Breaking news

কবিতা

মাগো, তোমার কথা মনে পড়ে

মাগো, তোমার মুখটি আজও ভাসে চোখের জলে ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে মন ছুটে যায় সেই ঘরে তোমার শাসন, তোমার আদর—সবই মনে পড়ে বাবার নীরব ভালোবাসা হৃদয় ছুঁয়ে ঝরে।   নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে মানুষ করেছ আমায় অসুখ রাতে জেগে থেকেছ মমতারই ছায়ায় শৈশবের সেই নদী, ঘাট, ভাই-বোনের হাসি সময় স্রোতে হারিয়ে গেছে, রয়ে গেছে ভালোবাসি।   দূরে আছি, তবু মাগো হৃদয় তোমার কাছে তোমাদের দোয়ার আলোয় জীবন এখনো বাঁচে ফিরব একদিন—হাতটি ধরে বলব মনের কথা তোমরা ছাড়া পৃথিবীটা বড়ই নিঃসঙ্গ ব্যথা। শেষ প্রহরে যদি চোখে নামে অন্ধকার শেষ ডাকটিও হবে মাগো—তোমারই নাম বারবার।  

সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ 0
যে নেশা আমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনে

মানুষ যখন কোনো কিছুর প্রতি গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে, তখন তার চিন্তা-চেতনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালো-মন্দের বোধ—সবকিছুই ধীরে ধীরে সেই আসক্তির বিষয়টিকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। নিজের বলে যেন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তার ভাবনা, অনুভব, আনন্দ, বিষাদ, অপেক্ষা—সবকিছুর মধ্যেই সেই একটি বিষয় মিশে থাকে। পৃথিবীতে আরও কত কিছু ঘটে যায়, কত মানুষ আসে-যায়, কত সম্পর্ক তৈরি হয়, ভেঙে যায়, তবু তার মন পড়ে থাকে সেই এক জায়গাতেই। সে তখন সেই আসক্তির বিষয়েই এমনভাবে বুঁদ হয়ে থাকে যে, তার নিজের সত্তাটুকুও যেন ধীরে ধীরে সেই আসক্তির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।   আমাকে কবে যে কবিতা লেখার নেশা এভাবে পেয়ে বসেছিল, মনে নেই। শুধু মনে আছে, একদিন শব্দের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বদলে গেল। আগে শব্দ দিয়ে কিছু বলতে চাইতাম। পরে বুঝলাম, শব্দেরও নিজস্ব জীবন আছে। তারা কখনো আমার কথা বলে, কখনো আমার অজানা কথাগুলো বলে। কখনো এমন কিছু প্রকাশ করে দেয়, যা আমি নিজেই জানতাম না যে আমার ভেতরে এতদিন ধরে বাস করছে। সেখান থেকেই হয়তো শুরু।   তারপর যত এগিয়েছি, ততই দেখেছি, এ পথের কোনো শেষ নেই। একটি কবিতা লিখে মনে হয়েছে, এবার বুঝি একটু কাছে পৌঁছেছি। তারপর সেই কবিতাই আবার আমাকে আরও দূরের কোনো গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গেট  খুলেছি, তার ওপারে আরেক গেট। আরও একটু এগিয়েছি, আরও অচেনা কোনো পৃথিবী সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সৃষ্টির পথ বোধহয় এমনই।   এখানে পৌঁছে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আছে শুধু এগিয়ে যাওয়া। শুরুতে মানুষ ভাবে, সে সৃষ্টি করছে। পরে একদিন তার মনে হয়, আসলে সৃষ্টিই তাকে তৈরি করছে।   একটি কবিতা লিখতে গিয়ে মানুষ শুধু কবিতা লেখে না, নিজের ভেতরের অন্ধকারের সঙ্গে দেখা করে। নিজের অহংকারকে চিনতে শেখে। নিজের ভয়কে স্পর্শ করে। নিজের ভালোবাসার গভীরতা মাপে। কখনো নিজের ক্ষতকে নতুন করে আবিষ্কার করে, কখনো এমন আনন্দের সন্ধান পায়, যার কোনো নামই সে আগে জানত না। এ কারণেই হয়তো সত্যিকারের সৃষ্টিশীলতা কখনো নিছক বিনোদন হয়ে থাকে না। এটা মানুষকে বদলে দেয়। তবে সেই বদলে যাওয়ার পথ খুব সহজ নয়।   ভালোবাসতে হয়। হারাতে হয়। প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। অপেক্ষা করতে হয়। ভুল করতে হয়। আবার শুরু করতে হয়। পৃথিবীকে শুধু চোখ দিয়ে দেখলে হয় না, তাকে অনুভব করতে হয়। মানুষের মুখের আড়ালে তার নীরবতাকে শুনতে হয়। একটি গাছের ছায়ায় যেমন ইতিহাস থাকে, তেমনি একজন মানুষের নীরবতার মধ্যেও থাকে অগণিত অপ্রকাশিত গল্প। সেই গল্পগুলো একদিন এসে শব্দের দরজায় কড়া নাড়ে। তখন কবিতা লেখা হয়।   