পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিকস টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি ও প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
রুশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় দলটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে।
ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিটটির ফিজিক্স টেস্টও শেষ হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে।
জাহেদুল হাসান আরও জানান, শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার ওপর। প্রথম ইউনিটের বর্তমান অগ্রগতির মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সে হিসাবে দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।
কার্তিকের শান্ত প্রকৃতির মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সতর্কবার্তা হিসেবে উত্তর বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ বজলুর রশীদের মতে, লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে রোববার নাগাদ গভীর নিম্নচাপ বা সাইক্লোনের রূপ ধারণ করতে পারে। সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, ঝড়টি মূলত ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি ভারতের বিহার ও ঝাড়খন্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে রোববার থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুরে বৃষ্টির আভাস রয়েছে। তবে এই বৃষ্টিপাতের প্রভাব সিলেট অঞ্চলে তেমন একটা নাও পড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেই দেশজুড়ে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে এবং নভেম্বরের শুরুতেই শীতের আগমন ঘটবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) দ্বিতীয় চালান। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বুধবার ২১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩ মিনিটে জ্বালানিবাহী বিশেষ গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে একই দিন ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কড়া পাহারায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহরটি ঈশ্বরদীর উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত পুরো মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। ইউরেনিয়াম পরিবহনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চালানটি গ্রহণ করেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য আনা হবে আরও দুটি চালান। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সবই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা। ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানি দেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১১ অক্টোবর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সোয়া চারটার দিকে বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন সরকার পাড়ায় বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। শনাক্ত হওয়া নিহতরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সোহাগ হোসেন (৩০), জুয়েল রানা (৪০), শালাল মোল্লা (৪৫), শাহিন হোসেন (২৫) ও সামাদ ফকির (৭০); বাসচালক রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সোহেল রানা (৪০) ও বাগমারার আনোয়ার হক (৩০); পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আট বছর বয়সী শিশু তাছফিয়া খাতুন এবং ফরিদপুরের অমূল্য চন্দ্রের ছেলে হিমেশ (২৮)। বাকি নিহতদের পরিচয় দ্রুত শনাক্তে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোরে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারে হাত বাড়ান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠান। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনা আক্তার দুর্ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।