Breaking news
সাহিত্য

বিশ্বাসের নৌকা

সাকিবুল এজাজ
সাকিবুল এজাজ লেখক ও জার্নালিস্ট মগবাজার, ঢাকা
অক্টোবর ১৯, ২০২৬ • 1

নিরুবালা সেদিন বর্ষার রাতে জিজ্ঞেস করছিল, “এই ভর রাইত্তে কই যাও, মাঝি?” মাঝিও মেঘের মতো গুম কণ্ঠে জবাব দেয়, “আকাশের অবস্থা ভালা না। নদীতে জোয়ার আইছে। ঘাটে নৌকা বাইন্ধা ঘরে থাহন যায় না। নৌকাডা শক্ত কইরা গাছের লগে বাইন্ধা আহি।” “মাত্রই তো আইলা বাইরে থাইক্কা, না গেলেই ভালো অয়।” “নাহ, নৌকাডা গেলে খামু কী? যাইতেই অইব!”

 

বের হয়ে কিছুদূর গিয়ে মাঝি আবার ফিরে আসে দরজার কাছে। একটু থমকে জিজ্ঞাস করে—

নিরু কি দুয়ারে?

নিরুবালা উত্তর দেয় না, ইস্পাত কঠিন কণ্ঠস্বরে ভয় নিয়ে বলে—

সাবধানে যাইয়ো মাঝি। ছাতা নিয়া যাও। বৃষ্টিতে ভিজলে শইলে জ্বর আইব।

 

মাঝি ঘাটে আর যায় না। উঠানেই ভিজে ভিজে ভাবতে থাকে কী করবে। অঝোর বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ভিজে বেখায়ালির মতো আবার ফিরে এসে সে নিরুর ঘরে টোকা দেয়—

কী রে নিরু, দরজা খোলস না ক্যান? শইল আমার ভিইজা জল পড়তাছে।

 

নিরুবালা নিজের শাড়ির আঁচল দিয়া মাঝির মাথা মুছে। এদিকে নিরুর শরীরও ভেজা। কীভাবে ভিজল সেটা নিয়ে ভাবনা এলেও পরক্ষণেই মাঝি সব ভুলে যায়। নিরুবালার শরীরের সুবাস তার নাকে এসে লাগে। বাইরের ঝড়-ঝঞ্ঝা, নৌকা সবকিছু বেমালুম ভুলে যায়। নদীর জোয়ারের চেয়ে শরীরের জোয়ার বেশি হলে তখন আর ঝড়-বৃষ্টি চোখে লাগে না। মাঝি তার শক্ত সুঠাম শরীর বের করে বিছানায় যায়। নিরু তার উন্মুক্ত বক্ষ মেলে ধরে, জল গড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর পথেঘাটে। অসাদৃশ্যতায় লুটিয়ে যায় দুই মানব-মানবী!

 

এরপর যেনো মাঝির চোখে হলুদ ফুলের বাগান ভাসতে থাকে। নৌকার কথা বেমালুম ভুলে ঠাণ্ঠা ঠাণ্ঠা আবহাওয়ায় নিরুকে আরও জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরবেলা মাঝি ঘাটে গিয়ে দেখে, নৌকা স্রোতের টানে ভেসে গেছে। ঘরে ফিরলে নিরুবালা চালাকি চোখে মুচকি হেসে জিগ্যেস করে—

কী গো মাঝি, নৌকা বান্ধা শেষ হইল তোমার?

মাঝি পাহাড়সমান বিষণ্নতা মুখে নিয়ে ঝাড়ি দেয়—

না রে, জোয়ারে ভাইসা গ্যালো গা নৌকাটা! কাইলকা তুই বাধা না দিলে ঠিকই বাইন্দা আইতাম। এহন নৌকা ছাড়া করুমডা কী, খামু কী?

মুখ ঝামটা মেরে নিরুবালা বলে—

নদীর জোয়ার নাকি শইল্যের জোয়ার?

মাঝি তখন আরও চোখ গরম কইরা বলে—

"শইল্যের জোয়ারে কি নৌকা ভাসে?

নাহ, শইল্যের জোয়ারে নৌকা ডুবে।

 

মাঝি ঘরের মেঝেতে রাখা খাবারের থালায় লাথি দিয়ে বলে—

এই চিনলি আমারে? বিশ্বাস নাই?

নিরুবালা অভিমান করে। স্বল্পস্বরে জবাব দেয়—

হু!

