Breaking news

ফ্রান্স

ছবি : সংগৃহীত
সহিংস বিক্ষোভ দমনে ফ্রান্সে কারফিউ জারি করেছে সরকার

সহিংস বিক্ষোভ ও ব্যাপক লুটপাটের মুখে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে কারফিউ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দ্যু লা রিপাবলিক, লে আল শপিং এলাকাসহ নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মানুষের চলাচল ও বিনা অনুমতিতে জমায়েতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, লিওঁ, লিল ও দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরেও তরুণদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   সোমবার এই জরুরি নির্দেশনা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি অভিযোগ করেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সড়ক ব্যারিকেড ও সহিংসতা দ্রুত থামানোর নির্দেশ দেন।   মূলত জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও শিক্ষক সংকট নিয়ে গত মাসে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ দ্রুতই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। চলতি সপ্তাহে তা রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়; দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ বিক্ষোভকারী মাঠে নামলে ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী এই পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি আইনের আওতায় কারফিউ জারির পাশাপাশি রাস্তায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিয়ে দেশে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।  

অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স : চার শতাধিক আটক, আহত অর্ধশতাধিক

শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সে জেন-জির বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলনে অন্তত ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দিনভর চলা সংঘর্ষে পুলিশ, শিক্ষকসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।   প্যারিসের বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। বিক্ষোভের সময় বেশ কিছু এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে; বিপরীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ জন সদস্য আহত হন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক হওয়া ৪৪০ জনের মধ্যে অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে দাবি করেছেন, পুলিশ যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি চাকরিজীবী কর্মবিরতি পালন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালিত : SAF-এর আয়োজনে দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণ

পরিবেশ সুরক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার সামাজিক বার্তা নিয়ে ফ্রান্সের সেন্ট দেনিস শহরে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস ২০২৬। রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে Solidarités Asie France (SAF)-এর উদ্যোগে এবং Mairie de Saint-Denis-এর সহযোগিতায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির ২৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন SAF-এর সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা। কর্মসূচির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দেন Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্যানেলের Nora Bensalah, Maire Adjounte, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত Nahidul Muhammad এবং মেইরির অন্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা। কর্মসূচি চলাকালে নয়ন এনকে বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার মতো সামাজিক উদ্যোগকে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম আমরা ভবিষ্যতে আরও করব। তবে শুধু বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসেই নয়, প্রতিদিনই আমাদের নিজ নিজ এলাকা ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি আমাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko SAF-এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে SAF-এর সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন। মেয়র ও মেইরির কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পুরো কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বার্তাও তুলে ধরে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের এ কর্মসূচিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুরো কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক ধারণ ও নথিভুক্ত করেন। এ সময় Mairie de Saint-Denis-এর পক্ষ থেকেও একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এবং আয়োজকদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। SAF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস উপলক্ষে সেন্ট-দেনিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সচেতন নাগরিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্বের একটি বার্তা তুলে ধরেছে।  

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে ৭৬ বছরের ভয়াবহতম দাবানল অবশেষে নিয়ন্ত্রণে

দীর্ঘ এক সপ্তাহের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেল ফ্রান্সবাসী। ১৯৪৯ সালের পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ নেয়া দাবানলটি এখন অনেকটাই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।   আটলান্টিক উপকূলীয় গিরোন্ড অঞ্চলের সুবিশাল পাইন বন থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনে বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের তীব্র দাবদাহে নদী-নালা ও গাছপালা শুকিয়ে যাওয়ায় আগুন খুব দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।   পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা এই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার জন্য মূলত মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকেই দুষছেন। বর্তমানে আগুন নতুন করে ছড়ানো বন্ধ হলেও সতর্কতা হিসেবে কিছু জায়গায় থাকা ছোটখাটো আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। আশার কথা হচ্ছ, নিরাপত্তার স্বার্থে যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তারা এখন ধীরে ধীরে নিজেদের ফেলে আসা ঠিকানায় ফিরতে শুরু করেছেন।  

আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
ইউরোপের তিন দেশে ভয়াবহ দাবানল
তীব্র তাপদাহে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে ভয়াবহ দাবানল

ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে স্পেন, ফ্রান্স এবং ইতালির বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ ইউরোপের কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেক পার হতেই দাবানলে পোড়া এলাকার পরিমাণ গত দুই দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছে। আগুন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন তিন ফায়ার সার্ভিস কর্মী। খবর এফপির ইতালির সিসিলি দ্বীপে আগুন নেভাতে প্রায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখানে উদ্ধারকাজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি স্থানে আগুন জ্বলছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লে পর্জ এলাকায় গত বুধবার থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে প্রায় ২,৪০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। বোর্দোর নিকটবর্তী পাইনবন থেকে বৃহস্পতিবার ১০ সহস্রাধিক পর্যটককে নিরাপদে সরানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আগুন নেভাতে গিয়ে দুজন ফায়ার কর্মী প্রাণ হারান। এদিকে, স্পেনে মাদ্রিদের দক্ষিণাংশের দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরও একটি বিশাল দাবানল নেভাতে কাজ করছেন শত শত ফায়ার সার্ভিস কর্মী, যেখানে এরই মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে।  

জুলাই ২৪, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে উচ্চ শিক্ষা
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া বা নবায়নের জন্য প্রতি মাসে অন্তত ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরো আয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়ম ছাড়াও বাড়তি টিউশন ফি ও আবাসন সহায়তা বাতিলের মতো কঠিন শর্ত আরোপ করেছে ফরাসি সরকার। আগে এই আর্থিক শর্ত ছিল ৬১৫ ইউরো, যা ২০০২ সালের পর এই প্রথম বাড়ানো হলো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরি (স্মিক) বাড়লে এই আর্থিক সীমার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া ‘চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন’ পরিকল্পনার আওতায় অ-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি বৃত্তিহীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা (এপিএল) বাতিল করা হয়েছে। সরকারি এসব সিদ্ধান্তের লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার মান ও আর্থিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা হলেও, ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্যারিসে প্রবাসীদের বৈধতা পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধতা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে ফরাসি প্রিফেকচুরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দিতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট শনিবার এই সেবা দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবাসীরা সরাসরি পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী কমিউনিটি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক গত ১৫ মের আগে ইমেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। এ সময় গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, এর ফলে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের বৈধতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0