Breaking news

শিক্ষার্থী

আরেকটু ডোপামিনের আশায়

বেলকনিতে বসে গল্পের বই পড়ছিলাম। হঠাৎ রাস্তার দিকে চোখ পড়তেই একটি ঘটনা চোখে পড়ল।কয়েকজন লোক একটা মেয়েকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমার বিষয়টা একটু সন্দেহজনক মনে হলো। তাই আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের পিছু নিলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখি তারা মেয়েটিকে একটি বাড়িতে নিয়ে গেল। আমিও গেলাম লুকিয়ে লুকিয়ে। এরপর দেখলাম তারা মেয়েটিকে বারান্দায় বেঁধে রেখে রুমে চলে গেল। মেয়েটি একটু অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। মেয়েটি বলছিল, “আমার খিদে লেগেছে।” আরও অস্পষ্টভাবে শুনতে পেলাম, “আমাকে মরফিন দাও।”   আমি দৌড়ে গেলাম মাঠের দিকে। গিয়ে দেখি হাবলু আর বাবলু মাঠে বসে আছে। চিৎকার করে ডাক দিতেই হাবলু বলল— কী হয়েছে নিলু? এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন? বাবলু পানি এনে বলল— এটা খা আগে। তারপর শান্ত হয়ে বলিস কী হয়েছে?   আমি পানি খেয়ে কিছুক্ষণ শ্বাস নেয়ার পর পুরো ঘটনা খুলে বললাম। ওরা শুনে একটু অবাক হলো। ওদেরও মেয়েটিকে দেখার খুব ইন্টারেস্ট জাগল। ওদের নিয়ে গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখি, মেয়েটি এখনো বাঁধা আছে। বাড়িতে লোকজনের সাড়াশব্দ নেই। আমরা তিনজন বাড়িতে প্রবেশ করেই দেখি, মেয়েটি আমাদের দিকে পেত্নীর মতো তাকিয়ে আছে। আমরা মেয়েটির শরীরে বাঁধা রশিগুলো খুলে দিলাম। বাড়ির লোকজন শব্দ পেয়ে ছুটে এল। তারা দৌড়ে এসে মেয়েটিকে ধরার চেষ্টা করে। আর আমরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। যখন দেখলাম যে মেয়েটি বেসিনে রাখা টুথপেস্ট, নেইল কাটার, টুথব্রাশ খাওয়ার জন্য মুখে ঢুকাছিল। কিন্তু লোকগুলো দেখা মাত্রই মেয়েটির হাত থেকে সেগুলো জোরজবস্তি করে কেড়ে নেয়। তারা মেয়েটিকে অনেক শক্ত করে ধরে রাখে। আমরা কিছু বলার আগেই একজন বয়স্ক মহিলা এসে বললেন— তোমরা কারা? এখানে কী করছ? হাবলু বলল— আমরা কে তা জেনে আপনাদের লাভ নেই। আগে বলেন আপনারা মেয়েটিকে জোরজবরদস্তি করে কেন বেঁধে রেখেছেন? আমরা মেয়েটির অভিভাবক। আমরা আমাদের মেয়েকে কী করব না করব, এটা আমাদের ব্যাপার। তোমরা কে? আমি বিস্মিত হয়ে বরলাম— আপনারা অভিভাবক! হ্যাঁ। কী হয়েছে মেয়েটির? সে এমন অখাদ্য বস্তু কেন গিলতে যাচ্ছিল? মরফিন-ডোপামিনের জন্য। মরফিন তো মাদকজাতীয় দ্রব্য! হ্যাঁ। আন্টি, আমরা তো আপনাদের কোনো কথায় বুঝতে পারলাম না। সবকিছু খুলে বলেন।   ধমক দিয়ে একজন বাবার বয়সী লোক বলে উঠলেন— এই বাচ্চারা, এখানে কী করতে এসেছ? চুরি করতে এসেছ নিশ্চয়! বিল্লু এই বিল্লু পুলিশকে ফোন কর। আমরা কিছু বুঝতে না পেরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারা আমাদের বাইরে যেতে দিল না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হাজির হলো।   পুলিশ এসে বলল— কী হয়েছে? এই যে এই বাচ্চাগুলো চুরি করতে এসেছিল। এদের ধরে নিয়ে যান। না না স্যার। আমরা চুরি করতে আসিনি। দেখতে তো ভদ্রঘরের সন্তানের মতো, কিন্তু স্বভাবে চোর চোর ভাব কেন? আমরা চোর নই। একজন দারোগা বললেন— স্যার, আমার মনে হয় এদের আরও অনেক বড় গ্যাং আছে। এদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। একদম ঠিক। ধরো ওদের। নিয়ে চলো থানায়।   হাবলু আর বাবলু ভয় পেয়ে গেলেও আমার ভয় লাগছিল না। আমি জানতাম, আমরা কিছু করিনি। অতএব, ওরা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। তাই আমি কোনো সংকোচবোধ না করেই চলে গেলাম।   থানায় আসার পর অফিসার বললেন— তোমাদের নাম কী? আমাদের সবার নাম বললাম। তোমরা কোন ক্লাসে পড়ো? ক্লাস টেনে। তোমাদের বাসা কোথায়? রোজ গার্ডেন। তোমাদের মাঠে গিয়ে এখন খেলার বয়স। তোমরা চুরি করো কেন? আমরা চুরি করি না। কারণ আমরা চোর নই। তাহলে ওই বাড়িতে কেন গিয়েছিলে? মেয়েটিকে বাঁচাতে। মানে? স্যার, আমি সব খুলে বলছি। শোনেন... সব শোনার পর তিনি বললেন— আচ্ছা, তাহলে এই কাহিনি! তোমরা কি জানো ওই মেয়েটি মাদকের প্রতি এডিকটেড? না স্যার জানি না। কিছুদিন আগে মেয়েটিকে আমরা বড় নদীর ব্রিজ থেকে মাতাল অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে মেয়েটির ফ্যামিলি এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরদিন কিছু কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য ফোন করলে জানতে পারি যে, মেয়েটির অবস্থা খুব সিরিয়াস। সে এখন হসপিটালে।   আমরা হসপিটালে গেলে তার অভিভাবক জানায় যে, মেয়েটিকে তারা মাদকদ্রব্য থেকে দূরে রাখার জন্য বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু মেয়েটি অখাদ্য সব বস্তু অর্থাৎ নেইল কাটার, টুথপেস্ট ইত্যাদি গিলে ফেলে। এডিকশন লেভেল কী পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন সব জিনিস গিলতে পারে! কী ভাবছ? এসব উল্টাপাল্টা জিনিস খাওয়ার এডিকশন! মোটেও না। সার্জারি করার সময় ব্যথা উপশমের জন্য যে মরফিন ড্র্যাগ দেয়া হয়, সেটার স্বাদ আরেকবার পেতে টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, নেইল কাটারের মতো অখাদ্য বস্তু গিলতে শুরু করে মেয়েটি। যেন তাকে আরেকবার হসপিটালে গিয়ে সার্জারি করার সময়ে মরফিন ড্র্যাগ দেয়া হয়। জাস্ট আরেকটু মরফিনের আসায় আরেকটু ডোপামিনের আশায়। কী জীবনে সাথে মিলে যায়! রিলস, স্ক্রলিং, ধূমপান, মাস্টারবেশন, পর্নগ্রাফি...   এসব শোনার পর আমার ইন্দ্রিয় শক্তির এডিকশনের প্রতি জঘন্যতম ঘৃণা জমে গেল। আমি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলাম না। পুলিশ অফিসার বললেন— তোমরা ছোট আছ। এখন থেকে সাবধান হয়ে যাও। আর মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো। তোমরা প্রতিরোধী হলে তোমাদের ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
হে নবীন, জাগো

