দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান জরুরি। কিন্তু একটি দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কতটা সফল, তা শুধু কতজন গ্রেপ্তার হলেন, কতটি মামলা হলো কিংবা কত টাকার সম্পদ জব্দ করা গেল, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে দুর্নীতির সুযোগ কতটা কমেছে, সরকারি অর্থের ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ হয়েছে এবং ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ কতটা সমান হয়েছে, তার ওপর। দুর্নীতির অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা ব্যবস্থার পরিবর্তন দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রথমটি অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে; দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতে অনিয়মের সুযোগ কমায়। তাই কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের জন্য অপরাধের তদন্ত ও শাস্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা জরুরি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার কিংবা নতুন সংস্কার উদ্যোগের পরও নাগরিকেরা যদি সরকারি সেবা পেতে ঘুষ ও হয়রানির মুখোমুখি হন, তাহলে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সমস্যাটি শুধু ব্যক্তির অসততায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বচ্ছতা, অভিযোগ নিষ্পত্তির দুর্বলতা এবং অনিয়মের প্রতিকার নিশ্চিত করতে না পারাও এর সঙ্গে যুক্ত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০২৫ সালের জাতীয় খানা জরিপের ফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৫ জুন। জরিপ অনুযায়ী, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। ঘুষ দিতে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারকে। জরিপে ২০২৩ সালের তুলনায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতা এবং ঘুষের শিকার পরিবারের অনুপাত যথাক্রমে ১৫ দশমিক ১ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। জরিপে ২০২৫ সালে ঘুষের মোট আনুমানিক পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি জরিপের আওতাভুক্ত সেবাখাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা জাতীয় হিসাব, দেশের সব ধরনের দুর্নীতির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাপ নয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার সরকারি অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা সম্পর্কে জানে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রতিকার পাওয়ার পথ সম্পর্কেও নাগরিকদের বড় অংশের ধারণা সীমিত। এই বাস্তবতা দেখায়, শুধু আইন প্রণয়ন বা অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। নাগরিককে এমন একটি ব্যবস্থা দিতে হবে, যেখানে ঘুষ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব, অভিযোগ জানানো নিরাপদ এবং অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়। সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্প দুর্নীতি প্রতিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব, পক্ষপাতমূলক শর্ত, স্বার্থের সংঘাত এবং কাজের মান যাচাইয়ে দুর্বলতা সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব সমস্যা মোকাবেলায় শুধু অনিয়মের পর তদন্তের ওপর নির্ভর না করে ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সরকারি ক্রয়বিধি, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক ব্যবহার, চুক্তির প্রকৃত সুবিধাভোগীর পরিচয় প্রকাশ এবং প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিধিমালা কার্যকর হওয়া আর তার সুফল বাস্তবে পাওয়া এক বিষয় নয়। দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ছে কি না, চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে কি না এবং প্রকল্প নির্ধারিত ব্যয় ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত প্রতিকার ও দায় নির্ধারণও নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা নির্ভর করে শুধু আইনগত ক্ষমতার ওপর নয়, সেই ক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগের সক্ষমতার ওপরও। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার নৈকট্য যেন তদন্তকে প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই আইনি মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হবে।একই সঙ্গে কমিশনের স্বাধীনতার অর্থ জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। তদন্ত হতে হবে প্রমাণনির্ভর, মামলা হতে হবে আইনসম্মত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য বিচারের অধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি এই ধারাবাহিকতাই দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণ দাখিলের ব্যবস্থাও দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বিবরণ জমা নেয়া যথেষ্ট নয়। ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য যাচাই, স্বার্থের সংঘাত শনাক্ত এবং অসংগতি পাওয়া গেলে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। একইভাবে, সরকারি নিরীক্ষায় অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পর সুপারিশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তারও হিসাব রাখা জরুরি। নিরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি না থাকলে নিরীক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। ২০২৫ সালের ২০ জুন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি উন্নত করার লক্ষ্যে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করে। এর আওতায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নিরীক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে অর্থায়ন অনুমোদনকে সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং নাগরিকের কাছে সুফল পৌঁছানোর ভিত্তিতেই এর সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারে চারটি অগ্রাধিকার বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রথমত, সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, চুক্তি এবং অগ্রগতির তথ্য জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণ ও স্বার্থের সংঘাত যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গড়তে হবে। তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহির কাঠামো দিতে হবে। চতুর্থত, নাগরিকের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ সুযোগ, অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা এবং প্রতিকার না পেলে পুনর্বিবেচনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য নিয়মিত কিছু সূচকও প্রকাশ করা দরকার। যেমন কতটি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের কত অংশের প্রতিকার হয়েছে, সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা কতটা বেড়েছে এবং সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের অভিজ্ঞতা কমছে কি না। