কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতের একটি কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ওই রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আরও ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হতাহতদের সবাই পর্যটক হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ইতোমধ্যে ৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ ছাড়া আগুনে আরও বেশ কয়েকজন রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে গত ১২ দিনে এক অজ্ঞাত যুবকসহ মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গত রোববার (১৯ জুলাই) সকালে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন নাফ নদীর তীর থেকে বিকৃত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একের পর এক মরদেহ ভেসে আসার এই ঘটনাকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবি বা মানবপাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত সর্বশেষ মরদেহের আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ বছর। শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় যুবকের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মৃত যুবকের পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি। সাবরাং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, ধারাবাহিকভাবে এভাবে মরদেহ ভেসে আসার পেছনে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া দুটি ট্রলার নিখোঁজ বা ডুবে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ট্রলার দুটিতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গার পাশাপাশি কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের কিছু রোহিঙ্গাও ছিলেন। এর আগে, গত ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে ৩ জন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর ১০ জুলাই একই এলাকায় আরও একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ জানান, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক নাকি রোহিঙ্গা, তা নিশ্চিত হতে আইনি ও প্রযুক্তিগত সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল এবং আবহাওয়া বৈরী থাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশীদনগর ইউনিয়নের কদমর পাড়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের কয়েক হেক্টর বনভূমিতে একের পর এক পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অভিযোগ রয়েছে, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশেই এই দখলদারিত্ব চলছে। সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন। নির্দেশ অনুযায়ী মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে তা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই দখলদাররা পুনরায় স্থাপনাগুলো মেরামত করে নেয়। তদন্তে জানা গেছে, কদমর পাড়া এলাকায় বদিউল আলম ও শামসুল আলমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই দখলের নেপথ্যে রয়েছেন। এর পেছনে কালিরছড়া বিট কর্মকর্তা ও হেডম্যান হাফেজ আহমদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিট কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও হেডম্যান হাফেজ আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বনভূমি উজাড়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মো. মারুফ হোসেন জানান, বনভূমি দখলকারী যে-ই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কদমর পাড়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।