কবিতা হয়তো কোনো উত্তর দেয় না। বরং আরও ভালো প্রশ্ন করতে শেখায়। আর এই শেখাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। কারণ, জীবন আমাদের বারবার বোঝাতে চায়—আমরা যতটা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি আমরা জানি না। অথচ সেই না-জানার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিস্ময়। যে মানুষ বিস্মিত হতে পারে, সে এখনো বেঁচে আছে। যে মানুষ নতুন কিছু শেখার জন্য নিজের পুরোনো বিশ্বাসকে ভাঙতে পারে, সে এখনো তরুণ। কবিতা আমাকে সেই তরুণ থাকার শিক্ষাই দিয়েছে।   বয়স বাড়তে পারে, কিন্তু বিস্ময় যেন না মরে। ক্লান্তি আসতে পারে, কিন্তু কৌতূহল যেন না মরে। সবকিছু ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছে হতে পারে, কিন্তু সৃষ্টির কাছে ফিরে আসার দরজাটি যেন বন্ধ না হয়। আর কবিতার সঙ্গে আমার সম্পর্কের সবচেয়ে আশ্চর্য জায়গাটা হয়তো এখানেই। কবিতা আমাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।   আমি তাকে অবহেলা করেছি, তবু সে অপেক্ষা করেছে। আমি দূরে সরে গেছি, তবু সে কোথাও না কোথাও আমার জন্য একটি শব্দ রেখে দিয়েছে। আমি যখন মানুষের কাছে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফিরেছি, তখন কবিতা আমাকে কোনো প্রশ্ন না করে জায়গা দিয়েছে। কোনো অভিযোগ নেই। কোনো হিসাব নেই। কোনো শর্ত নেই। আছে শুধু ফিরে আসার একটি দরজা। তাই আজ মনে হয়, কবিতা আমার কোনো অর্জন নয়। বরং কবিতার কাছে আমি নিজেই এক আজীবন শিক্ষার্থী।   আমি যত লিখি, তত বুঝি—আরও কত কিছু শেখার বাকি। যত জানি, ততই নিজের অজ্ঞতার বিস্তার দেখতে পাই। যত গভীরে যাই, তত বুঝি গভীরতার কোনো শেষ নেই। এই উপলব্ধিটাই হয়তো সাধনার প্রথম সত্য। সত্যিকারের সাধনা মানুষকে বড় করে না, বরং তাকে বিনম্র করে। সে শেখায়, আমি এখনো পথে আছি। এখনো শিখছি। এখনো ভুল করছি। এখনো নতুন করে শুরু করতে পারি।   হয়তো একদিন আমার লেখা কেউ পড়বে না। হয়তো আমার কোনো শব্দের কোনো পাঠক থাকবে না। হয়তো আমার লেখা কোনো কবিতাই সময়ের দীর্ঘ নদী পার হয়ে যেতে পারবে না। তবু লিখব। কারণ, সব সৃষ্টি পৃথিবীকে দেখানোর জন্য হয় না। কিছু সৃষ্টি নিজের ভেতরের মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কিছু কাজের কোনো বাহ্যিক পুরস্কার নেই, অথচ সেই কাজ না করলে নিজের কাছেই পরাজিত হতে হয়। কবিতা আমার কাছে তেমনই এক প্রয়োজন। তাই এখন আর কবিতাকে নেশা বলতেও ভয় হয়।   নেশা মানুষকে নিজের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায়। আর কবিতা আমাকে প্রতিবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে। হয়তো এটাই তার সবচেয়ে বড় মায়া। জীবনে অনেক কিছুই একদিন আমাদের ছেড়ে যায়—মানুষ, সম্পর্ক, সময়, যৌবন, অভিমান, প্রিয় জায়গা, প্রিয় মুখ। কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসা আমাদের ছেড়ে যায় না। তারা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়, গভীর হয়, পরিণত হয় এবং একসময় আমাদের অস্তিত্বের অংশ হয়ে যায়। কবিতা আমার কাছে তেমনই।   তাই যদি কপালে কোনো নিয়তি লেখা থেকেই থাকে, তবে আমি চাই সেখানে এইটুকুই লেখা থাক— আমি আজীবন কবিতার কাছে ফিরে যাব। আজীবন তার ছাত্র হয়ে থাকব। আজীবন তার কাছে একটু একটু করে নিজেকে আবিষ্কার করব।   আর যদি সত্যিই কোনো গোলামি বেছে নেয়ার সুযোগ থাকে, তবে আমি কবিতারই গোলামি বেছে নেব।কারণ, এমন গোলামি মানুষকে ছোট করে না। বরং নিজের সমস্ত অহংকার থেকে মুক্ত করে দেয়। কবিতার কাছে এমন পরাধীনতাই হয়তো মানুষের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা।

