ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন একটি দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। তরুণরাই আগামী বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক। একটি দেশ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কেবল তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সেই দেশের তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যৎকে কীভাবে চিন্তা ও পরিকল্পনা করছে তার ওপরও। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ সমাজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, হতাশা ও রাষ্ট্রচিন্তা তাই কেবল ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয় – এগুলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, বর্তমানে এবং আগামীতে তরুণরা কেমন বাংলাদেশ চায়? উত্তরটি খুব বেশি জটিল ও কঠিন নয়। বাংলাদেশের তরুণরা এমন এক বাংলাদেশ চায়, যেখানে নাগরিক হওয়ার অর্থ শুধু ভোট দেয়া কিংবা পরিচয় বহন করা নয়, নাগরিক হওয়ার অর্থ হবে মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগের নিশ্চয়তা পাওয়া। তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে থাকা উচিত ন্যায়বিচার। কারণ, একটি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় তখনই যখন মানুষ বিশ্বাস করে অন্যায় হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে তরুণরা এমন এক আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রত্যাশা করে, যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান। বিচার ও আইনের শাসন হবে স্বচ্ছ, কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব। কোনো ব্যক্তি তার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। কোনো সাধারণ নাগরিকও তার দুর্বল অবস্থানের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না। দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের মেরুদণ্ডকে বিকল করে ফেলে। দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রকে বিকল করার পাশাপাশি জনগণের আস্থাকেও বিকল করে। রাষ্ট্রের একজন তরুণ যখন দেখে যোগ্যতার চেয়ে অযোগ্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং নিয়মের চেয়ে অনিয়ম ও প্রভাব বেশি শক্তিশালী, তখন সেই তরুণের মাঝে রাষ্ট্র সম্পর্কে হতাশা তৈরি হয়। তাই তরুণদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি কাজ হতে হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। তরুণদের কাছে শিক্ষা শুধু একটি সনদ নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের হাতিয়ার। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে যদি কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ-সুবিধা তৈরি না হয়, তাহলে শিক্ষিত তরুণদের মাঝে হতাশা বাড়ে। আজকের বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষামুখী না রেখে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করা জরুরি। গবেষণা, ভাষা, যোগাযোগ, উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার ওপর গুরত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজারকে আরো বৈচিত্র্যময় করতে হবে। শিল্প, প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং নতুন ধরনের পেশা ও কর্মসংস্থানের বিকাশ ঘটাতে হবে। একজন তরুণের রাষ্ট্রচিন্তার আরেকটি গুরত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতকে গ্রহণ করার মানসিকতা। একজন ব্যক্তি যে মতের সঙ্গে একমত নয়, সেটি প্রকাশের অধিকার সেই ব্যক্তির রয়েছে – এই সাধারণ গণতান্ত্রিক বোধ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। মতের বিরোধিতা হতে পারে যুক্তি দিয়ে, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত না হয়। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে উঠছে। তাদের কাছে ইন্টারনেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই ডিজিটাল অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন ডিজিটাল নাগরিকত্বের সংস্কৃতি। তথ্য যাচাই না করে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিগত আক্রমণ, অনলাইন হয়রানি, কিংবা অপতৎপরতা বিস্তার সমাজের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তরুণরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ দেশের তরুণ সমাজ কতটা একতাবদ্ধ। একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। বরাবর সব সময়ের জন্য শহর ও গ্রামের সুযোগের পার্থক্য, ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য, নারী ও পুরুষের অসম সুযোগ কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বঞ্চনা এসব প্রশ্নও তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তার অংশ হওয়া প্রয়োজন তরুণদের। তরুণদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে শুধু জন্ম পরিচয় কোনো নাগরিকের সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করবে না। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়বে না। একজন যোগ্য তরুণ কেবল সুযোগের অভাবে প্রতিভা হারাবে না। আজকের তরুণদের রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবেশের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, বিভিন্ন ধরনের দূষণ, নগরায়ণের চাপ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। তাই উন্নয়ন বলতে শুধু সড়ক, সেতু বা ভবন নির্মাণকে বোঝালে চলবে না। উন্নয়ন হতে হবে টেকসই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের নিজেদেরও করতে হবে–তরুণরা রাষ্ট্রের কাছে যতটা প্রত্যাশা করে, রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব কতটা? একটি ভালো রাষ্ট্র কেবল সরকার তৈরি করে দিতে পারে না। ভালো ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র গড়তে তরুণদেরও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তরুণদের তাই নিজেদেরও প্রস্তুত করতে হবে। গুজবের পরিবর্তে তথ্য, ঘৃণার পরিবর্তে যুক্তি, সহিংসতার পরিবর্তে সংলাপ এবং সুবিধাবাদের পরিবর্তে নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও দুর্নীতিকে প্রত্যাখান করতে হবে। অধিকার দাবি করার পাশাপাশি অন্যের অধিকারকেও সম্মান করতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়তো সুযোগ। তরুণরা সুযোগ পেলে কী করতে পারে তার অসংখ্য উদাহরণ আমরা দেখতে পাই শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সেই সম্ভাবনাকে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগে রূপ দেওয়া। তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণদের কণ্ঠ শুধু জাগ্রত নয়, তাদের সক্ষমতাকেও কাজে লাগাতে হবে। তাই পরিশেষে বলতে চাই, বর্তমান তরুণ সমাজ রাষ্ট্রের বোঝা নয়। তারুণ্য একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে শিক্ষা, দক্ষতা, নৈতিকতা, স্বাধীন চিন্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ কেমন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু নীতিনির্ধারকদের হাতে নয়। আজকের তরুণদের চিন্তা, কাজ ও দায়িত্ববোধের মধ্যেই আগামী বাংলাদেশের একটি বড় অংশের উত্তর লুকিয়ে আছে।
