ভগবানগোলা মুর্শিদাবাদ জেলার একটি প্রাচীন জনপদ ও নদীবন্দরের নাম। এই জনপদ ও বাজারটির অবস্থান নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে। কেউ বলছেন, আঠারো শতকের ভাগীরথীর পূর্ব তীরের এক সমৃদ্ধ কিংবা প্রধান নদীবন্দর। আবার কেউ বলছেন, এটা আঠারো শতকের পদ্মা নদীর পশ্চিম তীরের একটি বিশাল বাজার কিংবা জনপদ। আসলে বন্দরটি আঠারো শতকেই গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পদ্মা নদীর পশ্চিম তীরে যে এই জনপদ বা নদী বন্দরটি গড়ে উঠেছিল, তা অনেকেই জোরালো অভিমত প্রকাশ করেছেন। আরেকটি পক্ষের অভিমত স্থানটি আজকের চরলবণগোলা অর্থাৎ পদ্মার পূর্ব তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। ১৭৪০ সালে মারাঠারা চারবার লুণ্ঠন চালালে জনপদটি ধ্বংস হয়ে যায়। জনপদটিকে কেউ কেউ আলাতলী বলেও চিহ্নিত করেছে। চর্যাপদ খ্যাত গোবিন্দ দাসের শ্রীপাঠে একটি প্রাচীন মন্দির ছিল। মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল ভূধর কিসমত মৌজার তেলিয়া বুধুরিয়ায়। প্রাচীন জনপদ ও মন্দিরটির আজ আর কোনো অস্তিত্ব নেই। নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে ভগবানগোলা রেলস্টেশনের অদূরে আম্রকাননের ছায়াতলে। জনশ্রুতি আছে, হুসেন শাহের রাজত্বকালে মুকসূদন দাস নামক জনৈক নানকপন্থী এক সন্ন্যাসী মুর্শিদাবাদে আসেন। তাঁর ভাবশিষ্য ভগবান দাস পদ্মাতীরে রঘুনাথের মন্দির এবং একটি গোলা বা বাজার গড়ে তোলেন। অনেকের মতে, এই ভগবান দাসের নামানুসারে জনপদটির নাম ভগবানগোলা।১৬০০ শতক থেকে এই জনপদের পত্তন হয়। অর্থাৎ বাংলায় মোগল শাসন প্রবর্তনের সময়কালে। ‘আইন -ই-আকবরী’তে সরকার মাহমুদাবাদের অন্তর্গত ভগবানগোলার নামোল্লেখ রয়েছে। এই বন্দর-বাজার থেকে নৌকায় করে তুলো, চাল, রেশম, শস্য, ঘি, তেল ও পণ্যসামগ্রী কেনা-বেচা চলত। এসব পণ্যসামগ্রীর বিদেশের বাজারগুলোতে প্রচুর চাহিদা ছিল। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই বাজার ও নদীবন্দর থেকে বাৎসরিক ত্রিশ লাখ টাকার শুল্ক আদায় হতো। প্রসঙ্গত, নবাব আলীবর্দীর শাসনামলে জনপদটি ও বন্দরটি চরম উন্নতির শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তাঁর আমলেই বর্গীরা চারবার আক্রমণ করলে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। স্থায়ী সামরিক সেনা ছাউনির ব্যবস্থা করেও তা রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া ভগবানগোলার সমৃদ্ধি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯ শতকের প্রথম দিকেই পদ্মার প্রবাহ প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে সরে যায় এবং এই জনপদের বাণিজ্যও শেষ হয়ে যায়। ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে এই জনপদ ও নদীবন্দরের নাম উল্লেখ আছে। ইতিহাস স্বীকৃত ৬০০ মণের বজরা নদীবন্দর দিয়ে যাতায়াত করত। এবং সব সময় দেশি-বিদেশি বণিকরা তাঁদের পণ্য পরিবহন নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বিশ্বখ্যাত নদীবন্দর বা ব্যবসা কেন্দ্রটির অস্তিত্ব না থাকলেও ইতিহাসের পাতায় ঠিকই জায়গা আছে। আজকের ভগবানগোলাকে মনে হয় হতশ্রী। কিন্তু আঠারো শতকে জনপদটি ছিল নগরসভ্যতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। নবাব আলীবর্দী খান বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করলে এই জনপদের বিশাল উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এই নদীবন্দর থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অতি সহজেই যোগাযোগ করা যেত, এমনকি বিদেশেও। নদীবন্দরটি খাদ্যশস্য ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। গঙ্গা নদী মুর্শিদাবাদ জেলাকে দুভাগে ভাগ করেছে, রাঢ় ও বাগড়ী। এ ছাড়া আরেকটি বিভাগের নাম ভড়। বাগড়ী ক্রমশই নিচু হয়ে পদ্মাকে স্পর্শ করেছে। নরম পলিমাটি যুক্ত হওয়ায় নদীগুলো বহুবার খাত পরিবর্তন করছে। এই বিভাগটি প্রধানত লালগোলা, ভগবানগোলা, জলঙ্গী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হন এবং নৌকাযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে গোপনে রাজমহলের দিকে রওনা হন এই ভগবানগোলা জলপথে। অবশ্য মালদহের কাছে সিরাজ ধরা পড়েন এবং বন্দী করে আবার মুর্শিদাবাদে নিয়ে এসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আলাতলী ধ্বংস হলে পত্তন হয় নতুন ভগবানগোলার। এখনকার ভগবানগোলা কোনোমতেই তখনকার ভগবানগোলার সমকক্ষ নয়। তবে এখানে রেলস্টেশন, উচ্চ বিদ্যালয়, ডাকঘর, থানা ও বালিকা বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। সরকার বাহাদুরের কাছে বর্তমান বাসিন্দাদের একটি মহাবিদ্যালয়ের দাবি। আমিও সরকার বাহাদুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ভগবানগোলা ভাগীরথী, পদ্মা ও ভৈরব এবং দামোসবেষ্টিত। এখানকার মাটি দোঁয়াশ, বেলে ও উর্বর। অনেক খাল দৃশ্যমান। বটতলা, বরসাতিগোলা, মহেশ নারায়ণগঞ্জ, রামবাগে প্রতিদিন সবজির বাজার বসে। এ ছাড়া পশুর হাট বসে। বৈশাখ মাসে খাতরের মেলা হয়। কেদার স্মৃতি পাঠাগার সকলের নজর কাড়ে। ভগবানগোলায় সিরাজের ধরা পড়ার ইতিহাস জড়িত। আজ এই জনপদের সেই জৌলুশ নেই। আগের সব স্মৃতি মুছে গেছে। নদীবন্দরটিতে একসময় বণিকদের আস্তানা গড়ে উঠেছিল। জৌলুশ থাকুক আর না থাকুক, তবুও বিভিন্ন কারণে ইতিহাসের পাতায় চিরশাশ্বত থাকবে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।