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নবীন প্রজন্মের ওপর। আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সমাজনির্মাতা। তাই নবীনদের জাগরণ শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ।   বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেমন আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তেমনি তৈরি করেছে নানা রকম চ্যালেঞ্জ। তাই নবীনদের শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না; তাদের হতে হবে জ্ঞানী, বিবেকবান, দায়িত্বশীল ও মানবিক।   শিক্ষা মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে এবং সত্য-মিথ্যা বিচার করতে শেখায়। তাই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি জ্ঞানমূলক বই পড়তে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং যুক্তি দিয়ে বিষয়কে বিচার করতে হবে। অন্ধভাবে কোনো কিছু গ্রহণ না করে সত্য অনুসন্ধানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।   মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি বিশ্বজ্ঞান অর্জনের জন্য অন্যান্য ভাষাও শেখা প্রয়োজন। ভাষা যত জানা যায়, জ্ঞানের তত বেশি দরজা খুলে যায়।   সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো সময় কখনো ফিরে আসে না। তাই অলসতা, অকারণ আড্ডা কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা, সৃজনশীলতা, শরীরচর্চা ও আত্মউন্নয়নে সময় দিতে হবে।   বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, তবে স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে হবে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা। ব্যর্থতা এলে হতাশ না হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করতে হবে। মনে রাখতে হবে—হোঁচট খাওয়া পরাজয় নয়; পড়ে গিয়ে আর না ওঠাই পরাজয়।   জ্ঞান ও অর্থের চেয়ে মানুষের চরিত্র অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সত্যবাদিতা, সততা, বিনয়, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।   লোভ, অহংকার ও হিংসা থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যের সাফল্যে ঈর্ষা না করে অনুপ্রেরণা নিতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ, মানুষ বড় হয় শুধু অর্থ-বিত্তে নয়, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে।   পিতা-মাতার ত্যাগ ও ভালোবাসার ঋণ অপরিসীম। তাঁদের সম্মান করা, যত্ন নেয়া এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো সন্তানের দায়িত্ব।   শিক্ষকরাও একজন শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের জ্ঞান, শাসন ও পরামর্শ জীবনের সঠিক পথ দেখাতে পারে। তাই পিতা-মাতা ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নবীনদের জীবনের অন্যতম নৈতিক শিক্ষা হওয়া উচিত।   কৈশোর ও তারুণ্যে বন্ধুত্বের প্রভাব গভীর। ভালো বন্ধু মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে; অসৎ সঙ্গ তাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে।   মাদক, নেশা ও অপরাধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের কাজে ব্যবহার করতে হবে; যেন প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করি।   নিজেকে জয় করাই মানুষের বড় বিজয়। রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কথা বলার আগে ভাবতে হবে এবং ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শিখতে হবে। নম্রতা ও আত্মসংযম মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়।   একই সঙ্গে মানবিক হতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের কষ্ট বোঝা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি।   দেশপ্রেম শুধু মুখের কথা নয়; এটি দায়িত্বশীল কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অন্যায়, অসততা ও দুর্নীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখে প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে পারে।   পরিবেশ রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব। বৃক্ষরোপণ, নদী-জলাশয় রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে নবীনদের এগিয়ে আসতে হবে।   আজকের নবীনরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের জ্ঞান, চরিত্র, শ্রম ও মানবিকতার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের সমাজ কেমন হবে। তাই হে নবীন, জাগো। জ্ঞানকে করো তোমার আলো, সততাকে করো শক্তি, শ্রমকে করো হাতিয়ার এবং মানবতাকে করো জীবনের আদর্শ। পিতা-মাতাকে সম্মান করো, শিক্ষককে শ্রদ্ধা করো, ভালো সঙ্গ গ্রহণ করো এবং নেশা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকো।   মনে রেখো—ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে পাওয়া যায় না, ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে হয়। আজকের ছোট্ট চারাই একদিন মহিরুহ হয়। তেমনি আজকের সচেতন নবীনই আগামী দিনের আলোকবর্তিকা।   হে নবীন, জাগো—নিজেকে গড়ো, সমাজকে গড়ো, দেশকে গড়ো।  

