Breaking news

মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড : সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে ওই দুই প্রবাসীর শিরশ্ছেদের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এর আগে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দেশটির আদালত এই দণ্ড কার্যকর করেছে বলে সেখানকার বাংলাদেশ মিশন মারফত জানা গেছে। এ ঘটনাকে তিনি ‘বড় শিক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বিষয়টির আনুষ্ঠানিক বিবরণ জানতে রিয়াদের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।   সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।  

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাতজন নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতও রয়েছেন।   সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।   এ ছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও একই দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই সাত আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক।   এর আগে গত ১৮ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সোমবার আদালত আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করে।  

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে গুম আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   খসড়া আইন অনুযায়ী, গুম করার অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার তদন্ত ও বিচারকাজ উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।   গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের অধিকার রক্ষায়ও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এই আইনে। ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যরা যেন তাঁর সম্পত্তি ব্যবহার করে ভরণপোষণ চালাতে পারেন এবং পাঁচ বছর পর গুম সনদ পাওয়ার মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে পারেন, সেই সুবিধাও খসড়ায় রাখা হয়েছে।   একই বৈঠকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। অন্যদিকে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’–এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যমান আইনের সংশোধনের ফলে এখন থেকে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি নিজেদের ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পাবেন।  

আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
সৌজন্যে : আনন্দবাজার পত্রিকা
শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর আবেদন ‘খতিয়ে দেখছে’ ভারত

ভারতীয় কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি সরকারকে এ-সংক্রান্ত প্রশ্ন করেছিল। সরকারের উত্তর সংবলিত 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কবিষয়ক রিপোর্ট'টি ৩০ জুলাই সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করা হয়। পরদিন তা 'ডিজিটাল সংসদ' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।   রিপোর্ট অনুযায়ী, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি কমিটি আমলে নিয়েছে এবং এ বিষয়ে নিয়মিত অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে। উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে।   কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, চরম দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার ভারতীয় সভ্যতাগত ও মানবিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করতে দেয়া হয়েছে।   ভারত সরকার কমিটিকে নিশ্চিত করেছে যে, শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ প্রদান করা হয়নি কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগও দেয়া হয়নি। এই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলায় কমিটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।   পরিশেষে, নিজস্ব মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে পরিস্থিতিটি পরিচালনা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারকে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।  

জুলাই ৩১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যায় আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা এবং মরদেহ গুমের দায়ে মো. রুবেল (সবজি বিক্রেতা) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ (৪) (খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরবর্তীতে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা আয়নী নিখোঁজ হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0