Breaking news

বাঘবিধবা

গরান বনের বিধবা

সুন্দরবনের মানুষগুলো জোয়ার-ভাটার হিসাব শুধু নদীর জন্য রাখে না। তাদের জীবনেরও জোয়ার আছে, ভাটা আছে। কখনো নদী মাছ দেয়, কখনো কাঁকড়া। কখনো গোলপাতা দিয়ে ঘর বাঁধা যায়, আবার কখনো সেই নদীই কারও স্বামী, কারও বাবা, কারও ছেলেকে গ্রাস করে নেয়। মৌসুমি এসব হিসাব ছোটবেলা থেকেই জানে। তবুও সে আজও নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ, নদীর ওপারে সুন্দরবন। আর এই সুন্দরবনের ভেতরেই একদিন তার সর্বস্ব হারিয়ে গিয়েছিল। মৌসুমির বয়স কত, সে নিজেও ঠিক জানে না। চল্লিশ পেরিয়েছে হয়তো। চেহারায় বয়সের চেয়ে বেশি ক্লান্তি। চোখের কোণে স্থায়ী হয়ে আছে বহু বছরের অনিদ্রা। চুলে পাক ধরেছে। পরনে সব সময় একটা পুরোনো লালপেড়ে সাদা শাড়ি। হাতে লাল-সাদা কাচের চুড়ি নেই। সিঁথিতে সিঁদুর নেই। গ্রামের মানুষ তাকে নাম ধরে খুব কমই ডাকে। সবাই বলে, ‘বাঘবিধবা’। মৌসুমি প্রথম প্রথম শব্দটা শুনলে চুপ করে থাকত। এখন আর কানে নেয় না। তবে একটা সময় ছিল, যখন শব্দটা তার বুকের ভেতর ছুরি হয়ে বিঁধত। সেদিন সকালে তার স্বামী জাহাঙ্গীর বলেছিল, “ফিরতে দেরি হইতে পারে।” মৌসুমি ভাত বেড়ে দিয়ে বলেছিল, “দেরি কইরো না। রাইতে জোয়ার বড় হইব।” জাহাঙ্গীর হেসে বলেছিল, “জোয়ার আমারে খাইব না। তোমার জইন্য কাঁকড়া ধইরা আইমু।” মৌসুমি তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “কথা কম কও। যাওয়ার সময় ভালো কথা কইয়া যাও।” জাহাঙ্গীর হেসে উঠেছিল, “ভালো কথা আবার কী? যে কথা দিয়া যায়, সে ফিরবই।” জাহাঙ্গীর তখন আর কিছু বলেনি। শুধু দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একবার পেছনে তাকিয়েছিল। সেই তাকানোটা আজও মৌসুমির মনে আছে। তারপর নৌকা চলে গিয়েছিল। জাহাঙ্গীর আর ফেরেনি। সুন্দরবনে মধু আনতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে তার মৃত্যু হয়েছিল। সঙ্গে থাকা লোকগুলো ফিরে এসেছিল। তারা শুধু বলেছিল, “বাঘে টান দিয়া নিয়া গেছে।” কেউ পুরো ঘটনা বলতে পারেনি। কেউ বলতে পারেনি, জাহাঙ্গীর শেষ মুহূর্তে কী বলেছিল। কেউ বলতে পারেনি, সে ভয় পেয়েছিল কি না। শুধু তার একটা রক্তমাখা গামছা আর ভাঙা মধুর পাত্র ফিরে এসেছিল। তার পর থেকেই মৌসুমি ‘বাঘবিধবা’। স্বামী মারা যাওয়ার পর গ্রামের মাতব্বর তাকে বলেছিল, “এখন থেকে সাবধানে চলবা। একা মাইয়া মানুষ।” মৌসুমি তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। তার একটাই প্রশ্ন ছিল, “আমার পোলা-মাইয়ারে কে খাওয়াইব?” কেউ উত্তর দেয়নি। তার ছেলে জাফরের বয়স তখন দশ। মেয়ে মিতুর সাত। সংসার থেমে যায়নি। ভাত রান্না করতে হয়েছে। স্কুলের খাতা কিনতে হয়েছে। অসুখ হলে ওষুধ আনতে হয়েছে। বর্ষায় ঘরের চাল ফুটো হলে সেটাও ঠিক করতে হয়েছে। মৌসুমি প্রথমে অন্যের বাড়িতে কাজ নিল। তারপর নদীর ধারে কাঁকড়া বাছাইয়ের কাজ। কখনো শুঁটকি শুকিয়েছে। কখনো জাল সেলাই করেছে। অনেক রাতে কাজ শেষে ঘরে ফিরলে জাফর মায়ের পাশে বসে থাকত। একদিন সে মাকে বলেছিল, “আম্মা, তুমি সুন্দরবনে আর যাইও না।” মৌসুমি হেসে বলেছিল, “আমি সুন্দরবনে যাই না রে। সুন্দরবনই আমার ঘরে আসে।” ছেলেটা কথাটার মানে বুঝতে পারেনি। বছর কয়েক পর জাফর শহরে চলে গেল। গার্মেন্টসে কাজ পেল। মাস শেষে টাকা পাঠাত। মিতুর বিয়ে হয়ে গেল পাশের গ্রামে। মৌসুমি একা হয়ে গেল। তবু সে প্রতি সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে এসে বসত। জোয়ারের পানি বাড়তে দেখত। দূরে গাছগুলোর কালো ছায়া দেখত। কখনো কোনো নৌকা ফিরতে দেখলে বুকের ভেতর অকারণে ধক করে উঠত। তারপর নিজেই মনে মনে বলত, “এই বয়সে আর কার জন্যে অপেক্ষা করিস, মৌসুমি?” একদিন সেখানে তার সঙ্গে দেখা হলো রিদমের। রিদম শহর থেকে এসেছিল সুন্দরবনের মানুষের জীবন নিয়ে ছবি তুলতে। হাতে ক্যামেরা। গলায় ব্যাগ। চোখে কৌতূহল। সে মৌসুমিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি এখানে থাকেন?” মৌসুমি বলল, “হ।” “আপনার নাম?” “মৌসুমি।” “আপনার স্বামী?” মৌসুমি নদীর দিকে তাকাল, “নাই।” রিদম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর আস্তে বলল, “কীভাবে?” মৌসুমি এবার তার দিকে তাকাল, “বাঘে নিয়া গেছে।”   