বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা, যেখানে ব্যক্তির মেজাজ, শক্তি, ঘুম, চিন্তাভাবনা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কখনো অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ও কম ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অর্থাৎ ম্যানিয়া বা হাইপোম্যানিয়ার পর্ব দেখা যায়; আবার কখনো গভীর বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। এর চিকিৎসায় ওষুধ ও সাইকোথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি জীবনযাপন, ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং খাদ্যাভ্যাসও সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ডায়েট বাইপোলার ডিসঅর্ডার সারিয়ে দিতে পারে না। পুষ্টি চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং এটি চিকিৎসার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। মস্তিষ্ক শরীরের অত্যন্ত সক্রিয় একটি অঙ্গ। এর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি, প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত বা অপর্যাপ্ত খাদ্যাভ্যাস শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বিপাকীয় জটিলতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ‘মুড ঠিক করার খাবার’ খোঁজার পরিবর্তে একটি সুষম, বৈচিত্র্যময় ও নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ছোলা, পূর্ণশস্য, মাছ, ডিম, পরিমিত পরিমাণে মাংস, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবারের পরিমাণ কমানো উপকারী। বাংলাদেশি খাদ্যসংস্কৃতিতে ভাত বা রুটি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল, মাছ বা অন্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস যুক্ত করা যেতে পারে। মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ক ও হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক ও তৈলাক্ত মাছ, যেমন সার্ডিন, ম্যাকারেল বা অন্যান্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া মাছ এর ভালো উৎস হতে পারে। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং কিছু গবেষণায় বিষণ্নতার উপসর্গে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রমাণ এখনো এমন নয় যে ওমেগা-৩-কে বাইপোলার ডিসঅর্ডারের স্বতন্ত্র চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ক্যালরি কমানো বা অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস শরীরের শক্তি ও ক্ষুধার স্বাভাবিক ছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে ঘুমের অনিয়মও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে, ম্যানিয়া বা হাইপোম্যানিয়ার সময় ঘুমের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, এনার্জি ড্রিংক বা রাতের দিকে বেশি চা-কফি গ্রহণ ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাইপোলার ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ক্ষুধা, ওজন, রক্তে শর্করা, রক্তের চর্বি বা অন্যান্য বিপাকীয় সূচকে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় ওজন, রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজ ও লিপিড প্রোফাইলসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ সতর্কতার বিষয় হলো লিথিয়াম। লিথিয়াম গ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে শরীরে পানিশূন্যতা এবং সোডিয়াম গ্রহণে বড় ধরনের পরিবর্তন সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই লিথিয়াম গ্রহণের সময় নিজের ইচ্ছায় লবণ বা পানি গ্রহণের পরিমাণে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ব্যবহৃত কিছু ওষুধের কারণে কারও ওজন বাড়তে পারে। তাই ওজন বৃদ্ধি হলে ব্যক্তিকে শুধু ‘কম খেতে হবে’ বা ‘ইচ্ছাশক্তির অভাব’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ওজন ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন হতে পারে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম, ঘুম, ওষুধের প্রভাব এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা। বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, হারবাল পণ্য, ডিটক্স ডায়েট, দীর্ঘমেয়াদি উপবাস বা বিশেষ ডায়েটকে ‘প্রাকৃতিক চিকিৎসা’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এসব দাবির অনেকগুলোর পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষ করে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো মানসিক রোগের ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পুষ্টিবিদ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণের সময় তার ওষুধ, বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওজন, শারীরিক কার্যক্রম, ঘুম, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং খাদ্যসংস্কৃতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সবশেষে মনে রাখতে হবে, খাদ্য বাইপোলার ডিসঅর্ডারের চিকিৎসার বিকল্প নয়; তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসার পাশাপাশি শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, শারীরিক কার্যক্রম, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং একটি স্থিতিশীল জীবনযাপন সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।