 

মাঝি রাগ নিয়ে গজর গজর করতে করতে ঘরের পেছনে গিয়ে দেখে, গাছের সাথে শক্ত করে বাঁধা আছে তার নৌকা। কে বাঁধল সেটা মাথায় আসার আগেই মাঝি খুশিতে চিল্লায়ে ওঠে—

নিরু, নিরু রে... নৌকা আছে। নৌকা ভাইসা যায় নাই।

 

নিরুবালা অস্পষ্ট স্বরে জবাব দেয়, কিন্তু মাঝি ততক্ষণে কাছে চলে আসতেই শুনতে পায়—

শখের নৌকা ভাসে নাই, ভাইসা গ্যাছে বিশ্বাসের নৌকা।

 

মাঝি কিছু একটা আঁচ করে ফেলে। শুধরায়—

নৌকা কি রাইতে তুই বান্দন দিছস?

 

নিরু শুনতে পায় না মাঝির কথা। ভেজা চোখে ফুঁপিয়ে উঠে—

মাঝি, আমারে তুমি ভালোবাসো না, নাহ?

 

0 Comments

Popular post
চিঠি

সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়।   গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ  আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার।   চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম।   আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ।   লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো।   বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।  

ন-নামা

না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ।   না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে   নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন।   নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার।   নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।  

কিশোর গ্যাং এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম

একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।   সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।   কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না।   এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে।   দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়।   প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।   তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।  

সেই নীড়

যাচ্ছি  আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী  কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।  

শরৎ

শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা।   শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস।   শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।  

সাহিত্য

View more
ধোঁয়া, বই এবং বিদ্রোহ

রাত আড়াইটার ঢাকা শহর। খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে এখনো কিছু চায়ের দোকান খোলা। শহরের অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমিয়ে, তখন আরমানের দিন যেন সবে শুরু হয়।   এক হাতে গরম চায়ের কাপ, অন্য হাতে আধপোড়া সিগারেট। ধোঁয়ার সরু রেখা উঠে গিয়ে মিশে যাচ্ছে শহরের ধূসর আকাশে। তার সামনে খোলা একটি ‘বই দ্য রেচেড অব দ্য আর্থ’। বইয়ের পাতায় পাতায় ফ্রান্তজ ফ্যাননের ভাষা, আরমানের চোখে যেন আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশে ব্যাগে আরও কয়েকটি বই ‘হোয়াই নেশনস ফেইল’, ‘প্রিজন নোটবুকস’, ‘দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’, ‘ইম্যাজিনড কমিউনিটিজ’ এবং ‘নাইনটিন এইটি-ফোর’।   বইগুলো সে সাজিয়ে রাখে না। বইগুলো তার কাছে আসবাব নয়; অস্ত্র।   টুইটারে তার পরিচিতি আছে। অনুসারীর সংখ্যা খুব বেশি না, কিন্তু তার পোস্টগুলো মাঝেমধ্যে হাজার হাজার মানুষের টাইমলাইনে ঘুরে বেড়ায়। কখনো সে রাষ্ট্র নিয়ে লেখে, কখনো ক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে, কখনো নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে। তার ভাষা ধারালো, কিন্তু সস্তা উত্তেজনাময় নয়।   ফেসবুকে সে দীর্ঘ স্ট্যাটাস লেখে। পাঁচ শ শব্দের পোস্ট দিয়ে শুরু করে কখনো কখনো তিন হাজার শব্দে শেষ করে। বন্ধুরা মজা করে বলে, “তুই স্ট্যাটাস লিখিস নাকি ছোটখাটো ম্যানিফেস্টো?” সে শুধু হেসে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু মানুষ আরমানকে যতটা কঠিন ভাবে, সে পুরোপুরি ততটা নয়।   রাতের নির্জনতায় হেডফোনে কখনো বাজে পিংক ফ্লয়েডের উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার, কখনো লিওনার্ড কোহেনের ফেমাস ব্লু রেইনকোট, কখনো মহীনের ঘোড়াগুলির পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে আবার কখনো অঞ্জন দত্তের বেলা বোস।   তার এই প্লেলিস্টের কথা খুব কম মানুষ জানে।   রাজনৈতিক বিতর্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটা কখনো কখনো শহরের আলো নিভে যাওয়ার পর পুরোনো গান শুনতে শুনতে জানালার পাশে বসে থাকে। সেখানে কোনো বিপ্লব নেই, কোনো স্লোগান নেই; শুধু মানুষের ভেতরের নিঃশব্দ একাকিত্ব আছে।   একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি বিক্ষোভে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে লাগল। চারদিকে দৌড়ঝাঁপ, স্লোগান, আতঙ্ক। সেই সময় আরমান দেখল প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেছে। ছেলেটির চশমা ভেঙে গেছে, হাঁটুতে রক্ত।   যারা সবচেয়ে বেশি বিপ্লবের কথা বলছিল, তাদের অনেকেই তখন নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। আরমান দৌড়ে গেল। স্লোগান থামিয়ে, বক্তৃতা থামিয়ে, রাজনৈতিক তর্ক থামিয়ে সে ছেলেটিকে কাঁধে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এল।   সেদিন রাতে টুইটারে সে কোনো ছবি পোস্ট করেনি। কোনো স্ট্যাটাসও লেখেনি। শুধু নিজের ডায়েরিতে একটি লাইন লিখেছিল, ‘রাজনীতি যদি মানুষের জন্য না হয়, তবে তা কেবল ক্ষমতার আরেকটি অলংকার’।   ভোরের দিকে আবার একটি সিগারেট ধরাল সে। শহর তখন নতুন দিনের জন্য জেগে উঠছে। আরমান জানে, তার সব মত সঠিক নয়। তার সব স্বপ্নও পূরণ হবে না। তবুও সে বই পড়বে, প্রশ্ন করবে, ভুল করবে, আবার শিখবে। কারণ সে বিশ্বাস করে, পৃথিবীকে বদলে দেয়ার আগে পৃথিবীকে বুঝতে হয়। আর পৃথিবীকে বোঝার জন্য কখনো কখনো একটি বই, একটি রাত, একটি সিগারেটের ধোঁয়া, আর কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নই যথেষ্ট।  

