Breaking news

ইসরায়েল

ছবি : বিবিসির সৌজন্যে
ইরানে ‘জিবিইউ-৪৩/বি’ বোমা ছুড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৪৩/বি’ বা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) নিক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। মূলত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের লক্ষ্যেই এই বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্ররা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে যেকোনো সময় এই হামলা হতে পারে।   তবে বিশাল বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া বৃহৎ পরিসরে এই বোমার ব্যবহার হলে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এর আগে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএস-এর আস্তানা লক্ষ্য করে এই এমওএবি বোমা নিক্ষেপ করেছিল মার্কিন বাহিনী, যাতে ৯০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে ট্রাম্প এখন আপাতত আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কেননা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রিয়তা বেশ হ্রাস পেয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতেই এই যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল, যদিও তেহরান শুরু থেকেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক তৎপরতা স্থবির হয়ে পড়ায় বর্তমানে সামরিক অভিযান কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।  

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলকে ট্রাম্প প্রশাসন দিচ্ছে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ

গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই চালানে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ৪০ হাজারের বেশি বোমাসহ নানা ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং প্রোগ্রামের অধীনে এই চুক্তির সিংহভাগ ব্যয় বহন করা হবে।   নতুন এই সামরিক সহায়তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ-১১৭ সাধারণ বোমা। দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এই শক্তিশালী বোমাগুলো ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ এলাকা নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।   ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কায় ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এই ধরনের ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন।   গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বিপুল বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তীব্র বৈশ্বিক সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও দুটি বড় অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় ইতোমধ্যেই ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এই অব্যাহত সামরিক সহায়তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।  

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কাতারে হামলার কথা গর্বের সাথে স্মরণ করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সদর্পে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা স্বীকার করেন।   গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইসরায়েল ওই হামলা চালিয়েছিল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।   সাক্ষাৎকারে কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, গাজা যুদ্ধে তারা ইসরায়েলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে ওই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও ‘কাপুরুষোচিত আক্রমণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল দোহা।   পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন করে এই হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তা সত্ত্বেও নতুন এই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারাই গাজায় কাতারের মানবিক সহায়তার কোটি কোটি ডলার পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।   সমালোচকদের অভিযোগ, কাতারের দেয়া ওই অর্থ ব্যবহার করেই হামাস ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। হামাসকে অর্থায়নের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কাতার জানিয়েছে, তাদের সহায়তার অর্থ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।  

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন ও ইসরায়েলি ২০০ বিমান ধ্বংসের দাবি : ২০ প্রজন্ম লড়তে প্রস্তুত ইরান

সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে নিজেদের তৈরি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রুদেশের ২০০টিরও বেশি বিমান ধ্বংস করেছে ইরান। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর দেশটির ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা এই দাবি করেছেন।   প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেছেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তির এই অস্ত্রগুলো এতটাই অত্যাধুনিক ও গোপনীয় ছিল যে, হামলাকারীরা টেরই পায়নি কোথা থেকে তাদের বিমানে আঘাত হানা হচ্ছে। দেশের আকাশসীমা নিশ্ছিদ্র রাখতে বর্তমানে মরুভূমি, উপকূল ও পাহাড়সহ প্রায় ৩,৮০০টির বেশি দুর্গম স্থানে এসব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে।   আকাশপথে যেকোনো শত্রুবিমান বা ড্রোন শনাক্ত হওয়ামাত্রই তা নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম ইরানের এই ইউনিটগুলো। মাতৃভূমি রক্ষায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, প্রয়োজনে আগামী ২০ প্রজন্ম ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও প্রস্তুত রয়েছে আপামর ইরানি জনগণ।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। ওই ঘটনার পরপরই প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের ওপর পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল তেহরান।  

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা মেলামেশা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন, সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সহায়তা করবে।   এ-সংক্রান্ত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হলেও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না করলে এই চুক্তি আলোর মুখ দেখবে না। তবে ওয়াশিংটনের এ শর্ত শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ।   গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হলেও নতুন শর্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানান, ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া অসম্ভব।   সৌদি আরব আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহায়তা মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়; এর সঙ্গে ইসরায়েলকে মেনে নেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া সম্পূর্ণ অনুচিত। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

আগস্ট ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলিদের দেশত্যাগের হিড়িক, ধনীরা দুষছেন নেতানিয়াহুকে

  চলতি বছরের শেষভাগে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। তবে এর আগেই তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিকের দেশত্যাগের একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। মূলত উচ্চশিক্ষিত ও ধনী শ্রেণির মানুষরাই বেশি দেশ ছাড়ছেন।   কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশান্তরী হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০০, এর পরের বছর ৯১ হাজার ৫০০ এবং গত বছর প্রায় একই সংখ্যক নাগরিক দেশ ছেড়েছেন।   দেশত্যাগের এই ক্রমবর্ধমান ধারাকে ‘সুনামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করেছেন পার্লামেন্টের অভিবাসনবিষয়ক কমিটির প্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা গিলাদ কারিভ। তিনি এ সংকট মোকাবেলায় সরকারের চরম নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেশত্যাগের মূল কারণ উঠে এসেছে।   গবেষণার তথ্যমতে, বর্তমান সরকার যত বেশি ডানপন্থি নীতি গ্রহণ করছে, তত বেশি উচ্চশিক্ষিত ও বিত্তবানরা দেশ ছাড়ছেন। উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলিরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার দেশকে চরমপন্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে। তাঁদের আক্ষেপ, চিরচেনা সেই ইসরায়েল আর আগের মতো নেই।  

আগস্ট ২০, ২০২৬ 0
জে ডি ভ্যান্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের গোপন অর্থায়ন, অভিযোগ ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করতে ইসরায়েল গোপনে একটি প্রচারণায় অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বুধবার জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। ট্রাম্পের সাবেক প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেলের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রচারণার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। ভ্যান্সের দাবি, ট্রাম্পের ইরাননীতির পক্ষে কাজ করায় এই প্রচারণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'ক্লক টাওয়ার এক্স' নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি মূলত তরুণ রক্ষণশীলদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ঠেকাতে কাজ শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমন্বিত অপপ্রচার নজরে আসে। যদিও পারস্কেল দাবি করেছেন, মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা তাদের লক্ষ্য নয়। এ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0