প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙে অ্যালার্মের শব্দে নয়, বরং স্মার্টফোনের নীল আলো আর অনবরত ভেসে আসা নোটিফিকেশনের টানে। বিছানা ছাড়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রলে কেটে যায় দিনের প্রথম মূল্যবান আধঘণ্টা। সংবাদের ট্র্যাকিং, সহপাঠী ও বন্ধুদের জীবনযাত্রার ঝলক, লাইক-কমেন্টের ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সিংহভাগের প্রতিটি দিন শুরু হয় একধরনের অদৃশ্য ডিজিটাল কোলাহল দিয়ে। কিন্তু এই রঙিন স্ক্রিনের আড়ালে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে এক নীরব মনস্তাত্ত্বিক মহামারি, যার নাম ‘ডিজিটাল দুশ্চিন্তা’ ও ‘তথ্য-উৎকণ্ঠা’। আজকের তরুণ সমাজ যে যুগে বসবাস করছে, তাকে তথ্যের যুগ বলা হলেও এটি মূলত ’তথ্য-বিস্ফোরণ’ ও ‘অপতথ্যের’ যুগে পরিণত হয়েছে। সংবাদের অবাধ প্রবাহ আমাদের যেমন সচেতন করার কথা ছিল, বাস্তব চিত্র তার ঠিক বিপরীত। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি, যা সত্য তথ্যের চেয়ে চটকদার, উত্তেজক ও ভুয়া খবরকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে ও অনলাইন অঙ্গনে প্রতিদিন আমরা এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখতে পাই। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বাংলাদেশে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণের ওপর একটি বিস্তৃত মতামত জরিপ পরিচালনা করে। সেই জরিপের ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৬৭ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জন তরুণ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে ‘ভুয়া তথ্য ও গুজবকে’ চিহ্নিত করেছেন। যখন একটি প্রজন্মের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অনলাইনে থাকা অবস্থায় প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তি ও গুজবের কারণে মানসিক চাপে ভোগেন, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি গভীর এক সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট। তরুণদের তথ্য গ্রহণের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এনডিসি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো তথ্য বা সংবাদের মূল উৎস হিসেবে ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর বেশি ভরসা করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে তা সঠিকভাবে যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেক করে মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিশাল একটি অংশ যাচাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বা সেটিকে সত্য বলে গ্রহণ করছে। তথ্য যাচাই না করার এই অনীহা এবং অতিরঞ্জিত বা অসত্য খবরের মুখোমুখি হওয়া তরুণ মনের ওপর প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজশাহী অঞ্চলের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো ও ভুয়া সংবাদের সম্মুখীন হওয়া তরুণদের প্রায় ৫৭.৮ শতাংশ নানা মাত্রার বিষণ্নতায় ভুগছে। একটি অমূলক সামাজিক গুজব বা ভুয়ো খবরের কারণে রাতারাতি তৈরি হওয়া সামাজিক আতঙ্ক, রাজনৈতিক অস্থিরতার ভীতি কিংবা সহপাঠীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং—সবকিছুই শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতাকে তছনছ করে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের এই বয়সটি মূলত ক্যারিয়ারের চিন্তা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনা এবং নিজের ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার সময়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুয়া খবর, অনলাইন ট্রোলিং, তথ্যের বিভ্রান্তি এবং অন্যদের কৃত্রিম সাফল্য দেখে নিজেদের তুলনা করার মানসিকতা তরুণদের মধ্যে তৈরি করছে একধরনের হীনম্মন্যতা ও বিষণ্নতা। অনলাইন অঙ্গনে তথ্য পাওয়ার অধিকার যেমন সবার রয়েছে, তেমনি কোনো তথ্য সত্য নাকি মিথ্যা, তা চেনার ক্ষমতা অর্জন করাও এখন অন্যতম নাগরিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর পড়ালেখার বাইরে গিয়ে ‘ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি’ বা মিডিয়া সাক্ষরতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যের উৎস কীভাবে