আগস্ট ১৫, ২০২৬ 0
সুন্দর রাত

জোহান ভোল্ফগাং ফন গ্যেটের কবিতা জার্মান থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ- জন ফ্রেডেরিক নিমস বাংলায় অনুবাদ- মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল ................................................................................. এখন আমি আমার প্রিয়তমের ছোট্ট কুটির ছেড়ে চলে যাচ্ছি; অন্ধকারের মধ্য দিয়ে, গোপনে এক বিষণ্ণ নীরবতার মধ্যে গাছপালায় ঢাকা উদ্যানে ঘুরে বেড়াই। যদিও লুনা ঝোপঝাড় এবং ওক গাছের মধ্য দিয়ে উঁকি মেরে দেখছে মৃদুমন্দ বাতাস তার উপস্থিতি প্রকাশ করে; ভূর্জবৃক্ষরা নতজানু হয়; তারা সুগন্ধ ছড়ায় মধ্যরাতের বয়ে যাওয়া বাতাসে। এত সমৃদ্ধ গ্রীষ্ম রাতের শীতলতায় কী আনন্দ কী নিস্তব্ধতা! অনুভূতির অন্তরাত্মা অকথ্য আনন্দে মেতে ওঠে। পরমানন্দ আমি খুব কমই সামলাতে পারি নির্জনতায় জাগ্রত থাকার রাতগুলো তবুও আমি সেগুলো হাজার দিয়ে বিনিময় করব তার সাথে এক রাতের জন্য।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 1
প্রশ্ন

রাতে জলের বোতলগুলো হঠাৎ যেন ম্যাচিউর হয়ে ওঠে প্রশ্ন করে - আমরা কি আর বড় হব না? ঘাম ছিটকে পড়ে তৃষ্ণার চারদিকে কবি ঘুমের ওষুধ কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছে বেখেয়ালে!  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
মরীচিকা

  আজ - দেখতে পেলাম বছর এক পর পথের কিনারায় চোখ যায় শুধু তোমার কাছে আর নেই কোনো উপায়।   ইচ্ছে করল সামনে গিয়ে মনের কথা বলি সারা দিন এক বিষয় নিয়ে চৰ্চা করে চলি।   কিন্তু যখন নজর থেকে  অদৃশ্য হলে তুমি লাগল যেন নিরস হলো  প্রেমে ভরা ভূমি।   বুঝতে পেলাম তখন আমি  ভুল হলো গভীর তাই  চারদিকে নিয়ে চলে আসছ স্মরণীয় শরীর।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
একলা পথিক

একলা পথের একলা পথিক একলা পথেই চলি যখন খুশি যেথায় যেমন মনের কথা বলি।   বন-বনানী ঘুরে বেড়াই সকাল-দুপুর-রাতে ইচ্ছে হলেই কথা বলি পাখ-পাখালির সাথে।   বন্ধু বলতে ওরাই  আপন দেয় না আমায় ধোঁকা মানুষ বন্ধু যাকেই ভাবি দেয় করে দেয় একা।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
পাখিরা পথ ভোলে না

