সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানীর সাক্ষাৎকার সাক্ষাৎকার গ্রহণ : তৌসিফ রেজা আশরাফী তৌসিফ রেজা আশরাফী : সুফিবাদ বলতে আমরা মূলত কী বুঝি? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : সুফিবাদ ইসলামের আধ্যাত্মিক ও আত্মশুদ্ধির পথ। এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা, আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করা। সুফিবাদ শুধু কিছু আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; বরং এটি মানুষের চরিত্র ও অন্তরকে পরিবর্তনের একটি সাধনা। তৌসিফ রেজা আশরাফী : সুফিবাদের কেন্দ্রে আত্মশুদ্ধির বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার অন্তরের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। হিংসা, অহংকার, লোভ, বিদ্বেষ ও আত্মম্ভরিতা মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এসব প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে তাকওয়া, বিনয়, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর স্মরণকে জীবনের অংশ করে নিতে হয়। একজন মানুষ যখন নিজের নফসকে সংশোধন করতে পারে, তখন তার আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তৌসিফ রেজা আশরাফী : বর্তমান সময়ে যখন সমাজে হিংসা, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন সুফিবাদের প্রাসঙ্গিকতা কতটা? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : সুফিবাদের প্রাসঙ্গিকতা আজ অত্যন্ত বেশি। কারণ সুফিবাদ মানুষকে ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা, বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য এবং প্রতিহিংসার পরিবর্তে ক্ষমার শিক্ষা দেয়। মানুষ যদি নিজের অন্তরকে সংশোধন করে এবং অন্যের অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান করে, তাহলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা তৈরি করাই সুফিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তৌসিফ রেজা আশরাফী : সুফিবাদ কি শুধু ব্যক্তিগত সাধনার বিষয়, নাকি এর সামাজিক দিকও রয়েছে? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : সুফিবাদ ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতারও শিক্ষা দেয়। একজন সত্যিকারের সাধক শুধু নিজের জন্য চিন্তা করেন না। তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেন, বিপদগ্রস্তকে সহযোগিতা করেন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। মানুষের সেবা ও মানবকল্যাণ সুফি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৌসিফ রেজা আশরাফী : তরুণ প্রজন্মের কাছে সুফিবাদের কী বার্তা রয়েছে? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : তরুণদের প্রথমে নিজেদের চরিত্র গঠন করতে হবে। জ্ঞান অর্জন, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের ভিত্তি করতে হবে। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি আত্মিক ও নৈতিক উন্নতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণরা যদি নিজেদের মধ্যে সত্য, ন্যায়, বিনয় ও মানবপ্রেম প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে তারাই একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে নেতৃত্ব দিতে পারবে। তৌসিফ রেজা আশরাফী : সুফিবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যদি এক বাক্যে বলতে হয়, সেটি কী? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথে মানুষের ভালোবাসা ও সেবা করতে হবে। অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে এবং নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ, যে হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত শান্তির সন্ধান পায়। তৌসিফ রেজা আশরাফী : শেষ প্রশ্ন, বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিবেশে মানুষের জন্য আপনার বার্তা কী? সৈয়দ শাহ আহমদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী : মানুষকে আগে নিজের অন্তরের দিকে তাকাতে হবে। অন্যকে পরিবর্তন করার আগে নিজেকে পরিবর্তন করা জরুরি। ঘৃণা দিয়ে ঘৃণা দূর করা যায় না, বরং ভালোবাসা, ন্যায়, ক্ষমা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই হতে পারে একজন মানুষের সুন্দর জীবনের পথ।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।