Breaking news

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে সাক্ষ্য দিতে না আসায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় নিয়মিত সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বারবার সমন পাঠানোর পরও তাঁরা উপস্থিত না হওয়ায় বহু মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত এসব সদস্যকে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে ১৮টি চিঠি পাঠিয়েছে।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের তালিকায় কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারকাজ আটকে আছে কেবল সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে নোয়াখালীতেও সম্প্রতি ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজিরের বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা বিশেষায়িত ইউনিটে বদলি হয়ে যাওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ। অনেক সময় পুরোনো কর্মস্থলে সমন পৌঁছানোর পর তা নতুন কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় এবং সময়মতো প্রশাসনিক ছাড়পত্রও মেলে না। ফলে বিচার কার্যক্রম মাসের পর মাস পিছিয়ে গিয়ে মামলার জট প্রকট আকার ধারণ করছে।   পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, বরং সাক্ষীদের আদালতে আনা নিশ্চিত করার একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। আইনি বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মতে, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচারকাজে গতি আনতে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপস্থিত সাক্ষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।  

অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
দশ বছর পর চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

প্রায় দশ বছর  অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। ২৭ জুলাই সকাল ১০টায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু হতে চলেছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধার দিক থেকে জোনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, এই বিশেষায়িত অঞ্চলে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদিত হলে চীনের ওপর আমদানিনির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন করে গতি এসেছে। ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পটির সহায়ক অবকাঠামো যেমন জেটি, চার লেনের সংযোগ সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নির্মাণে গত ১৬ জুন একনেক ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে চীন সরকার ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। ২০১৪ সালে প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে আলোর মুখ দেখা এ প্রকল্পের কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

জুলাই ২৬, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যায় আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা এবং মরদেহ গুমের দায়ে মো. রুবেল (সবজি বিক্রেতা) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ (৪) (খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরবর্তীতে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা আয়নী নিখোঁজ হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ: চট্টগ্রামে পিএফইসি গ্লোবালের ‘গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপো’ ৪ আগস্ট

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য চট্টগ্রামে ‘গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিএফইসি গ্লোবাল। আগামী ৪ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ দেবেন। এক্সপোতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া, বিষয় নির্বাচন, টিউশন ফি, বৃত্তির সুযোগ ও পড়াশোনা শেষে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ পাবেন। অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক ভর্তির আবেদন করলে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে পাওয়ার ব্যাংক, আইইএলটিএস ও পিটিই কোর্সে ৫০ শতাংশ ছাড় এবং ভিসা প্রাপ্তদের জন্য অ্যাকশন ক্যামেরাসহ বিশেষ উপহার। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা পিএফইসি গ্লোবালের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া জানতে পারবেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বন্যা-পরবর্তী রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ঢলু খালের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এ কথা জানান। তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্পূর্ণ পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। এবারের বন্যায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলমান এই সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার পরিবারকে চালসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0