যাচাই করতে হয়, কোনো সংবাদ সত্য নাকি সাজানো—তা শনাক্ত করার প্রাথমিক জ্ঞান প্রতিটি শিক্ষার্থীর থাকা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে কার্যকর ও প্রবেশযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিষাক্ত প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত রাখতে শারীরিক খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বই পড়ার চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, তরুণদের নিজেদেরও স্ব-সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা এখন মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা-কিছু দেখা যায়, তার সবকিছু সত্য নয়—এই বোধ জাগ্রত করতে হবে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গতি ত্বরান্বিত করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই গতি যেন আমাদের মানসিক শান্তি ও সামাজিক সংহতিকে পিষে না ফেলে। তথ্যপ্রযুক্তির এই জোয়ারে আমরা ভেসে যাব নাকি দক্ষতার সাথে সঠিক পথ বেছে নেব—তা নির্ধারণের সময় এখনই। ভুয়া তথ্যের বিষাক্ত প্রভাব মুক্ত করে একটি সুস্থ, সচেতন ও মানসিকভাবে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের তরুণ প্রজন্মের দৃঢ় অঙ্গীকার।
সাদা খামে লিখব চিঠি মায়ের ঠিকানায় মা যে আমার বেঘোর ঘুমে একলা নিরালায়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি মেলে না চোখ আর মা মা বলে ডাকি কত আমি যে বারবার। চিঠি পেলে যদি মায়ের ভাঙে এবার ঘুম ঝাঁপটে ধরে মায়ের পায়ে দেব হাজার চুম। আঁচল তলে চুপটি করে লুকিয়ে আমার মুখ গন্ধ নেব মায়ের গায়ের লুটব যত সুখ। লক্ষ্মী পিয়ন কথা রেখো মাকে চিঠি দিয়ো আসা যাওয়ার ভাড়াটুকু আমার থেকে নিয়ো। বড়ই আশায় আছি আমি পাব মায়ের খোঁজ তথ্য নিতে আসব আমি তোমার বাড়ি রোজ।
না জানিয়া না বুঝিয়া না শুনিয়া না মানিয়া নাইতে নামিয়া নদীতে নমিতা নাশিকায় নিশ্বাস নিতে নাপারিয়া নিমেষেই নিজের নাড়ির নিনাদ নিষ্প্রাণ নীরব, নিষ্প্রভ, নীলাভ। না হেরি নিলয়ে না খেয়ে না নেয়ে নমিতার নৃপতি নব নিশীথে নিবিড় নৈবেদ্যে নমিল নিজেকে নদে নীলাম্বরের নির্মেঘ নিশি নির্দয় নহরের নির্জনতা নাশি নীপবনে না জানি নিবংশ নমিতা নিরধির নির্ঝর নিধি, নিপাবলির নিরন্তর নৃত্যে নিজেকে নাটকীয় নৈকট্যে নিবেদন। নেই! নেই! নিয়তির নির্মম নিঘাত নমিতা নিধনে নদ নিত্য নিশাত নীহারিকায় নির্লিপ্ত নিগূঢ় নির্বিকার। নমিতা নাই-বা নামিবে নরকায় নিষেধ নেই তো নিগ্রহ নাশি নমিতার নিত্য নাদিম নব নিরুদ্দেশী।
একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার তরুণ প্রজন্ম। তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃষ্টিশীলতা এবং অদম্য শক্তিই একটি রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। কৈশোরের যে সময়টিতে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, খেলার বল কিংবা সৃজনশীলতার উপকরণ, সেই বয়সে একশ্রেণির কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র, মাদক এবং অপরাধের নীল নকশা। আমাদের অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যেভাবে এই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংস্কৃতিকে 'কিশোর গ্যাং' বলা হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোরে দলবদ্ধ হয়ে থাকার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, যা তাদের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। কিন্তু এই দলবদ্ধতা যখন নেতিবাচক রূপ নেয় এবং পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও খুনোখুনির মতো অপরাধে জড়ায়, তখন তা গ্যাং কালচারে পরিণত হয়। বর্তমান সমাজে এর বিস্তৃতি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে এরা নিজেদের দল পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রায়ই লিপ্ত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কোনো কিশোর একদিনেই অপরাধী বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে ওঠে না, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণ। বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনে পারিবারিক অসচেতনতা ও দূরত্বের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবারের সঠিক তদারকি না থাকা, মা-বাবার মধ্যকার কলহ এবং সন্তানদের সাথে গুণগত সময় না কাটানোর ফলে কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং এই শূন্যতা পূরণের জন্য বাইরের বন্ধুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ কিংবা বিনোদনের চরম সংকট রয়েছে। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রকাশের কোনো সুস্থ মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এই গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার পেছনে আরেকটি বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু ‘বড় ভাই’। এই স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বা মিছিল-মিটিংয়ে লোক বাড়াতে কিশোরদের ব্যবহার করে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। একই সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন অনলাইন গেমসের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ এবং ইন্টারনেটে সহিংসতা দেখে তারা বাস্তবেও তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর ওপর মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রথম দিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে নামছে। কিশোর গ্যাং কালচার আমাদের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে এবং দেশের মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই তরুণরা যখন পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধের খাতায় নাম লেখায়, তখন দেশ এক বিশাল দক্ষ জনশক্তি হারায়। এর ফলে সমাজে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। পাড়া-মহল্লায় এই ভয়ের সংস্কৃতি সুস্থ তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার দেখে অন্য সাধারণ কিশোরদের মধ্যেও আইন অমান্য করা, বড়দের অসম্মান করা এবং দ্রুত ও অনৈতিক উপায়ে টাকা আয়ের ভুল মানসিকতা বা নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এই কিশোর অপরাধ কেবল তরুণদেরই ধ্বংস করছে না, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিনিয়ত এদের গ্রেপ্তার করলেও মূল শেকড় উপড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এদের পেছনে থাকা গডফাদাররা অধরাই থেকে যায়। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি এভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেই রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ-জাতীয় ব্যাধি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন, যার সূচনা হতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবাকে সন্তানের প্রতি আরও বন্ধুসুলভ হতে হবে এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা ইন্টারনেটে কী দেখছে—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়া অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখাবে। একই সাথে কিশোরদের যারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের সাধারণ জেলে না রেখে কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সেখানে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম একটি দেশের স্বপ্ন, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিশোর গ্যাংয়ের মতো একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না। এটি কেবল আইন প্রয়োগ করে বা জোরপূর্বক দমন করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক আন্দোলন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।
যাচ্ছি আমি নীড় ছেড়ে ইট পাথরের নগরে। দুঃখ আমার চিরসাথী বিষাদময় এ জীবনের। বাস্তবতার দাবদাহে পুড়ছি আমি অবিরাম। দেখছি কত বহুরূপী আঁধার এ পৃথিবীতে। সইছি কত বিষ-বাণী কাছের প্রিয় মানুষ হতে শত বাধার ভিড়ে আমি জয়ী হয়ে ফিরব নীড়ে ফিরব আমি বীরের বেশে চিরচেনা সেই নীড়ে।
শরতের আকাশ যেন সাদা মেঘের ভেলা শরতে স্বচ্ছ সরোবরে দলবেঁধে মেটে রাজহাঁস খেলে ডুব-সাঁতারের খেলা। শরতের মাঠে মাঠে মাথা নেড়ে দোলে শুভ্র রঙের কাশ শরতের নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় লাল ঝুঁটি ভূঁতিহাস। শরতে পথে পথে ফোটে শিউলি, শেফালি ও টগর শরতে তালের পিঠা উৎসবে মাতে পল্লি থেকে নগর। শরতে হাওর বিলে পদ্ম শাপলা মুখ বের করে হাসে। শরতে ভোরের শিশির মিশে থাকে সবুজ দূর্বাঘাসে।