ডিগ্রি নিয়ে চাকরির অপেক্ষায় থাকা তরুণদের জন্য এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট) নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। কিন্তু প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বড় কাজ হলো বাংলাদেশের শ্রমশক্তিকে এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার মতো করে প্রস্তুত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়। এটি ইতোমধ্যে ব্যাংকিং, সফটওয়্যার, বিপণন, গ্রাহকসেবা, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও ব্যবসার নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, এ প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য কী অর্থ বহন করছে? প্রশ্নটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এআই আসার আগেই দেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বা তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন মানুষের ১ দশমিক ২৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের বাংলাদেশবিষয়ক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামগ্রিক বেকারত্ব ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, কিন্তু তরুণদের বেকারত্ব ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শহুরে তরুণদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ছিল আরও ভয়াবহ, প্রায় ২৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিত নারীদের বেকারত্বের হার ছিল ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যেখানে উচ্চশিক্ষিত পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মডেলড হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ১৫–২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ৯ দশমিক ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন পেশায় কাজ করেন, যেখানে সৃষ্টিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো না কোনো মাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে চাকরির কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত আরেকটি আইএলও গবেষণায় আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাবের সূচককে সরাসরি চাকরি হারানোর পূর্বাভাস হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব সূচক মূলত দেখায় কোন কাজগুলো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাবে পড়তে পারে। বাস্তবে চাকরি হারানো নির্ভর করবে প্রযুক্তির খরচ, প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মীদের দক্ষতা ইত্যাদির ওপর। বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিটি সবচেয়ে বেশি হতে পারে প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতে। কারণ, একজন বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক কর্মজীবন শুরু করার সময় সাধারণত এমন কাজের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেন, যেখানে অভিজ্ঞতার চেয়ে নিয়মিত তথ্যভিত্তিক কাজের প্রয়োজন বেশি। যেমন : তথ্য এন্ট্রি, গ্রাহকসেবা, প্রাথমিক হিসাব, সাধারণ প্রতিবেদন তৈরি বা কনটেন্ট তৈরি। এআই এসব কাজগুলো দ্রুত করতে পারে। ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠানে আগে ১০ জন কর্মী প্রতিদিনের তথ্যভিত্তিক কাজ করতেন। এআই ব্যবহারের ফলে যদি একই কাজ ছয় বা সাতজন কর্মী করতে পারেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি হয়তো পুরোপুরি কর্মী ছাঁটাই করবে না। কিন্তু নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কমতে পারে। আইএলওর গবেষণায় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজগুলো এআইয়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। তথ্য এন্ট্রি, টাইপিং, হিসাব সংরক্ষণ, প্রশাসনিক সহায়তা এবং নিয়মিত নথিপত্র তৈরির মতো কাজ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে আর্থিক বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার তৈরি, ওয়েব উন্নয়ন ও অন্যান্য ডিজিটাল পেশাতেও এআইয়ের প্রভাব বাড়ছে। ২০২৬ সালের আইএলও বিশ্লেষণ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখিয়েছে। আগের কম্পিউটারায়ন ও স্বয়ংক্রিয়তার গবেষণায় মূলত কম দক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজকে বেশি ঝুঁকিতে দেখা হতো। কিন্তু আধুনিক এআইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসা, অর্থনীতি, কম্পিউটিং, শিক্ষা ও প্রশাসনের মতো উচ্চদক্ষতার জ্ঞানভিত্তিক কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি স্থানচ্যুত হতে পারে। অর্থাৎ নিট হিসাবে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ চাকরি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অবশ্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চাকরির সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সরাসরি পূর্বাভাস নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ১,০০০-এর বেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মতামতভিত্তিক পূর্বাভাস। অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জরিপে ৮৬ শতাংশ নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি তাদের ব্যবসায় পরিবর্তন আনবে। একই প্রতিবেদনে এআই ও বড় তথ্য বিশ্লেষণ, নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে শুধু কিছু চাকরি হারাবে না, চাকরির ধরনও বদলাবে এবং নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় ইতোমধ্যেই কিছু সংকেত দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার চাকরিগুলোতে মাসিক চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে অন্যান্য পেশার তুলনায়। একই সময়ে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে এবং এ ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন এমন চাকরিতে অন্যান্য পেশাগত চাকরির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ মজুরি সুবিধা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে ডিগ্রির সঙ্গে ব্যবহারিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। একজন অর্থনীতির স্নাতককে শুধু অর্থনৈতিক তত্ত্ব জানলে হবে না; তথ্য বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান, তথ্যচিত্র তৈরি এবং এআই-সহায়িত গবেষণার দক্ষতা দরকার হবে। একজন হিসাবরক্ষককে শুধু প্রচলিত হিসাববিজ্ঞান জানলেই হবে না; স্বয়ংক্রিয় হিসাবব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে জানতে হবে। এ ছাড়া একজন উদ্যোক্তাকে এআই ব্যবহার করে বাজার বিশ্লেষণ, বিপণন, গ্রাহকসেবা ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত উন্নত করতে জানতে হবে। প্রথম কাজ হওয়া উচিত শ্রমবাজারের বাস্তব তথ্য সংগ্রহ। কোন খাতে এআই ব্যবহার বাড়ছে, কোন পেশায় নিয়োগ কমছে, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করতে হবে। এআইকে শুধু কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। অর্থনীতি, ব্যবসা, আইন, সাংবাদিকতা, কৃষি, শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের মৌলিক দক্ষতা তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এআই ব্যবহারে সহায়তা করতে হবে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রযুক্তির সুবিধা নেয় কিন্তু ছোট ব্যবসাগুলো পিছিয়ে থাকে, তাহলে উৎপাদনশীলতার বৈষম্য আরও বাড়বে। সর্বশেষ এআইয়ের কারণে চাকরির ধরন পরিবর্তিত হলে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনঃপ্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থায় (আইএনজিও) চাকরি অনেকেরই স্বপ্ন, যা অর্জনের জন্য কেবল ডিগ্রিই যথেষ্ট নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যবহারিক দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ ক্ষমতা ও নেটওয়ার্কিং। আজকের আয়োজনে জেনে নিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিস্তারিত। আন্তর্জাতিক সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে বাস্তব দক্ষতা—যেমন ডেটা ম্যানেজমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং এআই টুলের ব্যবহার—চাকরি পাওয়ার পথ সহজ করে। বিশেষ করে ইংরেজি ও অন্য কোনো বিদেশি ভাষার দক্ষতা প্রার্থীদের বাড়তি সুবিধা দেয়। এছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা ইন্টার্নশিপে যুক্ত হওয়া জরুরি। নেটওয়ার্কিং এই পেশার অন্যতম চাবিকাঠি। লিংকডইন, সেমিনার বা বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। চাকরির আবেদনের জন্য প্রতিটি সংস্থার ওয়েবসাইট, লিংকডইন পেজ এবং ভেরিফায়েড জব পোর্টাল নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। সবশেষে, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও সিভিতে নিজের দক্ষতা ও বিচক্ষণতাকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করতে পারলে এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেকে আলাদা করা সম্ভব।
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার আগের শেষ সাত দিন প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে নতুন কোনো বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে কেবল রিভিশন, অনুশীলন ও মানসিক প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। সঠিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা মেনে চললে শেষ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে ভালো করা সম্ভব। শেষ সপ্তাহে নতুন পড়ার পরিবর্তে নিজের তৈরি শর্ট নোট ও গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো বারবার রিভিশন দিন। পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা আয়ত্ত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মডেল টেস্ট অনুশীলন করুন। এছাড়া পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং কেন্দ্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। মানসিকভাবে শান্ত থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর দিন, কারণ পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিজের ওপর আস্থা রাখুন এবং ধৈর্য ধরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন।
সরকারি চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় সফল হওয়ার জন্য কেবল পরিশ্রম নয়, বরং প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা। বিসিএস, ব্যাংক কিংবা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সঠিক সিলেবাস ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। যারা দীর্ঘমেয়াদি এই যাত্রায় সফল হতে চান, তাদের জন্য থাকছে প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। প্রস্তুতির শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ বিসিএস, ব্যাংক ও সাধারণ সরকারি পদের প্রশ্নপদ্ধতি ভিন্ন হয়। প্রস্তুতির মূল ভিত্তি হিসেবে বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গণিতের মৌলিক বিষয় এবং সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক তথ্যে গভীর দখল আনা প্রয়োজন। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর বোর্ড বইগুলো নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা বা ‘জব সল্যুশন’ প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। সপ্তাহব্যাপী রুটিন মেনে পড়ার চেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই অধিক কার্যকর। প্রস্তুতির একটি আদর্শ চক্র হলো—প্রথম দুই সপ্তাহ প্রশ্ন বিশ্লেষণ, পরের চার মাস বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং শেষে প্রচুর মডেল টেস্ট দেওয়া। এছাড়া মানসিক চাপ সামলাতে সুষম ঘুম ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ভুল তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে বেসরকারি গাইডের চেয়ে সরকারি অফিশিয়াল পোর্টাল ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন অনেকের থাকলেও চাকরিরতদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার সময় বের করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সঠিক পরিকল্পনা, রুটিন মাফিক পড়াশোনা এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ব্যস্ততার মধ্যেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আজকের আয়োজনে চাকরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতির পাঁচটি কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলো। ১. স্মার্ট স্টাডি: পুরো সিলেবাস পড়ার চেয়ে বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো আগে চিহ্নিত করুন। অপ্রয়োজনীয় বিষয় এড়িয়ে সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতি নিলে সময় বাঁচবে। ২. সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিন অফিসের আগে ভোরের সময়টুকু এবং যাতায়াতের সময়টুকু শিক্ষামূলক অডিও বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার কাজে লাগান। রাতে নতুন কিছু না পড়ে দিনের পড়া রিভিশন দেওয়া জরুরি। ৩. ছুটির দিনের ব্যবহার: সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগান। এই সময় জটিল বিষয়গুলো শেষ করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রাখুন। ৪. প্রযুক্তির ব্যবহার: পড়াশোনার সুবিধার্থে বিভিন্ন বিসিএস প্রিপারেশন অ্যাপ ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মোবাইলে নোট করে রাখুন, যাতে অবসরে দ্রুত রিভিশন দেওয়া যায়। ৫. ধারাবাহিকতা ও মানসিক চাপ: বিসিএস প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তাই একদিনে অতিরিক্ত না পড়ে প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। নেতিবাচক আলোচনা এড়িয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।