রিদম ক্যামেরাটা নামিয়ে ফেলল। “আপনি কি বাঘকে ভয় পান?” মৌসুমি একটু হাসল, “বাঘ রে না “ “তাহলে?” “মানুষরে।” রিদম অবাক হলো। মৌসুমি নদীর দিকে তাকিয়ে বলল, “বাঘ একবারে মারে আর মাইনষে ধীরে ধীরে মারে।” রিদম কথাটার উত্তর খুঁজে পেল না। মৌসুমি বলল, “বাঘ আমার স্বামী রে নিয়া গেছে। কিন্তু তার পরে যে জীবনটা আমারে টানতে হইছে, ওইটা কি কম বাঘ?” সেদিন রিদম আর কোনো ছবি তুলল না। পরদিন আবার এল। তার পরও এল। মৌসুমি তাকে সুন্দরবনের গল্প বলতে শুরু করল। কোন গাছের নিচে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়। কোন খালে জোয়ার দ্রুত ওঠে। কোথায় কাঁকড়া বেশি। কোন মৌয়াল কখন বনে ঢোকে। একদিন রিদম জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি চান আপনার ছেলে এই কাজ করুক?” মৌসুমি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল, “না।”, “কেন?”, “আমি স্বামী হারাইছি। ছেলে রে হারাইতে চাই না।” কিছুক্ষণ পর বলল, “কিন্তু সবাই তো আমার মতো ভাগ্যবান না। পেটের দায়ে মানুষ বনে যায়।” “আপনি কি মনে করেন তাদের জন্য কিছু করা দরকার?” মৌসুমি এবার নদীর দিকে না তাকিয়ে সরাসরি রিদমের দিকে তাকাল। “দরকার না?” তার গলায় রাগ ছিল। “বাঘের হাত থেইকা বাঁচার জন্য মানুষকে বন্দুক দিলে হইব না। পেটের ক্ষুধার হাত থেইকাও তো বাঁচাইতে হইব।” রিদম কথাটা লিখে নিল। কয়েক মাস পর সে আবার গ্রামে ফিরে এল। সঙ্গে কিছু মানুষ। তারা গ্রামের কয়েকজন বিধবা নারীকে নিয়ে একটা ছোট সমিতি করল। কাঁকড়া পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত করা, শুকনো মাছ তৈরি, মধু প্রক্রিয়াজাত করা এমন কাজ শুরু হলো। মৌসুমি প্রথম দিন কাজ করতে এসে বলেছিল, “এইগুলা কি আসলেই চলব?” রিদম বলেছিল, “চেষ্টা করলে চলবে।” মৌসুমি হেসেছিল, “চেষ্টা তো আমি বহু বছর ধরেই করি।” তারপর একদিন সমিতির ঘরের সামনে একটা কাঠের সাইনবোর্ড লাগানো হলো। লেখা ‘আরণ্যক’। মৌসুমি অনেকক্ষণ বোর্ডটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “নামটা ভালো।” সেদিন সন্ধ্যায় মৌসুমি আবার নদীর ঘাটে গেল। সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছে। পানির ওপর লাল আলো পড়েছে। দূরে সুন্দরবন অন্ধকার হয়ে আসছে। মৌসুমি শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নিল। তারপর খুব আস্তে বলল, “জাহাঙ্গীর, তুই কই আছিস জানি না। কিন্তু তোরে হারাইয়া আমি শেষ হই নাই।”   নদী কোনো উত্তর দিল না। শুধু ভাটার পানি ধীরে ধীরে সরে যেতে লাগল। মৌসুমি উঠে দাঁড়াল। তারপর বাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে দেখল, রাস্তার পাশে কয়েকজন নারী বসে জাল গুছাচ্ছে। তাদের মধ্যে আরেকজনের স্বামীও বাঘের আক্রমণে মারা গেছে। আরেকজনের বাবা ফেরেনি বন থেকে। তারা সবাই এখন একসঙ্গে কাজ করে। মৌসুমি থামল। বলল, “কাল সকালে তাড়াতাড়ি আইসো। নতুন অর্ডার আসছে।” একজন নারী হেসে বলল, “আপা, আপনি না থাকলে আমরা পারতাম?” মৌসুমি একটু চুপ করে থেকে বলল, “আমি একা কিছুই পারতাম না। আমরা একসঙ্গে পারছি।” সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে মৌসুমি বহু বছর পর তার পুরোনো কাঠের বাক্সটা খুলল। ভেতরে জাহাঙ্গীরের সেই পুরোনো গামছাটা এখনো রাখা। আর একটা ছোট মধুর পাত্র। মৌসুমি পাত্রটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল মধুর পাত্রটার নিচে। সেখানে শুকিয়ে শক্ত হয়ে লেগে থাকা মাটির মধ্যে একটা ছোট কাগজের টুকরো আটকে আছে। মৌসুমির বুক কেঁপে উঠল। এত বছর ধরে সে পাত্রটা খুলেছে, ধুয়েছে, আবার রেখে দিয়েছে। কাগজটা কখনো দেখেনি। কাঁপা হাতে সে কাগজটা বের করল। কাগজে মাত্র কয়েকটি শব্দ। ‘মৌসুমি, যদি ফিরতে না পারি, জাফররে শহরে পাঠাইও। ও যেন আমার মতো বনে না আসে।’ মৌসুমি স্থির হয়ে বসে রইল। এত বছর ধরে সে ভেবেছিল, জাহাঙ্গীর শুধু সংসারের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিল। আজ প্রথমবার বুঝল, যাওয়ার আগের রাতেও জাহাঙ্গীর তার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছিল। তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু এবার সেই কান্নায় শুধু স্বামী হারানোর শোক ছিল না। ছিল এক অদ্ভুত শান্তি। সে কাগজটা ভাঁজ করে বুকের কাছে রাখল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “তুই কথা রাখছিস জাহাঙ্গীর। জাফর আর বনে যায় নাই।”  

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
বাঘবিধবা, সুন্দরবনের নীরব এক মানবিক সংকট

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে যতটা পরিচিত, ঠিক ততটাই এ বন মানুষ ও বন্য প্রাণীর দ্বন্দ্বের এক জীবন্ত মঞ্চ, যেখানে বাঘের আক্রমণে বহু বনজীবী পুরুষ প্রাণ হারান এবং সেই মৃত্যুর পর যে নারীরা টিকে থাকেন, তাঁদের সমাজ ডাকে ‘বাঘবিধবা’ নামে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরার মতো ইউনিয়নগুলোতে এই নারীদের সংখ্যা কম নয়, অথচ তাঁদের দুর্দশা দীর্ঘদিন জাতীয় গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী আলোচনার বাইরেই থেকে গেছে।   সম্প্রতি নেচার গ্রুপের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা এ বিষয়টিকে একাডেমিক পরিসরে নতুন করে সামনে এনেছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা অঞ্চলে পরিচালিত এই গবেষণায় বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের ওপর যে কুসংস্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক যন্ত্রণা চেপে বসে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, পাশাপাশি তাঁরা কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন তারও অনুসন্ধান করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঘবিধবাদের জীবিকা-সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর সামাজিক সাংস্কৃতিক কলঙ্কায়ন, যা তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।   এই কলঙ্কায়নের শেকড় প্রোথিত এক পুরোনো লোকবিশ্বাসে। খুলনা, শ্যামনগর, মোংলা ও বাগেরহাটজুড়ে যে অসংখ্য নারী এই সামাজিক অভিশাপের মধ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা মূলত অলিখিতই থেকে গেছে বলে জানিয়েছে বাঘবিধবাদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা লেডার্স বাংলাদেশ। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বাঘের আক্রমণকে অনেক সময় অতীত পাপের জন্য প্রাপ্ত ঐশ্বরিক শাস্তি হিসেবে দেখা হয়, এবং বিধবা নারীদের প্রায়ই দোষারোপ করা হয় বনদেবীকে যথাযথভাবে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য, অথবা নিজের ও পরিবারের ওপর দুর্ভাগ্য ডেকে আনার জন্য। এই বিশ্বাসের ফল হিসেবে একজন নারীর শোকের সময়টুকুও কেড়ে নেয়া হয়, তাঁর জীবনযাপনের ক্ষুদ্রতম আচরণও সন্দেহের চোখে দেখা হয়।   এ সংকট কেবল সামাজিক অপবাদেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মানসিক প্রভাবও গভীর। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঘবিধবারা প্রায়শই মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার ও পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গে ভোগেন। শোক, সামাজিক বয়কট আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই ত্রিমুখী চাপ মিলে তৈরি করে এক দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণার চক্র, যা প্রায়ই বৃহত্তর সমাজের নজর এড়িয়ে যায়।   