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
এআই যুগে ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীদের যেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর সঙ্গে মানবিক গুণাবলির সমন্বয় জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও জিজ্ঞাসার ক্ষমতা আয়ত্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির প্রতি ভীতি কাটিয়ে একে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শিখলেই কর্মজীবনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে এআই শুধু তথ্য বিশ্লেষণে দক্ষ, কিন্তু মানুষের মতো সহানুভূতি, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতায় এটি অক্ষম। যারা এআই-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে বরং মেধাবী শিক্ষানবিশ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে, তারাই ১০ গুণ দ্রুত কাজ সম্পাদন করে এগিয়ে থাকবে। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সূক্ষ্ম মানবিক গুণাবলি অর্জনে শিক্ষার্থীদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে টিকে থাকতে আজীবন শেখার মানসিকতা এবং নতুন দক্ষতা আয়ত্তের আগ্রহ রাখাই হবে সফল ক্যারিয়ারের মূল চাবিকাঠি।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ চার বছর এবং বিদেশি সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ ২৪০ দিন দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন ও দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের ওপর নজরদারি বাড়াতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের 'এফ' ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির 'জে' ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের 'আই' ভিসার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে মাত্র ৯০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের ওপর নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ায় এবং মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে অবস্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের পর অবস্থান করতে চাইলে এখন থেকে ট্রাভেল পারমিট নিয়ে নিজ দেশে ফিরে পুনরায় ভিসার আবেদন করতে হবে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0