রিমা বিছানা ছেড়ে আড়মোড়া দিয়ে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, বিকেল চারটে বেজে গেছে। জানালার কাছে গিয়ে দেখল, আকাশটা একদম পরিষ্কার। আনমনে রিমা বলল, যাহ, একটুও বৃষ্টি নেই! রিমা ঝটপট সাজগোজ করে বাসার নিচে এল। একটা রিকশা ডেকে তাতে উঠেই বলল, “এই মামা, বৃক্ষমেলায় চলো।” বরাবরই তার বৃক্ষমেলায় ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। বৃক্ষমেলার কাছেই তার বাসা। রিমা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার এক পরিচিত আত্মীয়র বাসায় ভাড়া থাকে। রিমার গাছ কিনতে খুব ভালো লাগে। সে বিভিন্ন ফুল-ফুলের গাছ গাছ কিনে তার বাড়িতে পাঠায়। এ জন্য তার বাবা খুব খুশি হন। এবারও অনেক চারা কিনল সে। নিজে নিজে কিছু সেলফিও তুলছিল। হঠাৎ পেছনে দেখে রোহান দাঁড়িয়ে আছে। সেলফিতে একসঙ্গে ক্যামেরায় বন্দী হলো দুজনই। রিমা শুধু পেছনে একবার রোহানের দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে হেঁটে চলল। রোহান রিমার হাতটা টেনে ধরে বলল- কী ব্যাপার, কিছু না বলে চলে যাচ্ছ যে! এখনো রেগে আছ? আমি সরি বলছি তো! অভিমানে রিমা আরও দ্রুত হেঁটে যেতে লাগল। রোহান তখন বলল- প্লিজ রিমা, কী এমন বলেছিলাম সেদিন, তাতে এত রাগ! দুই থেকে তিন মাস তুমি আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখছ না। এসো রিমা, আমরা দুজন একটা চা-স্টলে বসে কিছু খাই আর কথা বলি। কী কথা বলবে? সেই কথা যে আমি রাত জাগি, রাত জেগে কত গল্প করি!এগুলো বলবে তো? দরকার নেই, তুমি তোমার মতো থাকো, আমি আমার মতো। সামান্য এ কথাতেই তুমি ভুল বুঝেছ? আমি শুধু তোমার বান্ধবী রিতুকে বলেছি যে ঋতু, রিমা যেন রাত না জাগে। ওর শরীর খারাপ করবে, এইটুকু শুধু বলেছি। আচ্ছা ঠিক আছে, আমি এখন বাসায় ফিরব। আমি অনেক গাছ কিনেছি, ওগুলো নিয়ে ভালো করে রাখতে হবে। পরে কথা হবে। না, আর একটু বসো। তোমার সাথে আমার কথা আছে। তুমি কি জানো আমার চাকরি হয়েছে আর চাকরির জন্য ট্রেনিংয়ে আমি জাপানে যাচ্ছি? রিমা একটু মিষ্টি হেসে বলল- যাক একটা সুখবর শুনতে পেলাম। তা আমাদের মিষ্টি খাওয়াচ্ছ কবে? আর হ্যাঁ, আমি ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছি। খুব ভালো হলো, তাহলে বাড়িতে আমাদের দেখা হচ্ছে কিন্তু। রোহান এবার জিজ্ঞেস করল- চলো না একসাথে যাই? দেখতে দেখতে কয়কটা দিন চলে গেল এবং বাড়ির দিকে রওনা হলো রিমা ও রোহান। দুজনের বাড়িই পাবনায়। শহর থেকে একটু দূরে পাশাপাশি গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের নাম সুবর্ণপুর। বাড়ি পৌঁছানোর দুদিন পর রোহান ফোন দিল রিমাকে- রিমা, আমার মা-বাবা তোমাদের বাড়িতে বেড়াতে যাবে। তাই নাকি? তাঁরা আসবেন খুব ভালো কথা, তুমি আসবে না? আমি আসব এক দিন পরে। রিমা তার মা-বাবার কাছে গিয়ে বলল- মা, আমার বন্ধু রোহানের কথা তোমাকে বলেছিলাম একদিন। তার মা-বাবা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসবেন। অনেক দিন ধরে বলছিল আসবে, তো বিশেষ করে তোমার হাতের বাগান দেখতে। রিমার মা-বাবা বললেন- খুব ভালো কথা আসুক, পরিচিত হওয়া যাবে। যথাসময়ে রোহানের মা-বাবা এলেন। রোহান একটু মিথ্যে বলেছিল সে আসবে না, কিন্তু সেও এসেছে। রিমা একটু গাল ফুলিয়ে ছিল। রিমার ভাবি মনি বলল- চলো তোমরা আমাদের ঘরে বসবে, গল্প করবে কেমন? আমি চা করে নিয়ে আসি। এদিকে রোহানের মা-বাবা রিমাদের বিভিন্ন ফল-ফুলের বাগান, পুকুর এগুলো দেখে তো ভীষণ খুশি। তাঁরা সবাই ড্রয়িং রুমে এসে বসলেন। বিকেলে চা খেতে খেতে কথা শুরু হলো। প্রথমে রোহানের বাবা