Breaking news

শিশু ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি
১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা : নবজাতকের সাথে মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য জানা গেছে এবং প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের হাতে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে এবং আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়ত এবং তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে আসেন। পরে ১৮ এপ্রিল একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মামলা করলে ৬ মে র‍্যাব অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।   আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় এবং ২৯ জুলাই নবজাতক ও মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে আসামি কারাগারে আছেন এবং নবজাতকসহ শিশুটি সিলেটের সেফ হোমে রয়েছে।  

আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাসুদ রানাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর গ্রামে ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর নানী মোছাঃ হোসেনে আরা বেগম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মদনকে (৫০) পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার কান্দিপাড়া গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে।   এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় বহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শিশুটি অভিযুক্ত মাসুদ রানা মদনের মেয়ের কাছে প্রাইভেট পড়ার পাশাপাশি তাঁদের বাড়িতে খেলাধুলা করতে যেত।   গত ৩১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে শিশুটি অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে খেলাধুলা করতে যায়। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মাসুদ রানা মদন শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর শোয়ার ঘরে নিয়ে যান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে কঠোর ভয়ভীতি দেখান তিনি।   ঘটনার পরদিন ১ আগস্ট বিকেল ৪টার সময় শিশুটির শরীরে প্রচণ্ড জ্বর আসে। শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে তার নানি তাকে চিকিৎসার জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের সামনে এবং উপস্থিত সাক্ষীদের (মোছাঃ রাবেয়া খাতুন ও মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার রিকি খাতুন) সামনে শিশুটি তার সাথে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দেয় এবং গোপনাঙ্গে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।   ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার গোপনাঙ্গে রক্তক্ষরণ ও নির্যাতনের আলামত নিশ্চিত করেন।   উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করার পর ঈশ্বরদী থানার পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মদনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।   ভুক্তভোগী শিশুর নানি বলেছেন, “আমার অবুঝ নাতনিকে টাকার লোভ দেখিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এই নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিশ্চিত করে থানায় এজাহার দিয়েছি। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"   ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত মাসুদ রানা মদনকে হেফাজতে নিয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

আগস্ট ২, ২০২৬ 0
ভোলাহাটে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনজিওকর্মী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত রাকিবুল পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে এবং স্থানীয় ‘রিক’ নামক একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনজিওকর্মী রাকিবুল ইসলাম রাধানগর কলোনী এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান। এ সময় মো. জুয়েল মিয়ার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে রাকিবুল ঘরে ঢুকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ভোলাহাট থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0