Breaking news

জামায়াতে ইসলামী

ছবি : সংগৃহীত
বিভিন্ন দাবিতে ৩১ অক্টোবর জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ

গণভোটের বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পূর্বনির্ধারিত সূচি বদলে এই লংমার্চের রুট বাড়িয়ে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। রবিবার রাজধানীর মগবাজারে বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।   নতুন সূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে। পথিমধ্যে ৫-৬টি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এই লংমার্চে অংশ নেবেন।   লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে অক্টোবরে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন লংমার্চের পরিসর বাড়িয়ে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখা হবে।

অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় : জামায়াতের আমির

দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত সব প্রতিষ্ঠানই এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রবিবার ৪ অক্টোবর রাজধানীর মধুবাগে জামায়াত আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন ও শেয়ারবাজার মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও খোদ রাজধানীতে দিনদুপুরে ও রাতে যেসব অপকর্ম চলছে, তাতেই সারা দেশের বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে।   সম্প্রতি বিমানবন্দরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। লাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যাগের মালামাল চুরির বিরুদ্ধে তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ সত্য ছিল।   আখতারুজ্জামানকে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও অপদস্থ করার তীব্র নিন্দা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে অপমান করা হয়েছে এবং আদালতে মারধরের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা : নিষিদ্ধ দলের নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলসহ কড়া বার্তা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।   জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ওপর ইসির নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। দলটির মতে, এটি সংবিধানের সমঅধিকার নীতির পরিপন্থি এবং দাবি না মানলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দ্রুত তার নিয়োগ বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।   ইসির ভূমিকা নিয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, কমিশন কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশ করেছে, যা স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে পরোক্ষ চাপের ইঙ্গিত দেয়। এদিকে স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের কৌশল নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় দল থেকে কাউকে সরাসরি মনোনয়ন দেয়া হবে না; প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে স্বতন্ত্রভাবে লড়বেন। জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো প্রভাব বা বাধ্যবাধকতা স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে থাকবে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।  

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া ছিল ২০২৪ : জামায়াত আমির

রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এক সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ নয়, বরং সামনের ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, মূল লড়াইয়ের আগে সেনাবাহিনীর মতো প্রস্তুতি নিতে হয়। ২০২৪ সালে যারা জেগে উঠেছিল, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি; বরং সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।   ফ্যাসিবাদকে একটি ছোঁয়াচে রোগ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে। তিনি সরকারকে এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, দেশের মানুষ কাউকে এ পথে হাঁটতে দেবে না। তিনি আরও বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে বিরোধী দল সমর্থন দেবে, কিন্তু অন্যায় করলে বা অধিকার কেড়ে নিলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা হবে।   এ ছাড়া দেশের পাসপোর্টের বর্তমান দুর্বল অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের ভাবমূর্তি জনগণের চরিত্রের সাথে জড়িত। দেশে বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে ওই জাদুঘর থেকে অতীতের বহু রাজনৈতিক নির্যাতনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।  

আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর চোখে গত ছয় মাসে সরকারের আট ব্যর্থতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম ছয় মাসে আটটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের প্রশ্রয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বড় বড় আমলা ও সচিবরা পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।   লিখিত বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার সরকারের সুনির্দিষ্ট আটটি ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বললেও ক্ষমতায় এসে তারা নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সীমিতকরণ বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো সংস্কারগুলো থমকে আছে। গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের কার্যকর পরিকল্পনার অভাব থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশনে মেধার বদলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ চলছে।   আইনশৃঙ্খলার অবনতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ১১০ দিনে দেশে ৬০৫টি খুন, ডাকাতি ও মব সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটেছে এবং দখল-চাঁদাবাজিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসছে। জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.১৬ শতাংশে দাঁড়ানোয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ব্যাংকিং খাতেও খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকটসহ চরম আস্থার অভাব রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে দলীয় হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংক লুটেরাদের বাঁচাতে গভর্নরের নির্দেশে আইনজীবী পরিবর্তন করার ঘটনা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।   পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত দুর্বলতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তা ছাড়া গুম প্রতিরোধ আইনেও উদ্বেগজনক ফাঁক রাখা হয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হয় এবং শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করা হয়। সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানসহ অন্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে জামায়াত নেতার গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিল এলাকার ওই মাছের ঘের থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘেরের মালিক কেসমত আলী টংঘরের বাতি নেভাতে গিয়ে পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি বাটন মোবাইল ফোন, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় সুমন তাদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0