আমরা কথায় কথায় বলি ‘যুবরাই শক্তি’, ‘যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার’। আবার এটাও বলে থাকি, ‘তারুণ্য মানেই শক্তি, তারুণ্য মানেই সম্ভাবনা’। একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল এবং ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরুণদের সৃজনশীলতা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মক্ষমতা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সমাজে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। এই দিবস তরুণদের ক্ষমতায়ন, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের একটি বিশাল অংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। এসব সমস্যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং যুবসমাজের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের সূচনা হয়। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রতিপাদ্যের আলোকে তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে যুবসমাজের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, ঝুঁকি নেয়ার সাহস এবং পরিবর্তন গ্রহণের মানসিকতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তরুণরা দেশের অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিকাশে তরুণদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায়ও তরুণদের সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি দক্ষ, শিক্ষিত ও কর্মমুখী হয়ে ওঠে, তাহলে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের তরুণরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা কার্যক্রম, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সামাজিক উদ্যোগ—সবখানেই তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। অনেক তরুণ চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। বেকারত্ব যুবসমাজের অন্যতম বড় সমস্যা। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও অনেক তরুণ উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না। শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে দক্ষতার ঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অনেক শিক্ষার্থী তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায় না। এ ছাড়া মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক বৈষম্য, অনলাইন আসক্তি, মানসিক চাপ ও হতাশাও অনেক তরুণের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভুল তথ্যের প্রভাবও তরুণদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই শুধু শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; তরুণদের নৈতিকতা, মানবিকতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের শিক্ষাও দিতে হবে। আমাদের সমাজে একটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘরে আসতে হতো, এ জন্য মা-বাবার শাসন ছিল, যাতে করে ছেলেরা অপরাধ কাজে জড়িত না হয়। আজ তথ্যপ্রযুক্তি ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় এখন আগের সেই দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের প্রতি খেয়াল হারিয়ে গেছে। যুবসমাজের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করে না; এটি তাকে চিন্তা করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমস্যার সমাধান করতে শেখায়। তাই তরুণদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তাদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলবে। বর্তমান সময়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের পরিবর্তে বাস্তব দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে তরুণদের জন্য সরকারসহ উন্নয়ন সংস্থাগুলো কাজ করছে। একজন তরুণ উদ্যোক্তা শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেন না; তিনি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশ বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবেলা, শিক্ষাসেবা ও জনসচেতনতা তৈরির মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে পারে। তাদের উদ্যম ও সংগঠিত শক্তি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। উন্নত ও মানবিক একটি সমাজ গঠনের জন্য তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলেও অন্যের মতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি তরুণদের জন্য যেমন বড় সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য এবং অনলাইন আসক্তি থেকে তরুণদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তিকে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও সৃজনশীল কাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তরুণদের শুধু ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখলে চলবে না, তাদের বর্তমানের অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। পরিবারকে তরুণদের স্বপ্ন ও মতামতকে সম্মান করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে এবং রাষ্ট্রকে নিরাপদ ও সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই, আন্তর্জাতিক যুব দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তরুণরা কোনো দেশের বোঝা নয়, বরং তারা একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার সুযোগ নিশ্চিত করা মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও নেতৃত্বের আসনে বসবে। তাই তাদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিতে হবে, স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দিতে হবে এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। তারুণ্যকে যদি সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা, দক্ষতা ও সুযোগ দিয়ে বিকশিত করা যায়, তাহলে তরুণরাই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ, মানবিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত একটি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক যুব দিবস তাই শুধু একটি দিবস নয়—এটি তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।