চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় নিয়মিত সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বারবার সমন পাঠানোর পরও তাঁরা উপস্থিত না হওয়ায় বহু মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত এসব সদস্যকে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে ১৮টি চিঠি পাঠিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের তালিকায় কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারকাজ আটকে আছে কেবল সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে নোয়াখালীতেও সম্প্রতি ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজিরের বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা বিশেষায়িত ইউনিটে বদলি হয়ে যাওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ। অনেক সময় পুরোনো কর্মস্থলে সমন পৌঁছানোর পর তা নতুন কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় এবং সময়মতো প্রশাসনিক ছাড়পত্রও মেলে না। ফলে বিচার কার্যক্রম মাসের পর মাস পিছিয়ে গিয়ে মামলার জট প্রকট আকার ধারণ করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, বরং সাক্ষীদের আদালতে আনা নিশ্চিত করার একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। আইনি বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মতে, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচারকাজে গতি আনতে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপস্থিত সাক্ষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
বেলকনিতে বসে গল্পের বই পড়ছিলাম। হঠাৎ রাস্তার দিকে চোখ পড়তেই একটি ঘটনা চোখে পড়ল।কয়েকজন লোক একটা মেয়েকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমার বিষয়টা একটু সন্দেহজনক মনে হলো। তাই আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের পিছু নিলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখি তারা মেয়েটিকে একটি বাড়িতে নিয়ে গেল। আমিও গেলাম লুকিয়ে লুকিয়ে। এরপর দেখলাম তারা মেয়েটিকে বারান্দায় বেঁধে রেখে রুমে চলে গেল। মেয়েটি একটু অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। মেয়েটি বলছিল, “আমার খিদে লেগেছে।” আরও অস্পষ্টভাবে শুনতে পেলাম, “আমাকে মরফিন দাও।” আমি দৌড়ে গেলাম মাঠের দিকে। গিয়ে দেখি হাবলু আর বাবলু মাঠে বসে আছে। চিৎকার করে ডাক দিতেই হাবলু বলল— কী হয়েছে নিলু? এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন? বাবলু পানি এনে বলল— এটা খা আগে। তারপর শান্ত হয়ে বলিস কী হয়েছে? আমি পানি খেয়ে কিছুক্ষণ শ্বাস নেয়ার পর পুরো ঘটনা খুলে বললাম। ওরা শুনে একটু অবাক হলো। ওদেরও মেয়েটিকে দেখার খুব ইন্টারেস্ট জাগল। ওদের নিয়ে গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখি, মেয়েটি এখনো বাঁধা আছে। বাড়িতে লোকজনের সাড়াশব্দ নেই। আমরা তিনজন বাড়িতে প্রবেশ করেই দেখি, মেয়েটি আমাদের দিকে পেত্নীর মতো তাকিয়ে আছে। আমরা মেয়েটির শরীরে বাঁধা রশিগুলো খুলে দিলাম। বাড়ির লোকজন শব্দ পেয়ে ছুটে এল। তারা দৌড়ে এসে মেয়েটিকে ধরার চেষ্টা করে। আর আমরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। যখন দেখলাম যে মেয়েটি বেসিনে রাখা টুথপেস্ট, নেইল কাটার, টুথব্রাশ খাওয়ার জন্য মুখে ঢুকাছিল। কিন্তু লোকগুলো দেখা মাত্রই মেয়েটির হাত থেকে সেগুলো জোরজবস্তি করে কেড়ে নেয়। তারা মেয়েটিকে অনেক শক্ত করে ধরে রাখে। আমরা কিছু বলার আগেই একজন বয়স্ক মহিলা এসে বললেন— তোমরা কারা? এখানে কী করছ? হাবলু বলল— আমরা কে তা জেনে আপনাদের লাভ নেই। আগে বলেন আপনারা মেয়েটিকে জোরজবরদস্তি করে কেন বেঁধে রেখেছেন? আমরা মেয়েটির অভিভাবক। আমরা আমাদের মেয়েকে কী করব না করব, এটা আমাদের ব্যাপার। তোমরা কে? আমি বিস্মিত হয়ে বরলাম— আপনারা অভিভাবক! হ্যাঁ। কী হয়েছে মেয়েটির? সে এমন অখাদ্য বস্তু কেন গিলতে যাচ্ছিল? মরফিন-ডোপামিনের জন্য। মরফিন তো মাদকজাতীয় দ্রব্য! হ্যাঁ। আন্টি, আমরা তো আপনাদের কোনো কথায় বুঝতে পারলাম না। সবকিছু খুলে বলেন। ধমক দিয়ে একজন বাবার বয়সী লোক বলে উঠলেন— এই বাচ্চারা, এখানে কী করতে এসেছ? চুরি করতে এসেছ নিশ্চয়! বিল্লু এই বিল্লু পুলিশকে ফোন কর। আমরা কিছু বুঝতে না পেরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারা আমাদের বাইরে যেতে দিল না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হাজির হলো। পুলিশ এসে বলল— কী হয়েছে? এই যে এই বাচ্চাগুলো চুরি করতে এসেছিল। এদের ধরে নিয়ে যান। না না স্যার। আমরা চুরি করতে আসিনি। দেখতে তো ভদ্রঘরের সন্তানের মতো, কিন্তু স্বভাবে চোর চোর ভাব কেন? আমরা চোর নই। একজন দারোগা বললেন— স্যার, আমার মনে হয় এদের আরও অনেক বড় গ্যাং আছে। এদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। একদম ঠিক। ধরো ওদের। নিয়ে চলো থানায়। হাবলু আর বাবলু ভয় পেয়ে গেলেও আমার ভয় লাগছিল না। আমি জানতাম, আমরা কিছু করিনি। অতএব, ওরা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। তাই আমি কোনো সংকোচবোধ না করেই চলে গেলাম। থানায় আসার পর অফিসার বললেন— তোমাদের নাম কী? আমাদের সবার নাম বললাম। তোমরা