পাখিরা পথ ভোলে না  ঠোঁটে করে খড়কুটো কুড়িয়ে বাসা বানায় একটা শান্তির সংসার পাতে ডিম পাড়ে, তা দেয়, বাচ্চা দেয় মুখে করে খাবার সংগ্রহ করে। বাচ্চাকে বড় করে তোলে; একদিন সে হঠাৎ ডানা মেলে উড়ে যায়।   মানুষ ও কি পাখিদের মতো একদিন বড় হয়ে আলাদা ঘর বাঁধে মা-বাবার কাছ থেকে দূরে চলে যায়? আর কাছে আসে না বড় সুখের সন্ধানে ছুটে চলে  এক ফোঁটা সময় নষ্ট না করে কীসের জন্য ছুটে যায় কোন হুতাশে, কীসের আশায়? আসলে সেকি ভালো থাকে নাকি ভান করে ভালো থাকার?  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
এবং তুমি

তুমি বরং থেকে গেলে আমার উপন্যাসের পাতায় তুমি বরং থেকে গেলে আমার কবিতার খাতায় তুমি শুধু রয়ে গেলে আমার প্রতিটি লেখায় এবং তুমি হলে ছন্দ কাব্যিক আঙিনায় তুমি হলে গদ্য স্বপ্ন বন্দনায় এবং তুমি হলে আকুতি হৃদয়ের ব্যাকুলতায়! তুমি হও বাসনা আমারই প্রার্থনায় সাথী হও প্রিয় তুমি অবলীলায়।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
প্রেমের বিজ্ঞাপন

প্রেমের মরা! ওরা শাশ্বত প্রেমিক যুগল মন চেয়ে প্রেমের হাটে বিকোচ্ছে আস্ত এক অক্ষত হৃদয়। প্রেমপত্রে আবেদনকারীর দাবি... মন বেচা-কেনার পূর্বে শর্ত জানাটা শ্রেয়। সম্পর্কের আগে জেনে রাখা ভালো ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র অকৃত্রিম প্রেমে জড়িয়ে থাকে কেবলই ভয়ের চিত্র। প্রেম কোনো অলীক রূপকথা নয় এক নির্মম জুয়া যেখানে বাজি ধরা হয় সমস্ত অস্তিত্ব আর মোহ। পছন্দ হলে এই মুহূর্তেই চুক্তি সই করুন নতুবা অবিলম্বে চোখ ফেরান এই দেউলিয়া বিজ্ঞাপন থেকে। বিনা নোটিশে ভেঙে যেতে পারে অবাধ্য সমস্ত চুক্তি নিদারুণ বিরহে অচল হবে যেকোনো সময় তর্ক-যুক্তি। তবুও যদি শর্ত মেনে আত্মাহুতির ঝুঁকি নেন তবেই সমর্পণ করুন সত্তা প্রেম হোক চরম দুর্জয়।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
পোড়া রুটিটাতে রক্তের দাগ

পোড়া রুটিটাতে রক্তের দাগ বীর্য আর মগজের নষ্টামির সহস্র চিহ্ন! রুটির ফোস্কাতে পরকীয়ার মানবানল তাণ্ডব প্যারাফিন কিংবা বারুদ পোড়া পোড়া গন্ধ! শকুন কাকের ঠোঁকরে ঠোঁকরে রুটিতে বেশ কিছু ছিদ্র কুকুর শেয়ালের টানাটানিতে রুটির গোলাকৃতির ধ্বংস!   রুটিটাতে আজও কীটপতঙ্গের দাপাদাপি চলছে অবিরত রুটির ওপরে পা দিয়ে মদের দামে যৌবন বিক্রি হচ্ছে তাই বলে রুটি বনাম মদ কিংবা যৌবন বলছি না।   অতীতে ভাত চুরি হয়েছে মাত্র তবে ভবিষ্যতে রুটিটা অহরহ ডাকাতি হবে।                

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
শ্রমের পূজা

ক্লান্ত দেহে ঘর্ম ঝরে অন্ন জোগায় যারা—  সমাজ-তলে রইল পড়ে লাঞ্ছিত আজ তারা।   বিনা শ্রমে বিত্ত যেথায় পাহাড় সম জাগে শ্রমিক সেথায় লজ্জিত হয় বিধির অনুরাগে?   শ্রমিক সেথা বক্ষ চিরি  রক্ত ঢালে পঙ্ক উচ্চশিরে পাপের রাজা  কষে লাভের অঙ্ক।   যারা কেবল ভাঙছে পাথর কাটছে গহন মাটি— তাদের ভাগ্য ধুলোয় লোটে পাপের ধন কি খাঁটি?   উঁচু মহলে অন্ন বিলায় জোটে না তার দাম তপ্ত রোদে পোড়া কায়ায় লজ্জিত হয় ঘাম।    মিথ্যা চরণে লুটিয়ে পড়ে যেথায় পরশমণি শ্রমের পূজায় জাগুক তবে মুক্তির জয়ধ্বনি।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
মানবিকতা