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0

বিশ্বাসের নৌকা

রাফিয়া জান্নাত

কে তুমি

ভালোবাসা চোখের ছিল

খুব ছটফট করছে শাহানা। খুব বিরক্তিভাব ফুটে ওঠে নিজের ওপর। ঘেন্না লাগে। এমন কেন হলো? আমার জীবনটা তো অন্য রকম ভালো হতে পারত! আর পাঁচটা ভালো মেয়ের সংসারের মতো। মন দিয়ে সংসার করার মানসিকতায় চতুর্থ বিয়ে করেছে আশিককে। ভেবেছে খুব ভালো ছেলে। কপালে আর ভালো কিছু জুটল না। নানা রকম আগডুম বাগডুম ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ফোন এল শাহানার মোবাইলে। হ্যালো... কী করছ? কিছু না। কাজ না থাকলে আমার কাপড়গুলো তো ধুয়ে ফেলতে পারো।  কুসুম গরম পানিতে পাউডার দিয়ে ভিজিয়ে রেখেছি। ওহ। আর কিছু বলবা? আগামীকাল ঢাকার বাইরে যাব অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে। রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাড়ি ফিরে যাবে। ওহ আচ্ছা। আর কিছু বলবা? না। তাড়াতাড়ি কাপড়গুলো ধুয়ে মেলে দাও। শুকাতেও তো সময় লাগবে। আচ্ছা। বলেই লাইনটা কেটে দেয় শাহানা। দুজনের মধ্যে মনের মিল না থাকলেও বিয়ের ব্যাপারে দারুণ মিল ছিল!   দুজনই বিয়েতে হ্যাট্রিক করার পর চতুর্থ বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল। দেখতে দেখতে তিন বছর ছুঁইছুঁই। মনের মিল না থাকায় সন্তান নিতেও ভয় পাচ্ছে শাহানা। ওর প্রথম ঘরে রয়েছে একটা মেয়ে। ডিভোর্সের পর আরও দুটি বিয়ে করেছে। কিন্তু ছয় মাসের বেশি টেকেনি সংসার। ছেলে পালিয়ে গেছে অন্য কোনো মেয়ের হাত ধরে।    এবার কপালে জুটলো আশিক। তাও ছাড় ছাড় ভাব।   ওদিকে আশিকের প্রথম ঘরে রয়েছে একটি ছেলে। তারপর আরও দুটি মেয়েকে বিয়ে করলেও পালিয়েছে নয় মাসের মাথায়। পালাবেই না কেন? একটা করে বিয়ে করে ঘরে তোলে মেয়ে। শুরু হয় পরকিয়া। জানাজানি হলে মেয়ে পালায়। ঘরে তোলে প্রেমিকাকে। শুরু হলো সংসার।   শাহানা টিকটক করত ফেসবুকে। প্রথম দেখাতেই পছন্দ হয়ে যায়। ইনবক্সে শুরু হয় প্রেম। পরকিয়ার জোয়ারে ভেসে যায় শাহানা-আশিক। ঘরে থাকলে বাথরুমে গিয়ে ফিসফাস করে কথা বলে। তৃতীয় বউ বাথরুমের কাছে গিয়ে আড়ি পেতে শোনে কার সাথে কী কথা বলছে আশিক। একসময় ওঠে তুমুল ঝড়। সেই ঝড়ে দুজন দুদিকে ভেসে যায়।    কিছুদিন বাদেই বউ হয়ে উঠে আসে শাহানা। সময়ের ফেরে কত কিছু বদলে যায়। দিন হয়ে যায় রাত। রাত গড়িয়ে দিন। তবু কোনো পরিবর্তন আসেনি আশিকের ভেতর। কিছুদিন সংসার করার পর শুরু হয় খুনসুটি। একটু আধটু ঝগড়া।   আজ ঝগড়া রূপ নিলো কালবোশেখি ঝড়ে। ঘরের ভেতর হাতাহাতি, মারামারি। শাহানার অভিযোগ আমি থাকতে অন্য কোনো মেয়ের সাথে পরকিয়া করবি কেন? আমার ভেতর কী নেই যে সেটা ওই মেয়ের মধ্যে আছে!   আশপাশের লোকজন ছুটে এসে থামাল ঝড়। ঘরের ভেতর যত রকম ফার্নিচার আছে সব শাহানার। আশিকের কিছুই নেই। এর আগে তিনবার ফার্নিচার রেখেই রাগ করে বোনের বাসায় গিয়ে ওঠে। মাথা ঠান্ডা হলে ফিরে আসে ঘরে। কদিন ঠিকঠাক মতো সংসার করে দুজনই।   এবার রাগ পানি হওয়ার আগেই সব মালামাল নিয়ে রেডি। দুপুর বারোটা সাড়ে বারোটায় পিকআপ এসে হাজির। ড্রাইভার একে একে সব মালামাল উঠিয়ে চারপাশ থেকে শক্তপোক্ত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলল। শাহানা উঠতেই গাড়ি ছুটে চলল বোনের বাসার উদ্দেশে।   