Breaking news

ঈশ্বরদী

আওয়ামী লীগের শীর্ষ তিন নেতা ঢাকায় গ্রেপ্তার

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতাকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের ভাড়াবাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু এবং আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন।   মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বাবুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন ওই তিন নেতা। ঢাকায় অবস্থান করেও তাঁরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।   ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন নেতার মধ্যে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে মকলেছুর রহমান মিন্টু ও শহিদুল ইসলাম রতন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।   এদিকে তিন নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
আমির হামজার মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে প্রশাসনকে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

পাবনার ঈশ্বরদীতে মুফতি আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে এলাকাবাসীর পক্ষে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহন ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে এ স্মারকলিপি দিয়েছেন।   জানা গেছে, আগামী ২১ অক্টোবর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার উপস্থিত থাকার কথা। এ ছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ইতিবাচক। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহনের দাবি, তাঁরা ওয়াজ মাহফিল বন্ধের পক্ষে নন। বরং ধর্মীয় মঞ্চে যেন রাজনৈতিক বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া না হয়, সেটিই তাঁদের মূল দাবি। এর আগে বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মঞ্চে রাজনৈতিক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈশ্বরদীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় মাহফিলকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।   স্মারকলিপিতে মাহফিলের বক্তব্য কোরআন-হাদিসের আলোচনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি  ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে অ্যাডহক কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ জিন্নাহ অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।    অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মাসুদ হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।   এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম (তোতা)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, কার্যকরী সভাপতি  জুলফিকার আলী প্রামানিক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম।    আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন ও  শিক্ষক নেতা মো. আরিফুর রহমান।  

অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
সার ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন

পাবনার ঈশ্বরদীতে কালো তালিকাভুক্ত এক কীটনাশক ব্যবসায়ীকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ডিলার নিজাম উদ্দীন ‘মেসার্স সবুজ সাথী কীটনাশক বিতান’ ও ‘ন্যাপ এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী।   বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার ভাড়ইমারী আনন্দ বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ‘মেসার্স সুমন ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ও সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা সুমন মালিথা।   সুমন মালিথা লিখিত বক্তব্যে বলেন,  ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের অভিযানে ঈশ্বরদীর ঢুলটি এলাকায় অবস্থিত ‘ন্যাপ এগ্রো কেমিক্যাল’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছিল। সরকারি খাতায় নিজাম উদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসের কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব তার নিকটাত্মীয় হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিলগালার মাত্র এক সপ্তাহ পর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা হয়।   সুমন মালিথা আরও জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়। তাঁরা চান, সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং অতীতের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবিও জানান তিনি।   সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর শরীফ হানিফ মালিথা, সলিমপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম মন্ডল, ওয়াসিম বাবু, ফজলু প্রামানিক ও রিপনসহ শতাধিক স্থানীয় কৃষক উপস্থিত ছিলেন।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স সবুজ সাথী কীটনাশক বিতান ও ন্যাপ এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নিজাম উদ্দীন জানালেন, তিনি কারও সুপারিশে বা অনৈতিক উপায়ে ডিলার নিয়োগ পাননি। সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, একটি পক্ষ রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে সুবিধা হাসিল করার উদ্দেশ্যে তাঁর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানালেন, “ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কারও লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।  

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঈশ্বরদীতে জনসচেতনতা বাড়াতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও সর্বশেষ বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নয়ন।    তিনি বলেছেন, সপ্তাহে অন্তত এক দিন সবাই নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলে ঈশ্বরদী শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।   বুধবার ১৪ অক্টোবর বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও পরিচ্ছন্ন  অভিযান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   কর্মসূচিতে রফিকুল ইসলাম নয়ন  বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের প্রথম দিন থেকেই পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। তবে লাগানো চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা না করলে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না।   তিনি আরও বলেন, যাদের বাসাবাড়িতে ছাদবাগান রয়েছে, তারা যেন খেয়াল রাখেন, কোথাও যাতে তিন দিন পর্যন্ত পানি জমে না থাকে। ডেঙ্গুতে ইতোমধ্যে অনেক প্রাণ ঝরে গেছে। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও মশক নিধনে কীটনাশক স্প্রে দিয়ে এলাকার অলিগলি, ড্রেন এবং রাস্তার পাশের জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।   এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন  সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মুকুল, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন পার্থিব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সম্রাট হোসেন, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।  

অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
সৌদি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহ যাত্রী

