর্ম তারাই বুঝছেন, যাঁদের এ দেশে আপনজন কেউ নেই। মরুভূমিতে ঘুমান আর ডাস্টবিনের আধাপঁচা খাবার তুলে খান। অন্যদিকে ইমোতে গাল লম্বা করে হাসি দিয়ে দেখান যে তাঁরা ভালো আছেন। এত টাকা খরচ করে এসে যদি বলি, আমি ভালো নেই, সবাই বলবে দেশে বসেও বাপেরটা নষ্ট করেছে, এখন বিদেশেও তাই অকর্মা কোথাকার। তার চেয়ে ভালো বলি, ভালো আছি। হাজার হাজার প্রবাসী রাতে বিছানায় কাঁদেন। এই কান্নার শেষ কোথায়?   দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধগতি চলতে থাকলে এ দেশে প্রবাসীদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। কারণ, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পর এলপি গ্যাসের ছোট বোতল দাম বেড়েছে দশ রিয়াল করে আর চালের দাম বেড়েছে প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ। এমন অবস্থায় আকামা নেই, কাজ নেই, এমন লাখ লাখ প্রবাসীর ভবিষ্যৎ এখানে অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।  

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা মেলামেশা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন, সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সহায়তা করবে।   এ-সংক্রান্ত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হলেও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না করলে এই চুক্তি আলোর মুখ দেখবে না। তবে ওয়াশিংটনের এ শর্ত শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ।   গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হলেও নতুন শর্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানান, ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া অসম্ভব।   সৌদি আরব আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহায়তা মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়; এর সঙ্গে ইসরায়েলকে মেনে নেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া সম্পূর্ণ অনুচিত। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

আগস্ট ২৮, ২০২৬ 0
ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও মিসরের ওমরাহ যাত্রীদের জন্য আগামী ১ রবিউল আউয়াল থেকে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ৪ আগস্ট এ বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রকাশ করেছে দেশটির হজসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়।   নতুন নীতি অনুযায়ী, ওমরাহ ভিসা পেতে প্রতিদিন প্রায় ২০ রিয়াল মূল্যের বাধ্যতামূলক ‘নুসুক’ ফুড ভাউচার কিনতে হবে, যা সরাসরি ভিসার ফির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মক্কা ও মদিনার প্রায় ১০ হাজার রেস্তোরাঁকে নুসুক অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা ভিসায় দেয়া স্বতন্ত্র কোড ব্যবহার করে এসব অনুমোদিত রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন।   মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে এবং অনিবন্ধিত সেবা বন্ধ করতে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হচ্ছে। তবে নতুন এই নিয়মের ফলে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
সৌদির তেল ক্ষেত্র
সৌদির তেলক্ষেত্রে হামলার হুমকি হুথিদের

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে জড়ালে সৌদি আরবের সব তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুথি সরাসরি এ হুঁশিয়ারি দেন। সম্প্রতি ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার পর চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ায় নতুন করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হুথি নেতা স্পষ্ট জানান, সানা বিমানবন্দরে হামলার বদলা হিসেবে তারা রিয়াদ বিমানবন্দরেও আঘাত হানবেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ ও ২০২২ সালেও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ফলে ইয়েমেন বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0