পরিবেশ সুরক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার সামাজিক বার্তা নিয়ে ফ্রান্সের সেন্ট দেনিস শহরে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস ২০২৬। রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে Solidarités Asie France (SAF)-এর উদ্যোগে এবং Mairie de Saint-Denis-এর সহযোগিতায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির ২৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন SAF-এর সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা। কর্মসূচির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দেন Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্যানেলের Nora Bensalah, Maire Adjounte, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত Nahidul Muhammad এবং মেইরির অন্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা। কর্মসূচি চলাকালে নয়ন এনকে বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার মতো সামাজিক উদ্যোগকে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম আমরা ভবিষ্যতে আরও করব। তবে শুধু বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসেই নয়, প্রতিদিনই আমাদের নিজ নিজ এলাকা ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি আমাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে Saint-Denis-এর মেয়র Bally Bagayoko SAF-এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে SAF-এর সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন। মেয়র ও মেইরির কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পুরো কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বার্তাও তুলে ধরে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের এ কর্মসূচিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুরো কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক ধারণ ও নথিভুক্ত করেন। এ সময় Mairie de Saint-Denis-এর পক্ষ থেকেও একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এবং আয়োজকদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। SAF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস উপলক্ষে সেন্ট-দেনিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সচেতন নাগরিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্বের একটি বার্তা তুলে ধরেছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা সহজতর করতে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস নতুন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দূতাবাস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে বৈধতার আবেদনের জন্য প্রবাসীদের বিশেষ পাসপোর্ট সেবা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, ৩ জুন চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা প্রবাসীদের ভোগান্তি কমিয়ে পাসপোর্ট সেবায় স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। তিনি এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধার্থে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধতা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে ফরাসি প্রিফেকচুরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দিতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট শনিবার এই সেবা দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবাসীরা সরাসরি পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী কমিউনিটি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক গত ১৫ মের আগে ইমেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। এ সময় গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, এর ফলে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের বৈধতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রশাসনিক বিভিন্ন সেবা সহজ, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদারভাবে প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আদাফ সার্ভিস প্লাস (ADAF Service Plus)। উত্তর প্যারিসের ওবারভিলিয়ে শহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওয়াদুদ তানভীর বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই আদাফ সার্ভিস প্লাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আদাফ সার্ভিস প্লাস ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিশ্বস্ত সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, আদাফ সার্ভিস প্লাসের মাধ্যমে আবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আবেদন, বসবাসের অনুমতিপত্র, জাতীয়তা, পারিবারিক ভিসা, সরকারি দপ্তরের আবেদনপত্র প্রস্তুত, অনুবাদসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় আদাফ একাডেমির মাধ্যমে ফরাসি ভাষাশিক্ষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের সফলতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।