কোন ক্লাসে পড়ো? ক্লাস টেনে। তোমাদের বাসা কোথায়? রোজ গার্ডেন। তোমাদের মাঠে গিয়ে এখন খেলার বয়স। তোমরা চুরি করো কেন? আমরা চুরি করি না। কারণ আমরা চোর নই। তাহলে ওই বাড়িতে কেন গিয়েছিলে? মেয়েটিকে বাঁচাতে। মানে? স্যার, আমি সব খুলে বলছি। শোনেন... সব শোনার পর তিনি বললেন— আচ্ছা, তাহলে এই কাহিনি! তোমরা কি জানো ওই মেয়েটি মাদকের প্রতি এডিকটেড? না স্যার জানি না। কিছুদিন আগে মেয়েটিকে আমরা বড় নদীর ব্রিজ থেকে মাতাল অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে মেয়েটির ফ্যামিলি এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরদিন কিছু কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য ফোন করলে জানতে পারি যে, মেয়েটির অবস্থা খুব সিরিয়াস। সে এখন হসপিটালে। আমরা হসপিটালে গেলে তার অভিভাবক জানায় যে, মেয়েটিকে তারা মাদকদ্রব্য থেকে দূরে রাখার জন্য বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু মেয়েটি অখাদ্য সব বস্তু অর্থাৎ নেইল কাটার, টুথপেস্ট ইত্যাদি গিলে ফেলে। এডিকশন লেভেল কী পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন সব জিনিস গিলতে পারে! কী ভাবছ? এসব উল্টাপাল্টা জিনিস খাওয়ার এডিকশন! মোটেও না। সার্জারি করার সময় ব্যথা উপশমের জন্য যে মরফিন ড্র্যাগ দেয়া হয়, সেটার স্বাদ আরেকবার পেতে টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, নেইল কাটারের মতো অখাদ্য বস্তু গিলতে শুরু করে মেয়েটি। যেন তাকে আরেকবার হসপিটালে গিয়ে সার্জারি করার সময়ে মরফিন ড্র্যাগ দেয়া হয়। জাস্ট আরেকটু মরফিনের আসায় আরেকটু ডোপামিনের আশায়। কী জীবনে সাথে মিলে যায়! রিলস, স্ক্রলিং, ধূমপান, মাস্টারবেশন, পর্নগ্রাফি... এসব শোনার পর আমার ইন্দ্রিয় শক্তির এডিকশনের প্রতি জঘন্যতম ঘৃণা জমে গেল। আমি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলাম না। পুলিশ অফিসার বললেন— তোমরা ছোট আছ। এখন থেকে সাবধান হয়ে যাও। আর মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো। তোমরা প্রতিরোধী হলে তোমাদের ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিল এলাকার ওই মাছের ঘের থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘেরের মালিক কেসমত আলী টংঘরের বাতি নেভাতে গিয়ে পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি বাটন মোবাইল ফোন, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় সুমন তাদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত রাকিবুল পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে এবং স্থানীয় ‘রিক’ নামক একটি এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনজিওকর্মী রাকিবুল ইসলাম রাধানগর কলোনী এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান। এ সময় মো. জুয়েল মিয়ার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে রাকিবুল ঘরে ঢুকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ভোলাহাট থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাশী ইউনিয়নের কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক ইলিয়াস খান (২৬) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর এলাকার রাসেল (৪২) এবং কামারখন্দ উপজেলার সোহেল খান (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রাতে কালিঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইলিয়াস খান গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রতন আলী খান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে এবং জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৬০টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (২০ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীজুড়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করে। ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানকালে রাজধানীর ট্রাফিক রমনা বিভাগে ১৩৫টি, লালবাগ বিভাগে ১৭৭টি, মতিঝিল বিভাগে ৩১৮টি, ওয়ারী বিভাগে ২৫৬টি, তেজগাঁও বিভাগে ৩৩০টি, মিরপুর বিভাগে ৩৩১টি, উত্তরা বিভাগে ৩১১টি এবং গুলশান বিভাগে ৩০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানকালে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৬৩৫টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশ কর্মকর্তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে তিনি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। সাইবার অপরাধসহ আধুনিক ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিয়ত নিজেদের আপডেট থাকারও কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এবারের সমাপনী কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারীসহ মোট ৫০০ জন শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইজিপি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবায় কাজ করার আহ্বান জানান। আইজিপি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবেলায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এসব ক্যাডেটরা দুই বছরের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।