কদিন বাদে অধিক ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে ব্যাচেলর বাসায় গিয়ে উঠল। এখন ফেসবুক পেজে নানা রকম টিকটক ভিডিও ছেড়ে দিয়ে আকুতি মিনতি জানায় আশিক। তবে শাহানার জন্য নয়। পঞ্চম প্রেমিকার জন্য। যার কারণে শাহানাকে ছেড়ে দিতে তার এতটুকু বুক কাঁপেনি। ভালোবাসাও উছলে ওঠেনি। বুঝতে পেরে ওই মেয়েও কেটে পড়ার ধান্ধা শুরু করেছে।   শাহানা এখন স্বাধীন। ওর টগবগে মন এখন আর কারো জন্য কাঁদে না। অফিসে যখন ছুটি হয়, তখন ঘড়ির কাঁটা রাত আটটার ঘরে ছুঁইছুঁই করে। বেরিয়ে এসে নীল আকাশের দিকে তাকায়। রাতের শরতের আকাশ খুব সুন্দর ভালো লাগা দেয়। মন ভরে শ্বাস নেয় ও।   আচমকা গান বেজে ওঠে মোবাইলে। তাকিয়ে দেখে চমকে যায়। এতদিন পর আশিকের ফোন।   ফোন বাজতে থাকে। ও ফোন ধরে না। এগিয়ে যায় সামনে। ছিমছাম সাদামাটা পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে। একটা কফির দোকান পেয়ে বসে পড়ে ভেতরে। একজন তরুণ কাছে আসতেই কফির অর্ডার দেয়।    অফিসের চাকরিটা  নিয়েছে টাইম পাসের জন্য। হাসপাতালের ডাক্তারের সহকারী আর নার্সের চাকরি পেয়েও করেনি। ওর পছন্দ নয়।   কিছুক্ষণ বাদে কফি এলো। ভাবতে ভাবতে কফির কাপে চুমুক দিতেই ফোন বেজে উঠল। শাহানা কেটে দিল। আবারও কেটে দিল। শেষবার কাটতে গিয়ে ভাবল, এবার ধরে দেখি। নাম্বারটা চেনা চেনা লাগছে। হ্যালো... যাক বাবা। এতদিন পর আমার ফোনটা ধরলা। খুব খুশি হলাম। ভাই আপনি? হুম। কেন অন্য কেউ ভেবেছ? না, মানে। নাম্বারটা সেভ ছিল। আশিক হয়তো ডিলিট করে দিয়েছে। আমি খেয়াল করিনি।   এই বাসা থেকে তুমি চলে যাওয়ার পর খুব মিস করি তোমাকে। ভালো লাগা, ভালোবাসার মতো মেয়ে তুমি। আপাদমস্তক তোমাকে দেখতে খুব ভালো লাগে। তো এখন কী করছ তুমি? শাহেদ জানতে চায়। অফিসে টাইম পাস করি।  শাহেদের কথার জবাব দেয়। কারো চক্করে পড়নি তো? তুমি আমার কাছে চলে আসো। আমি তোমাকে আশিকের মতো অবহেলা করব না। না ভাই। আর কত বিয়ে করব? কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করো। এক বছর। টিকে গেলে আজীবন মেয়াদে আমরা দুজন কাটিয়ে দেব সংসারে। না। বলেই চুপ হয়ে যায় শাহানা। ওর অশান্ত টগবগে মন সায় দেয় না। হয়তো আবার বিচ্ছেদ হাতছানি দিয়ে ডাকবে।  তোমাকে আগেও বলেছি। আবার বললাম। মতিগতি ফিরলে ফোন দিয়ে জানাও। তুমি জেনেশুনে আমাকে বিয়ে করতে চাও কেন? এবার আপনি থেকে তুমিতে নেমে এলো শাহানা। একই ছাদের নিচে হয়তো আমরা বসবাস করিনি এটা ঠিক, তবে একই ঘরের ছাদের নিচে হয়তো ছিলাম না। কিন্তু পাশাপাশি রুমে থেকে তোমার ঘ্রাণ নিয়েছি সব সময়। তুমি জানতেও পারোনি। বুঝলাম। শাহানার ছোট উত্তর। ভালোবাসা চোখের ছিল। আমার মনের ফুসফুস, হৃদয়, মনের ভেতর ভালোবাসা সচল রাখার জন্য তোমাকে খুব প্রয়োজন। থাক। এখন তুমি বুঝবে না। এখন আর কিছু বলব না। তুমি রাত বারোটার পর ভিডিও কল দিয়ো। কথা হবে, চোখের দেখাও হবে। আমার হৃদয়ের ভেতর ভালোবাসার ভেন্টিলেটর সচল রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে? তুমি আসবে তো? হড়বড় করে অনেকগুলো কথা বলে থেমে যায়।   দেখা যাক বলেই কফির কাপে শেষ চুমুক বসায় শাহানা। ফোন কেটে যেতেই উঠে গিয়ে বিল মিটিয়ে বড় সড়কের ওপর পা রাখে। রাত দশটার ঘরে ঘড়ির কাটা ছুঁইছুঁই করছে। এত শত না ভেবেই বাড়ির উদ্দেশে পা বাড়ায় ও।  

অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0

রুক্ষ শহর

কাশফুলের চিঠি

কুসুম বনের জ্যোৎস্না

শরতের ছোঁয়া

এখনই তো সময় তৃপ্ত শরৎকে অজস্রতায় চেনার এখনই তো সময় শরৎ মাঝে অবলীলায় নিজেকে হারিয়ে খোঁজার। সময় এখন দৃপ্ত পায়ে মিষ্টি কাশবনে হেঁটে চলার বাতাসে দোদুল্যমান শুভ্রতাকে আপন করার।   শারদীয় ঘ্রাণটা তখনো নিশ্চয় থাকবে নিশ্বাসে ভেসে প্রিয়ের হাতখানিতে দুখানা ফুল গুঁজে যখনই দাঁড়াবে থমকে খুলে দেখো চোখ খুঁজে পাবে না আর ফিরে নিজেকে হয়তো বিলীন হয়েছে অন্তহীন শারদীয় তৃপ্ততার অন্তরালে। হয়তো-বা পেতেও পারো ফিরে নিজেকে খুঁজে স্নিগ্ধ শুভ্র ফুলরেনুর মাঝে প্রিয়ের আলতো ছোঁয়ায়; কাশবনের শুভ্র নীল সাজে পুঞ্জীভূত সাদা মেঘের ভেলায় ভাসা কাশমঞ্জুরির মাঝে। হয়তো-বা মায়াহরিণী চঞ্চলা অনুপমার নেত্র দুটি মাঝে বহমান ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসির ফোয়ারায় শারদবেষ্টিত শাড়ির আঁচলের ভাঁজে স্বগৌরবে নিজেকে ধন্য করে।  

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ 0

আমার পৃথিবী

রোদেলা দুপুর

ক্ষুধা