এশিয়ান জার্নাল অব উইমেন্স স্টাডিজে প্রকাশিত বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চল নিয়ে পরিচালিত আরেকটি গবেষণা এই নারীদের দুর্দশার সামাজিক কাঠামো স্পষ্ট করেছে। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এই নারীদের সমাজ অভিশপ্ত ও দুর্ভাগ্যবাহী হিসেবে দাগিয়ে দেয়, ফলে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় বসবাসরত এই বিধবাদের জীবন দুর্ভোগ ও কষ্টে পূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষত তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতার ক্ষেত্রে। তবে এই একই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেছে, তা হলো প্রতিরোধ ক্ষমতা। গবেষণার ফলাফল দেখায় কীভাবে এই বিধবারা পিতৃতান্ত্রিক বাধা মোকাবেলা করে নিজেদের জীবনকে চরম দুর্দশা থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে রূপান্তরিত করার সক্ষমতা অর্জন করেছেন, পাশাপাশি অন্য নারীদেরও স্বনির্ভর হতে প্রভাবিত করছেন। এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে, সংঘবদ্ধতা ও সহায়তা কাঠামো পেলে এই নারীরা নিজেরাই নিজেদের মুক্তির পথ তৈরি করতে সক্ষম।   তবু প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকরা এই সংকটকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। সুন্দরবনজুড়ে হাজার হাজার নারী বাঘের আক্রমণে বিধবা হয়েছেন, অথচ দশকের পর দশক ধরে তারা একাই বহন করে চলেছেন সামাজিক কলঙ্ক, দারিদ্র্য ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার বোঝা, যেখানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের লুকায়িত মানবিক মূল্য তাঁদেরকেই চোকাতে হচ্ছে। এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর একটি বড় শূন্যতা, বাঘ সংরক্ষণের প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বাঘের কারণে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষদের পুনর্বাসনে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেই।   এই বাস্তবতা বদলাতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সমস্যাটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাঘবিধবাদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি হওয়া জরুরি, কারণ সঠিক সংখ্যা না জানলে সঠিক নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, কুসংস্কার ভাঙতে দরকার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম, যেখানে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এই পুনর্বাসন কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে, কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে ট্রমা সারে না। আর সবশেষে, লেডার্স বাংলাদেশের মতো স্থানীয় সংগঠনগুলোর যে সমবায়ভিত্তিক জীবিকায়ন মডেল ইতোমধ্যে কার্যকারিতা দেখিয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত করা প্রয়োজন।   সুন্দরবন বাঁচিয়ে রাখা যতটা জরুরি একটি জাতীয় দায়িত্ব, ততটাই জরুরি সেই বনকে ঘিরে বেঁচে থাকা মানুষদের, বিশেষত সবচেয়ে প্রান্তিক এই নারীদের, মানবিক মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা। বাঘবিধবা কোনো অভিশপ্ত পরিচয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নীতির একটি অসম্পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি, যা মোছার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।   মো. মামুন হাসান ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0