বললেন- আপনাদের মেয়েকে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। আমাদের ছেলেকে যদি আপনাদের ভালো লাগে, তাহলে আমরা আত্মীয়তা করতে ইচ্ছুক। একটু শুনেছিলাম যে ওরা দুজন দুজনকে পছন্দ করে। রিমার মা বললেন- হ্যাঁ, রিমা আমাকে বলেছিল রোহানকে তার পছন্দ। আপনারা যখন আমাদের বাড়িতে এসেছেন, আপনাদের ভালো লেগেছে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। রিমার বাবা বললেন- হ্যাঁ, আমারও কোনো আপত্তি নেই। রিমার ভাবি দৌড়ে এসে হাসতে হাসতে রিমাকে বলল- হা করো রিমা, হা করো। রিমা সত্যি সত্যি হা করল। ভাবি বড় একটা রসগোল্লা রিমার মুখে দিয়ে বলল- হয়ে গেছে। কী হয়ে গেছে? আশ্চর্য আমি তো কিছুই বুঝলাম না! তারপর ভাবি রোহানকেও মিষ্টি খাইয়ে দিল। রোহান হাসতে হাসতে বলল - ভাবি, আমি বোধহয় এবার মার খাবো, আমি পালাই। বলেই সে রিমাদের ছাদে দৌড়ে চলে গেল। রিমা পিছু পিছু দৌড়ে গিয়ে রোহানকে ডাকতে ডাকতে ছাদে চলে গেল। এরপর বলল- রোহান, তুমি কি জানো কী হয়েছে? রোহান বলল- ঢাকা থেকে পৌঁছে রাতে একসঙ্গে খেতে বসে মা-বাবা যখন জানল আমার চাকরি হয়েছে এবং খুব ভালো চাকরি, তখন মা বলল, চাকরি যখন পেয়েছিস, তাহলে এবার একটা বউ নিয়ে আয়। আমি তখন বললাম, তাই? এখন একটা বউ লাগবে? ঠিক আছে বউ ঠিক করা আছে। তোমরা গিয়ে দেখে আসো। এখনই বিয়ে? আমার পড়াশোনাই তো শেষ হলো না এখনো। না না রোহান, এটা তুমি ঠিক করোনি। না না আর দেরি নয়, তুমি পড়াশোনা করো। মা-বাবার ইচ্ছে আমরা পূরণ করি। রোহান একটু দুষ্টুমি করে বলল- কী পাত্রী মশাই, পাত্র কি পছন্দ হয়েছে? রিমা ‘হ্যাঁ’ বলে দৌড়ে নিচে নিজের ঘরে চলে এল। একসঙ্গে সবাই বসে বিয়ের দিন-তারিখও সব ঠিক করলেন। রিমার বাবা রোহানের বাবাকে উদ্দেশ করে বললেন- আমরা তো এখন বিয়ান-বিয়াই হয়ে গেলাম। রিমার বাবা বললেন- আমি একটা কথা বলি বিয়াই সাহেব, যৌতুকের কিছু থাকলে বলেন। ছি ছি বিয়াই সাহেব, কী বলছেন এসব? আমার কোনো যৌতুক লাগবে না। যৌতুকের কথা বলে লজ্জা দেবেন না। না না, লজ্জা দেয়ার কিছু নয়। খোলাখুলি কথা বলাই ভালো আমি যদি খুশি হয়ে কিছু দিই, সেটাকে আপনি যৌতুক ভেবে নেবেন না। এটাই আমার অনুরোধ। তাহলে আপনি কি আমাকে যৌতুক দিতে চাচ্ছেন? না না, যৌতুক দেয়া বা নেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপর একদিন অনেক ধুমধাম করে রোহান আর রিমার বিয়ে হয়ে গেল। এবার মেয়েকে বিদায়ের পালা। স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় বিদায় বেলায় খুশি ও আনন্দময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রিমার মা-বাবা। মেয়ে যেন সুখী হয় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে, তাঁদের যেন সুখী করতে পারে, এটাই মা-বাবার একমাত্র চাওয়া। বিয়ের শেষ লগ্নে এসে রোহানের বাবা দেখেন, বড় বড় কয়েকটি কার্টন একটা পিকআপে সাজিয়ে দেয়া হচ্ছে। রোহানের বাবা কাছে গিয়ে বললেন- বিয়াই সাহেব, এসব কী হচ্ছে? এত বড় বড় কার্টনে কী দিচ্ছেন? আমি আগেই বলেছি যে কোনো যৌতুক নেব না। রিমার বাবা বললেন- প্লিজ, আমার এই উপহারের জন্য আপনারা রাগ করবেন না। আপনাদের এটা রাখতেই হবে। এসব তেমন কিছু না। রোহানের বাবা নাছোড়বান্দা। তিনি বললেন- না আমাকে দেখাতেই হবে সেগুলোতে কী আছে! এমনকি কোনোভাবেই রোহানের বাবা কার্টনগুলো নিয়ে যেতে রাজি হলেন না। ঠাই দাঁড়িয়ে থাকলেন। পরে সবার সামনেই রিমার মা-বাবা কার্টনগুলো খুলে দেখালেন। কার্টনের ভেতরটা দেখে বরপক্ষের সবাই অবাক না হয়ে পারলেন না।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।