Breaking news

আব্বা

আব্বা

এক দরিদ্র আর নিরক্ষর বর্গাচাষি ছিলেন আমার আব্বা। কিন্তু প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন তিনি। স্বপ্ন দেখতেন দিন বদলের। তাই শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি মাথা উঁচু করে চলতেন। নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রাখত। এলাকায় তাঁর এই একাগ্রতার কদর তৈরি করেছিল৷ যার ফলে নিরক্ষর হওয়ার পরও সমাজের নেতৃত্ব তিনি সুকৌশলে করায়ত্ত করেছেন৷   আমরা অনেক কজন ভাই-বোন৷ ওই সময় তো পরিবার পরিকল্পনার বালাই ছিল না৷ তাই এখনকার মতো দুই সন্তানের পরিবর্তে পাঁচ-সাতজন সন্তানে ঠাসা পরিবার৷ আমরা চার ভাই, তিন বোন৷ সাত ভাই বোন৷ আব্বা তাঁর সামান্য রোজগার দিয়ে আমাদের সকলকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন৷ অবশ্য এটাও ঠিক যে আমরা সব ভাই-বোনই স্কলারশিপের টাকা আর টিউশনি করে পড়ার খরচ চালিয়েছি৷ এতে পরিবারের আর্থিক চাপটা লাঘব হয়েছে৷ একটা বিষয় অদ্ভুত! আব্বা-মা নিরক্ষর হলেও আমরা জন্মসূত্রে সকলে প্রচণ্ড মেধাবী৷ শিক্ষাজীবনে সবাই বোর্ড স্ট্যান্ড করা স্টুডেন্ট৷ এমনকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্টগুলোও অত্যন্ত ভালো৷ অনেকে মজা করে বলত, ‘বোর্ড স্ট্যান্ড ফ্যামিলি’৷ যার ফলে আব্বার সুপরিচিতি আর নেতৃত্বের পরিধি কমিউনিটি লেভেল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে৷   বর্তমানে আমরা সকলেই বিসিএস ক্যাডার৷ কেউ ডাক্তার, আর্মি অফিসার, পুলিশ অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, উপসচিব এবং রেলের কর্মকর্তা৷   সন্তানদের এই সাফল্য আর ক্ষমতা কেন যেন আমাদের সাদাসিধে ও সংগ্রামী আব্বাকে হিংস্র করে তুলল৷ তিনি তাঁর অতীত জীবনের ক্ষোভ আর অবহেলার প্রতিশোধ নেয়া শুরু করলেন৷ ধীরে ধীরে আব্বার নেতৃত্বের পরিধি সুসংহত হলেও হারিয়ে ফেললেন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা৷ এখন মানুষ ভয়ে থাকে কখন তাঁর হেনস্তার শিকার হয়৷ তাই সমঝে চলে৷ বিরুদ্ধাচারণ গোপনে চললেও কেউ মুখ খোলে না ভয়ে৷   আব্বার এখন অনেক বয়স৷ আগের মতো তাঁর বডি পারমিট করে না৷ আমরা তাঁকে অবসর জীবন কাটাতে বলি৷ প্রত্যেক সন্তানদের বাড়িতে বেড়িয়ে আসতে বলি৷ এতে ওয়েদার চেঞ্জের পাশাপাশি বিনোদন হবে, কিন্তু তিনি সায় দেন না৷ তাঁর এক কথা, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাব।   গ্রামের খড়ের ছাউনীওয়ালা বাড়িটা ভেঙে নির্মিত হয়েছে এক প্রাসাদোপম ভবন, যার সামনের লনে তৈরি হয়েছে ইট-সিমেন্টের এক সামন্তবাদী রাজার দরবার৷ এখানে আব্বার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত৷ একদিন আব্বার ওপর জুলুম দেখে যারা তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল, আজ তারাই শিকার৷ এমন আচরণে মানুষের ক্রোধ আর ক্ষোভ বেড়ে যাচ্ছে৷ জনতার রোষানলে একবার পড়লে আর রক্ষে নেই৷ ইতিহাস বলে আজ অবধি কেউ রক্ষা পায়নি৷   আমরা সব ভাই-বোন আব্বার এই নৈতিক স্খলনের জন্য অপরাধী মনে করি৷ কিন্তু সরাসরি না বলে ইনিয়ে বিনিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি৷ শুধু বলেছি, আব্বা অনেক তো হলো৷ এখন ক্ষান্ত দিন৷ সময়ের দাবিকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়৷ কিন্তু তিনি অনড়৷ নিজের জন্মদাতা, তাই সরাসরি কিছু বলাও যায় না৷    আমরা এক মহাসংকটে নিপতিত৷ তাঁকে ফেরাতে না পারায় সকলে আমাদের দোষারোপ করছে৷ অন্যদিকে তাঁর জীবনে ভয়ংকর কিছু ঘটলে নিজেদের ক্ষমা করতে পারব না৷ এখন আমরা সকলে প্রতিদিন একটা অশুভ সংবাদের যাতনা নিয়ে দিন পার করি৷ কেননা সময়ের দাবি ইচ্ছে করলেও উল্টানো যায় না।   ইতিহাসের বড় সত্য হলো, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না৷ আব্বাও না৷ আফসোস, অবধারিতভাবেই আব্বা নিজেই আজ হয়ে গেলেন এক ইতিহাস৷  

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0