বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এর ফলে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনাম যথারীতি শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি নিজেদের দখলে নিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা)-এর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক পাঠিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। একক বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা সামগ্রিকভাবেই পোশাকের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। বাজারটিতে শীর্ষ সরবরাহকারী ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। ২০২২ সালে যেখানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, ২০২৩ সালে তা বড় ধাক্কা খেয়ে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরবর্তী দুই বছর ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও চলতি বছরের পতন আবারও দেশের পোশাক খাতকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বর্তমান বিশ্ব-ভূরাজনীতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবস্থান অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে। মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, আজ তার শাসনদণ্ডে আসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। অথচ একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মূল নির্যাস থেকে এই পার্টির দূরত্ব আকাশচুম্বী। যে রাষ্ট্রকে একসময় বৈশ্বিক শোষিত মানুষের আলোকবর্তিকা মনে করা হতো, তা আজ আন্তর্জাতিক সর্বহারা আন্দোলন এবং বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে প্রায় সম্পূর্ণ নির্বিকার। মার্কসীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ এবং লেনিনীয় তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আধুনিক চীন আর কোনো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের এক নতুন রূপ, যা নিজের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে বিশ্ব পুঁজিবাদের পরিকাঠামোকেই টিকিয়ে রাখছে এবং শক্তিশালী করছে। মার্কসীয় তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন এবং উদ্বৃত্ত মূল্যের ওপর শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক মডেল, যাকে তারা ‘চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্র’ বলে দাবি করে, তা মূলত পুঁজিবাদেরই একটি পরিমার্জিত রূপ। ডেন জিয়াওপিংয়ের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর থেকে চীন বিশ্ববাজারের জন্য সস্তা শ্রমের কারখানায় পরিণত হয়েছে। বহুজাতিক পুঁজির অবাধ প্রবেশ এবং দেশীয় পুঁজিবাদের বিকাশের ফলে সেখানে উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাতের প্রক্রিয়াটি পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের মতোই নির্মম। একটি নামমাত্র কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে সেখানে কোটিপতির সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকরা তীব্র শোষণ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার থেকে বঞ্চিত। মার্কস ও এঙ্গেলসের ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর মূল বাণী ছিল বুর্জোয়া শ্রেণির উচ্ছেদ এবং সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা। অথচ আধুনিক চীনে বুর্জোয়া শ্রেণিকে পার্টির সদস্যপদ দিয়ে শাসনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে, যা লেনিনীয় পার্টি কাঠামোর সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। লেনিনের কালজয়ী গ্রন্থ ‘সাম্রাজ্যবাদ : পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর’-এর মানদণ্ডে চীনের বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূমিকা বিচার করা অপরিহার্য। লেনিন দেখিয়েছিলেন কীভাবে পুঁজির কেন্দ্রীভবন এবং একচেটিয়া পুঁজির বিকাশ দেশকে উদ্বৃত্ত পুঁজি রপ্তানির দিকে ঠেলে দেয়, যা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের জন্ম দেয়। চীনের বর্তমান ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) বা ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পটিকে এই লেনিনীয় তত্ত্বের আলোকেই বুঝতে হবে। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনুন্নত দেশগুলোতে চীন যে বিশাল অঙ্কের ঋণ ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ করছে, তার মূল উদ্দেশ্য বৈশ্বিক শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি বা সমাজতান্ত্রিক সংহতি নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো নিজের উদ্বৃত্ত পুঁজির বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি করা, কাঁচামালের উৎস নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার দখল করা। ঋণফাঁদের এই কূটনীতি মূলত নব্য-সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, যা শোষিত দেশগুলোর শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণিকে পুঁজির নতুন এক আন্তর্জাতিক জাঁতাকলে পিষ্ট করছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিজমের স্বার্থের প্রতি চীনের এই চরম উদাসীনতা ও নির্বিকার ভাব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি তাদের জাতীয়তাবাদী বুর্জোয়া নীতির যৌক্তিক পরিণতি। মার্কসবাদ স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করে যে, শ্রমিকের কোনো দেশ নেই এবং মুক্তি কেবল আন্তর্জাতিক বিপ্লবের মাধ্যমেই সম্ভব। লেনিনও তৃতীয় ইন্টারন্যাশনাল গঠনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সর্বহারা বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান চীনা নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে কোনো সমাজতান্ত্রিক বা প্রগতিশীল আন্দোলনকে সমর্থন করা তো দূরের কথা, বরং অনেক দেশে প্রতিক্রিয়াশীল ও নিপীড়ক পুঁজিপতি সরকারকে টিকিয়ে রাখতে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। যেখানেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে চীনের স্বার্থের সংঘাত ঘটছে, সেখানে চীন কোনো বিকল্প সমাজতান্ত্রিক আদর্শ তুলে ধরছে না, বরং অন্য একটি পুঁজিপতি শক্তি হিসেবে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এটি স্পষ্টতই আন্তর্জাতিকতাবাদের নীতিকে বিসর্জন দিয়ে সংকীর্ণ বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের চর্চা। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের চেয়ে চীনের কাছে আজ বড় হয়ে উঠেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং বৈশ্বিক পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা। চীন আজ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের প্রধান চালিকাশক্তি এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় পুঁজির প্রধান অংশীদার। ফলে বিশ্ব পুঁজিবাদের যেকোনো সংকট চীনের নিজস্ব অর্থনীতিকে নাড়া দেয়। এই আন্তঃনির্ভরশীলতার কারণে চীন কখনোই বিশ্ব পুঁজিবাদের পতন চায় না, বরং এই ব্যবস্থার সংস্কার করে সেখানে নিজের অংশীদারিত্ব ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। শোষিত মানুষের বৈপ্লবিক চেতনাকে জাগ্রত করার পরিবর্তে চীন তাদের শান্ত রাখার এবং বিশ্ব পুঁজিতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরেই মানিয়ে নেয়ার বার্তা দেয়। এটি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিপ্লবী সারবত্তাকে হরণ করে তাকে একটি নির্জীব, সংশোধনবাদী তত্ত্বে রূপান্তর করার শামিল। পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে চীন যে ক্ষমতার প্রদর্শন করছে, তা সর্বহারা শ্রেণির ক্ষমতা নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন পুঁজির ক্ষমতা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এখন সর্বহারা শ্রেণির অগ্রগামী দল নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্র ও উদীয়মান বুর্জোয়া শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ যখন মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও করপোরেট শোষণে জর্জরিত, তখন চীনের মতো একটি বিশাল শক্তির এই নির্বিকার ও সুবিধাবাদী ভূমিকা আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্য এক বড় ধাক্কা। মার্কসবাদী-লেনিনবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে এই সত্যকে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি যে, লাল পতাকার আড়ালে লুকানো এই রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ কোনোভাবেই বিশ্ব মুক্তিকামী মানুষের বন্ধু হতে পারে না। সত্যিকারের সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে বৈশ্বিক সর্বহারা শ্রেণিকে চীনের এই সংশোধনবাদী ও নব্য-সাম্রাজ্যবাদী রূপকে চিনে নিয়েই নতুন করে বিপ্লবের পথ অন্বেষণ করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিগগিরই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় হুমায়ুন কবির চীনকে বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক ‘ভবিষ্যৎ অভিন্ন লক্ষ্যের বাংলাদেশ–চীন কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ফলাফল তুলে ধরে জানান, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে, যা প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য চীনা সহযোগিতা নিয়েও তিনি প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি, বাংলাদেশ–চীন–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও স্থান পায়। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী দিনে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মন্ত্রীদের মতো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করবেন। আলোচনা শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে আগামী অক্টোবরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয়ের অভিযোগে ভারত, চীনসহ অন্তত পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ সুগম করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত ‘রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিল সম্প্রতি মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হয়েছে। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহাম বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। বিলে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেসব দেশ রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনে মস্কোকে যুদ্ধের তহবিল জোগাতে সহায়তা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শতভাগ রপ্তানি শুল্ক চাপাতে পারবে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে, যারা যুদ্ধের সময় সরাসরি রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সিনেটে বিলটির পক্ষে ৮৬ জন এবং বিপক্ষে ১১ জন সদস্য ভোট দেন। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনে এটি পাঠানো হবে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। বিলে রুশ তেলের ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, রুশ ধনকুবের ও তাঁদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বিলটিকে আগ্রাসনে সহায়তাকারীদের জন্য 'বড় এক ধাক্কা' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
চীনে নিজস্ব এআই সেবা চালুর লক্ষ্যে আলিবাবা ও বাইদুর প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এই ঘোষণার পরপরই হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে এখন থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সসহ সাতটি এআই সেবা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আলিবাবার ‘কিউয়েন এআই’ মডেল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা ছবি ও টেক্সট প্রক্রিয়াজাত করার উন্নত সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, বাইদু আইফোন ডিভাইসের জন্য অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ফিচার তৈরিতে কাজ করবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এই অংশীদারিত্ব অ্যাপলের জন্য চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর আইনি লড়াইয়ের উত্তাপের মধ্যেই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিল চীন। সোমবার সাংহাইতে আয়োজিত এক ইভেন্টে 'স্টেপফান' নামের একটি স্টার্টআপ তাদের নতুন ‘স্টেপএক্স নিও’ ফোনটি সবার সামনে নিয়ে এসেছে। নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘স্টেপ এওএস’ এবং ‘স্টেপ আমু’ এআই এজেন্টের সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। মাইক্রোসফটের প্রাক্তন কর্মীদের তৈরি এই এআই স্টার্টআপের দাবি, সাধারণ স্মার্টফোনের মতো এই ফোনে আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন নেই। ‘স্টেপ আমু’ নামের এআই এজেন্টটি ভয়েস বা সাধারণ টেক্সট কমান্ডের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণ ও অন্যান্য জটিল কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কাজ করতে সক্ষম এই এআই মডেলটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ভিত্তিতে তৈরি। বর্তমানে মার্কিন প্রযুক্তি বাজারে যখন অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর মতো কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক গোপনীয়তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন চীনের এই সাফল্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই স্মার্টফোনের দাম বা বাজারে আসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেপফান।
চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, উদীয়মান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদেরা আলোচনা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘের মহাসচিব বক্তব্য রাখেন। তারা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। এই আয়োজনে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট সুশাসন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের সদিচ্ছা বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।