অনুভবে সম্পর্কের শক্ত দড়িটি   কাঁদা লেপ্টে পা দুখানা, নাই খেয়াল শুধুই তাগিদ সম্পর্ক বাঁচানোর। শুকনো কাগজের মতো সম্পর্কগুলো কিংবা শুকনো পাতার মর্মর দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাওয়া বিস্বাদ ভালোবাসা। অধঃপতনে হয় সব নষ্ট, নস্টালজিক মানবিকতা বিবর্জিত মস্তিষ্ক হয়েছে নষ্ট। ধার করে কি যায় চালানো জীবন আসলে সবই চলে শুধু মরে যায় বিবেক মানবিকতা লুণ্ঠিত হয় অনুভূতি রৌদ্রস্নানে হতে চাই পবিত্র কারও ঈর্ষায় চাই না হতে সুখী। শুধু মানবিকতায় চাই বাঁচতে পৃথিবীটা হোক মানবতার ঈর্ষা নয়, হোক ভালোবাসার।।    

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
পুরোনো স্মৃতি

আজ নতুনের মোহে পুরোনো সব লুপ্তপ্রায় স্মৃতি তুমি নতুনকে পেয়ে পুরোনোকে যাও ভুলে সময় পাল্টে যায় তুমিও পাল্টে যাও। তোমার গল্পে প্রাক্তনের জায়গাটা মুছে যায় কিন্তু একসময় তুমি তার প্রিয় মানুষ ছিলে। তবে পুরোনো যতই হোক না কেন লুপ্তপ্রায় স্মৃতি একদিন তোমার একাকিত্বে কোনো এক সময় পুরোনো স্মৃতিই তোমার শেষ অধ্যায়ের অবলম্বন হবে।    

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
জল ভরা মেঘ

আকাশের চোখে দেখেছি জল ভরা মেঘ দেখেছি-বাদল দিনের খেয়া বাইতে বাইতে সজল চোখের জল ঝরা অবুঝ কেয়াকেও দিগন্তে ব্যথার ঢেউ তোলা নিঃশব্দ দুপুরকে।   তোমাকে দেখেছি জল ঝরা চোখে একান্তে আনমনে তাকিয়ে আছ আধ ডোবা চাঁদ ফুল যেন ঝরে পড়া প্রহর গুনছ নিরিবিলে ঝিলের টুপটুপ ঢেউ দোলা খায় সজাগ পাড়ে।   ঘোলাটে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে মাঠ-ঘাট-বাট হাটও চেয়ে থাকে জল ভরা চোখে শূন্যতায় অজানা অচেনা জনহীন প্রান্তরে, বেশ দূরে সুর তোলে ভিজে হাওয়া মৌসুমি রাগ-রঙে।    তুমি কিছুতেই ফিরতে পারোনি বসন্ত-বাহারে আমি মেঘদূত হয়ে দিয়েছি বিরহী প্রেমের চিঠি  তুমি পড়েছ, কেঁদেছ, ভেঙে পড়েছ দীর্ঘশ্বাসে শুধু জল ভরা মেঘ বয়ে বয়ে কাজল দুটি চোখে।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
বৃষ্টি তুমি

বর্ষা যায়, বর্ষা আসে ঘন মেঘের পর মেঘ তুমি তারপর বৃষ্টি তুমি ইন্দ্রের দূত ‘আশীর্বাদ’ বর্ষা যায়, বর্ষা আসে ।।   রাশি রাশি মেঘপুঞ্জ, মেঘবালিকা- তুমি বৃষ্টি, ঝিরি ঝিরি পদ্ম পাতায় তুমি, টলোমোলো তুমি কাব্যে, তুমি সাহিত্যে তুমি টুপ টুপ বৃষ্টি কারণে, অকারণে তুমি বৃষ্টি ।।    

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
দূরত্ব

আমাদের জানা বোঝা প্রায় বন্ধ অপ্রয়োজনের তালিকা ভরেছে সেই কবেই ভ্রান্ত ধারণারা জন্ম নিয়েছে চোখের পলকে ক্লান্ত কত ছবি দেয়ালে দেয়ালে মাখা একটা রোদেলা শহরের আসা যাওয়া  শুধুই আসা যাওয়া ছাওয়ায় ছাওয়া মেশে না।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
অসৎ সঙ্গ ত্যাজো

