কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সদস্য সন্দেহে অভিযান চালিয়ে নতুন করে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশ ও ডিবি শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান চালায়। যেখানেই বখাটে ও উঠতি বয়সীদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থান লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয় ৬ ঘণ্টার এই সাঁড়াশি অভিযান। আটককৃতদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একই ধরনের অভিযানে জেলাজুড়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেকোনো অপরাধ সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে, অস্থিতিশলিতা তৈরি করে এবং মানুষের জীবনযাপনকে করে তোলে নিরাপত্তাহীন। তাই রাষ্ট্রের অন্যতম কাজ হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অপরাধ দমন করা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে না পারলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতেই পারে। মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্ব পালনের চাপও সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু পুলিশের ব্যর্থতা বা বিলম্ব কোনো নাগরিককে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার লাইসেন্স দেয় না কোনোভাবেই। অপরাধী কিংবা অপরাধী সন্দেহে কাউকে ধরে মারধর করা, গণপিটুনি দেয়া, হত্যা করা, বাড়িঘর ভাঙচুর কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া — এসবকে কোনোভাবেই জনতার বিচার বলা যায় না। এগুলো সরাসরি অপরাধ এবং বিচারবহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ড। অপরাধ দমনের নামে এমন কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর আত্মঘাতী। কেউ অপরাধী হতে পারে, তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকতে পারে, এমনকি প্রমাণও থাকতে পারে। কিন্তু তার অপরাধের বিচার করার অধিকার রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার। একজনকে রাস্তায় ফেলে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দিয়ে শাস্তি দেয়ার নাম বিচার নয়, সেখানে প্রতিশোধ, উন্মত্ততা ও শক্তির প্রদর্শনই প্রাধান্য পায়। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন একটি মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, অভিযোগ উঠলেই কেউ কেউ নিজেদের তদন্তকারী, বিচারক ও শাস্তিদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা ব্যক্তিগত অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে জনরোষ তৈরি করছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী যেমন পার পেয়ে যেতে পারে, তেমনি নিরপরাধ মানুষও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। একজন সন্দেহভাজনকে আটক করার প্রয়োজন হলে তাকে পালিয়ে যেতে না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়া যেতে পারে। তাকে নিরাপদে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়াই দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ। কিন্তু তাকে বেঁধে মারধর করা, অপমান করা কিংবা উত্তেজিত জনতার হাতে তার ভাগ্য ছেড়ে দেয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, কেউ কেউ অপরাধ দমনের নামে অপরাধ করেও নিজেদের নায়ক ভাবতে শুরু করেছে। অথচ একজন অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার নামে আরেকজন অপরাধী জন্ম হওয়ার মধ্যে কোনো নৈতিক মহত্ত্ব নেই। আইন ভেঙে আইন প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সহিংসতা দিয়ে সমাজে স্থায়ী শান্তি আনা যায় না। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগে দুর্বলতা দেখা দিলে জনতার হাতে বিচার তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা নিরপরাধ ও অপরাধীর মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করতে পারে না। সেখানে সন্দেহ প্রমাণে পরিণত হয়, গুজব সত্যের জায়গা দখল করে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা সহজেই জনরোষের রূপ নিতে পারে। যারা এসব কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উসকানি দেয়, প্রশ্রয় দেয় কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে নীরব থাকে, তাদেরও বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা পেশার সমস্যা নয়, এর অভিঘাত শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজকেই বহন করতে হয়। আজ যদি অন্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া হয়, কাল নিজের বাড়ি নিরাপদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। আজ যদি অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে জনতার হাতে তুলে দেয়া হয়, কাল একই পরিস্থিতিতে নিজেকেও পড়তে হতে পারে। আইনহীনতার আগুন কখনো শুধু প্রতিপক্ষের ঘর পোড়ায় না, একসময় তা সমাজের নিরাপত্তাকেও গ্রাস করে। রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর জন্যও এখানে বড় শিক্ষা রয়েছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, প্রভাবও নয়। কিন্তু একটি দেশে যদি আইনকে দুর্বল করে জনতার হাতে বিচার তুলে দেয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার শিকার একসময় সবাই হতে পারে। আজ যে শক্তিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, কাল সেই শক্তিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। একটি রাষ্ট্র তখনই নিরাপদ থাকে, যখন অপরাধী গ্রেপ্তার হয় আইনি প্রক্রিয়ায়, তদন্ত হয় প্রমাণের ভিত্তিতে, বিচার হয় আদালতে এবং শাস্তি নির্ধারিত হয় আইন অনুযায়ী। কোন ব্যক্তি অপরাধী আর কে নিরপরাধ, এই সিদ্ধান্ত উত্তেজিত জনতার হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। অপরাধীকে অবশ্যই ধরতে হবে। অপরাধের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ হতে হবে আইনসম্মত। গণপিটুনি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা প্রতিশোধমূলক সহিংসতা অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, এগুলো নতুন অপরাধের জন্ম দেয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করে। তাই এখনই রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয় হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া জরুরি — অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু জনতার হাতে বিচার নয়। অপরাধীর পক্ষ নেয়া যেমন অন্যায়, তেমনি অপরাধ দমনের নামে আইন ভাঙাও সমান অন্যায়। মনে রাখতে হবে, আইন দুর্বল হলে শুধু অপরাধী বাড়ে না, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতাও মানুষের মধ্যে জন্ম নেয়। আর সেই প্রবণতা একসময় সমাজের প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। পরিশেষে বলব, আমরা কি আইনের শাসনে পরিচালিত একটি রাষ্ট্র চাই, নাকি উত্তেজিত জনতার সিদ্ধান্তে চলা এক অনিরাপদ সমাজ — সিদ্ধান্তটি এখনই নিতে হবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে, কিন্তু রাষ্ট্রের কঠোরতার জায়গা কখনোই জনতার সহিংসতা দখল করতে পারে না। অপরাধ দমন হোক আইনের পথে, জনতার হাতে নয়।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে সুমন হোসেন (৩০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখে রাত প্রায় ৪টার দিকে বাড়ি ফেরেন সুমন। দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। নিহতের স্ত্রী জানান, রাত ৪টার দিকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো?’ এরপর সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রী মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিহত সুমন দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৮) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামের মাইজ্জা মিয়ার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রায়হান ওই বাড়ির আব্দুল বারেকের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে ভোররাতে বাড়িতে ফিরলে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বাইরে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরে স্ত্রী ঘরে ফিরে স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা এবং মরদেহ গুমের দায়ে মো. রুবেল (সবজি বিক্রেতা) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ (৪) (খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরবর্তীতে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা আয়নী নিখোঁজ হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করলেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিল এলাকার ওই মাছের ঘের থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘেরের মালিক কেসমত আলী টংঘরের বাতি নেভাতে গিয়ে পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি বাটন মোবাইল ফোন, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় সুমন তাদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত রাকিবুল পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে এবং স্থানীয় ‘রিক’ নামক একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনজিওকর্মী রাকিবুল ইসলাম রাধানগর কলোনী এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান। এ সময় মো. জুয়েল মিয়ার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে রাকিবুল ঘরে ঢুকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ভোলাহাট থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাশী ইউনিয়নের কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক ইলিয়াস খান (২৬) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর এলাকার রাসেল (৪২) এবং কামারখন্দ উপজেলার সোহেল খান (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রাতে কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইলিয়াস খান গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রতন আলী খান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে এবং জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইলিয়াস খান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং মূল অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সিয়াম ধারালো ছুরি দিয়ে ইলিয়াসের বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক সিয়ামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।