বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকেট আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কেনার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ট্রাভেল এজেন্সি কিংবা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মুখাপেক্ষী না হয়ে যাত্রীরা সরাসরি টিকেটের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ ভিসা থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই সুবিধা পাবেন। যেসব এয়ারলাইনসের লেনদেন দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেটেলমেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় অথবা যাদের দেশীয় ব্যাংকে মুদ্রা সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই, তারাও এই নিয়মের আওতায় আসবে। নতুন সুবিধাটি গ্রাহকের বার্ষিক নির্ধারিত ‘ভ্রমণ কোটা’র হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে টিকেট ক্রয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে গ্রাহকের কার্ডের ব্যালেন্স পুনরায় সমন্বয় বা রিফিল করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী ব্যাংকের থাকবে।
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি। সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও তা লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অবস্থান বজায় রেখেছে। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশে বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির পর্যালোচনায় উঠে আসে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্য সূচকের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কামাল মুজেরীসহ কমিটির অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড স্পর্শ করল। দেশীয় মুদ্রায় বিদেশি ঋণও ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র থেকে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ধার করে সরকার। অথচ বাজেটে এ খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঋণ নেয়ায় বছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পাল্লা অস্বাভাবিক ভারী হয়। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদেশি ঋণও, যার পরিমাণ গত মার্চ মাসেই পৌঁছেছে ৯১ বিলিয়ন বা ৯,১০০ কোটি ডলারে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে যা দেশীয় মুদ্রায় ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ফলে দেশি ও বিদেশি উৎস মিলিয়ে সরকারের কাঁধে এখন প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে, যা উভয় দিক থেকেই প্রায় সমান অবস্থায় পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে সুদের বোঝা টানতে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে কেবল সুদ পরিশোধের খাতেই ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হয়েছে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সতর্কবার্তা—নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো দায় পরিশোধের এই প্রবণতা দেশকে বিপজ্জনক ঋণঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের সিংহভাগই এখন ব্যাংক খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে, যেখানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে নেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অনিয়ম ও দুর্বল অবস্থার কারণে অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারের ঋণপ্রাপ্তি কমেছে, পাশাপাশি মুনাফা কমায় সঞ্চয়পত্রেও ভাটা পড়েছে। এ সংকট কাটাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর ওপর তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দেশের সব ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এখন থেকে এন্ট্রি বা প্রবেশ পর্যায়ে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেয়ার বিধান করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মী নিয়োগ এবং ভুয়া সনদের প্রমাণ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মরত সব কর্মীর সনদ যাচাই শেষ করতে হবে এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে হবে। কারও সনদ জাল প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ রিপোর্ট করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বলা হয়েছে, ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, সিনিয়র অফিসার বা ক্যাশ অফিসারের মতো যেকোনো এন্ট্রি পদের নিয়োগে নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কেবল সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকেই ব্যাংকে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম প্রতিযোগিতামূলক মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি ব্যাংককে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়ন করে আগামী মার্চের মধ্যে নিজ নিজ পর্ষদে অনুমোদন করাতে হবে। নতুন এই নীতিমালায় কর্মী নিয়োগ, স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধা এবং কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। পাশাপাশি হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত এবং দাপ্তরিক গোপনীয়তা রক্ষার মতো বিষয়গুলোও নীতিমালায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকৃত ভ্রমণজনিত চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে রোববার ৬ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলো এখন থেকে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও নাগরিকদের প্রয়োজন বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই সীমা বাড়ানো হলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ ১২ বছরের কম বয়সী শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা পাবে। মোট ভ্রমণ কোটার পরিমাণ বাড়ানো হলেও নগদ ডলার বহনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে বর্ধিত সীমার আওতাতেও একজন যাত্রী নগদ বা নোট আকারে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ বা ৬ হাজার ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাব্যবস্থায় এটি একটি বড় শিথিলতা। এই পদক্ষেপের ফলে পর্যটন, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও অন্যান্য অনুমোদিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে আরও বেশি সুবিধা তৈরি হবে।
তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিটে থাকা প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রার আমানত দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তরের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার ৪ আগস্ট জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এই তহবিল থেকে পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ও ভোক্তা ঋণ দেয়া যাবে। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানান্তরিত এসব অর্থ দিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধনের জোগান দেয়া যাবে। এ ছাড়া সাধারণ ব্যক্তি, প্রবাসী বা তাঁদের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানিকেও পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওযায় ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিটে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ও তারল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের অনেক ব্যাংক ঋণ বিতরণে তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে বলে অলস পড়ে থাকা এসব অর্থের যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সাধারণত উচ্চ হারে মুনাফা দিতে হয়, যা অফশোর ইউনিটে অলস পড়ে থাকলে নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোকে লোকসান গুনতে হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো এসব অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে আয় করতে পারবে এবং সেই আয় থেকে সহজেই প্রবাসীদের মুনাফা মেটাতে সক্ষম হবে।
বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন যেমন কমবে, তেমনি জাল ও ছেঁড়া নোটের ভোগান্তি থেকেও মুক্তি মিলবে। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘বাংলা কিউআর রিলস মেকিং’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর জানান, গত ১ জুলাই থেকে দেশের লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এটি একদিকে যেমন লেনদেনের গতি বাড়াবে, অন্যদিকে আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশেও দ্রুত বাড়ছে। সব ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআরের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নগদ অর্থনির্ভরতামুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলা কিউআর সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই রিলস মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।