দুষ্টের সাথে চোলো না গো পথ হঠাৎ বিপদ আসে অপকর্মে যে ফাঁসাবে তোমায় জীবনের সুখ নাশে।   অসতের সাথে করলে সখ্য পড়বে বিপাকে ভবে তব জীবন যে হবে বিষময় সম্মান নাহি রবে।   অসৎ সঙ্গ ত্যাজিলে ভুবনে সুখের নাগাল পাবে খারাপ কর্মে পাপের আগুনে জ্বলেই জীবন যাবে।   অধম লোকের কুমতি সদাই চায় না লোকের ভালো ত্যাজো গো কুজন ধরো যে সুজন জীবনে জ্বলবে আলো।   সাধুর সঙ্গ করবে সদাই স্রষ্টার কৃপা পাবে তাঁহার কৃপায় পাপ হবে ক্ষয় স্বর্গলোকেই যাবে।   অসৎ সঙ্গে বিবেক মৃত্যু সদা জেনে রেখো সবে ন্যায়ের পথেই পরম শান্তি জীবন ধন্য হবে।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
বোকার মরণ

নজরে যে ইতিউতি তার ডগে কোথাও লুকোনো বেশিটা দেহাতি নারী, কালো রং চাপা নাক, মোটা ঠোঁট, সুঠাম গড়ন আমার তুমি তো থাকো, জলরঙে ভিজে তুলি, কাগজে ছোপানো।   ভিড় ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম, বাচ্চাকাচ্চা... তোমাকে খুঁজেই চলি, বোকার মরণ।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
শেষের কদর

শেষ মানেই সব শেষ নয় শেষ মানে নয় তো কেবল ব্যর্থতা শেষ কখনো হয় একটি বিরতি যা নতুন কিছুর শুরু হওয়ার পূর্ণতা।   শেষ সমাপ্তি নাও হতে পারে তাই শেষটা যে খালি বেদনার নয় বিষাক্ত পরিস্থিতির শেষ তৃপ্তি দেয় নতুন আরম্ভের আনন্দও হয়।   জীবনে শেষ আসে বারবার আরও ভালোর প্রারম্ভের বার্তায় এই শেষ শুরু, শেষ শুরু লেখে এই জীবন গতির নানাবিধ পর্যায়।   সব শেষের একেবারে শেষ মৃত্যু তা কেবল পুরাতন জরার সম্পূর্ণ নতুন জীবনে গান গেয়ে প্রজন্মের দৃঢ় আশ্বাস মরার।   শুরুও ঈশ্বর আর শেষও ঈশ্বর মাঝে চলে জন্মান্তরের খেলা তাই শেষের জন্য রেখো না পরিতাপ শেষ তো এক আনন্দের মেলা।   আমাকে এখানেই করতে হচ্ছে শেষ অন্য ভাবনায় ডুবতে হবে বলে শেষে ভালোবাসতে শেখো হে প্রিয় মেনে নিতে ভুল নেই অন্তঃস্থলে।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
ইচ্ছে জাগে

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে পাখির মতো হই নদীর সাথে উদাস ভাবে মনের কথা কই। বিশাল জলরাশির মতো উদার মনের হওয়া সাগরপাড়ের বালুকা তটে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। সত্যের পথে পাহাড়ের মতো অটল হয়ে থাকা সততার সাথে সুনীতির পথে চালাতে চাই যে চাকা। অরণ্যের চিরসবুজের মাঝে নিজেকে হারাতে চাই বৃক্ষের মতো নিঃস্বার্থতার শিক্ষাটা যেন পাই। অগ্নিশিখায় জ্বালাতে চাই যে পাপের কালিমা রেখা সুস্থ মনের মানসিকতায় আমার আমিকে দেখা।।  

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
নাড়ির টানে বাড়ি

বাড়ির পথে ছুটছে গাড়ি মন খুশিতে নাচে ফিরলে গ্রাম ও মায়ের কোলে হাঁফ ছেড়ে প্রাণ বাঁচে।   নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা পথের শেষে বাড়ি স্বপ্ন আমার যাবে বাড়ি অচেন পথকে ছাড়ি।    

আগস্ট ৭, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0