আন্তর্জাতিক সংস্থায় (আইএনজিও) চাকরি অনেকেরই স্বপ্ন, যা অর্জনের জন্য কেবল ডিগ্রিই যথেষ্ট নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যবহারিক দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ ক্ষমতা ও নেটওয়ার্কিং। আজকের আয়োজনে জেনে নিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিস্তারিত। আন্তর্জাতিক সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে বাস্তব দক্ষতা—যেমন ডেটা ম্যানেজমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং এআই টুলের ব্যবহার—চাকরি পাওয়ার পথ সহজ করে। বিশেষ করে ইংরেজি ও অন্য কোনো বিদেশি ভাষার দক্ষতা প্রার্থীদের বাড়তি সুবিধা দেয়। এছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা ইন্টার্নশিপে যুক্ত হওয়া জরুরি। নেটওয়ার্কিং এই পেশার অন্যতম চাবিকাঠি। লিংকডইন, সেমিনার বা বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। চাকরির আবেদনের জন্য প্রতিটি সংস্থার ওয়েবসাইট, লিংকডইন পেজ এবং ভেরিফায়েড জব পোর্টাল নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। সবশেষে, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও সিভিতে নিজের দক্ষতা ও বিচক্ষণতাকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করতে পারলে এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেকে আলাদা করা সম্ভব।
সরকারি চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় সফল হওয়ার জন্য কেবল পরিশ্রম নয়, বরং প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা। বিসিএস, ব্যাংক কিংবা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সঠিক সিলেবাস ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। যারা দীর্ঘমেয়াদি এই যাত্রায় সফল হতে চান, তাদের জন্য থাকছে প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। প্রস্তুতির শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ বিসিএস, ব্যাংক ও সাধারণ সরকারি পদের প্রশ্নপদ্ধতি ভিন্ন হয়। প্রস্তুতির মূল ভিত্তি হিসেবে বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গণিতের মৌলিক বিষয় এবং সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক তথ্যে গভীর দখল আনা প্রয়োজন। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর বোর্ড বইগুলো নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা বা ‘জব সল্যুশন’ প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। সপ্তাহব্যাপী রুটিন মেনে পড়ার চেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই অধিক কার্যকর। প্রস্তুতির একটি আদর্শ চক্র হলো—প্রথম দুই সপ্তাহ প্রশ্ন বিশ্লেষণ, পরের চার মাস বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং শেষে প্রচুর মডেল টেস্ট দেওয়া। এছাড়া মানসিক চাপ সামলাতে সুষম ঘুম ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ভুল তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে বেসরকারি গাইডের চেয়ে সরকারি অফিশিয়াল পোর্টাল ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন অনেকের থাকলেও চাকরিরতদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার সময় বের করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সঠিক পরিকল্পনা, রুটিন মাফিক পড়াশোনা এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ব্যস্ততার মধ্যেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আজকের আয়োজনে চাকরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতির পাঁচটি কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলো। ১. স্মার্ট স্টাডি: পুরো সিলেবাস পড়ার চেয়ে বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো আগে চিহ্নিত করুন। অপ্রয়োজনীয় বিষয় এড়িয়ে সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতি নিলে সময় বাঁচবে। ২. সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিন অফিসের আগে ভোরের সময়টুকু এবং যাতায়াতের সময়টুকু শিক্ষামূলক অডিও বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার কাজে লাগান। রাতে নতুন কিছু না পড়ে দিনের পড়া রিভিশন দেওয়া জরুরি। ৩. ছুটির দিনের ব্যবহার: সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগান। এই সময় জটিল বিষয়গুলো শেষ করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রাখুন। ৪. প্রযুক্তির ব্যবহার: পড়াশোনার সুবিধার্থে বিভিন্ন বিসিএস প্রিপারেশন অ্যাপ ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মোবাইলে নোট করে রাখুন, যাতে অবসরে দ্রুত রিভিশন দেওয়া যায়। ৫. ধারাবাহিকতা ও মানসিক চাপ: বিসিএস প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তাই একদিনে অতিরিক্ত না পড়ে প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। নেতিবাচক আলোচনা এড়িয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর সঙ্গে মানবিক গুণাবলির সমন্বয় জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও জিজ্ঞাসার ক্ষমতা আয়ত্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির প্রতি ভীতি কাটিয়ে একে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শিখলেই কর্মজীবনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে এআই শুধু তথ্য বিশ্লেষণে দক্ষ, কিন্তু মানুষের মতো সহানুভূতি, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতায় এটি অক্ষম। যারা এআই-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে বরং মেধাবী শিক্ষানবিশ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে, তারাই ১০ গুণ দ্রুত কাজ সম্পাদন করে এগিয়ে থাকবে। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সূক্ষ্ম মানবিক গুণাবলি অর্জনে শিক্ষার্থীদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে টিকে থাকতে আজীবন শেখার মানসিকতা এবং নতুন দক্ষতা আয়ত্তের আগ্রহ রাখাই হবে সফল ক্যারিয়ারের মূল চাবিকাঠি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা বা না থাকা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই দ্বিধায় থাকেন। আসলে কেবল কর্মজীবনের মেয়াদের চেয়ে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যের সঙ্গে অর্জিত অভিজ্ঞতার প্রাসঙ্গিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশলে কাজের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করতে পারলে তা আবেদনের মান অনেকাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় কাজ করলেই ভর্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা সব ক্ষেত্রে সত্য নয়। কর্মক্ষেত্রে আপনি কী শিখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা কেন আপনাকে পুনরায় পড়াশোনায় ফিরতে উৎসাহিত করছে, তা ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ (SOP)-এ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। এমবিএ বা পাবলিক পলিসির মতো পেশাভিত্তিক ডিগ্রিতে পেশাগত অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বেশি থাকলেও, গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে একাডেমিক সক্ষমতা ও গবেষণার আগ্রহকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। চাকরির কারণে পড়াশোনায় দীর্ঘ বিরতি থাকলে ভয়ের কিছু নেই; বরং এই সময়ে অর্জিত দক্ষতা ও পেশাগত পরিবর্তন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করলে আবেদনটি শক্তিশালী হয়। এছাড়া সুপারিশপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রোগ্রামের ধরন অনুযায়ী একাডেমিক শিক্ষক অথবা কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে তা সংগ্রহ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, সিভিতে কাজের দীর্ঘ তালিকা না দিয়ে কেবল প্রাসঙ্গিক দায়িত্ব ও অর্জনগুলো উল্লেখ করাই বেশি কার্যকর।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, পেশাগত সুযোগ কিংবা অভিবাসনের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষা অপরিহার্য। বিশ্বের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষার ফলকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই কেবল পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জন করা সম্ভব। আইইএলটিএস মূলত একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং—এই দুই মডিউলে অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য একাডেমিক এবং অভিবাসন বা চাকরির জন্য জেনারেল ট্রেনিং মডিউল বেছে নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি এডুকেশনের মাধ্যমে অনলাইনে সহজেই রেজিস্ট্রেশন করা যায়। কম্পিউটার বা কাগজভিত্তিক—দুই পদ্ধতিতেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, দ্রুত ফলের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক। পরীক্ষার চারটি অংশ—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং এবং স্পিকিং—মূলত ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা ও সময় ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়। ভালো স্কোরের জন্য নিয়মিত ইংরেজি সংবাদপত্র ও পডকাস্ট শোনার পাশাপাশি শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া পরীক্ষার আগে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র ব্যাকরণ জানলেই ভালো স্কোর নিশ্চিত করা যায় না, বরং প্রতিদিনের অনুশীলনই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। যথাযথ প্রস্তুতি এবং নথিপত্রের অভাবে মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবেদনের আগে কিছু সাধারণ ভুল সম্পর্কে সচেতন থাকলে ভিসা রিজেকশনের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অসম্পূর্ণ নথিপত্র জমা দেওয়া, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য প্রদান এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়া। এছাড়া ভিসা সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের অভাব, দুর্বল একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষা বা কর্মজীবনের দীর্ঘ বিরতির যৌক্তিক ব্যাখ্যা না থাকা, অসংগতিপূর্ণ কোর্স নির্বাচন এবং ভাষার দক্ষতার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারাও ভিসা বাতিলের বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আবেদনের আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা, সঠিক তথ্য প্রদান এবং সাক্ষাৎকারের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।