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের পক্ষে সংস্কারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা সহজ হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ়তা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই দৃঢ়তার স্থায়িত্ব নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর তার ওপর। ব্যক্তি ও সরকার পরিবর্তিত হতে পারে; কিন্তু নিয়ম, তদারকি ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল থাকলে একই অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু কতজন শাস্তি পেলেন, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দেখতে হবে, সরকারি অর্থের অপচয় কমেছে কি না, অভিযোগের প্রতিকার কার্যকর হয়েছে কি না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে কি না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে; আর দুর্নীতির ব্যবস্থা বদলে দেয় সেই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর পথ। বাংলাদেশের জন্য এখন প্রয়োজন অভিযানের পাশাপাশি এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে অনিয়ম গোপন রাখা কঠিন, জবাবদিহি এড়ানো অসম্ভব এবং আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান।
করোনা মহামারিকালে চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় ১২ কোটি ৩ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘ইআরপিপি’ প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন প্রকল্পের পিডি ডা. মো. ইকবাল কবির, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছয়জন স্বত্বাধিকারী। আসামিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, থার্মোমিটার ও হাসপাতালের বিশেষায়িত বেড কেনার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে, যেখানে মাস্ক ও সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক টিভিসি প্রচার না করেই বিল পরিশোধ এবং ‘করোনাবিড মোবাইল অ্যাপ’ ও কেন্দ্রীয় ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির নামে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। পৃথক ছয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আর্থিক দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মামলার অনুমোদন প্রদান করে।
প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে (দুর্নীতি দমন কমিশন) আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে দুদকের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানান প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। সাক্ষাৎকালে দুদকের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উদ্যোগ ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কমিশনের ভূমিকা আরও জোরদার করতে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা চান তিনি। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন ও জবাবদিহির অভাবে দুর্নীতি এখন দেশের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থে দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিস্তার রুখে দেয়া এখন সময়ের দাবি। বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি গুরুতর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আশু পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে প্রচার জোরদারের পরামর্শ দিয়ে তিনি কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) দুজন কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। তাঁরা হলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীন এবং যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ৩১ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ জারি করেন। জানা গেছে, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি এবং পদের প্রভাব খাটিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বর্তমানে দুদকে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অন্যদিকে সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এ দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা বর্তমানে দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্ত চলাকালে তাঁরা কোনোভাবে বিদেশে পালিয়ে গেলে তাঁদের মাধ্যমে পাচারকৃত বা অবৈধ উপায়ে লব্ধ অর্থ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ গমন রহিতকরণে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি। হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশন সংক্রান্ত রায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে দুদকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণপূর্বক সোমবার আদালতে এই আবেদন পেশ করা হয়। পরে আবেদনের যাবতীয় রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে আদালত তা মঞ্জুর করে এবং অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। সোমবার সকালে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই অভিযানে বাড়ির মালামাল জব্দের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থাটির মুখপাত্র তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এসব অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর এবং রূপান্তর করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে সরকার পতনের পরপরই গত ৬ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ১৬ আগস্ট একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁকে দুদকের এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারেই অবস্থান করছেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।