Breaking news

আত্মহত্যা

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস এবং আমাদের করণীয়

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা খোলাখুলি আলোচনা হয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা ঠিক তার তুলনায় এখনো অনেক পেছনে। অথচ একজন মানুষের পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে।    বর্তমানে এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে মানুষের জীবনে মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই চাপ এখন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণা ও স্থানীয় গবেষণা থেকে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মাঝে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা খুবই প্রবল। পড়াশোনার চাপ, কর্মসংস্থানের অভাব, সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের সর্বনাশ ডেকে আনছে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকই পরিবার থেকে দূরে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী পরীক্ষা, সেশন জট এবং নানা অনিশ্চয়তার কারণে তীব্র অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এই মানসিক অবসাদের পরিণতি আত্মহত্যায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর প্রভাবে একটা বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়েছে মাদকের মতো ভয়ংকর নেশায়; যা আমাদের সমাজেকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে যাচ্ছে।   তবে এই মানসিক অবসাদগ্রস্তের পেছনে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থা একা দায়ী নয়, এর পেছনে বড় অংশীদার আমাদের সমাজ এবং আশপাশের মানুষের মানসিকতা। বর্তমানে আধুনিক এই পৃথিবীতে ‘বডি শেমিং’ এবং শারীরিক গঠন দুর্বলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা একধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে, যা একটি ভিকটিমের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে, সেই ব্যক্তির নিজের ওপরে ঘৃণা করা শুরু করে, নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরে বিভিন্ন রকম নেতিবাচক চিন্তা না শুরু হয় এবং সবশেষে আত্মহত্যা করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে।   চলতি বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আমাদের আশপাশে যারা মানসিক অবসাদগ্রস্ত অবসাদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাদের কথাগুলো শোনা, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্বাস্থ্যসেবায় ও সমাজে পরিবর্তন আনা।   আমাদের মনে রাখতে হবে, মানসিক রোগ কোনো অপরাধ নয়, এটি যেকোনো শারীরিক রোগের মতো নিরাময়যোগ্য। এ রোগ নিরাময় করতে শুধু প্রয়োজন সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং সময়মতো পেশাদারের পরামর্শ।   তাই আসুন, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসকে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হই এবং অন্যকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করি। একটি দেশের যুবসমাজ ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়ার বিকল্প নেই।  

অক্টোবর ১০, ২০২৬ 0
ঈশ্বরদীতে মা-বাবার ওপর অভিমান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পাবনার ঈশ্বরদীতে শোভন আহম্মেদ (২৯) নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ করায় মা-বাবার ওপর অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।   রোববার ৪ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর নলগাড়ী এলাকায় তাঁর নানার বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শোভন আহম্মেদ ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া মধ্য অরণকোলা এলাকার মো. রঞ্জুর ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।   নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে নানার বাড়ির একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শোভনকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।   এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলা হয়। এ বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।  

অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
আত্মহত্যা : নেপথ্যে কারণ, সংকট ও প্রতিকার

আত্মহত্যা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আত্মহত্যার খবর চোখে পড়ে। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক—বিভিন্ন বয়সের মানুষ নানা ধরনের মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে আত্মহত্যাকে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশেও আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে ১৯৪ জনই ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী। এ ধরনের তথ্য আমাদের শিক্ষা ও পরিবারব্যবস্থার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও গভীরভাবে নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।   দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও আত্মহত্যার হার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়। ঝিনাইদহ তার একটি উদাহরণ। ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার ছয় উপজেলায় গত এক বছরে ৩৬১ জন আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজের (সোভা) তথ্য অনুযায়ী, জেলাটিতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৪০০ মানুষ আত্মহত্যা করেন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহে ৩,১৫২ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং এ সময়ে প্রায় ২২,০০০ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও সংগঠনটির তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়।   আত্মহত্যার পেছনে কোনো একক কারণকে দায়ী করা যায় না। ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট, মাদকাসক্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন, সহিংসতার অভিজ্ঞতা কিংবা তীব্র মানসিক চাপ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা বা এর পূর্ববর্তী কোনো সংকেত দেখা দিলেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া প্রয়োজন।   এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—আত্মহত্যাকে ব্যক্তির দুর্বলতা, কাপুরুষতা বা একক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে অনেক সময় জটিল মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক সংকট কাজ করে। তাই সংকটে থাকা একজন মানুষের প্রয়োজন বিচার নয়, প্রয়োজন সহানুভূতি ও সহায়তা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্তান বা পরিবারের সদস্যের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হবে। মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনতে হবে, উপহাস বা তিরস্কার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। সংকটের মুহূর্তে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তার কাছে পৌঁছে দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা, কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে আত্মহত্যার খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে, যাতে সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।   ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহমর্মিতা, মানবিকতা ও জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার, পারিবারিক সহিংসতা ও অন্যান্য সামাজিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আত্মহত্যা প্রতিরোধকে কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা। ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এ সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। একজন মানুষ যখন গভীর সংকটে থাকেন, তখন তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁকে একা না রাখা এবং প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আত্মহত্যা প্রতিরোধ তাই শুধু একটি জীবন বাঁচানোর উদ্যোগ নয়; এটি একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্বও।  

অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
নীরব মহামারি আত্মহত্যা প্রতিরোধে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে এই দিনে আত্মহত্যার মতো বেদনাদায়ক পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সংগঠনগুলো সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করে। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য—‘একত্রে আমরা আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে পারি’ (আমরা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে পারি)।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার  তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় প্রাণ হারান। অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ নিজেদের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ আত্মহত্যা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা আর্থিক শ্রেণির সমস্যা নয়; উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল—সব সমাজেই এই নীরব ব্যাধি চেপে বসেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ছবিটা স্বস্তিদায়ক নয়। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।​   মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেউ হঠাৎ করে আত্মহত্যা করেন না। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি কোনো না কোনোভাবে তাঁর অসহায়ত্ব ও মানসিক কষ্টের ইঙ্গিত দেন। অথচ আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কুসংস্কারের কারণে মানসিক সমস্যাকে এখনো ‘পাগলামি’ বলে ছোট করা হয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের কষ্টের কথা কারও সঙ্গে শেয়ার করার সাহস পান না। বিষণ্ণতা কিংবা মানসিক উদ্বেগকে চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে মেনে না নেয়াটাই এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।   ​আত্মহত্যা রোধে কেবল আনুষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা যথেষ্ট নয়; দরকার পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানো, তরুণদের মানসিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। আসুন, অবহেলা বন্ধ করি, পরিচিত কারোর ব্যবহারে অস্বাভাবিক হতাশা বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। আপনার একটি সহানুভূতিশীল কান ও সহমর্মিতার হাত হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি অমূল্য প্রাণ।    

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
আত্মহত্যা এক মারাত্মক ক্যান্সার

মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সফলতা-ব্যর্থতার সমন্বয়ে গঠিত। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আসে নানা রকম পরীক্ষা। কখনো প্রেমে ব্যর্থতা, কখনো পারিবারিক কলহ, কখনো আর্থিক সংকট, কখনো অপমান কিংবা হতাশা মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। কিন্তু এসব কষ্ট কখনোই আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে না। আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি একটি মুহূর্তের আবেগ, যার পরিণতি চিরস্থায়ী।   অনেকেই মনে করেন, জীবন শেষ করে দিলেই সব কষ্টের অবসান হবে। বাস্তবে তা নয়। একজন মানুষের আত্মহত্যা শুধু একটি প্রাণের মৃত্যু নয়, বরং তার পরিবার, স্বজন ও প্রিয়জনদের জন্য সারা জীবনের বেদনা ও অপরাধবোধের সূচনা। একজন মা-বাবা সন্তান হারিয়ে যে কষ্ট বয়ে বেড়ান, কিংবা একজন সন্তানের অনুপস্থিতিতে একটি পরিবারের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।   প্রেমে ব্যর্থতা জীবনের শেষ অধ্যায় নয়। যে সম্পর্ক ভেঙে গেছে, তার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা কখনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। সময়ের সঙ্গে ক্ষত শুকিয়ে যায়, নতুন পথ খুলে যায়, নতুন মানুষ জীবনে আসে। একইভাবে পারিবারিক কলহ, অপমান কিংবা ব্যর্থতাও স্থায়ী নয়। ধৈর্য, সংলাপ ও সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন সমস্যারও সমাধান এনে দিতে পারে।   মানসিক কষ্টকে একা বহন করা উচিত নয়। যখন মনে হবে সবকিছু অসহনীয় হয়ে উঠছে, তখন পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য, বন্ধু, শিক্ষক বা এমন কারও সঙ্গে কথা বলুন, যিনি মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শুনবেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা দুর্বলতার নয়; বরং এটি সাহস এবং আত্মরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   প্রত্যেক মানুষের জীবন অমূল্য। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে সম্ভাবনা, স্বপ্ন এবং সমাজের জন্য কিছু করার ক্ষমতা। আজকের অন্ধকার আগামী দিনের আলোকে ঢেকে রাখতে পারে না। তাই কোনো ব্যর্থতা, অপমান কিংবা হতাশার কাছে নিজেকে পরাজিত হতে দেয়া উচিত নয়।   আসুন, আমরা আত্মহত্যাকে না বলি এবং জীবনের প্রতি হ্যাঁ বলি। যারা মানসিক কষ্টে আছেন, তাঁদের সমালোচনা নয়, সহানুভূতি, ভালোবাসা ও সহযোগিতা দিই। একটি আন্তরিক কথা, একটি সহানুভূতির হাত বা একটি মনোযোগী শ্রবণ—কখনো কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।   জীবন মহান স্রষ্টার অমূল্য উপহার। তাই প্রতিটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, আশা ও সাহসকে সঙ্গী করে, সুন্দর আগামী দিনের স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।  

আগস্ট ৬, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ায় খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য : যুবকের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে সুমন হোসেন (৩০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখে রাত প্রায় ৪টার দিকে বাড়ি ফেরেন সুমন। দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। নিহতের স্ত্রী জানান, রাত ৪টার দিকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো?’ এরপর সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রী মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিহত সুমন দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
নোয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৮) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামের মাইজ্জা মিয়ার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রায়হান ওই বাড়ির আব্দুল বারেকের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে ভোররাতে বাড়িতে ফিরলে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বাইরে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরে স্ত্রী ঘরে ফিরে স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুলাই ২২, ২০২৬ 0
Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

Top week

সাহিত্য

নগরীর দেবী

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0