সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেয়া এবং সুশাসন ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (CSO) প্রতিনিধিদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ৫ অক্টোবর উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে (নিমগাছী, রায়গঞ্জ) ‘নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও সুশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ (ECSAP) প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ (ব্রেড)-এর আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, উই ক্যান ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় সভাটি পরিচালিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ) ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব কাফি আল আজাদ। ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনাখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মিঞা। সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং আইনি সচেতনতা বাড়াতে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও স্থানীয় সিএসও প্রতিনিধিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবুজর গিফারী, ব্রেডের অ্যাকাউন্টস অফিসার আবুল কালাম আজাদ, প্রকল্প অফিসার সোলাইমান শেখ, সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও সুশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ‘মতবিনিময় সভা ও গণশুনানি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার অষ্টম মনীষা ইউনিয়নের হলদার পাড়ায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটি স্কোরকার্ড ও গণশুনানি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বুলবুলি সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শামীম হাসান। তমা কর্মকারের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আশিকুর রহমান, সাংবাদিক আবুজর গিফারী ও কমিউনিটির সদস্য পূজা সুত্রধর। মতবিনিময় সভা ও গণশুনানিতে অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে বক্তব্য দেন সাধনা হলদার, নূপুর সিং, কৃষ্ণা রায়, জয়া হালদার, তাপসী সুত্রধর, আশা দাশ, পিয়া দাশ, তুলসী সরকার, দেবী হালদার প্রমুখ।অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ব্রেডের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ। ‘নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও সুশাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ রুরাল ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড)। সহযোগিতায় ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, উই ক্যান বাংলাদেশ এবং খ্রিস্টান এইডের মতো বিভিন্ন সংস্থা এতে অর্থায়ন ও সহায়তা করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি সেবার মান বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মাঝে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও সুশাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার, সেবাপ্রাপ্তি ও উন্নয়নবিষয়ক উপজেলা সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সভাকক্ষে বাংলাদেশ রুবাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ব্রেডের আয়োজনে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমন্বয় সভার সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শামীম হাসান, আইসিটি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান শাহীন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কাউসার আহমেদ, খানমরিচা ইউনিয়ন আদিবাসী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রনজিত কুমার বসা ও পূর্জা সূত্রধর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ব্রেডের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর (এলজিআই) সঙ্গে অ্যাডভোকেসি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল। সভায় ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গ্রামের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ অংশ নেন। সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজসেবাকর্মী নূর-ই-শাহরিন বলেন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কাছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল বলেন, “সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্যে ব্রেডের সঙ্গে সমন্বয় করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পেতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সমন্বয় এবং অংশগ্রহণ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় আরও বক্তব্য দেন অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজামেল হক মোজাম। উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন হেলথ ওয়ার্কার ফিরোজা শারমীন, গ্রাম আদালতের মো. মানিক হোসেন, ভিজিডি কর্মসূচির সালমা পারভিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ‘খ্রিস্টান এইড ও আমরাই পারি’র সহযোগিতায় বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড) সভাটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আশিকুর রহমান। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ব্রেডের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।