ওমরাহ পালন শেষে পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী সৌদি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সেখানে আটকা পড়েছেন তাঁরা।   এদিকে মক্কার হোটেলে থাকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় দেখা দিয়েছে আবাসনসংকট। থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি কয়েকজন শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিরাও আছেন। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁদের।   এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ৮৬টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩২টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা ১৩ হাজার ৭১ জন।   বেবিচক জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।   সৌদি আরবে অবস্থানরত ঈশ্বরদীর মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, ওমরাহ পালন শেষে মঙ্গলবার ৫০ জনের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তাঁরা আটকা পড়েছেন। হোটেলে থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।   ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওমরাহ পালন করতে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি, আমার মা, স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে এসেছি। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই বিমানবন্দরে হামলার কারণে পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে গেছে। থাকা-খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মহাবিপদে পড়েছি।”   ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, ৫০ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নারী-পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তাও বুঝতে পারছেন না তাঁরা।   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আটকে পড়াদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি, সংকট কেটে যাবে।  

অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রাণ গেল এক যুবকের

পাবনার ঈশ্বরদীতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে মো. রাসেল প্রামানিক (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার চরসাহাপুরে রূপপুর গ্রিনসিটির সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অটোরিকশায় সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর সময় আনন্দ-ফূর্তি করছিলেন তাঁরা। এ সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন রাসেল।   নিহত রাসেল প্রামানিক পাবনা সদর উপজেলার কাশিপুর বটতলা এলাকার মৃত মোস্তফা প্রামানিকের ছেলে।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে অটোরিকশার ব্যাটারি পরিবর্তন করতে রাসেলসহ চারজন ঈশ্বরদীতে আসেন। শহরের আলহাজ মোড় এলাকার ফাহাদ ট্রেডার্স থেকে ব্যাটারি পরিবর্তন শেষে রাতে নতুন হাট হয়ে অটোরিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।   পথে অটোরিকশায় সাউন্ড বক্সে গান বাজছিল। এ সময় তাঁরা আনন্দ-ফূর্তি করছিলেন। একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে যান রাসেল। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে সঙ্গী ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, অসাবধানতাবশত অটোরিকশা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওই যুবক। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রোববার ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দলীয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।   ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার এবং সদস্য সচিব মোঃ শরিফুল ইসলাম তুহিন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।    বিজ্ঞপ্তি ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সকালে সাহাপুরস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসভবনে ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।   ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ শরিফুল ইসলাম তুহিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব।   সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সেগুলো হচ্ছে-  ১. ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সুসংগঠিত, গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ২.তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা। শীঘ্রই ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটিগুলো গঠন করা হবে। ৩. ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সার্বিক দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ জিয়াউর রহমানকে (মনিরুল) দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান।    উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, অতিদ্রুত নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় ও জোরদার হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।  

অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে বিশেষ অভিযানে দুটি ওয়ান শুটারগান, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩

পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটারগান ও চারটি দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া) উদ্ধার করা হয়েছে।   শুক্রবার ৯ অক্টোবর ভোররাত থেকে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের দিগিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৪ জন, নিয়মিত মামলার ১ জন এবং মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগে ১৮ জন রয়েছেন। উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।   পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আবু আশরাফ জানান, ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ অপারেশন দল লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের দিগিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ওয়ান শুটারগান ও তিনটি হাসুয়া উদ্ধার করে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।   পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার ৫ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঈশ্বরদী সার্কেল প্রণব কুমার এবং ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা।  

অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ৩

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। থানায় লিখিত অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল। তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল জামিরুলের। এর মধ্যে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো।   এজাহারে বলা হয়েছে, মুক্তি খাতুনের কথায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার ‘মমতাজ ভিলা’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে বৃষ্টি খাতুন ও মুক্তি তাঁকে বসিয়ে নাশতা দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও ৩-৪ জন ওই বাসায় আসেন।   পরে জামিরুলের সঙ্গে মুক্তি খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।   এ সময় প্রাণনাশের ভয় দেখানো হলে জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে ফোন করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই বন্ধু চণ্ডীপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে তুলে দেয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেয়া হয়।   এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জামিরুলকে ছেড়ে দেয়ার সময় বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।   ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে স্কুলশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে আনিছুর রহমান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় উপজেলার নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।   বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে চর রূপপুর বিবিসি বাজারের চেরু মার্কেটের সামনে শিক্ষক আনিছুর রহমানকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করেন তাঁরা।   বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করো, করতে হবে’, ‘হামলাকারীদের বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো’, ‘অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।   বিক্ষোভ থেকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।   নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর যে হামলা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন শিক্ষক জাতির নির্মাতা। একজন শিক্ষকের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।”   বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আফরোজা বুলবুল বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিসুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। যতটুকু দেখেছি, মনে হয়েছে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আসামি বা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, আনিসুর রহমান যেভাবে ক্লাস নিতেন, অন্য কোনো শিক্ষক সেভাবে ক্লাস নিতে পারছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।”   এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, “শিক্ষককে কখন ও কোথায় মারধর করা হয়েছে, তা আমার জানা ছিল না। আমি আজকেই বিষয়টি জানতে পেরেছি। গতকাল রাতে বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে ফোন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানববন্ধনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করার অনুমতি অফিস দিতে পারবে না। বিশেষ করে, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করার অনুমতি আমি দিতে পারি না। কোনো শিক্ষক নিজ দায়িত্বে ও নিজের ইচ্ছায় বিক্ষোভ করতে চাইলে সেটি তাঁর বিষয়। তবে স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।”   তিনি আরও বলেন, “ওই শিক্ষককে কখন, কেন মারধর করা হয়েছে, তাঁকে স্কুল চলাকালীন সময়ে বা স্কুল প্রাঙ্গণে মারধর করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমি শুনেছি তাঁকে রাতে মারধর করা হয়েছে। যদি পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ব্যক্তিগত কারণে রাতে তাঁকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের করার মতো কিছু থাকে না।”   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পাবনার ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিক্রির জন্য রাখা ১০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদী মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিনসহ মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   অভিযান সূত্রে জানা যায়, মাছের ভেতরে ক্ষতিকর জেলি ঢুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী মাছ বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে ১০ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়।   জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাছ মাটিতে পুঁতে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।   এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকানেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযানে কোনো মা ইলিশ বা ইলিশ মাছ পাওয়া যায়নি।   উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানে ইলিশ মাছ না পাওয়া গেলেও জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী : ৭ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৫

পাবনার ঈশ্বরদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই সাত দিনে ভর্তি হওয়া ১৫ জন রোগীর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন ডেঙ্গু রোগী।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল সরকারি হাসপাতালেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে তিনজন ভর্তি আছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।   রোগীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ডা. শোভন পাল জানান, কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কোনো ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়নি এবং ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।   এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও পৌর এলাকায় মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করলেও নিয়মিত ও ফলপ্রসূ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অবিলম্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন ঈশ্বরদীর মিনারুল ইসলাম

পাবনার ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মিনারুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে।   বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে মিনারুল ইসলামের হাতে সম্মাননা পদক, সনদপত্র ও চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।   ঈশ্বরদীর কোনো শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার এ অর্জনে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।   দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিনারুল ইসলাম। আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ, সাবলীল ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁর শিক্ষকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও তিনি গুরুত্ব দেন।   পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করেন তিনি। কঠিন বিষয় সহজভাবে বোঝানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলারও চেষ্টা করেন।   মিনারুল ইসলামের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ১৯৯১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তাঁর। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম।তাঁর বাবা প্রয়াত ডাক্তার আব্দুল ওয়াহাব এবং মা ছামিরন নেছা। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান মিনারুল। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।   দারুস সুন্নাহ মদিনাতুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা, বহরপুর এবং চাটমোহরের দারুল উলুম মুহাম্মদপুর কওমিয়া মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করেন। পরে পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করেন।   এর পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অ্যাওয়ার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মিনারুল ইসলাম।   জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মিনারুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া আনন্দ ও গর্বের। তবে এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়াই আমার লক্ষ্য নয়। তাদের আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যেতে চাই।”   নিজের এ অর্জনের পেছনে সহধর্মিণী, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে মিনারুল ইসলাম বলেন, “আজকের এই আনন্দের দিনে আমার আব্বাজান বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”   পাবনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পাবনা জেলা থেকে তিনজন গুণী শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়ায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এটি শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো জেলার জন্যই অত্যন্ত সম্মানের। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষক সমাজে উৎসাহ বাড়বে। শিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান (সাবান) বলেন, “মিনারুল ইসলামের জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তাঁর এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।   একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন পাবনার আরও দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন পাবনা পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হুসাইন এবং মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী জীববিজ্ঞান শিক্ষক মো. ইকরামুল হক।   একই জেলার তিন শিক্ষকের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় পাবনার শিক্ষা অঙ্গনে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।  

অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মা-বাবার ওপর অভিমান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পাবনার ঈশ্বরদীতে শোভন আহম্মেদ (২৯) নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ করায় মা-বাবার ওপর অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।   রোববার ৪ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর নলগাড়ী এলাকায় তাঁর নানার বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শোভন আহম্মেদ ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া মধ্য অরণকোলা এলাকার মো. রঞ্জুর ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।   নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে নানার বাড়ির একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শোভনকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলা হয়। এ বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের ঘর পুড়ে ছাই

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের তিনটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।   বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে শামীম হোসেনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   স্থানীয়রা জানান, রাতে প্রথমে শামীম হোসেনের গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনটি ঘরই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসায় গবাদিপশুগুলো রক্ষা পায়।   ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, আসন্ন সবজি চাষসহ কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি প্রায় এক লাখ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। আগুনে সেই পুরো টাকাই পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাক ও অন্য মালামালও পুড়ে নষ্ট হয়েছে। আগুন নেভানোর পর স্বর্ণালংকারেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় কর্মীদের হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ততক্ষণে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালঘরে থাকা কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে শামীম হোসেনের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও স্থানীয়দেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পাবনার ঈশ্বরদীতে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংবর্ধনা পেয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।   অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশের  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক।   প্রধান শিক্ষক মো. জোমসেদ আলীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়ন।   এ সময় আরও বক্তব্য দেন অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাইদুল ইসলাম, শিক্ষক নূর বক্স শাহ্, মো, আব্দুল মজিদ, সুলতানা লায়লা, কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস সূচি প্রমুখ।   অনুষ্ঠানে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।   বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফল শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা হলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।   শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের সংবর্ধনা তাদের আগামী দিনের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভালো ফল করার আগ্রহ তৈরি হবে।  

অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের আয়োজনে রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর এসব কর্মসূচি পালিত হয়।   বেলা ১১টার সময় স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট  চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে রিসোর্টের পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও কেক কাটা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   খায়রুল গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আলহাজ খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খায়রুল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুল ইসলাম মান্না সরদার। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সিইও মুনেম তাজ‌ওয়ার অহিন, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।   সভাপতির বক্তব্যে খায়রুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পর্যটন খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন সম্ভাবনাগুলো ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পদ্মার খবর পত্রিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রিংকু, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক হ্যালো ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজাউল করিম ফেরদৌস, দৈনিক আগামীর সময়ের প্রতিনিধি শিশির মাহমুদ, গ্রীন টিভির প্রতিনিধি তুহিন হোসেন, এস টিভির প্রতিনিধি সবুজ দেওয়ান, সাংবাদিক খায়রুল বাশার মিঠু, সিয়ামসহ অন্যরা।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিসোর্টের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) রোহান খান। কর্মসূচিতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।  

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাড়ি থেকে বের হয়ে মো. হোসাইন প্রামানিক (১৩) নামের এক কিশোর নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার কিশোরের বাবা মো. রিয়াজ প্রাং বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৫৫৫) করেছেন।   নিখোঁজ কিশোর হোসাইন প্রামানিক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা এলাকার বাসিন্দা এবং সাহাপুর মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মক্তোব বিভাগের ছাত্র।   পুলিশ এবং ওই কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকেলের দিকে হোসাইন মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন।    ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে এবং তার সন্ধানে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পিস্তল, ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পিস্তল, ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার পাকশী বাজারপাড়া এলাকায় ঈশ্বরদী থানা ও পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।   আটক ব্যক্তিরা হলেন পাকশী বাবুপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ছেলে মো. তানজিরুল ইসলাম (৩০) এবং পাকশী স্কুলপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. সজীব (২৮)।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পাকশী বাজারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানজিরুল ইসলাম ও সজীবকে আটক করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তানজিরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি পিস্তল ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।অভিযানে এসআই শরীফুল ইসলাম, এএসআই মো. হাফিজুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।   ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, আটক দুজনের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারায় এলাকাবাসী

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগর এলাকায় সম্প্রতি অপরাধমূলক তৎপরতা ও ডাকাত আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে রাতের আঁধারে মুখ ও চোখ বাঁধা এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত একটি সংঘবদ্ধ দলের সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।   পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকার প্রবেশপথ ও অলিগলিতে যুবকদের সমন্বয়ে নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে দিতে বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।   মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি আক্কেল মালিথা, শেখ মজনু, সোলেমান মন্ডল, আব্দুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস সানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় পাহারার পাশাপাশি স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।   ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, গোকুলনগর এলাকায় ডাকাত চক্রের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর এলাকাবাসীর পাশাপাশি পুলিশের টহলও জোরদার করা হচ্ছে। ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0