চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, উদীয়মান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদেরা আলোচনা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘের মহাসচিব বক্তব্য রাখেন। তারা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। এই আয়োজনে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট সুশাসন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের সদিচ্ছা বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।
ধূমপান, বায়ুদূষণ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ৪৫ শতাংশ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বুধবার (১৮ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি হালনাগাদ নির্দেশিকা ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে আরও এক কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস জানিয়েছেন, এটি বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়; বরং সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। ডিমেনশিয়ার কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আলঝেইমার্স, যা মোট আক্রান্তের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, তামাক ও অ্যালকোহল সেবনের মতো অসংক্রামক ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে চললে এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা যায় বলে নতুন নির্দেশিকায় জোর দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধতা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে ফরাসি প্রিফেকচুরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দিতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট শনিবার এই সেবা দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবাসীরা সরাসরি পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী কমিউনিটি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক গত ১৫ মের আগে ইমেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। এ সময় গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, এর ফলে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের বৈধতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রশাসনিক বিভিন্ন সেবা সহজ, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদারভাবে প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আদাফ সার্ভিস প্লাস (ADAF Service Plus)। উত্তর প্যারিসের ওবারভিলিয়ে শহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওয়াদুদ তানভীর বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই আদাফ সার্ভিস প্লাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আদাফ সার্ভিস প্লাস ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিশ্বস্ত সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, আদাফ সার্ভিস প্লাসের মাধ্যমে আবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আবেদন, বসবাসের অনুমতিপত্র, জাতীয়তা, পারিবারিক ভিসা, সরকারি দপ্তরের আবেদনপত্র প্রস্তুত, অনুবাদসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় আদাফ একাডেমির মাধ্যমে ফরাসি ভাষাশিক্ষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের সফলতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইতালিতে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। নতুন রায় অনুযায়ী, কেবল শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেমে (এসআইএস) প্রশাসনিক সতর্কবার্তা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ২০২০ সালের ‘স্যানাটোরিয়া’ আবেদন সরাসরি বাতিল করা যাবে না। এখন থেকে প্রতিটি আবেদনকারীর কর্মসংস্থান, বসবাসের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, ঢালাওভাবে আবেদন বাতিলের পুরনো নিয়মটি ইতালির সংবিধানের সমতা ও ন্যায্য আচরণের নীতির পরিপন্থী। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আগে যাদের আবেদন অবৈধ প্রবেশের কারণে আটকে ছিল বা বাতিল হয়েছিল, তারা এখন ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে তা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বৈধতার সুযোগ পেতে পারেন। তবে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা গুরুতর অপরাধে জড়িতরা এই আইনি সুবিধা পাবেন না।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও দেশীয় ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঋতুরঙ্গ মেলা ২০২৬’। গত শনিবার স্থানীয় সালবাউ বর্নহাইম মিলনায়তনে জার্মান বাংলা চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মেলায় দেশীয় পোশাক, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা কামরুল আহসান সেলিম। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টলে জামদানি, দেশীয় পোশাক ও প্রসাধনীর পাশাপাশি ছিল নানা রকম বাঙালি খাবারের সমাহার। এমন আয়োজন প্রবাসে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী আঁখি হালদারসহ স্থানীয় শিল্পীরা। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে গুণী শিল্পী, সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধ সক্ষমতা যাচাই করতে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গত বুধবার ঘোষিত এই নতুন নীতি অনুযায়ী, ত্রিশোর্ধ্ব সেনাসদস্যদের জন্য পরীক্ষাটি বাধ্যতামূলক এবং কম বয়সীদের জন্য ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এটি নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হবে এবং কারও টেস্টোস্টেরন ঘাটতি থাকলে থেরাপি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সামরিক সদস্যদের সর্বোচ্চ শারীরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এই নির্দেশ এলো। তবে নারী সেনাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার নিয়ম কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রাকৃতিকভাবে নারীদের শরীরে টেস্টোস্টেরন প্রায় ৯০ শতাংশ কম থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করতে ইসরায়েল গোপনে একটি প্রচারণায় অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বুধবার জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। ট্রাম্পের সাবেক প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেলের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রচারণার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। ভ্যান্সের দাবি, ট্রাম্পের ইরাননীতির পক্ষে কাজ করায় এই প্রচারণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'ক্লক টাওয়ার এক্স' নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি মূলত তরুণ রক্ষণশীলদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ঠেকাতে কাজ শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমন্বিত অপপ্রচার নজরে আসে। যদিও পারস্কেল দাবি করেছেন, মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা তাদের লক্ষ্য নয়। এ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে জড়ালে সৌদি আরবের সব তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুথি সরাসরি এ হুঁশিয়ারি দেন। সম্প্রতি ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার পর চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ায় নতুন করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হুথি নেতা স্পষ্ট জানান, সানা বিমানবন্দরে হামলার বদলা হিসেবে তারা রিয়াদ বিমানবন্দরেও আঘাত হানবেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ ও ২০২২ সালেও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ফলে ইয়েমেন বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।